বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত সাড়ে বারোটার সময় দীপু ঘুম ঘুম চোখে বের হয়। আব্বাকে বলে ঘরের চাবিটা নিয়ে নিল। রাতে ফিরে এসে যেন আব্বাকে ডাকাডাকি করতে না হয় দরজা খুলে দেবার জন্যে।
এত রাতে একা একা যেতে ওর ভয় করছিল। কিসের ভয় এটা কে জানে! ও খুব ভাল করে জানে ভূত বলে কিছু নেই। আর শহরের উপর তো বাঘ-ভালুক আসতে পারে না, তা হলে ওর ভয়টা কিসের? নিজেকে সাহস দিয়ে ও রাস্তার একপাশ দিয়ে গুটিগুটি হেঁটে চলল।
স্কুলের মাঠটা নির্জন। গেট বন্ধ বলে ওকে দেয়াল টপকে ঢুকতে হল। যেখানে এসে ওদের দেখা করার কথা সেখানে গিয়ে দেখতে পেল একটু ছায়া জমাট বেঁধে আছে। সিগারেটের আগুন জ্বলছে নিভছে দেখে বুঝতে পারল ওটি তারিক। দীপুর বুকে তখন সাহস ফিরে এল।
তারিক চুপচাপ পা ঝুলিয়ে বসে আছে দেয়ালে। দীপুকে দেখে বলল একা একা বসে থেকে বিরক্ত হয়ে গেলাম, এতক্ষণে আসলেন লাটসাহেব।
একটার সময় না আসার কথা। এখনও তো একটা বাজেনি। তুই কখন এসেছিস?
বারটা থেকে বসে আছি।
এত আগে এসেছিস?
সেকেন্ড শো সিনেমা দেখে এলাম। এত রাতে আর বাসায় গিয়ে কী করব?
কী সিনেমা দেখলি?
অবুঝ হৃদয়। কী একটা বই—আহা! লাস্ট সিনে চোখে একেবারে পানি এসে যায়।
দীপু জানে তারিক সিনেমার এক নাম্বার ভক্ত। আর সব সিনেমাতেই সব শেষে সবার মিল হয়ে যায় তখন তারিকের চোখে পানি এসে যায়।
কেউ আসবে বলে তো মনে হয়?
তারিক ঠোঁট উল্টিয়ে বলল, কে জানে? না এলে নাই।
ঠিক এই সময়ে দেখা গেল গুটি গুটি কে যেন আসছে। কাছে আসতেই বোঝা গেল বাবু। একটু কাঁপছে শীতে।
আস্তে আস্তে বলল, তোরা আছিস তা হলে? আমি ভাবলাম গুলপট্টি মেরেছিস নাকি কে জানে?
গুলপট্টি মারব কেন! আসতে অসুবিধে হয়েছে নাকি?
হয়নি আবার! আম্মাকে বলেছি খালা যেতে বলেছে, রাতে না এলে বুঝবেন খালা আটকে রেখেছে। খালার বাসায় গিয়ে বলেছি রাতে ফিরে যেতেই হবে। এখন ধরা না পড়লে হয়।
ধরা পড়লে আর কী, মার খাবি আর কি একটু!
এই সময়ে দেখা গেল আরও দু’জন গুটিগুটি এগিয়ে আসছে। কাছে আসতেই দেখা গেল দীলু আর মঞ্জু।
তোরা আছিস তা হলে! আর কেউ আসেনি?
এই তো বাবু এসেছে। অসুবিধে হয়নি?
নাহ! আমি আম্মাকে বলেছি দীলুর বাসায় থাকব, দীলু বলেছে আমার বাসায় থাকবে। অঙ্ক করব রাতে!
গুড। এই তো বুদ্ধি।
ঠিক এই সময়ে শেয়ালের ডাক শোনা গেল। এক সেকেন্ডের জন্যে ভয় পেয়ে গিয়েছিল সবাই, তার পরেই বুঝতে পারল ওটা মিঠু। এত সুন্দর শেয়ালের ডাক দিতে পারে যে আসল শেয়াল লজ্জা পেয়ে যাবে। ক্লাসে যখনই কিছু দেখাতে হয় ওদের ক্লাস থেকে মিঠু শেয়ালের ডাক দিয়ে শোনায়। ছোট ক্লাসের ছেলেরা ওকে দেখলে চেঁচিয়ে গান গায় :
‘শেয়াল রে শেয়াল
এটা কি খেয়াল।’
মিঠু আসার পর সবার ভেতর একটু ফুর্তির ভাব এসে গেল। ধরা পড়লে কী বলা হবে সেটা তৈরি করে নেয়া হল। মিঠুর বুদ্ধি, বলা হবে যাত্রা দেখতে গিয়েছিল।
বাবু বলল, কী? ভেবেছিস যাত্রা দেখতে গিয়েছি বললে আব্বা কোলে নিয়ে আদর করবেন?
না, তা অবশ্যি ঠিক। দীপু বলল, তবু সত্যি কথাটা না বললি আর কি, পরে যখন সব জানাজানি হবে তখন বললেই হবে।
সত্যি কথাটি কী বল এবার।
দাঁড়া, দেখি আর কেউ আসে নাকি।
শেষ পর্যন্ত প্রায় দশজনের মতো এসে গেল। দীপু এতটা আশা করেনি। সবাই গোল হয়ে বসল মাঠে। দীপু তারিককে খোঁচা দিয়ে বলল, তারিক বল তোর কালাচিতার ঘটনা–
তারিক বলল, আমি কী বলব তুইই বল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now