বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দীপু ওদের বলতে থাকে গোড়া থেকে। কীভাবে কালাচিতা আবিষ্কার করল তারিক, তারপর দু’জনে কীভাবে খোঁড়া শুরু করল আর কী সব আশ্চর্য আশ্চর্য জিনিস খুঁজে পেল। কীরকম রহস্যময় দালান মাটিতে বুজে আছে, কীভাবে একটার সাথে আরেকটার ভেতরে যোগাযোগ। কত কী যে আছে সেটা কে জানে। শেষে বলল, জামশেদ চাচা কীরকম পাগলের মতো হয়ে গেছেন জায়গাটা দেখার জন্যে। গুপ্তধন যদি খুঁড়ে ওরা নাও পায় জায়গাটা দেখার জন্যেই ওরা বিখ্যাত হয়ে যাবে রাতারাতি।
সব শুনে ওদের দম বন্ধ হয়ে গেল উত্তেজনায়।
সত্যি বলছিস তোরা?
সত্যি।
খোদার কসম।
খোদার কসম।
ঘর সুড়ঙ্গ, আর মূর্তি?
হুঁ।
মানুষের খুলি?
খুলি না হাড়, মানুষের না অন্য কিছুর কে জানে।
তোর কী মনে হয়, আছে গুপ্তধন?
কে জানে সেটা।
চল দেখে আসি।
মিঠুর সবসময়েই সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি। তাই ও যখন রাতে একটার সময় কালাচিতা যেতে চাইল, দীপু বেশি অবাক হল না। কিন্তু যখন দেখল সবাই সাথে সাথে রাজি হয়ে গেল তখন ও ভারি অবাক হয়ে গেল।
এখন যাবি? কালাচিতায়?
হ্যাঁ। অসুবিধে কী?
বাবু বলল, বাসা থেকে যখন পালিয়েছি একটু সকাল ফিরে গেলে কি আর কম মার খাব?
তাই বলে এখন? ইতস্তত করে বলল, রাত একটা দুটার সময়?
রাতই তো ভাল কেউ থাকবে না।
তারিক একটা বড় হাই তুলে বলল, আমার বাবা ঘুম পাচ্ছে, আমি যেতে পারব না।
যাবি না মানে? আমরা রাত একটার সময় কষ্ট করে এসেছি আর তুই ঘুমাবি মানে?
দীপু বুঝতে পারল, এত উৎসাহ নষ্ট করা উচিত না। কাজেই তারিককে ঠেলেঠুলে রাজি করিয়ে ওদের রওনা দিতে হল কালাচিতার দিকে।
রাতের বেলা গ্রামের রাস্তা ভারি অদ্ভুত। চারিদিকে গাঢ় অন্ধকার, তার মাঝে উঁচু সড়ক এঁকেবেঁকে গেছে ধানখেতের মাঝে দিয়ে। সড়কে এক হাঁটু নরম ধুলো। দু’পাশে নাম-না-জানা বড় বড় গাছ বাতাসে শিরশির করছে। আকাশে ছোট একটা চাঁদ আর হাজার হাজার তারা মিটমিট করছে। দূরে বহু দূরে গ্রামগুলো অন্ধকারে মিশে আছে। চারদিকে এত নির্জন, এত নীরব যে একটু একটু ভয় লেগে যায়।
কালাচিতা বেশ দূরে। কিন্তু হেঁটে ওদের খুব বেশি সময় লাগল না। পথে খুব বেশি লোকজনের সাথে দেখা হয়নি। যাদের সাথে দেখা হয়েছে সবাইকে বলেছে যাত্রা দেখতে যাচ্ছে। কেউ অবিশ্বাস করেনি, সত্যি নাকি খুব ভাল যাত্রা হচ্ছে এবারে।
কালাচিতা পৌঁছানোর আগে দীপু মোমবাতিটি জ্বালাতে নিষেধ করেছিল, অনেক দূর থেকে আলো দেখা যায়। ওরা সবাই মিলে অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে এসেছে। তারিকের ভীষণ সাপের ভয়। শীতকালে সপ বের হয় না শোনার পরও বাঁ হাতে শক্ত করে তাবিজটা ধরে রাখল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now