বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
> ওই সারাদিন মোবাইল নিয়ে কি করিস? (মেঘা)
> তুই বইয়ের পোকা, তুই বুঝবি না (আমি)
> কই দেখি... ও ফেসবুক?
> হুম
> কি এত করিস ফেসবুকে?
> চ্যাটিং
> মেয়েদের সাথে?
> হুম
> কি....
> ২টার সাথে প্রেমও করছি
> কি বললি??
অতঃপর কিছু এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি ৷ তারপর মুখ লাল করে চলে গেল মেঘা ৷ চিন্তা করার দরকার নেই, একটু পরেই আবার ফিরে আসবে ৷ তার মধ্যে আসেন আপনাদের বিস্তারিত বলি...
·
আমি সিহাব ৷ মেঘা আর আমার বন্ধুত্ব ক্লাস থ্রি থেকে ৷ এমন বন্ধু, যার টিফিন চুরি করে না খেলে আমার আর কিছু হজম হতো না ৷ আর এখন ওর কিল-ঘুষি না খেলে দিনটাই নিরামিষ যায় ৷ তাই সবসময় ওকে রাগানোর চেষ্টা করি ৷ তবে ভালও বাসি অনেক, আর হয়তো মেঘাও আমাকে..... কিন্তু কেউ কাউকে বলিনি, তবে দুজনেই জানি বলা যায় ৷ মেঘাকে নিয়ে আমার স্বপ্নগুলো ডায়রীর পাতায় সংরক্ষিত আছে ৷ লেখা শেষ হলে ওকে গিফ্ট করবো ৷
কিছুক্ষন পরেই মেঘা ফিরে আসলো,
> বাড়ি যাবো (মেঘা)
> তো আমি কি করবো? (আমি)
> আমি একা যেতে পারবো না
> এটা আর নতুন কি, তোর বাবা তো আমারে বেতন দিয়ে রাখছে তোকে প্রতিদিন বাড়ি পৌছে দেওয়ার জন্য
> তুই যাবি কি না?
> না গিয়ে কি উপায় আছে, চল...
মেঘাকে বাড়ি পৌছে দিয়ে আমিও বাড়ি চলে আসলাম ৷
·
রাত্রে বেশি জাগার কারনে সকালে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেল ৷ চোখ ডলতে ডলতে বাইরে আসলাম ৷ কিন্তু একি? মেঘা ও তার বাবা-মা আমাদের বাড়িতে এতো সকালে? বাবাও অফিস না গিয়ে ওদের সাথে কি গল্প করছে?
আমাকে দেখে মেঘা ওখান থেকে উঠে আসলো ৷ আমাকে টেনে নিয়ে আমার ঘরে আসলো ৷
> ছি, তোর ঘরের একি অবস্থা? (মেঘা)
> ও ম্যাডাম, এটা এক ব্যাচেলরের ঘর (আমি)
> তোর ব্যাচেলরেত্ব ঘোচাতেই এসেছি
> কি???
> (হটাৎ সিরিয়াস মুডে চলে গেল)
> এই, কি হয়েছে?
> কালকে আমাকে দেখতে এসেছিল
> তারপর?
> ওরা আমাকে দেখে পছন্দ করেছে
বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো ৷ তারমানে মেঘা অন্য কাউকে বিয়ে করবে? আমাকে তার দাওয়াত দিতে এসেছে? জোর করে হাসার চেষ্টা করে বললাম,
> তাই নাকি? তা কবে বিয়ে করছিস?
> (ঠাস.....)
> আউ... এটা কি হলো? (হাতটা বাম গালে চলে গেল)
> আমি সারারাত কেঁদেছি কি অন্য কাউকে বিয়ে করার জন্য?
> মানে?
> মানে আমি মাকে আমাদের কথা বলে দিয়েছি
> অ্যা...
> বাবা এসেছে তোর পরিবারের সাথে কথা বলতে
> আমাদের কথা কি?
> আমাদের ভালবাসার কথা
> আমি কি তোকে ভালবাসি বলেছি কখনো?
