বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
" ভাই এক ব্যাগ রক্ত লাগবে"।
.
হন্তদন্ত হয়ে ছুঁটে এসে বললো দ্বীপ।
.
রক্তের গ্রুপ কি? আর কার লাগবে? এই রাত-দুপুরে? বললাম দ্বীপ কে।
.
বি পজেটিভ! রেল স্টেশনে যে অল্পবয়সী পাগলি থাকতো, জানিস তো সে মা হতে চলেছে? আজ আমাদের সমাজ টা কোথায় বলতে পারিস? যেখানে একটা পাগলি ধর্ষণ হয় রাতের আঁধারে? সমাজ তো তার নিয়ম মেনেই চলে। তারপরো ধর্ষণ হয় এখন নবজাতক শিশু, রাস্তার পাগলি ও বাদ যায় না। বাদ যায় না কোনো পর্দাশীল নারী, বিবাহিতা আর বিধবা মহিলা। বয়স্ক নারীদের কথা বাদ দে, শিশু আর পাগলি’ এদের কে ধর্ষণ করে কি এমন তৃপ্তি পাই বলতে পারবি?
.
এতো কথা প্যাঁচানোর দরকার নায়, তাড়াতাড়ি চল। কখন কি হয়ে যায় বলা যায় না। দ্বীপ কে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি হাসপাতালের উদ্যেশ্যে। আমি জানি দ্বীপ কে না থামতে বললে ও থামতো না।
.
"" আমি রনি, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবা মা পরিবার কে ছেড়ে পড়াশোনার জন্য এই শহরে আসা। টাকা কম লাগবে বিধায় এই রেলপট্টিতে কয়েকজন মিলে বাসা নিয়ে থাকি। মাসের প্রথমে বড়লোক হয়ে থাকলেও শেষের দিকে রাস্তার ফকির হয়ে যায়। আর এটা আমাদের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনা অভ্যাস""।
.
দ্বীপ আর আমি সোজা সদর হাসপাতালে এসে উপস্থিত হতেই, ডাক্তার দ্রুত রক্ত তোলার জন্য ব্যাগ আনতে পাঠাই দ্বীপ কে। আর আমাকে কিছু প্রশ্ন ও রক্তের কিছু টেষ্ট নিয়ে নেই। আমাদের কথা বলা কালীন দ্বীপ ব্যাগ ও কিছু ফল নিয়ে আসে। ফল গুলো খেয়েই রক্ত দিয়ে বাইরে চলে আসি।
.
" পাগলিটার অপারেশন করছে ডাক্তার। বাইরে দাঁড়িয়ে আছি আমি, দ্বীপ আরো কিছু বন্ধুদের সাথে। প্রায় ঘন্টা খানেক পরেই অপারেশন রুম থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতে লাগলো। ডাক্তার বের হলো। সবাই কে জানালো পাগলির ছেলে হয়েছে। সবাই মিলে অপেক্ষায় আছি, কখন অপারেশন থিয়েটার থেকে পাগলি ও তার সন্তান কে বের করবে। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাগলি কে বাইড়ে আনা হয়। মায়ের মতোই সুন্দর বাচ্চাটা। যদিও বাচ্চার মা টা পাগল ছিল, কিন্তু দেখতে খুব সুন্দরীই ছিল বটে। দুদিন পরেই পাগলি কে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেয়। নতুন করে তার বাসস্থান হয় রেলষ্টেশনে।
আমরা যারা ব্যাচেলার রেলপট্টিতে বাসা নিয়ে থাকি, তাদের সবাই কে নিয়ে পরামর্শ করে পাগলি কে নিজেদের কাছেই নিয়ে আসি।
.
ভালবাসা কাকে বলে? বুঝতে পারতাম না, যদি না এই পাগলি আর তার ছেলে কে দেখতাম। পাগলি টা কখন কি করতে হয়! তা ভাল বুঝতে পারে না। না নিজের খাবার সময় করে খায়, না করে সময় মত গোসল, আর ঘুম, হয় তো আসেই না, খায় না সময় করে ঔষধ। সব কিছুতেই তার কোনো ভাবান্তর নেই। কিন্তু নিজের ছেলের বেলায় সব কিছু সবার থেকে এগিয়েই থাকে সে।
কখন কি লাগবে ছেলের, ঔষধ আছে কি না, দুধের প্যাক শেষ, আনতে হবে। "এসব কিছুই তাকে বলতে হয় না, বরঞ্চ সেই সময় হলে চেয়ে বসে"।
.
" দিন যায় রাত আসে, সময় পেরিয়ে বছরে পা দেই। এখনো আমরা পাঁচ জন একই বাসায় থাকি, থাকে সেই পাগলি ও তার ছেলে। পাগলিটার মানসিক অবস্থা দিন দিন ভালোর দিকে। এক দিন দ্বীপ আমাদের সবাই কে একসাথে করে বলতে শুরু করলো- দেখ ভাই, এই "রিতা"(পাগলি) " আমাদের মাঝে অনেক দিন আছে। আমার মনে হয় তাকে মানসিক হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা করালে খারাপ হতো না।তোরা কি বলিস?( শাকিল, হাসান, বিপুল ও আমার দিকে তাকিয়ে বললো দ্বীপ)!
