বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ধ্বংস টাওয়ার চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এ সময় একজন সিকিউরিটির লোক সিঁড়ি ভেংগে দ্রুত উপরে উঠে এল। আয়াজ ইয়াহুদ প্রশ্নবোধক দৃষ্টি তুলে তাকাল তার দিকে। সিকিউরিটির লোকটি কম্পিত কণ্ঠে বলল, ‘স্যার কিছু লোক আমাদের গেটের সামনে এবং পেছনে দরজার ওপাশে পজিশন নিয়েছে। গায়ে ওদের লম্বা কোট। নিশ্চয় অস্ত্র আছে কোটের আড়ালে। গেটের বাইরে ওদের দুটো গাড়ি দাঁড়ানো।’ ‘তোমরা ওদের বাধা দাওনি কেন? পুলিশে খবর দিয়েছ?’ শুকনো কণ্ঠে বলল আয়াজ ইয়াহুদ। তাঁর চোখে-মুখে ভয়ের চিহ্ন। ‘স্যার আপনার নির্দেশ হলেই জানাব।’ বলল সিকিউরিটির লোক। আয়াজ ইয়াহুদ তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘দেখ ওরা আমার বাড়ি আক্রমণ করতে এসেছে। পুলিশের দায়িত্ব একে ফেস করা। তোমরা কেউ এর সাথে জড়িয়ে না পড়া ভাল হবে। তোমার মত কি?’ ‘আপনার সাথে আমি একমত। কিন্তু পুলিশকে এখনও বলা হয়নি।’ বলল আহমদ মুসা। ‘বলছি’ বলেই মোবাইলে টেলিফোন করল পুলিশকে। পুলিশের সাথে কথা বলা শেষ করে বলল, পাঁচ সাত মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এসে পৌঁছে যাবে।’ বলল দ্রুত কণ্ঠে আয়াজ ইয়াহুদ। তার চোখে-মুখে উদ্বেগ। আহমদ মুসা খবর দিতে উপরে আসা সিকিউরিটির লোককে বলল, ‘তুমি গেটে যাও আমি আসছি। ওদের গতিবিধির দিকে নজর রাখ, কিন্তু বুঝতে দিওনা যে তাদের তুমি দেখেছ।’ সঙ্গে সঙ্গেই সিকিউরিটির লোক নিচে নেমে গেল। কয়েক মুহূর্ত পরে আহমদ মুসা নিচে নামার জন্য সিঁড়ির দিকে এগুচ্ছে, এই সময় সিকিউরিটির লোকটি চিৎকার করে ভেতরে ঢুকল। বলছিল সে চিৎকার করে, ‘ওরা এসে গেছে। ওরা বাড়িতে ঢোকার জন্যে ছুটে আসছে। আমি যাচ্ছি ওদিকে।’ সঙ্গে সঙ্গে আহমদ মুসা থমকে দাঁড়াল। ফিরে তাকাল কামাল সুলাইমানদের দিকে। বলল, সুলাইমান তুমি বাড়িতে প্রবেশের দরজায় দাঁড়াও। আর বুমেদীন বিল্লাহ তুমি এদের নিয়ে উপরে থাক। দুতালার সামনে গিয়ে নিচেরটা দেখা যায় এমন নিরাপদ জায়গায় পজিশন নিতে পার। আর আমি বাইরে যাচ্ছি। সুলাইমান ও বিল্লাহ আমি এ্যাকশনে যাবার আগে তোমরা সুযোগ পেলেও গুলী করবে না। ‘কিন্তু ভাইয়া, আপনার কি বাইরে যাবার প্রয়োজন আছে? ঢোকার পথে ওদের আক্রমণ করাই তো নিরাপদ বেশি। ‘সেটার জন্যে তোমরা থাকলে। আমি খালি হাতে বাইরে যাচ্ছি। দেখি পুলিশ আসা পর্যন্ত ওদের ঠেকানো যায় কিনা।’ বলে আহমদ মুসা তার জ্যাকেটের চেনটা খুলে দিতে দিতে ছুটল সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে। আহমদ মুসা কামাল সুলাইমানকে দরজার আড়ালে দাঁড় করিয়ে রেখে খালি হাতে বিস্ময়ের একটা চিহ্ন চোখে-মুখে এঁকে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বাইরে বেরিয়ে এল। ওরা আট দশ জন গেটের ভেতর ঢুকে গেছে। সিকিউরিটির দুজন লোককে বেঁধে ফেলে রেখেছে। আহমদ মুসাকে দেখে ওরা অস্ত্র বাগিয়ে আহমদ মুসার দিকে ছুটে এল। আহমদ মুসা থমকে দাঁড়িয়ে বলল ওদের লক্ষ্য করে, ‘দাঁড়াও তোমরা। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের বাড়ি। ডাকাতির জায়গা এটা নয়। কি চাও তোমরা?’ আহমদ মুসা এই কথা গুলো এমন স্বাভাবিক কণ্ঠে এমন মাষ্টারি ঢং-এ বলল যে, ওদের চোখে-মুখে একটা বিস্ময়ের ভাব ফুটে উঠল। থমকে গেল ওরা। কিন্তু অবিলম্বে তা সামলে নিয়েই ওদের মধ্যে লম্বা-চওড়ায় বড় একজন অস্ত্র উঁচিয়ে একধাপ সামনে এগিয়ে বলল, ‘তুমি কে? রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াও। আমরা ডাকাতি করতে আসিনি। আমরা এসেছি কয়েকজন লোকের সন্ধানে। ওরা ভেতরে আছে। ওদেরই আমরা চাই।’ আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘ভেতরে যাবার দরকার নেই। তোমরা কাকে চাচ্ছ? ড. নিউম্যানের বাড়িতে তোমাদের লোকদের যে হত্যা করেছিল, বারবারা ব্রাউনকে যে তোমাদের কবল থেকে উদ্ধার করেছিল তাকে?’ ‘সামনে এগিয়ে এসেছিল যে লোকটি তার চোখ দুটি ছানাবড়া হয়ে গেল। বলল, ‘তুমি এত কথা জান কি করে? তুমি কে?’ আবার হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘তোমরা এবং তোমাদের নেতা আজর ওয়াইজম্যান যাকে খুঁজছে, আমি সেই।’ লোকটার মধ্যে ভুত দেখার মত একটা ভীতিকর বিস্ময় ফুটে উঠল। কিন্তু শিঘ্রই নিজেকে সামলে নিয়ে সহজ হয়ে গেল সে। বলল চিৎকার করে, ‘চালাকি করো না। আসল লোককে বাঁচাবার এটা একটা ফন্দী। আমরা যেন কিছুই বুঝি না! ঐ শয়তান হলে কি তুমি এভাবে খালি হাতে আসতে ধরা দেবার জন্যে!’ কথাটা শেষ করেই পেছনের সাথীদের উদ্দেশ্য বলল, এই তোমরা একজন একে বেঁধে ফেলে গাড়িতে তোল, আর সবাই এস বাড়িতে ঢুকতে হবে।’ লোকটির পেছনে অস্ত্র উঁচিয়ে আট-দশ জন লোক দাঁড়িয়েছিল। লোকটির নির্দেশ পেয়েই একজন তার পকেট থেকে সরু নাইনল কর্ড বের করে হাতে নিয়ে পা বাড়াল আহমদ মুসার কাছে আসার জন্যে। কিন্তু লোকটির কথা শেষ হতেই উচ্চ হাসির সাথে আহমদ মুসা বলে উঠল, ‘তা আর হলো না মি. .........................। ঐ দেখো, পুলিশ এসে গেছে।’ লোকটিসহ তার পেছনের সবাই যন্ত্রচালিতের মত পেছনে ফিরে তাকাল। চোখের পলকে শোল্ডার হোলস্টার থেকে নতুন কেনা এম-১০ মেশিন রিভলবার আহমদ মুসার হাতে চলে এল। পেছনে পুলিশকে না দেখে প্রতারিত হওয়ার ক্ষোভে ফেটে পড়ে যখন মুখ ফিরাচ্ছিল, তখন আহমদ মুসার মেশিন রিভলবার হাঁ করে ওদের লক্ষ্যে তাকিয়ে। ওরা মুখ ফিরাতে আহমদ মুসা কঠোর কণ্ঠে বলল, ‘সবাই অস্ত্র ফেলে দাও, তা না.........।’ আহমদ মুসার কথা শেষ হবার আগেই ওদের কয়েকজনের হাতের ভয়ংকর কারবাইন জাতের স্টেনগান আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে উঠে আসতে লাগল। আহমদ মুসারও মুখের শেষ কথাগুলো হারিয়ে গেল। তার মেশিন রিভলবারের লক্ষ্য আগে থেকেই স্থির ছিল। এখন আহমদ মুসা ট্রিগার চেপে মেশিন রিভলবার ওদের ওপর দিয়ে দুবার ঘুরিয়ে নিয়ে এল। চেখের পলকেই সামনে এগিয়ে আসা লোকটিসহ দশ-বারো জন সকলেরই দেহ ভূমি শয্যা নিল। কারো দেহ সঙ্গে সঙ্গেই স্থির হয়ে গেল। কারো দেহ গড়াগড়ি খেতে লাগল। এ সময় চারদিক থেকে পুলিশের বাঁশি বেজে উঠল। একদল পুলিশ গেট দিয়ে ঢুকে দ্রুত ছুটে আসল হত্যাকান্ডের স্থানের দিকে। এদিকে দরজার আড়াল থেকে কামাল সুলাইমান এবং দুতালা থেকে ওরা সবাই ছুটে আহমদ মুসার কাছে এল। একজন পুলিশ অফিসার ছুটে এসে আয়াজ ইয়াহুদের সামনে দাঁড়াল। ছড়িয়ে পড়ল অন্যান্য পুলিশ চারদিকে। পুলিশ অফিসারের হাতে ওয়াকিটকি। সে ওয়াকিটকিতে কথা বলতে বলতেই আসছিল। পুলিশ তার কথা শেষ করে আয়াজ ইয়াহুদকে বাউ করে বলল, ‘স্যার বাড়ির চারপাশে যে কয়জন ছিল তারা সবাই ধরা পড়ে গেছে। আর সামনের এদেরতো আপনারাই সামাল দিয়েছেন। ধন্যবাদ স্যার।’ ‘ধন্যবাদ পুলিশ অফিসার’ বলে আয়াজ ইয়াহুদ সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিল। হাইম বেঞ্জামিন ও বারবারা ব্রাউনকে পরিচয় করিয়ে কামাল সুলাইমান ও বুমেদীন বিল্লাহকে দেখিয়ে বলল, এঁরা একটা ইন্টারন্যাশনাল ডিটেকটিভ ফার্মের লোক। আর আহমদ মুসার পরিচয় দিতে গিয়ে বলল। ইনিও ঐ ফার্মের সাথে জড়িত এবং আমাদের পারিবারিক বন্ধু। ‘ও বুঝেছি, আপনি হাইম পরিবারের লোকদের নিয়ে ডিটেকটিভ ফার্মের লোকদের সাথে পরামর্শ করছিলেন। এই খোঁজ পেয়ে বুঝি এরা ছুটে এসেছিল। তাহলে কি এদের কোন সর্ম্পক আছে হাইম হাইকেলকে নিখোঁজ করার পেছনে? ভাববেন না স্যার। আমি সব দেখছি। আমি একদিন আগে নায়াগ্রা থেকে এই অফিসে এসে জয়েন করেছি।’ বলেই অফিসারটি তার লোকদের দিকে তাকিয়ে নির্দেশ দিল, লাশগুলো গাড়িতে তোল। আহতদের প্রতি লক্ষ্য রাখ যেন পালাতে না পারে। গাড়িতে ওদেরকে পাহারায় রাখ। আর বন্দীদের ‘সেল’ গাড়িতে তুলে নাও।’ তারপর আবার ফিরল ড. আয়াজ ইয়াহুদের দিকে। বলল, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ স্যার। ডিটেকটিভ ফার্মের লোকেরা আপনার সাথে থাকায় এই শয়তানদের বাধা দিতে পেরেছেন। বড় অঘটন থেকে আপনারা বেঁচে গেছেন।’ বলে পুলিশ অফিসার হ্যান্ডশ্যাক করল আহমদ মুসা, কামাল সুলাইমান, বুমেদীন বিল্লাহ, বারবারা ব্রাউন ও হাইম বেঞ্জামিনের সাথে। তারপর ড. আয়াজ ইয়াহুদকে লক্ষ্য করে বলল, ‘স্যার আমরা চলি। রাত্রে একবার আমি খোঁজ নেব। দরকার হলে কষ্ট করে একটু টেলিফোন ঘুরাবেন।’ গুড বাই স্যার। চলে গেল পুলিশ অফিসার। পুলিশের গাড়ি গেট থেকে বের হয়ে গেলে আয়াজ ইয়াহুদ গেটম্যান ও সিকিউরিটির লোকদের নির্দেশ দিল জায়গাগুলো পরিষ্কার করার এবং গেটের দিকে নজর রাখার জন্যে। আয়াজ ইয়াহুদ সকলকে নিয়ে ভেতরে চলল। বলল, ‘ডিনার না করিয়ে কাউকে ছাড়ছি না। এমন কি দরকার হলে রাতেও সকলকে থাকতে হতে পারে। আতংক কাটতে অনেক সময় লাগবে।’ ‘পুলিশের কাছে আমাদের পরিচয় দেয়াটা আপনার চমৎকার হয়েছে স্যার। আমাদের ডিটেকটিভ বলে পরিচয় দেয়ায় হত্যাকান্ডের ঘটনাটা তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আর ডিটেকটিভদের সাথে হাইম পরিবারের লোকেরা এখানে উপস্থিত থাকায় ওদের আক্রমণটাও স্বাভাবিক হয়ে গেছে।’ নুমা ইয়াহুদ বলল। সবাই এসে আবার সোফায় বসল। ‘এই নতুন পুলিশ অফিসারটা ভাল মনে হলো। মনে হচ্ছে ক্রিমিনালদের বিহিত উনি করবেন। কিছু কথাও আদায় করতে পারেন, যা প্রয়োজনে আসবে।’ বলল আবার নুমাই। ‘না নুমা। কাজের কিছু এদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে না। এ লোকেরা পুতুল। নিছকই হুকুমের দাস। এরা ভেতরের কিছুই জানে না। সামনের লোকটা কিছুটা নেতা গোছের ছিল। সে বাঁচলে হয়তো কিছু জানার সম্ভাবনা ছিল।’ আহমদ মুসা বলল। আহমদ মুসা থামতেই আয়াজ ইয়াহুদ বলল, ‘ফ্লোর এখন আমার। সবার তরফ থেকে বিশেষ করে আমার ও হাইম পরিবারের তরফ থেকে আহমদ মুসাকে শুকরিয়া ও অভিনন্দন জানাতে চাই। তিনি আমাদের গায়ে কোন আচঁড় পর্যন্ত লাগতে না দিয়ে যে ঝুঁকি নিয়ে ............। আহমদ মুসা আয়াজ ইয়াহুদের কথার মাঝখানে বলে উঠল, ‘যা ঘটে গেছে তা বাদ দিয়ে প্লিজ আসুন কাজের কথায় আসি।’ আয়াজ ইয়াহুদ থেমে গিয়েছিল। কিন্তু কথা বলে উঠল নুমা ইয়াহুদ আহমদ মুসা থামার সাথে সাথেই, ‘ঐভাবে ওদের মুখোমুখি হওয়া কি আপনার ঠিক হয়েছে। ওরা যদি দেখা মাত্রই গুলী চালাত কিংবা পেছনে পুলিশের কথা বলে ওদের যদি আপনি বিভ্রান্ত করতে না পারতেন, তাহলে কি ঘটত?’ ‘যা ঘটেছে, সে রকমই কিছু ঘটত। আমার খালি হাত দেখার পর ওদের গুলী করার ইচ্ছা ৯০ ভাগই চলে গিয়েছিল। জেগে উঠেছিল আমাকে বাজিয়ে দেখার ইচ্ছা। ওরা যদি গুলী করারও সিদ্ধান্ত নিত, তাহলেও একজন নিরস্ত্রের বিরুদ্ধে ওদের বন্দুক উঠতে যে সময় নিত, সে সময়ে আমার মেশিন রিভলবার তার কাজ শেষ করে ফেলত। আর পেছনে পুলিশ দাঁড়াবার কথাটা মানে আমার প্রতারণার ফাঁদে ওদের পা না দিয়ে উপায় ছিল না। ফাঁদে পা না দেবার মত যোগ্য ওরা যদি হতোও, তবু গুলী করার আগে দুএকটা বাচালতা ওরা করতো, সেটুকু সময়ই যথেষ্ট ছিল আমার জন্যে ওদেরকে গুলীর শিকার বানাবার।’ আহমদ মুসা বলল। ‘অদ্ভূত! আপনার সময়ের এই হিসাব অংকের মতই নিখুঁত। ঐ টেনশনের মধ্যেও এই হিসাব আপনার মাথায় এল কি করে। অপশনসগুলোকে এইভাবে সাজালেন কি করে?’ বলল বারবারা ব্রাউন। ‘শুধু চোর পালালেই বুদ্ধি বাড়ে তা নয়, চোর দেখলেও বুদ্ধি বাড়তে পারে।’ হেসে কথাটা বলেই আহমদ মুসা আবার বলা শুরু করল, ‘আমি মনে করি আজকের ঘটনার পর সরকার এ বাড়িতে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা করবে। পুলিশের প্রতি আপনাদের আস্থা যদি না থাকে তাহলে কয়েকদিন সরে থাকাই আমি ভাল মনে করি। মিস ব্রাউন ও হাইম বেঞ্জামিন সম্পর্কেও আমার এই কথা। কিছু সময় সরে থাকা ভাল।’ ‘মনে হচ্ছে তুমি কোথাও যাবার আগে আমাদের বিদায়ী উপদেশ দিচ্ছ। ব্যাপার কি?’ বলল আয়াজ ইয়াহুদ। ‘জি স্যার। ঠিক ধরেছেন। FBI চীফ জর্জ আব্রাহামের কোডেড ম্যাসেজ আমি মোবাইলে পেয়ে গেছি। আজ রাত্রেই আমরা সেখানে যাত্রা করছি।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তার মানে হাইম হাইকেলকে যেখানে আটকে রেখেছে, সে ঠিকানা তুমি পেয়ে গেছ?’ জিজ্ঞাসা আয়াজ ইয়াহুদের। আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল তার দুটি চোখ। ‘জি হ্যাঁ।’ বলল আহমদ মুসা। খুশির বান ডেকে উঠল বেঞ্জামিন ও বারবারা ব্রাউনের চোখে-মুখেও। ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তোমার চেষ্টাকে ধন্যবাদ। কিন্তু যাত্রা এই রাতে কেন? রাতটা রেস্ট নিয়ে সকালে রওনা হয়ে যাও।’ আয়াজ ইয়াহুদ বলল। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘এটা আত্নীয়ের বাড়ি যাওয়া নয় স্যার। এই ধরণের কাজের সংস্কৃতি হলো, দেখা ও শোনার সাথেই কাজ চলবে। না হলে স্টেশনে পৌঁছে দেখা যাবে ট্রেন চলে গেছে।’ কথা শেষ করতেই আহমদ মুসার মোবাইলটা বেজে উঠল। মোবাইল তুলে নিয়ে স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে দেখল FBI চীফ জর্জ আব্রাহামের টেলিফোন। দ্রুত কানে লাগাল টেলিফোন। ওপ্রান্ত থেকে আহমদ মুসাকে সালাম দিয়ে জর্জ আব্রাহাম বলল, ‘মাই সান, তোমার জন্যে দুটি খবর। একটা ভাল, অন্যটা মন্দ। ভালো খবরটা হলো, প্রেসিডেন্ট তোমাকে তার সাথে একদিন ডিনার খাওয়ার জন্যে দাওয়াত করেছেন। আর খারাপ খবরটা হলো চিড়িয়া উড়ে গেছে। ডবল এইচকে তোমাকে দেয়া ঠিকানা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’ খবরটা শুনতেই বুকের কোথায় যেন একটা আঘাত লাগল আহমদ মুসার। নিঃশ্বাসের তার ছন্দপতন ঘটল। সামলে নিতে মুহূর্ত কেটে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিতে পারল না আহমদ মুসা। জর্জ আব্রাহামই আবার কথা বলে উঠল, ‘স্যরি মাই সান, তোমার খারাপ লাগছে জানি। আমাদের লোকেরা নতুন লোকেশনের সন্ধানে লেগে গেছে।’ ‘ধন্যবাদ জনাব। এই চিড়িয়া উড়ে যাওয়ার কারণ সর্ম্পকে কি ভাবছেন আপনি?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘একেবারে সোজা অর্থ। আমার FBI-এর কোন লোক নিশ্চয় ওদের কাছে খবর বিক্রি করেছে।’ ‘তা আবারও তো করবে।’ ‘তা হতে পারে। যথেষ্ট সাবধান ও সিলেকটিভ হওয়ার পরও এই ঝুঁকি থাকছে বেটা। কি করব? আমার FBI-তে বিশ্বাসের দুটি সমান্তরাল ধারা কাজ করছে। একটি হলো, ইহুদীবাদীদের স্পর্শ ও প্রভাব থেকে আমেরিকাকে চিরদিনের জন্যে মুক্ত করা। দ্বিতীয় ধারার বিশ্বাস হলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইহুদীবাদীরাও আমাদের মিত্র হতে পারে, তাদের সাথে সহযোগিতা চলতে পারে। এই দ্বিতীয় ধারাকে প্রমোট করেছে ইহুদীবাদীদের অর্থ ও লোভের অন্যান্য বস্তু। সুতারাং বিশ্বাস ভংগের সংকট থেকে FBI কে খুব শীঘ্র মুক্ত করা যাবে না। ‘ধন্যবাদ জনাব। একটা বাস্তবতাকে আপনি তুলে ধরেছেন। এই বাস্তবতা আমাকে আশা ভংগের কষ্টের মধ্যে ফেলল।’ একটু হাসির সাথে বলল আহমদ মুসা। ‘খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু হতাশ হয়ো না। আমি সামনে আরও সিলেকটিভ হবো। দেখা যাক । হ্যাঁ শোনো, খারাপ খবরের স্তুপে আমার সুখবরটা যে হারিয়ে গেল। কিছু বললে না যে!’ ‘এক্সিলেন্সির এই দাওয়াতে আমি নিজেকে নতুন করে সম্মানিত বোধ করছি। মহামান্য প্রেসিডেন্টকে জানাবেন আমার এই মিশন শেষ করেই আমি ওয়াশিংটনে আসছি।’ ‘ধন্যবাদ বেটা। তুমি যে সুখবরটা চাও, আশা করছি তাড়াতাড়িই তা তোমাকে দিতে পারবো। গুড বাই মাইসান।’ আহমদ মুসা টেলিফোন রাখতেই আয়াজ ইয়াহুদ বলে উঠল, ‘প্রেসিডেন্টও তোমাকে দাওয়াত করেন! হিপ হুররে! তুমি সত্যিই ভাগ্যবান আহমদ মুসা।’ ‘তার সাথে খারাপ খবরও আছে স্যার।’ ‘কি সেটা?’ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল আয়াজ ইয়াহুদ। ‘যে ঠিকানা পেয়েছিলাম, সে ঠিকানা থেকে জনাব হাইম হাইকেলকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’ ‘নিশ্চয় তাহলে শয়তানরা জানতে পারে?’ শুকনো কণ্ঠে আয়াজ ইয়াহুদের। হাইম বেঞ্জামিন, বারবারা ব্রাউন ও নুমা সকলের চোখে-মুখে হতাশা নেমে এসছে। ‘নিশ্চয় স্যার। FBI-এর কেউ তথ্যটা ফাঁস করে দিয়েছে ওদের কাছে। FBI চীফ জর্জ আব্রহাম এ কথাই বললেন।’ বলল আহমদ মুসা। ‘সর্বনাশ! তাহলে এখন কি হবে?’ নুমা ইয়াহুদ বলল। ‘মি. জর্জ আব্রাহাম চেষ্টা করছেন। বাকি আল্লাহ ভরসা।’ আয়াজ ইয়াহুদের টেলিফোন বেজে উঠেছিল। আহমদ মুসা থামতেই আয়াজ ইয়াহুদ টেলিফোন ধরল। ও প্রান্তের কথা শুনেই সে বলল, ‘ঠিক আছে অফিসার। ওঁরা এখানে আছেন। পাঠিয়ে দিন। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।’ টেলিফোন রেখে দিয়ে আয়াজ ইয়াহুদ উদগ্রীব আহমদ মুসাকে বলল, ‘পুলিশ অফিসারটার টেলিফোন ছিল। উনি জানালেন, এখানে নিহত নেতা গোছের লোকটার মানিব্যাগে একটা চিরকুট পেয়েছে। সেটা একটা ই-মেইল। ই-মেইল মেসেজটা তারা বুঝতে পারছে না। তার একটা কপি পাঠাচ্ছে আমাদের ডিটেকটিভদের কাছে।’ ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাদের কথা মনে করেছেন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘পুলিশ অফিসারটিকে একটু আলাদা মনে হচ্ছে।’ বলল আয়াজ ইয়াহুদ। ‘পুলিশ অফিসারটা আনকোরা। ষড়যন্ত্রকারীদের ছায়া এখনও ওঁর উপর পড়েনি। না হলে চিরকুটটা আমাদের এখানে আসতো না।’ আয়াজ ইয়াহুদ ও আহমদ মুসারা ডিনার শেষ করে ড্রইংরুমে ফিরে আসতেই পুলিশ অফিস থেকে পাঠানো পুলিশটি এল। গেটের সিকিউরিটি তাকে নিয়ে এল আয়াজ ইয়াহুদের কাছে। পুলিশটা একটা স্যালুট দিয়ে একটি চিরকুট তুলে দিল। আয়াজ ইয়াহুদ ধন্যবাদ দিয়ে চিরকুটটি গ্রহণ করল। পুলিশটিকে দেখে ভ্রু কুঞ্চিত হলো আহমদ মুসার। তার ইউনিফরম ও বেল্ট অতিমাত্রায় টাইট। আবার তার পায়ে কেটস, পুলিশের বুট নয়। তার মাথার চুলও পুলিশ কাট নয়। হ্যাটের পাশ দিয়ে চুল বাইরে বেরিয়ে এসেছে। পুলিশটি চিরকুট আয়াজ ইয়াহুদের হাতে দিয়েই আরেকটা স্যালুট শেষ করে পিছু হটছিল। তার দুহাত ছিল তার প্যান্টের দুপকেটে। আহমদ মুসা হঠাৎ তার ভেতর থেকে এটা অশ্বস্তি অনুভব করল। পুলিশটির মুখে অস্বভাবিকতা দেখতে পেল সে। পকেটে হাত রাখাকেও সন্দেহজনক মনে হলো তার কাছে। সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে এল তার রিভলবার। পুলিশটির দিকে রিভলবার তাক করে বলল, ‘দাঁড়াও, হাত উপরে তোল পুলিশ অফিসার।’ আহমদ মুসা তখন দাঁড়িয়ে গেছে। পুলিশটি বোঁ করে ঘুরল আহমদ মুসার দিকে। কিন্তু পকেট থেকে তার হাত বের হওয়ার নাম মাত্র নেই। বরং তার দুচোখে হায়েনার দৃষ্টি। আহমদ মুসা ব্যাপারটা বুঝল। মুহূর্তের বিলম্বে সর্বনাশ ঘটে যেতে পারে। আহমদ মুসার রিভলবার গুলী বর্ষণ করল। গুলী পুলিশটির কপাল গুড়িয়ে মাথা ছাতু করে দিল। টলে উঠে পড়ে যাচ্ছিল পুলিশটি। আহমদ মুসা ছুটে গিয়ে তাকে ধরে ফেলে ধীরে ধীরে শুইয়ে দিল চিৎ করে যাতে তার প্যান্টের দুপাশের পকেটে কোন চাপ না লাগে। বিম্ময় ও আতংকে চিৎকার করে উঠে আয়াজ ইয়াহুদ, নুমা ইয়াহুদ, বারবারা ব্রাউন ও বেঞ্জামিন উঠে দাঁড়িয়েছে। চোখে-মুখে অপার কৌতূহল নিয়ে বসে আছে কামাল সুলাইমান ও বুমেদীন বিল্লাহ। ‘আহমদ মুসা পুলিশকে হত্যা করলে কেন?’ আতংকগ্রস্ত কণ্ঠে বলল আয়াজ ইয়াহুদ। ‘এ পুলিশ নয়। পুলিশ অফিসে টেলিফোন করুন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কি বলছ! এ পুলিশ নয়?’ আয়াজ ইয়াহুদ বলল। ‘না পুলিশ নয়। আমার অনুমান মিথ্যা না হলে এর দুপকেটেই বিস্ফোরক আছে। পুলিশ অফিসারকে টেলিফোন করুন।’ বলল আহমদ মুসা। ‘কিন্তু যদি পুলিশ হয় তাহলে মহাবিপদ ঘটবে। ডাকব পুলিশকে?’ ‘হ্যাঁ ডাকুন।’ পুলিশে টেলিফোন করল আয়াজ ইয়াহুদ। সেই পুলিশ অফিসার একটা পুলিশ টীমসহ এসে পৌঁছল অল্পক্ষণের মধ্যেই। পুলিশ অফিসার পুলিশবেশী লোকটির দিকে একবার তাকিয়েই বলল, ‘এ পুলিশ নয়। ব্যাপার কি স্যার? কি ঘটেছে? এ কোত্থোকে এল?’ আয়াজ ইয়াহুদ পুলিশবেশী লোকটির আসা থেকে সব কথা খুলে বলল। শুনে বিস্ময় বিস্ফারিত চোখে তাকাল আহমদ মুসার দিকে পুলিশ অফিসারটি। বলল, এ পুলিশ নয়, এটা ঠিকই ধরেছেন, কিন্তু একে গুলী করে মারলেন কেন?’ ‘একে মারতে মুহূর্তও দেরি হলে এ আমাদের সবাইকে মারত।