বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
দি ক্যারেকটার
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান FAHAD (০ পয়েন্ট)
X
শুয়ে শুয়ে হেডফোন দিয়ে গান শুনছিলাম "মধু কই কই বিষ খাওয়াইলা"। এরই মধ্যে ফোন বেজে উঠল, দেখি নিশাতের গার্লফ্রেন্ড ফোন দিছে.... আমি ফোন রিসিভ করলাম...
--- হ্যাঁ... কি খবর? কেমন আছ?
--- ভাইয়া একটু তারাতারি হাসপাতালে আসেন। নিশাতের মাথা ফাটিয়ে ফেলছে।
--- বলো কি!! কোন হাসপাতালে আছ?
--- ঐ যে, এরআগে নিশাত ব্লেড দিয়ে নিজের হাত নিজে কাটার পর যে হাসপাতালে নিয়ে সেলাই করা হয়েছিল ওখানেই আছি। আপনি দ্রুত আসেন।
--- টেনশন করো না, আমি এখনই আসছি।
আমি দ্রুত হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। এর আগেও ওর এরকম হয়েছে তবে, কখনো মাথা ফাটায়নি। নিশাত যখনই কোন মেয়েকে প্রপোজ করে আর মেয়ে যদি রাজী না হয়, তখনই শুরু হয় নিশাতের হাত-পা কাটাকাটি।
নিশাতের ধারনা, মেয়েরা রক্ত ভয় পায়, তাই প্রপোজে রাজী না হলে, মেয়ের সামনে রক্তপাত ঘটালেই মেয়ে কাবু হবেই হবে এবং নিশাত মোটামুটি সফলও হয়, তবে গার্লফ্রেন্ড থাকা সত্যেও নিশাত মাথা কেন ফাটাল সেটাই বুঝতে পারছি না.....
হাসপাতালে গিয়ে দেখি, নিশাতের মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। পাশে ওর গার্লফ্রেন্ড বসা।
আমায় দেখেই কাঁদো কাঁদো গলায় ওর গার্লফ্রেন্ড বলল,
'দেখেননা ভাইয়া, কারা ওর মাথা ফাটিয়েছে বলতে বলছি, ও কিছুই বলছে না!'
আমি বললাম, ঠিক আছে..আমি দেখছি।
আমি নিশাতের কাছে বসে আস্তে করে বললাম,
দোস্ত মাথা কে ফাটাইছে....
নিশাত কিছু বলছে না, নিশ্চুপ দৃষ্টিতে একবার আমার দিকে আর একবার গার্লফ্রেন্ডের মুখের দিকে তাকাতাকি করছে আর মুখ দিয়ে কেমন যেন চি চি শব্দ করছে......
পাশ থেকে ওর গার্লফ্রেন্ড বলল,
ভাইয়া ওর মনে হয় স্মৃতি শক্তি নষ্ট হয়ে গেছে, ওর মাথায় আরেকটা বাড়ি দেন, স্মৃতি ফিরে আসলেও আসতে পারে।
বাড়ির কথা শুনেই দোস্ত আস্তে করে বলল,
'আমায় একটু বিষ আইনা দে, বিষ খাইয়া মইরা যাই,,
---- মরবি মানে, মরবি ক্যান! মাথা কে ফাটাইছে সেইটা আগে বল?
---- কেউ ফাটায়নি, আমার মাথা আমি নিজেই ফাটাইছি, এ জীবন রেখে আর কি করব?
--- মানে! ঘটনা কি...খুলে বলতো?
--- দুঃখের কথা কি আর কমু! তুই তো জানিস অনেক রাত পর্যন্ত ফেসবুক চালাই, সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস যেতে লেট হয়ে যায়.....
--- তোর বস কিছু বলছে?
--- আরে না.....
-- তো...ঘটনা কি
--- ঘুম থেকে উঠে তারাতারি রেডি হচ্ছিলাম অফিসের জন্য। তুই তো জানিস, আমি জিন্স প্যান্ট পরি না। গ্যাভার্নিং কাপড়ের নরম প্যান্ট পরি, সেই প্যান্টে হুক বোতাম থাকে না, থাকে সুতো দিয়ে সেলাই করা বোতাম। দ্রুত প্যান্ট পড়তে গিয়ে সেই বোতাম গেল ছিড়ে......রুমে আর কোন পরিষ্কার প্যান্টও ছিল না যে অন্যটা পড়ে যাব.....
---- তারপর...
---- এদিকে অফিসের সময়ও চলে যাচ্ছিল, আর ব্যাচেলর মানুষ আমি, রুমে সুঁই-সুতাও ছিলনা যে সেলাই করব। তাই পাশের ফ্লাটের এক বয়স্ক ভাবির কাছে সাহায্য চাইলাম।
-- বুঝতে পারছি। প্যান্টের ঐ জায়গায় বোতাম লাগাতে বলায় ভদ্রমহিলা নিশ্চয়ই ভাবলেন তুই কোন
অসভ্য ইঙ্গিত করছিস। তারপর তোকে জুতা পেটা করলেন, তাই তো....
---- না না, তা নয়
-----তাহলে..?
---সেই বয়স্ক ভাবি একজন সমাজ সেবিকা। তিনি আমার সমস্যা বুঝতে পারলেন। দ্রুত সুঁই-সুতা
নিয়ে আমার প্যান্টের বোতাম লাগিয়ে দিলেন।
---- তাহলে সমস্যাটা কি..?
---- বোতামটা লাগানো শেষ করে ভাবি যখন মাথা নিচু করে দাঁত দিয়ে সুতোটা কেটে দিচ্ছিলেন তখনই উনার হাজব্যান্ড এসে উপস্থিত। তারপরতো বুঝতেই পারছিস। ওনার হাজব্যান্ড হলেন পুলিশের চাকরি করে। এখন তার পুলিশ হাজব্যান্ড বলছে, ওই বয়স্ক মহিলাকে আমায় বিয়ে করতে হবে, নাহলে জেলখানায় ভরে দিবে। এখন তুই বল আমি বেঁচে থেকে কি করব....
বিষ এনে দে আমায়.... বিষ।
collected,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now