বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দীপু বোকা বনে দাঁড়িয়ে রইল। আর কী আশ্চর্য, যখন ঘড়ির কাঁটাটা ওখানে এসে গেল, তক্ষুণি ঘটাং করে ক্যামেরার ভেতর থেকে কী একটা বেরিয়ে পড়ল। আম্মা উপর থেকে একটা পাতলা কাগজ সরিয়ে নিতেই ও অবাক হয়ে দেখে, ওর রঙিন একটা ছবি। সব কয়টা দাঁত বের করে কী হাসিটাই না হাসছে! দীপু আরেকটু হলেই চিৎকার করে উঠত। কোনোমতে বলল, কীভাবে হল? কীভাবে হল এটা?
এটাকে বলে পোলারয়েড ক্যামেরা, ফটো তোলার দশ সেকেন্ডের ভেতর ছবি বেরিয়ে আসে।
সত্যি?
দেখলিই তো নিজে।
কী কান্ড!
নিবি এই ক্যামেরাটা?
দীপুর দম বন্ধ হয়ে আসতে চায় উত্তেজনায়। এইরকম একটা জিনিস আম্মা তাকে দিয়ে দিতে চাইছেন!
ছবি তুলে তোর বন্ধুদের অবাক করে দিবি। নিবি?
দীপু মাথা নেড়ে বলল, নেব।
দীপু ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে দেখে। কী হালকা! দেখতে মোটেই ক্যামেরার মতো না, অথচ এক মিনিটে রঙিন ছবি বেরিয়ে আসে।
আম্মা বললেন, এই ক্যামেরার অসুবিধে কী জানিস?
কী?
ঢাকায় এর ফিল্ম পাওয়া যায় না। আমার কাছে আর অল্প কয়টা আছে, আয় তোকে শিখিয়ে দিই কীভাবে ফিল্মে ঢোকাতে হয়। আম্মা ওকে দেখানোর জন্যে আরেকটা ফিল্ম ঢোকালেন। দীপু বলল, এবার আমি তোমার একটা ছবি তুলে দিই?
আম্মা হেসে বললেন, আমার ছবি তুলবি? তোল। দীপু ক্যামেরায় চোখ লাগাতেই আম্মা বললেন, দাঁড়া। আয়, আমি আর তুই দুজনের ছবি তুলি। কাউকে বলি তুলে দিতে।
একটা ছেলে হেঁটে যাচ্ছিল পাশ দিয়ে, দেখে মনে হয় কলেজে পড়ে। আম্মা ওকে বললেন, তুমি আমাদের দুজনের একটা ছবি তুলে দেবে?
ছেলেটা কৌতূহলী হয়ে বলল, পোলারয়েড ক্যামেরা?
আম্মা বললেন, হ্যাঁ।
আগে দেখিনি কখনও আমি, খালি নাম শুনেছি। এক্ষুণি ছবি বেরিয়ে আসবে না? কী মজা।
ছেলেটা ছবি তুলে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল ছবিটি দেখার জন্যে। যখন ছবিটি বেরিয়ে এল একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেল। কী সুন্দর রঙিন ছবি! বাসায় গিয়ে নিশ্চয়ই কত গল্প করবে—দীপু বুঝতে পারে।
আম্মা ওকে গাড়িতে চড়িয়ে সারা ঢাকা ঘুরিয়ে বেড়ালেন। একটু পরে পরে এক জায়গায় থেমে আরেকটি ক্যামেরা দিয়ে ওর ছবি নিলেন। এগুলো প্রিন্ট করতে হয়। তাই আমেরিকা পৌঁছে ওকে প্রিন্ট করে পাঠাবেন। আজ একদিনে ওর যত ছবি তুললেন, দীপু সারাজীবনেও এত ছবি তোলেনি।
আম্মা ওকে নিয়ে গেলেন চিড়িয়াখানায়। হেঁটে হেঁটে বাঘ-ভালুক দেখে দেখে ও ক্লান্ত হয়ে পড়ল। আম্মা তখন ওকে নিয়ে ঘাসের উপর বসে গেলেন। একটা বাচ্চা ছেলের কাছ থেকে চিনেবাদাম কিনে নিলেন। তারপর বসে বসে দীপুকে খোসা ছাড়িয়ে দিতে লাগলেন। দীপু যেন নিজে খোসা ছাড়াতে পারে না।
দীপুর হঠাৎ মনে পড়ল ওর আম্মার আজ চলে যাবার কথা। জিজ্ঞেস করল, আম্মা তোমার প্লেন ছাড়বে কখন?
রাত আটটায়। তোমার দেরি হয়ে যাবে না?
না। তোর সাথে আবার কবে দেখা হবে–খানিকক্ষণ থেকে যাই তোর সাথে! তুই যাবি কেমন করে?
ট্রেনে করে। টিকেট কিনে এনেছি।
কখন ট্রেন?
সাড়ে পাঁচটার সময়।
এখন কয়টা বাজে?
সাড়ে তিনটা। ইশ। আর মাত্র দুই ঘন্টা। আম্মা ওর দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করলেন দেখে দীপুর একেবারে কান্না পেয়ে গেল।
রাতে ঘুমাবি কেমন করে?
ট্রেনে আমি ঘুমাতে পারি। আর একরাত না ঘুমালে আমার কিছু হয় না।
আম্মা মাথা নেড়ে বললেন, জানতাম তুই এরকম হবি।
কী রকম?
শক্ত সমর্থ রেসপন্সিবল। তোর আব্বা তোর জন্মের পর সবসময় বলত, ছেলেকে এমন করে বানাব যেন সবকিছু করতে পারে। আম্মা খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, রুমি আর লীরা হয়ে যাচ্ছে অন্যরকম। এখানে এসে থাকতে পারে না, শুধু বলে কবে ফিরে যাবে। আমার আর ভাল লাগে না বাইরে থাকতে
দীপুর ভারি মায়া হল ওর আম্মার জন্যে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now