বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ওরা দু’জন স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে হাঁটতে লাগল, আর আম্মা ওকে হাজার রকম প্রশ্ন করতে লাগলেন। কোন স্কুলে পড়ে, পরীক্ষায় কী হয়, সবচেয়ে ভাল পারে কোনটা, সবচেয়ে খারাপ লাগে কী পড়তে, কতজন বন্ধু আছে তার, তারা কী করে, ছুটির দিনে কী করে সময় কাটায়, এইসব।
কথা বলতে বলতে আর হাঁটতে হাঁটতে আম্মা ওকে নিয়ে এলেন একটা ভারি সুন্দর হোটেলে। ভেতরে ঢুকেই বুঝতে পারল চাইনীজ হোটেল, ও খালি নাম শুনেছে, কখনও যায়নি ভেতরে, অন্ধকার অন্ধকার, আর চোখে সয়ে গেলে দেখা যায় কী সুন্দর চারদিকে! তার মাঝে খুব হালকা বাজনা শোনা যাচ্ছে, কী ভাল লাগে শুনতে! চারিদেকে টেবিলে লোকজন বসে আছে খুব সুন্দর জামাকাপড় পরে আর কথা বলছে খুব আস্তে আস্তে। দীপুর এত ভাল লাগল যে বলার নয়। আম্মা ওকে নিয়ে বসলেন একটা টেবিলে। খানিকক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, দীপু, বাবা, তুমি সত্যি আমার উপর রাগ করনি?
না।
তা হলে একবারও আমাকে আম্মা বলে ডাকনি কেন?
দীপু ঠিক এই জিনিসটাই ভাবছিল, একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে বলল, আমার লজ্জা লাগছে। আগে কখনও তো দেখা হয়নি, তাই–
আম্মা ওকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন, মায়ের কাছে লজ্জা কী? বলো একবার, বলো
দীপু বলল, তুমি আমাকে তুমি তুমি করে বলছ কেন? আব্বার মত তুই তুই করে বললেই পার।
বেশ, বলব বাবা, বলব।
দীপু আস্তে আস্তে ডাকল, আম্মা।
আম্মা বললেন, কী?
আর দীপু হু হু করে কেঁদে উঠে আম্মাকে জড়িয়ে ধরে ভাঙা গলায় বলল, তুমি আর আব্বা ঝগড়া করলে কেন?
আম্মা কী বলবেন? শুকনো ক্লান্ত মুখে বসে রইলেন দীপুকে ধরে।
.
দীপুকে আম্মা এতসব জিনিস খাওয়ালেন যে খাওয়ার পর দীপু উঠতেই পারছিল না। আর কী মজার মজার সব খাবার, এত ভাল আইসক্রীম আগে কখনও খায়নি। শুনে আম্মার খুব দুঃখ হল। এটা এমন-কিছু ভাল আইসক্রীম নয়। এই ঢাকা শহরেই নিজে অনেক ভাল আইসক্রীম খেয়েছেন।
বের হবার সময় আম্মা ম্যানেজারের ওখান থেকে বেশ কয় জায়গায় টেলিফোন করলেন। মেম সাহেবের মতো কি টকটক করে ইংরেজি বলেন আম্মা, হাসিটা পর্যন্ত যেন ইংরেজিতে।
হোটেল থেকে বাইরে বের হতেই দীপুর চোখ ধাঁধিয়ে গেল। বাইরে কী রোদ। আম্মা খুব সুন্দর একটা কালো চশমা পরলেন, আর তাতে তাকে আরও সুন্দর দেখাতে লাগল। দীপু ছেলেমানুষের মতো ওর আম্মার হাত ধরে রাখল, যেন ছেড়ে দিলেই হাতছাড়া হয়ে যাবেন।
হঠাৎ আম্মার যেন কী মনে পড়ে গেল, অমনি ব্যস্ত হয়ে গাড়ির কাছে চলে এলেন। দীপু জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে, আম্মা?
তোর ছবি তুলব। আয়–
ছবি তোলার কথা শুনেই ওর মুখে হাসি ফুটে ওঠে, ওর বরাবরই ছবি তুলতে খুব ভাল লাগে। আম্মা জিজ্ঞেস করলেন, তোর ছবি তুলতে ভাল লাগে?
হ্যাঁ, খুব! কিন্তু একটা জিনিস—
কী?
ছবি প্রিন্ট করে আসতে এত দেরি হয় যে বিরক্তি লেগে যায়।
দীপুর কথা শুনে আম্মা মুখ টিপে হাসলেন। বললেন, সত্যি খুব বিরক্ত লেগে যায়?
হ্যাঁ। আমার দেরি সহ্য হয় না।
আম্মা একটা ক্যামেরা বের করলেন। কী অদ্ভুত ক্যামেরা, দেখে দীপু অবাক হয়ে যায়! ওরকম কেন দেখতে ক্যামেরাটা?
আম্মা উত্তর না দিয়ে বললেন, তুই ওখানে দঁাড়া গাড়িটার পাশে। দীপু দাঁড়াল। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ওর লজ্জা লাগছিল, কিন্তু উপায় কী? আম্মা ক্যামেরায় চোখ দিয়ে বললেন, ও কী? মুখ অমন করে রেখেছিস কেন? পেট কামড়াচ্ছে নাকি?
শুনে দীপু ফাঁক করে হেসে ফেলল, সাথে সাথে আম্মা ছবি তুলে নিলেন। ক্যামেরাটা তুলে ধরে আম্মা বলেলেন, এখন একটা মজা দেখবি?
কী মজা?
আম্মা ওকে হাতের ঘড়িটা দেখিয়ে বললেন, এই সেকেন্ডের কাঁটাটা যখন এখানে আসবে, তখন দেখিস।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now