দ্বীপের কথার সাথে আমরা সবাই একমত হই। কিন্তু ব্যাঘাত ঘটে টাকা নিয়ে। ডাক্তারের সাথে কথা বলে কিছু কম করতে বললেও আরো অনেক টাকার দরকার হয়। নিজেদের যা কিছু ছিল তা সব জমা দিয়ে ও যখন হলো না তখন মানুষের দ্বারে দ্বারে টাকা তুলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। চিকিৎসা করে রিতা কে বাসায় নিয়ে আসা হয়। নিজের সাথে ঘটে গেছে কত কিছু তা জানার পর নিজেকে শেষ করতে চাইলেও ফিরে আসে তার ছেলে " রিয়ানের কথা ভেবে।
.
সবার থেকে বিদায় নিয়ে রিতা তার বাবার বাসার দিকে রওনা দেই। হয় তো মায়া নামক শব্দ টা দারুন খারাপ। মাত্র বছর খানেক একসাথে ছিলো, এখন নিজের বাসায় চলে যাবে! এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু তার চলে যাওয়াই সবার চোখে জল। বিশেষ করে রিয়ান তো দ্বীপের কোল থেকে নামবে না। কিন্তু তার তো এখানে থাকলে ও চলবে না। রিতা দ্বীপের কোল থেকে জোড় করে রিয়ান কে নিজের কাছে নিয়ে নেন। আজ কেনো যেনো এই পাগলি টা কে ও নিষ্ঠুর মনে হচ্ছে। আচ্ছা যারা নিষ্ঠুর, তাদের চোখে কি পানি আসে? যদি না আসে তাহলে রিতার ও সবাই কে ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু চলে যাওয়া ছাড়া আর রিতার কোনো উপায় নেই। সে এতো দিন পাগল ছিল। পাগল থাকা কালিন ধর্ষিতা হয়।এতোদিন আমাদের কাছে ছিল। কিন্তু এখন সমাজ এটা মানবে না। আমাদের সমাজ টা তো সভ্য। এখানে কে ধর্ষক তা কেউ দেখে না, সবাই দেখে কে ধর্ষিতা। কি করে তার বদনাম করা যায়। সভ্য সমাজ তো, কোনো ধর্ষিতার ঠাই নেই এখানে। ছুড়ে ফেলে দেই আস্তাকুড়ে। কেনো সে ধর্ষিত হলো তা দেখে কি লাভ। রিতা তার ছেলে রিয়ান কে কোলে তুলে আপন মনে এগিয়ে যায় তার আপন ঠিকানায়। কে জানে, রিতা কি পাবে তার হারানো পরিবার। তাকে কি মেনে নেবে তার আপন জন।
.
রিতা সবাই কে ছেডে রিয়ান কে সাথে নিয়ে চোখের আড়াল হতে থাকে। অদৃশ্য মায়ার টানে দ্বীপ তাদের পিছু নেই। আর আমরা যে যার কাজে চলে যায়। এদিকে রিতা একটা সিএনজি দাড় করিয়ে উঠতেই কিছু লোক তার মুখ কাপড় দিয়ে ঠেসে ধরে। মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বলতে পারে না সে। শুধু একবার বাঁচাও বলে মৃদু চিল্লানি দেই। সিএনজি রিতা ও তার ছেলে কে নিয়ে চলতে শুরু করে। ঘটনার আকস্মিক কি হলো? বোঝার জন্য দ্বীপ আর একটা সিএনজি ঠিক করে আগের সিএনজি কে ফলো করতে বলে। মনে হয় রিতার মুখ বাধা,কোনো কথা শোনা যাচ্ছে না, মাঝে মাঝে রিয়ান শব্দ করে কেঁদে চলেছে। তাদের সিএনজি খুব ঝোড়ছে চলছে। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলতে থাকে দ্বীপ। শহরের অলি-গলি ছেড়ে দূরে গ্রামের রাস্তা শেষ করে এগিয়ে চলতে থাকে রিতাকে কিডন্যাপ করা গাড়ি।আর তার পিছে দ্বীপ। অনেক খানি পথ অতিক্রম করার পর কিডন্যাপ করা সিএনজি টা থেমে যায়। তার থেকে কিছু টা দূরে থামে দ্বীপের ভাড়া করা সিএনজি। চোখের আড়াল থেকেই নেমে পরে সে। আর সামনে যাবে না গাড়ি। কিডন্যাপাররা সিএনজি থেকে নেমে রিতা কে জোড় করে সামনে নিতে থাকে। দ্বীপ সিএনজির ভাড়া মিটিয়ে তাদের পিছু নেই। রিতা কেনিয়ে সামনে এগিতে থাকে তারা। দ্বীপ অনুকরণ করতে থাকে তাদের। পথের সীমানা শেষ,শুরু হয় প্রকৃতির সীমানা, অজানা কোনো এক বনে ঢুকে পরে রিতা কে নিয়ে।