বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অমনি এক ভীষণ ব্যাপার ঘটে গেল। ভেতর থেকে মেয়েলি গলার একটা ভীষণ চিৎকার শোনা গেল। তারপর হঠাৎ দরজা খুলে গেল আর ময়লা ছেঁড়া কাপড় পরা একজন পাগলি বেরিয়ে এল। লাল লম্বা চুল এলোমেলো, হাত পিছনে শক্ত করে বাঁধা, কপালে কাটা, রক্ত পড়ছে দরদর করে।
দীপু ভয় পেয়ে পিছিয়ে এল। দৌড় দেবে কি না বুঝতে পারছিল না, ঠিক এই সময়ে তারিক বেরিয়ে এল। সামনে দীপুকে দেখে মুহূর্তে ফ্যাকাশে বিবর্ণ হয়ে গেল। দুই হাতে পাগলিকে ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে গেল। ভেতরে চেঁচামেচি গালিগালাজ শোনা গেল কিছুক্ষণ, একটু পরে সব থেমে গেল, আর দরজা খুলে তারিক বের হয়ে এল। সারা মুখ থমথম করছে রাগে। দীপুর কাছে এসে রুক্ষ স্বরে জিজ্ঞেস করল, এখানে এসেছিস কেন?
দীপু উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করল, ও কে?
তোর বাপের কি তাতে?
বল না, কে?
কেউ না।
বল না!
বললাম তো, কেউ না, পাগলি।
তোর মা?
তারিক এক মুহূর্ত ওর দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর বলল, হ্যাঁ। কেন জানি হঠাৎ তারিকের মুখ কান্না-কান্না হয়ে গেল, আস্তে আস্তে বলল, তুই এখন স্কুলে গিয়ে সবাইকে বলে দিবি আমার মা পাগলি?
শুনে দীপুর এত মন-খারাপ হল যে বলার নয়। তারিকের হাত ধরে বলল, তুই আমাকে তাই ভাবিস?
তারিক মাথা নেড়ে বলল, না।
হ্যাঁ, তুই যদি না চাস আমি তা হলে কাউকে বলব না, কোনোদিন বলব না।
খোদার কসম?
খোদার কসম।
ওরা দু’জন হেঁটে হেঁটে খালের ধারে একটা হিজল গাছের ডালে গিয়ে বসল। তারিক তখন দীপুকে ওর মায়ের কথা খুলে বলল। বছর চারেক আগে টাইফয়েড হয়ে ওর মায়ের মাথায় গোলমাল হয়েছে। দিনে দিনে অবস্থা আরও বেশি খারাপ হচ্ছে। এখন প্রায় সবসময়েই বেঁধে রাখতে হয়। ওদের পয়সা নেই বলে চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছে না, ঝাড়ফুক আর তাবিজের উপর চলছে। ওর বাবা বেশি খেয়ালও করেন না, মেজাজ খারাপ হলে মারধোর পর্যন্ত করেন। তারিকের যখন অনেক পয়সা হবে তখন সে তার মা’কে ভাল করিয়ে আনবে বিদেশ থেকে। ওর মা নাকি খুব আদর করতেন তারিককে, ওর মা ভাল হয়ে থাকলে ও কখনও গুন্ডা হয়ে যেত না।
দীপুর ভারি মন-খারাপ হয়ে গেল শুনে। সেও তখন তারিককে খুলে বলল তার নিজের মায়ের কথা, ওর যে মা থেকেও নেই। শুনে তারিকের চোখে পানি এসে গেল।
তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। আবছা অন্ধকারে ওরা তখন হাত ধরে ঠিক করল দু’জন দুজনের বন্ধু হয়ে থাকবে সারাজীবন। তারিকের সাথে এর আগে কেউ এত ঘনিষ্ঠ হয়ে এত কথা বলেনি, ওর নিজের দুঃখকষ্টগুলো ভাগ করে নেয়নি। তার দীপুকে এত ভাল লেগে গেল যে বলার নয়। কৃতজ্ঞতায় ওর জন্যে একটা কিছু করতে ইচ্ছে হচ্ছিল ওর! সে আবার দীপুকে নিয়ে বাসায় ফিরে গেল। দীপুকে বাইরে দাঁড় করিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। একটু পরে কাগজে জড়ানো কী একটা নিয়ে বের হয়ে এল। দীপুর হাতে দিয়ে বলল, তুই এটা নে।
কী এটা?
খুলে দ্যাখ।
দীপু খুলে হতবাক হয়ে গেল। ছোট একটা চিতাবাঘের মূর্তি। কুচকুচে কালো পাথরের তৈরি, কী তেজি চিতা, সারা শরীর টান-টান হয়ে আছে বাঘের, মনে হচ্ছে এক্ষুনি লাফিয়ে পড়বে কারও উপর।
দীপু চিৎকার করে উঠল, ইশ, কী সুন্দর! কোথায় পেয়েছিস ওটা?
ভাল লেগেছে তোর?
লাগেনি মানে! ইশ! কী সুন্দর! আমাকে দিয়ে দিবি?
হুঁ। তুই নে এটা।
কোথায় পেয়েছিস বলবি না?
পরে বলব তোকে, আরেকদিন। তারিক রহস্যময় ভঙ্গিতে হাসল।
সেদিন তিন মাইল রাস্তা হেঁটে তারিক দীপুকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now