> বাসিস না? (দুই হাতে কলার ধরে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো আমার দিকে)
> বা...বা...বা...বাসি তো
> Good boy
অতঃপর দুপক্ষের সম্মতির আমাকে পরাধীন করার দিন তারিখ ঠিক হলো ৷
:
বিয়ের আর এক সপ্তাহ বাকি আছে ৷ সেদিন সকালে ঘুম ভাঙলো মেঘার ফোনে,
> হ্যালো (আমি)
> Good Morning (মেঘা)
> হুম
> এখনো ঘুমিয়ে আছিস
> হুম
> এখন যা ঘুমাবার ঘুমো, আমি আসলে বুঝতে পারবি
> তাহলে আমি বিয়ে করবো না
> তো চৌদ্দ গুষ্টি করবে
> ওরা সবাই বিবাহিত
> সে পরে দেখা যাবে, বিকালে শপিংয়ে যাবো
> আচ্ছা যাস
> যাস মানে? আমি একা যাবো নাকি?
> ok, কয়টায় বের হবি?
> ৬ টায়, তুই ৫:৩০ এর মধ্যে চলে আসবি
> Ok
> Ok, bye...
শপিং শেষ হতে হতে রাত ৯টা বেজে গেল ৷ রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছি...
> চল হাটি (মেঘা)
> কি? কেন? (আমি)
> আমার খুব হাটতে ইচ্ছা হচ্ছে
এই মেয়ে যা বলবে করেই ছাড়বে, তাই জোর না করে হাটতে লাগলাম ওর সাথে ৷ আমার হাতটা ধরে রেখেছে ও ৷
> সিহাব(মেঘা)
> কি
> চিরদিন এভাবে আমার পাশে থাকবি তো?
> হুম
> প্রমিস কর
> আচ্ছা বাবা, প্রমিস
মেঘা একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে আবার নিরবে হাটতে শুরু করলো ৷ হটাৎ কয়েকজন এসে সামনে পথ আটকে দাড়ালো ৷ কিছু বুঝে ওঠার আগে মাথায় প্রচন্ড একটা আঘাত পেলাম ৷ জ্ঞান হারাতে হারাতে মেঘার চিৎকার শুনতে পেলাম, কিন্তু কিছু করতে পারলাম না ৷
:
চোখ মেলে নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতলের বিছানায় ৷ আমার জ্ঞান ফেরার খবর পেয়ে বাবা, মা, সবাই ছুটে আসলো ৷ কিন্তু আমি খুজছি মেঘাকে ৷ কিন্তু পাচ্ছি না,
> মেঘা কোথায় মা, ও কেমন আছে? (আমি)
> (সবাই নিরব)
> কি হলো, কথা বলছো না কেন তোমরা?
> (নিরব)
> ওর কিছু হয়নি তো মা?
ছোট বোন কাঁপা হাতে একটা খবরের কাগজ এগিয়ে দিল আমার দিকে ৷ প্রথম পাতাতেই চোখ আটকে গেল একটা ছবিতে ৷
হ্যা, ছবিটা মেঘার ৷
নরপিশাচ গুলো ওর শরীরটাকে ভোগ করেই শ্রান্ত হয়নি, খুন করে ফেলে রেখে গেছে একটা নর্দমার মধ্যে৷
বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারলাম না ছবিটার দিকে ৷ চোখটা ভিষন ব্যথা করছে ৷ মাথার ভেতরে কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে মনেহলো ৷ হটাৎ মেঘাকে দেওয়া প্রমিস মনে পড়ে গেল ৷ সারাজীবন ওর পাশে থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটাও পারলাম না ৷
সরি মেঘা, এই পৃথিবীটা দুষিত হয়ে গেছে ৷ এখানে ন্যায়ের চেয়ে অন্যায়ের শক্তি বেশি, তাই তোমার বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়েরও কোন বিচার হবে না এখানে ৷ আমিও আর থাকতে চাইনা এখানে ৷ একটু অপেক্ষা করো, আমি আসছি তোমার কাছে.....
:
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now