কিন্তু দ্বীপ তাদের পিছু ছাড়ে না। বনের গভীর থেকে গভীরে যেতে থাকে কিডন্যাপারদের অনুসরণ করতে করতে। এক সময় বনের মাঝে চলে আসে তারা, পিছু ফিরতেই গাছের আড়াল হয়ে যায় দ্বীপ। সামনে ছোট একটা খাল! খালটা পাড়ি দেই কিডন্যাপার রা। দ্বীপ আবারো তাদের পিছু নেই। খাল পাড়ি দিয়ে আবারো হাটতে থাকে তারা। এভাবে হাটতে হাটতে গহীন বনে প্রবেশ করে তারা। আর তাদের সামনে বিশাল বড় একটা পাহাড় বাধে। দ্বীপ অনেক কাছে চলে আসে তাদের। নিজেকে আড়াল করতে গাছের সাহায্য নিতে হয় আবারো তার। কিডন্যাপারদের মাঝ থেকে একজন পাশের একটা ঢিলার উপর চড়ে বসে। সেখান থেকে বড় একটা পাথর খন্ড তুলে এনে নিচে রাখে। আবার সেই পাথড় টা তুলে অন্য পাশের গর্তের মুখে পুরে দেই। সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের গুহামুখ বেড় হয়ে যায়। কিডন্যাপার সবাই গুহা মুখে প্রবেশ করে। দূর থেকে সব কিছু অবলোকন করে দ্বীপ। ভিতরে প্রবেশ করে আর একটা গর্ত থেকে পাথড় তুলতেই পাহাড়ের গুহামুখ বন্ধ হয়ে যায়। দ্বীপ আর কিঞ্চিত সময় নষ্ট না করে সেই পথ ধরে পিছে ফিরতে থাকে।
.
দ্বীপ যখন রিতা কে ফলো করে তখন আমার প্রমিকা আমায় ফোন দিয়ে পার্কে দেখা করতে বলে। রিয়ান আর রিতার কথা মন থেকে মুছে ইমার সাথে দেখা করতে বের হই। পার্কে প্রবেশ করতেই কানে ভেসে আসলো....
- এই পৃথিবী তোমার আমার। ( প্রমিকা তার প্রমিক কে উদ্যেশ্য করে বললো)"
আর মাথা মাথা গেলো বিগড়ে। তাদের কাছে গিয়ে জিঙ্গেস করলাম... আপু এই মাসের টাকা টা শেষ, আগামী মাসেই ক্লিয়ার করে দিবো!( আমি)
--কি ভাই? কি ক্লিয়ার করবেন? ছেলেটা)
-- না মানে ভাই, এই যে আমি আপনাদের পৃথিবী তে বাস করছি তার ভাড়াটা।( আমি)
-- পাগল নাকি? কোথা থেকে যে আসে এসব? (মেয়ে টা).
-- হু বললেই হলো, আপনাদের এখানে থাকি, টাকা না দিলে কি আর এমনি এমনি রাখবেন? ( আমি).
-- চলো তো, এদের কোনো কাজ নেই, শুধু বিরক্তি করে! ( ছেলেটি).
এরপর আর কি, তারা দ্রুত প্রস্থান করলো পার্ক থেকে।
সোজা চলতে থাকি সামনের দিকে। যেখানে আমার প্রমিকা আমার জন্য বসে আছে।
সামনে গিয়ে ধপ করে বসে পড়ি ইমার পাশে। আমাকে দেখেই তার রেডিও এফএম চালু হয়ে গেলো। স্বভাবগত মেয়েরা এমনি। কোনো এক মহান ব্যক্তি ব্যক্ত করিয়াছিলেন,
" কনফিউজড শব্দটার উৎপত্তি হয় মেয়েদের সৃষ্টি লগ্ন থেকে। এতএব এদের সাথে তর্ক করা আর না দেখে পরিক্ষায় পাশ করা সমান কথা"। আমি ও নির্বোধ পোষা প্রানির মতো শুধু মাথা নাড়তে থাকলাম। তার সকল কথার উত্তর দিতে থাকি " হু, হু" বলে। সময় গড়িয়ে সন্ধ্যে হওয়ার উপক্রম। বাসায় ফিরতে হবে। ইমার থেকে বিদায় নিয়ে পিছু ফিরতেই ইমা চিৎকার করে উঠলো। চোখের পলকে পিছনে ফিরে তাকায় আমি। আর যা দেখলাম, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি। পিলে চমকে যায় আমার, এটা কি করে সম্ভব! একজন জলজ্যান্ত মানুষ কে একটি অচেনা সাপ আকাশে তুলে নিয়ে চলেছে। ইমা প্রচণ্ড চিৎকার করেই চলেছে। চোখের পলকে কোথায় যেনো হারিয়ে যায় সে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now