বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৪

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৪ ৪ মাউন্ট মার্সি রেডইন্ডিয়ান রিজার্ভ-এর ফেডারেল কমিশনার ওয়ারেন ওয়েলেসলি মনোযোগ দিয়ে শুনছিল কাহোকিয়ার ইনষ্টিটিউট অব আমেরিকান রেডইন্ডিয়ান ষ্টাডিজ-এর প্রধান আরাপাহোর কথা। প্রফেসর আরাপাহোর পাশে বসে আছে জোসেফ জন ওরফে আহমদ মুসা। তার পরিচয় সে প্রফেসর আরাপাহোর একজন সহকারী রেডইন্ডিয়ান বিশেষজ্ঞ। আর কমিশনার ওয়ারেন ওয়েলসলির আমন্ত্রণে উপস্থিত আছেন ঈগল সান ওয়াকার। কমিশনার অফিসের সিভিল অফিসার সান ইয়াজুনো’র বন্ধু সে। তার মাধ্যমেই সান ওয়াকারের সাথে কমিশনারের পরিচয়। কমিশনার দেশবরেণ্য প্রতিভা সান ওয়াকারের প্রতি দুদিনেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। রেডইন্ডিয়ান বিষয়ক আলোচনা বলেই কমিশনার সান ওয়াকারকেও ডেকেছে। অফিসের আরও দুজন বৈঠকে হাজির। তাদের একজন ফেডারেল কমিশনার অফিসের প্রধান প্রশাসনিক অফিসার টমাস ওয়াল্টন এবং সিভিল এ্যাফেয়ার্স অফিসার সান ইয়াজুনো। আলোচনা বসেছে ফেডারেল কমিশনারের অফিসে। কথা শেষ করে থামল প্রফেসর আরাপাহো। প্রফেসর আরাপাহো থামতেই কমিশনার ওয়ারেন ওয়েলসলি বলে উঠল, ‘আমাদের সম্মানিত অতিথি প্রফেসর আরাপাহোর কাছে এ বিষয়ে আমি আগেই শুনেছি। এখন আরও বিস্তারিত উনি বললেন। আমি এ ব্যাপারে প্রথমে মি. টমাস ওয়ালটনের বক্তব্য শুনতে চাই।’ ‘ধন্যবাদ স্যার’, বলতে শুরু করল টমাস ওয়ালটন, ‘বিষয়টির সাথে আমাদের অফিসের তেমন কোন যোগসূত্র দেখছি না। আমাদের একটা ইনফরমেশন দেয়াই যথেষ্ট মনে করি। এ বিষয়টির সাথে কিছুটা যোগ আছে অপরাধ-আইনের। স্যার তো বললেনই থানার আপত্তি নেই। তবে কবর খননের সময় তারা হাজির থাকতে চায়। প্রফেসর স্যারও এটাই চান। এই অবস্থায় আমরা কোন সমস্যা দেখি না। থানার মত ঘটনার সময় আমরাও হাজির থাকতে চাই, এটুকু দাবি বোধ হয় আমরা করতে পারি।’ টমাস ওয়ালটন থামতেই কমিশনার ওয়ারেন ওয়েলসলি বলল, ‘ধন্যবাদ মি. ওয়ালটন। এবার সান ইয়াজুনো তোমার মত বল।’ ‘স্যার আমি মি. ওয়ালটনের সাথে একমত। শুধু একটা কথাই যোগ করব। এ বিষয়ে এখানকার রেডইন্ডিয়ান কমিউনিটি কর্তৃপক্ষের অনুমতি দরকার। আমি প্রফেসর স্যারের কাছে শুনেছি তিনি এ বিষয়ে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেছেন। তারা এতে আপত্তি করেননি। আজ কমিউনিটি নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বসছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবেই তারা এর অনুমতি দেবেন। আমি মনে করি প্রফেসর স্যারকে যতটা পারা যায় আমাদের সহযোগিতা করা দরকার।’ বলল সান ইয়াজুনো। কমিশনার তাকালো সান ওয়াকারের দিকে। বলল, ‘তুমি এখানে অতিথি হলেও তোমার এ ব্যাপারে মতামত আমাদেরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে। কিছু তুমি বল।’ ‘প্রফেসর স্যার যে কাজ নিয়ে এসেছেন, সেটা আমাদের সকলের কাজ। আমি মনে করি, সকল প্রশ্ন, সকল জিজ্ঞাসা, সকল সন্দেহ, ইত্যাদির তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এতে সমাজ, দেশ সুস্থ থাকবে।’ সান ওয়াকার বলল। সান ওয়াকার থামলে কমিশনার ওয়ারেন ওয়েলেসলি বলল প্রফেসর আরাপাহোকে লক্ষ্য করে, ‘হয়ে গেল মি. প্রফেসর। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। আমি যা ভাবছিলাম, সকলের কাছ থেকে সেটাই শুনলাম। তাহলে আপনি কমিউনিটি নেতাদের সাথে আলোচনা করে কাজ শুরু করে দিন। কবে শুরু করছেন, আমাদের দয়া করে জানাবেন। আমরাও থাকব সাথে।’ ‘ধন্যবাদ। খুব খুশি হলাম সহযোগিতার জন্যে। থানাও সাথে থাকবে। তাদের কাছ থেকে তারিখ কনফার্ম করে আপনাদের জানাব।’ প্রফেসর আরাপাহো বলল। ‘আরও কিছু কথা হলো। তারপর বিদায় নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে এল প্রফেসর আরাপাহো এবং আহমদ মুসা। আহমদ মুসারা গাড়িতে উঠতে যাচ্ছে এ সময় সান ওয়াকারও ছুটে এসে তাদের সাথে যোগ দিল। বলল, ‘কমিউনিটি নেতাদের বৈঠকে চলুন আমিও যাব।’ আহমদ মুসা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ওদের মিটিং বেশ আগে শুরু হয়ে যাবার কথা। এখানে আমাদের একটু বেশি সময় লাগল।’ ‘মিটিং শুরু হতেই বেশ দেরি হয়েছে। থাক, শেষটা ভালই হয়েছে। চিন্তা নেই, কমিউনিটি নেতাদের মিটিং-এ আমাদের কোন ভূমিকা নেই। আমাদের কথা সবাইকে বলেছি। সবাই জানে। সবাই সানন্দে সহযোগিতা করতেও রাজি হয়েছে। অতএব কোন সমস্যা হবার কথা নয়। গড ব্লেস আস।’ কথা শেষ করেই বলল, ‘আর দেরি নয়, চল। মিটিং-এর শেষটা আমরা ধরতে চাই।’ বলে গাড়িতে উঠল প্রফেসর আরাপাহো। আহমদ মুসা ও সান ওয়াকারও গাড়িতে উঠল। আহমদ মুসা বসেছে ড্রাইভিং সিটে। গাড়ি চলতে শুরু করল। আহমদ মুসারা যখন মিটিং-এ উপস্থিত হলো,তখন মিটিং শেষ পর্যায়। মিটিং বসেছে মাউন্ট মার্সি রেডইন্ডিয়ান কমিউনিটির প্রধান সিনর সোপাহারোর বিশাল দরবার খানায়। দরবার খানার বিশাল হলের চারদিক জুড়ে সোফা ষ্টাইলের ঐতিহ্যবাহী গদি বসানো। কমিউনিটির বিভিন্ন অংশের সরদাররা বসেছেন সুদৃশ্য গদিগুলোতে। ঘরের মাঝ বরাবর দেয়াল ঘেঁষে স্থাপিত সিংহাসনাকৃতির বিশাল গদিতে বসেছে সিনর সোপাহারো। তার দুপাশে কয়েকটা গদি খালি। আহমদ মুসারা দরবার হলে প্রবেশ করতেই মাউন্ট মার্সি’র রেডইন্ডিয়ান প্রধান সিনর সোপারাহো আনন্দ উচ্ছাসের সাথে বলল, ‘সম্মানিত প্রফেসর আসুন। আপনাদের সবাইকে এ দরবারে স্বাগত। আপনাদেরই এখন আশা করছিলাম। ঠিক সময়েই এসেছেন। ‘ধন্যবাদ সরদার।’ বলে প্রফেসর আরাপাহো দুহাত তুলে কমিউনিটির সব নেতাদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সকলকে গুড ইভিনিং।’ তারপর প্রফেসর আরাপাহো আহমদ মুসা ও সান ওয়াকারকে নিয়ে এগুলো সিনর সোপাহারোর দিকে। সিনর সোপাহারো উঠে দাঁড়িয়ে স্বাগত জানাল প্রফেসর আরাপাহোকে এবং নিজের ডান পাশের আসনটার দিকে ইংগিত করে প্রফেসর আরাপাহোকে বসতে বলল। বাম পাশের দুআসনে বসাল আহমদ মুসা ও সান ওয়াকারকে। তারপর নিজে তার আসনে ফিরে গিয়ে সিনর সোপাহারো প্রফেসর আরাপাহোকে লক্ষ্য করে বলল, ‘প্রফেসর স্যার, আপনার বিষয় নিয়ে আমি আমার সরদারদের সাথে আলোচনা করেছি। তারা সকলেই আপনার চিন্তার সাথে একমত। কিন্তু তারা কতগুলো কৌতূহল প্রকাশ করেছেন, যার জবাব আপনার কাছে আছে।’ ‘ওয়েলকাম সরদার। আমি তাঁদের কৌতুহল মিটানোর সুযোগ পেলে খুবই খুশি হবো।’ বলল প্রফেসর আরাপাহো। ‘প্রফেসর স্যার, অনেকের কৌতুহল, এখানে গণকবর থাকার কথা কেউ জানে না, এমনকি শোনেওনি কেউ, এ বিষয়টা অবহিত হলেন কিভাবে?’ বলল সিনর সুপাহারো। ‘ধন্যবাদ সরদার সিনর সুপাহারো। রেডইন্ডিয়ানদের বিষয়ে, রেডইন্ডিয়ানদের এলাকা বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য, ইনফরমেশন ইত্যাদি বরাবরই বিভিন্নভাবে আমাদের ইনষ্টিটিউটে আসে। কেউ চিঠিপত্রের মাধ্যমে জানান। কেউ রেকডকৃত অডিও ভিডিও ক্যাসেট পাঠান। পত্র-পত্রিকা ম্যাগাজিনও অনেকে পাঠান। মাউন্ট মার্সির গণকবরের সংবাদ এইভাবে কয়েকটি সূত্র থেকে আমার কাছে আসে। তারা জানান, রেডইন্ডিয়ানদের স্বার্থেই এর অনুসন্ধান প্রয়োজন। আমি এ বিষয়টার প্রতি তেমন গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু একটা সূত্র যখন আমাকে স্থান নির্দিষ্ট করে বলল, তখন আমি বিষয়টাকে সিরিয়াসলি গ্রহণ করেছি এবং আপনাদের কাছে এসেছি।’ বলল প্রফেসর আরাপাহো। প্রফেসর আরাপাহো থামতেই এক পাশ থেকে সরদারদের একজন বলে উঠল, ‘স্যার তাদের স্বার্থ কি? তারা কেন চায় এটা খনন হোক?’ প্রফেসর আরাপাহো মিষ্টি হাসল। বলল, ‘পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে বা নিজের স্বার্থ কোরবানী দিয়েও সত্য সন্ধানে, রহস্য সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। এখানে আমি মনে করি সত্য সন্ধানটাই মূখ্য।’ ‘স্যার এটা করতে গিয়ে আমরা কোন সমস্যার জড়িয়ে পড়ব না তো?’ অন্য প্রান্ত থেকে আরেকজন সরদারের জিজ্ঞাসা। ‘বিষয়টা অতীতের সাথে সম্পর্কিত। বর্তমানের সাথে নয়। এই ইন্ডিয়ান রিজার্ভের কেউ-ই যেহেতু এ বিষয়টা সম্পর্কে কিছুই জানে না, তাই এখানকার কেউ এর সাথে সম্পর্কিত হবার প্রশ্নই ওঠে না।’ ‘স্যার, খনন করে গণকবর যদি পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ আপনার কি হবে?’ আরেকজন সরদারের জিজ্ঞাসা। ‘সত্যটা জানতে চাই। গণকবরে ওরা কারা? রেডইন্ডিয়ান কিনা? কত দিন আগে ওদের এই পরিণতি ঘটে? এ বিষয়গুলো যদি জানা যায়, তাহলে আমাদের ইতিহাসের এক অংশ হবে এটা।’ বলল প্রফেসর আরাপাহো। প্রফেসর আরাপাহো থামল। কোন দিক দিয়ে কোন প্রশ্ন আর এল না। মুখ খুলল এবার সিনর সুপাহারো। বলল, ‘ধন্যবাদ প্রফেসর স্যার। আমি মনে করি সবাই আশ্বস্ত হয়েছে। আমার একটা পরামর্শ, আপনার এ উদ্যোগের সাথে আমরা তো আছিই, পুলিশ এবং ফেডারেল কমিশনার অফিসকে জড়িত করা দরকার।’ ‘জি সরদার। ওদের সাথে কথা বলেছি। ওরা থাকবেন আমাদের সাথে।’ বলল প্রফেসর আরাপাহো। ‘তাহলে আর কোন কথা নয়। আমাদের পূর্ণ সম্মতি আছে। আপনি অগ্রসর হোন।’ সিনর সুপাহারা বলল হাসি ভরা মুখে। প্রফেসর আরাপাহো উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘ধন্যবাদ সরদার, ধন্যবাদ সকলকে।’ আরও দুচারটি কথার পর কফি পান পর্ব শেষে মিটিং-এর সমাপ্তি ঘোষণা হলো। আহমদ মুসারা ফিরে এল সিনর সুপাহারোর অতিথি হিসেবে রয়েছে মাউন্ট মার্সিতে আসার পর থেকেই। আহমদ মুসারা এখানকার ট্যুরিষ্ট রেষ্ট হাউজে উঠেছিল। কিন্তু মাউন্ট মার্সি’র রেডইন্ডিয়ান কম্যুনিটির প্রধান তাদেরকে রেষ্ট হাউজে থাকতে দেয়নি। বলতে গেলে জোর করেই নিয়ে এসেছে তার আলিশান মেহমান খানায়। আহমদ মুসা তার কক্ষে এসে ধপ করে বসে পড়ল, গাটা এলিয়ে দিল সোফায়। মনটা তার খুব হাল্কা লাগছে আজ। কয়েকদিন বেশ টেনশনে কেটেছে। প্রথম দিকে কমিউনিটি সরদাররা এ ব্যাপারটা বুঝতেই চায়নি। তাছাড়া এখানকার পুলিশও ব্যাপারটাকে সন্দেহের চোখে দেখেছে। ফেডারেল কমিশনারের অফিসও এর সাথেজড়িত হতে দ্বিধা করেছে। প্রফেসর আরাপাহোর ইমেজ ও অব্যাহত চেষ্টা এবং পেছনে থেকে সান ওয়াকারের বন্ধু সান ইয়াজুনোর চেষ্টা গোটা বিষয়কে অবশেষে সহজ করে দিয়েছে। পুলিশ আগেই রাজি হয়েছিল। ফেডারেল কমিশনারের অফিস ও কমিউনিটি সরদারদের গুরুত্বপূর্ণ সম্মতিও আজ পাওয়া গেল। এখন যে কোন মুহূর্তে কাজ শুরু করা যায়। এসব ভাবনায় আহমদ মুসা যখন ডুবে আছে, তখন প্রফেসর আরাপাহো এবং সান ওয়াকার প্রবেশ করল আহমদ মুসার ঘরে। ওদের দেখে আহমদ মুসা সোজা হয়ে বসল। সান ওয়াকার গিয়ে আহমদ মুসার পাশে বসল। আর প্রফেসর আরাপাহো আহমদ মুসার মুখোমুখি সোফায় বসতে বসতে বলল, ‘জোসেফ জন ওরফে...... থাক নাম ধরব না। এখন বল, তোমার পরিকল্পনা কি? যে কোন সময়ে কাজ শুরু করতে পার। আমার প্রতœতাত্বিক খননকারী গ্রুপও আজ বিকেলের মধ্যে পৌছে যাবে।’ ‘অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার আপনাকে। আপনি একটা অসাধ্য সাধনের মত কাজ করেছেন। আমি.........’ আহমদ মুসা কথা শেষ করতে পারলো না। আহমদ মুসাকে বাধা দিয়ে প্রফেসর আরাপাহো বলল, ‘দেখ সাগর যদি নদীর গভীরতা নিয়ে প্রশংসা করে, সেটা খুবই লজ্জার। আমি তোমার প্রশংসা শুনতে আসিনি। আমি জানতে এসেছি তোমার পরিকল্পনা।’ স্যার আমি এখন টেলিফোন করব আমাদের ‘ক্রিশ্চিয়ান কার্টার’ ওরফে ‘বুবি’কে (বুমেদীন বিল্লাহকে)। আজই তাকে আসতে বলব। সে এলেই খনন কাজ শুরু করা যাবে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তার জন্যে অপেক্ষা কেন?’ জিজ্ঞাসা প্রফেসর আরাপাহোর। ‘সে মূলত ফ্রান্সের লা’মন্ডে পত্রিকার সাংবাদিক। তাছাড়া সে ফ্রি ওয়ার্ল্ড (FWTV) এবং ওয়ার্ল্ড নিউজ এজেন্সি (WNA)-এর আন্ডার গ্রাউন্ড রিপোর্টার। বিশ্বব্যাপি উপযুক্ত প্রচার এখন হবে আমাদের প্রধান অবলম্বন। এক্ষেত্রে সেই হবে আমাদের এখন প্রধান অস্ত্র।’ আহমদ মুসা বলল। ‘বুঝেছি জোসেফ জন। মিডিয়া যুদ্ধের মাধ্যমেই জয় নিশ্চিত করতে চাও। গড ব্লেস আস অল।’ বলল প্রফেসর আরাপাহো। ‘ধন্যবাদ স্যার।’ বলেই আহমদ মুসা মোবাইলটা হাতে তুলে নিল। মোবাইলের ডিজিটাল নাম্বারে নক করতে করতে প্রফেসর আরাপাহোকে লক্ষ্য করে বলল, ‘মাফ করুন স্যার, টেলিফোনটা সেরে নিই।’ কথা শেষ করতেই টেলিফোনের ও প্রান্ত থেকে ড. হাইকেলের কণ্ঠ শোনা গেল। ‘গুড ইভিনিং ড. হ্যামিল্টন। আপনি কেমন আছেন? ওখানে কি মি. কার্টার ওরফে ‘বুবি’ আছে?’ এ প্রান্ত থেকে বলল আহমদ মুসা। ‘ওয়েলকাম। গুড ইভিনিং। হ্যাঁ বুবি আছেন। ইউরোপ থেকে যার আসার কথা তিনিও আছেন। কেমন আছ তুমি? ওদিকের খবর কি?’ ড. হাইম হাইকেল বলল। ‘এ দিকের খবর খুবই ভাল। ব্যবস্থা সব সম্পূর্ণ। দুএকদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করব। ‘বুবি’কে পরে কিন্তু তার আগে ইউরোপ থেকে আসা মেহমানকে দিন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ওকে। গড ব্লেস আস অল।’ ওপার থেকে বলল ড. হাইম হাইকেল। পরক্ষণেই টেলিফোনের ওপ্রান্ত থেকে কামাল সুলাইমানের কণ্ঠ শুনতে পেল আহমদ মুসা। বলল, ‘কাসু কেমন আছ? ওদিকে কতদূর এগুলে?’ ‘সুখবর তিন ক্ষেত্রেই। যেমন আপনি চেয়েছিলেন সেভাবে তিন প্রতিষ্ঠান থেকে ছয় প্যাকেট ম্যাটেরিয়াল যোগাড় করা হয়েছে। প্রত্যেক প্যাকেটেই প্রত্যয়নমূলক সিল সিগনেচার রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে, আমি হোটেল ছেড়ে দিয়েছি।’ বলল কামাল সুলাইমান। ভ্রুকুঞ্চিত হলো আহমদ মুসার। সমস্যা বলতে কামাল সুলাইমান কি বলতে চেয়েছে বুঝেছে আহমদ মুসা। বলল, ‘ভাল করেছ। পরবর্তী কাজগুলো?’ ‘যেদিন পেয়েছিলাম নমুনা, আপনার নির্দেশ অনুযায়ী সেদিনই একটি করে প্যাকেটের ম্যাটেরিয়াল দিয়েছিলাম সেই নির্দিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু রেজাল্ট নিতে যাওয়াই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওরা হন্যে হয়ে উঠেছে। পাহারা বসিয়েছে সবখানে।’ বলল কামাল সুলাইমান। বিষণœ কণ্ঠ তার। ‘ঠিক আছে। ধীরে চল। আজই ‘বুবি’কে এখানে পাঠিয়ে দাও। তাকে এখানে দরকার। শোনাও যাবে তার কাছ থেকে সব।’ বলল আহমদ মুসা গম্ভীর কণ্ঠে। ‘ঠিক আছে। ‘বুবি’র সাথে কথা বলবেন?’ ‘আর প্রয়োজন নেই। তুমি তাকে বলে দাও। আজই যেন সে আসে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ঠিক আছে। পাঠাচ্ছি ওকে। আর কোন নির্দেশ?’ জিজ্ঞাসা কামাল সুলাইমানের। ‘সাবধানে যতটুকু এগুনো যায় এগোও আর খোঁজ নাও। পারলে ডেলিভারি নাও। সম্ভব না হলে সাধ্যমত খোঁজ খবর রাখ। মনে রেখ দুনিয়াতে একমাত্র শিশাই নিশ্চিদ্র। আর সবকিছুর মধ্যে ছিদ্র আছে, ফাঁক আছে। এই ফাঁকের সন্ধান কর।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ধন্যবাদ। আপনার নির্দেশ বুঝেছি।’ বলল ওপার থেকে কামাল সুলাইমান। ‘ধন্যবাদ, কাসু। আজকের মত এখানেই শেষ। গড ইজ উইথ আস। বাই।’ বলল আহমদ মুসা। ‘বাই।’ কামাল সুলাইমান বলল। আহমদ মুসা কল অফ করে দিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিল। কিছু বলার জন্যে আহমদ মুসা মুখ খুলেছিল। কিন্তু তার আগেই প্রফেসর আরাপাহো বলে উঠল, ‘কি ব্যাপার আহমদ মুসা, কোন খারাপ খবর?’ ‘ভালোমন্দে মেশানো স্যার।’ ‘কেমন?’ ‘থ্যাংকস, কামাল সুলাইমান নিউইয়র্কের তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী টুইনটাওয়ার ধ্বংসের ডাষ্ট যোগাড় করেছে। কামাল সুলাইমানের সাথে খোলামেলা কথা বলা গেল না। কিন্তু যতটুকু কথা হলো, তাতে বুঝলাম এই ডাষ্ট সংগ্রহ করার বিষয়টা ‘ওপারেশন মেগা ফরচুন’ গ্রুপ (ও.এম.এফ গ্রুপ) জেনে ফেলেছে এবং তারা কামাল সুলাইমানের হোটেলের ঠিকানাও পেয়ে যায়। কামাল সুলাইমানও এটা আঁচ করতে পারে। সে হোটেল ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র সরে গেছে। ডাষ্টগুলো নিউইয়র্কের তিনটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছে ডাষ্টগুলোর পরিচয় প্রকাশ না করে। কামাল সুলাইমান আশংকা করছে, ও.এম.এফ গ্রুপ সবগুলো ল্যাবরেটরীর দিকে নজর রাখছে। সে কারণে রেজাল্ট সংগ্রহ করতে এখনও সে যায়নি। ফলে ওদিকে কাজটা থেমে গেছে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘মি. কামাল সুলাইমানের পক্ষ থেকে ডাষ্ট পরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে এটা কি তারা জানতে পেরেছে?’ সান ওয়াকার বলল। ‘বিষয়টা এত খোলামেলা ওর সাথে আলোচনা হয়নি। তবে আমার মনে হয় ওরা সন্দেহের উপর পাহারা বসিয়েছে, যাতে আমরা ডাষ্ট পরীক্ষা করতে না পারি। তিনটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্যে ডাষ্ট জমা দেয়া হয়েছে, ডাষ্ট সংগ্রহ করার এক ঘণ্টার মধ্যে ডাষ্টের তিনটি ভিন্ন পরিচয়ে এবং তিনজন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির পক্ষ থেকে। কামাল সুলাইমানই তিন নাতে তিন ব্যক্তি সেজেছিল।’ বলল আহমদ মুসা। ‘থ্যাংকস গড। সব আট-ঘাট বেঁধেই কাজটা করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা নিশ্চয় ওদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ আমি জানি, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের এসব ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন টেষ্টের জন্যে শত শত কেস জমা হচ্ছে। এই অবস্থায় ডাষ্টের পরিচয় ও জমাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম না জানলে বাঞ্জিত জিনিস বের করা মুষ্কিল।’ সান ওয়াকার বলল। ‘তোমার কথাই যেন সত্য হয় সান ওয়াকার। সমস্যা হলো, ভিন্ন নামে জমা হলেও একই ব্যক্তি তিন জায়গায় গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর টিভি ক্যামেরায় এ ছবি উঠেছে।’ বলে আহমদ মুসা সোফায় সোজা হয়ে বসল। বলল, ‘নিউইয়র্কের এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করছি, কাল সকালেই গণকবরের খনন কাজ শুরু হওয়া দরকার। আমার বিশ্বাস কাল সকালের মধ্যে আমাদের বিল্লাহ এখানে পৌছে যাবে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তাহলে আজই পুলিশ, ফেডারেল অফিসসহ সবাইকে জানিয়ে দিতে হয়।’ প্রফেসর আরাপাহো বলল। ‘জি স্যার।’ বলল আহমদ মুসা। ‘অল রাইট। তাহলে এখনই কাজে নামতে হয়।’ প্রফেসর আরাপাহো বলল। ‘খননের পরের বিষয়গুলো কি চিন্তা করেছেন ভাইয়া?’ জিজ্ঞাসা সান ওয়াকারের। ‘পরের কাজও তোমার এবং স্যারেরই বেশি। যে কয়টা দেহাবশেষ পাওয়া যাবে তার প্রত্যেকটি থেকে ৪টি করে দাঁত, প্রত্যেকটির থেকে দুপ্যাকেট করে দেহাবশেষ নিয়ে যেতে হবে শিকাগোতে পরীক্ষার জন্যে। আমার পরীক্ষার বিষয় তিনটি। এক. লোকগুলো কোন জাতি গোষ্ঠীর, দুই. লোকগুলো কয় তারিখে কতটার সময় নিহত হয়েছে, এবং তিন. তারা কিভাবে নিহত হয়েছে। স্যারের সাথে শিকাগোর সংশ্লিষ্ট দুটি ল্যাবরেটরীর কথা হয়েছে। তারা বলেছে দাঁত ও দেহাবশেষ পেলে তিন বিষয়েই তারা নিখুঁত তথ্য দিতে পারবে। সুতরাং স্যার এবং তোমাকেই এ মিশন নিয়ে শিকাগো যেতে হবে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘কিন্তু এই ডকুমেন্টগুলার প্রামাণ্যতা নিরুপিত হবে কিভাবে?’ সান ওয়াকার বলল। ‘এ ব্যাপারে আমি প্রফেসর স্যারের সাথে আলোচনা করেছি। আমার চিন্তা হলো, ‘গণকবর থেকে পাওয়া প্রত্যেকটা দেহাবশেষ বিষয়ে চারটা প্যাকেট হবে। দুটি দাঁতের প্যাকেট, আর দুটি দেহাবশেষের প্যাকেট। দাঁতের দুপ্যাকেটের প্রত্যেকটিতে দুটি করে দাঁত থাকবে। দেহাবশেষের দুটিতে একই জিনিস থাকবে। প্রত্যেকটা প্যাকেট সকলের উপস্থিতিতে সিল করা হবে এবং প্রত্যেকটি প্যাকেটে প্রত্যয়নমূলখ স্বাক্ষর থাকবে পুলিশের থানা কর্তৃপক্ষের, ফেডারেল কমিশনার অফিসের এবং রেডইন্ডিয়ান কমিউনিটি প্রধানের। অর্থাৎ প্রত্যেকটি দেহাবশেষের প্রত্যেক বিষয়ে দুটি করে সীল প্যাকেট হবে। দুটি প্যাকেটের একটি ল্যাবরেটরিতে দেয়া হবে পরীক্ষার জন্যে, আর একটি আমাদের হাতে থাকবে রেকর্ড হিসাবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ ভাইয়া। নিñিদ্র ব্যবস্থা হয়েছে। প্রমাণের বিষয়টা নিয়েই আমার উদ্বেগ ছিল।’ বলল সান ওয়াকার। ‘কিন্তু একটা বিষয়, ‘অবশিষ্ট দেহাবশেষ থাকবে কোথায়?’ বলল প্রফেসর আরাপাহো আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে। ‘কোন গণকবর আবিষ্কৃত হবার পর এর দায়িত্ব বর্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষক কর্তৃপক্ষের উপর। সেই হিসেবে পুলিশ গণকবরের দেখা-শোনা করবে, যতদিন না উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তাদের বিধি-ব্যবস্থা শেষ না করেন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ। ঠিক, এটাই আইন।’ বলে উঠে দাঁড়াল প্রফেসর আরাপাহো। বলল, ‘আমি যাই। ওদিকে গিয়ে দেখি, সকালেই কাজ আমরা শুরু করব। তুমি রেষ্ট নাও। বাই।’ প্রফেসর আরাপাহো চলে গেলে সান ওয়াকার বলল, ‘আমিও উঠি। সন্ধ্যার পর আসব।’ সান ওয়াকার যাবার জন্যে উঠে দাঁড়াল। ‘ঠিক আছে। এস। কিন্তু শোন, তুমি সান ইয়াজুনোকে বলো সে যেন ফেডারেল কমিশনার অফিস এবং পুলিশ ষ্টেশনের কথা-বার্তা, চিন্তা-ভাবনার দিকে নজর রাখে। তারা যত বেশি আমাদের সহযোগী হয়, ততই ভাল।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আপনি কিছু আশংকা করেননি তো?’ সান ওয়াকার বলল নিচু কণ্ঠে। ‘সে রকম কিছু কারও মধ্যেই আমি দেখিনি। আমি বলছি যেটা এ কারণে যে আমাদের সাবধান হতে দোষ নেই।’ ‘তাহলে আমি সন্ধ্যায় এদিকে আসছি না। সান ইয়াজুনোর সাথে আমি পুলিশ ষ্টেশনের দিকেই যাব।’ ‘ঠিক আছে। কিন্তু তোমরা কালকে সকালের ব্যাপারে ওদের কিছু বলবে না। ওটা বলবেন প্রফেসর স্যার ফরমালি ওদেরকে।’ ‘ঠিক আছে, চলি। আচ্ছা.........।’ কথার মাঝখানে থেমে গিয়ে সান ওয়াকার বলল, ‘মনেই থাকে না যে, আমাদের সালাম-কালাম সব শিকেয় তুলে রাখা হয়েছে।’ ‘তা রাখা হয়েছে, কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শিকায় তোলা নেই।’ আহমদ মুসা বলল হেসে উঠে। ‘সে ভুল হবে না অবশ্যই। আচ্ছা ভাইয়া, আজ সকালে কিন্তু ভাবীর কাছে আপনার টেলিফোন করার কথা ছিল, রাতে বলেছিলেন।’ ‘ধন্যবাদ বিষয়টা মনে করিয়ে দেবার জন্যে। সকালে করেছিলাম, সন্ধ্যার পর আবার টেলিফোন করতে হবে।’ ‘বিশেষ কোন খবর আছে?’ ‘না, সকালে পাইনি। হাসপাতালে গিয়েছিলেন। মোবাইল বন্ধ ছিল।’ বলল আহমদ মুসা। ‘হাসপাতালে কেন?’ প্রশ্ন করল সান ওয়াকার। তার চোখে-উদ্বেগ। ‘উদ্বেগের কিছু নেই রুটিন চেকিং। মেয়াদের শেষ দিকে তো! ওকে সব ব্যাপারে এখন সাবধান থাকতে হচ্ছে। ছোট-খাট ব্যাপারেও ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন হয়।’ ‘ওখানকার সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের সাথেও আপনার কথা বলা উচিত।’ ‘মদিনাতুন্নবী স্পেশালাইজড ষ্টেট হাসপাতালের চীফ ড. ফাতেমার কেয়ারে উনি আছেন। আমি তার সাথে কথা বলেছি। আগে থেকেই তিনি আমার পরিচিত।’ ‘থ্যাংকস গড। আসি। বাই।’ বলল সান ওয়াকার। ‘এস। বাই।’ বিদায় জানাল আহমদ মুসা সান ওয়াকারকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ১
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ২
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৩
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৪
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৫
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৬
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৭
→ ধ্বংস টাওয়ারের নীচে চ্যাপ্টার- ৭ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now