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কি করে বুঝলেন? এর দুহাতই প্যান্টের পকেটে। আপনার রিভলবারের সামনে সেতো পকেট থেকে হাতই বের করতে পারতো না।’ বলল পুলিশ অফিসার। ‘উত্তরের জন্যে এর দুপকেট পরীক্ষা করুন।’ আহমদ মুসা বলল। পুলিশ অফিসার পকেট দুটির উপর চোখ বুলিয়ে বুঝল, কোন গোলাকার বস্তু পকেটে আছে, রিভলবার নয়। ভ্রু কুঁচকালো পুলিশ অফিসারটি। ডাকল তার বিস্ফোরক এক্সপার্টকে। বলল, ‘আমার সন্দেহ হচ্ছে এর পকেটে বোমা জাতীয় কিছু থাকতে পারে। দেখ ব্যাপারটি কি।’ বিস্ফোরক এক্সপার্ট পুলিশ অফিসারটি হাঁটু গেড়ে বসে কাঁচি দিয়ে আস্তে আস্তে, পকেট কেটে ফেলল। বেরিয়ে পড়ল ক্রিকেট বলের মত গোলাকার দুটি বস্তু। বিস্ফারিত হয়ে গেল বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞের দুচোখ। চিৎকার করে উঠল, ‘আপনারা সবাই সরে যান’। সবাই দ্রুত নিচে নেমে গেল। বিস্ফোরণ বিশেষজ্ঞ পুলিশ অফিসার বোমা দুটির মুখ থেকে টেমপোরারি সেফটি কভার খুলে ডেটোনিটিং পিনটি খুলে নিল। সবাই উপরে উঠে এল। ‘ঈশ্বর সকলকে রক্ষা করেছেন।’ বলে সে আস্তে করে একটি বিস্ফোরক তুলে তার লেবেলটা দেখাল তার ইনচার্জ অফিসারকে। দেখেই আঁৎকে উঠল পুলিশ অফিসার। বলল, ‘সর্বনাশ, এর একটি বিস্ফোরণ ঘটলে তো এই বাড়ি ধূলা হয়ে যেত।’ বলেই সে ফিরল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘ধন্যবাদ আপনাকে। বাহককে একমাত্র হত্যাই এই বোমার বিস্ফোরণ রোধ করার উপায় ছিল। আপনি তাই করেছেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। এখন আমি ভাবছি, আমার পাঠানো পুলিশের অবস্থা কি?’ ‘আমার ধারণা এই সন্ত্রাসীদের এক বা একাধিক লোক পুলিশ অফিস কিংবা এই বাড়ির আশে-পাশে ওঁৎ পেতে ছিল। তারাই আপনার পুলিশকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে যে, সে আজ বিশ্বাবদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট আয়াজ ইয়াহুদের বাসায় আসছে। তাকে আটকে তার ইউনিফর্ম খুলে নিয়ে তাদের লোককে তা পরিয়ে এখানে পাঠিয়েছিল বোমা ফেলার জন্যে। লোকটি কোনভাবে ইউনিফর্ম পরেছিল, কিন্তু জুতা কিছুতেই পরতে পারেনি। আর আপনার পুলিশ ওদের হাতেই আটকে আছে। অথবা পুলিশকে ওরা ছেড়েও দিতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ মি. ডিটেকটিভ। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে, আপনারা আজ এখানে হাজির ছিলেন।’ বলেই পুলিশ অফিসার ফর্মালিটি সারার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তারপর লাশ নিয়ে পুলিশরা বেরিয়ে গেল। যাবার সময় আয়াজ ইয়াহুদকে বলে গেল, আপনার বাড়িতে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। তবে আপনাকে ও হাইম পরিবারকে বলছি, এই ডিটেকটিভদের ছাড়বেন না। এঁদের সাহায্য আমাদেরও দরকার।’ পুলিশরা বেরিয়ে যেতেই আয়াজ ইয়াহুদ ও বেঞ্জামিন একসাথে আহমদ মুসাকে জড়িয়ে ধরল। বলল আয়াজ ইয়াহুদ, ‘তুমি মানুষ নও ফেরেশতা। বিকাল থেকে দুবার আমাদের সকলকে বাঁচিয়েছ।’ আর বেঞ্জামিন বলল, ‘আমার, আমার পরিবারের ও আমার পিতার অসীম সৌভাগ্য যে ঈশ্বর আপনাকে পাঠিয়েছেন আমাদের সাহায্যে। ইদানিং আমার পিতা মুসলমানদের ব্যাপারে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। মুসলমানদের জন্মগত বিদ্বেষের কারণে আমি একে ভালোচোখে দেখিনি। কিন্তু আজ দেখছি, মুসলমানরা সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের প্রতিপক্ষ হিসাবে আভির্ভুত হয়েছে। আর সন্ত্রাস-ষড়যন্ত্রের প্রতিভূ হয়ে দাঁড়িয়েছি আমি.......।’ আহমদ মুসা নিজেকে ওদের বাহুর পাশ থেকে খুলে নিল এবং বেঞ্জামিনের মুখে হাতচাপা দিয়ে তাকে থামিয়ে দিল। বলল আহমদ মুসা, ‘আসুন আমরা বসি। ভূয়া পুলিশের দেয়া চিরকুট কি, ওটা ভূয়া না আসল, তা দেখা হয়নি। ভূয়া হলে আসলটা কি করে পাওয়া যায়, সে চেষ্টা করা যেতে পারে।’ সবার সাথে আহমদ মুসা তার তার আসনে ফিরে এল। নিজের সোফায় ফিরে যাবার সময় আয়াজ ইয়াহুদ ভূয়া পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া চিরকুটটা আহমদ মুসার হাতে দিল। দেবার সময় বলল,‘আমি তো এর আগাগোড়া কিছুই বুঝিনি। কিছু বুঝার থাকলে তুমি বুঝবে।’ আহমদ মুসা চিরকুটের উপর চোখ বুলাল। নিঃসন্দেহ এটা ই-মেইলের ফটোকপি। তবে প্রেরকের জায়গায় যেখান থেকে এসেছে তার নাম নেই। ডেট আছে, পাতার নম্বরও আছে। দুবাক্যের ই-মেইল। প্রথম বাক্যে বলা হয়েছে ‘DH Shifted to 776 from 833 stop AW asked you to reach there by Eleven.’ আহমদ মুসা ই-মেইলের উপর চোখ বুলিয়ে সেটা তুলে দিল কামাল সুলাইমানের হাতে। কামাল সুলাইলমান ই-মেইল পড়ল। বলল, DH এবং AW এর ভেতরেই রহস্য লুকিয়ে আছে ভাইয়া কিন্তু সংকেত আমি ভাঙতে পারছি না। ‘যাদের কাছে ই-মেইলটা পাওয়া গেছে তাদের পরিচয় ও তাদের বর্তমান অবস্থার সাথে মেলালে ই-মেইলের একটা অর্থ পরিষ্কার হয়ে উঠে। আরও একটা মজার ব্যাপার হলো, আমরা FBI চীফের কাছ থেকে কিছুক্ষণ আগে যে খবর পেলাম, বিস্ময়করভাবে তারই ফলো আপ এটা। সে খবরে আমরা জেনেছিলাম হাইম হাইকেলকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কোথায় সরিয়ে ফেলা হয়েছে এই খবর FBI চীফ দিতে পারেনি। কিন্তু এই ই-মেইল সেই খবরই আমাদের দিচ্ছে। দেখ..........।’ আহমদ মুসা বাধা পেয়ে গেল। আহমদ মুসাকে থামিয়ে সোৎসাহে কথা বলে উঠল কামাল সুলাইমান, ‘তাহলে DH অর্থ ডবল এইচ মানে হাইম হাইকেল। আর AW এর অর্থ নিশ্চয় আমরা ধরে নিতে পারি ‘আজর ওয়াইজম্যান।’ ‘ঠিক, কামাল সুলাইমান।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ই-মেইল অনুসারে তাহলে তো দেখা যাচ্ছে ভাইয়া, জনাব হাইকেলকে একই রাস্তার বা একই এলাকার এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ ‘হ্যাঁ, কামাল সুলাইমান। আল্লাহ আমাদের সাহায্য করেছেন। বলল আহমদ মুসা। তারপর তাকাল আয়াজ ইয়াহুদের দিকে। বলল, ‘স্যার শাপ অনেক সময় বর হয়ে দাঁড়ায়। আমরা বুঝতে পারি না। খারাপ ঘটনাও ভাল বার্তা বয়ে আনে।’ ‘তাইতো দেখছি আহমদ মুসা, ওরা আজ বাড়ি আক্রমণ করতে না এলে এই চিরকুট পাওয়া যেত না। চিরকুটটা পাওয়া না গেলে আমাদের হাইকেলেরও সন্ধান পাওয়া যেত না। সত্যিই আহমদ মুসা আল্লাহ আমাদের সাহায্য করেছেন, বিশেষ করে তোমাকে।’ আয়াজ ইয়াহুদ বলল। ‘আমি বিশেষ হলাম কিভাবে?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘বিশেষ এর কারণ হলো সাহায্যটা ঈশ্বর তোমার কাছেই পাঠিয়েছেন। তুমিই মেসেজটির সংকেত ভেঙেছ। আমরা যেখানে সংকেত বুঝিইনি, সাহায্য নিতাম কি করে? ‘যাক, সব প্রশংসা আল্লাহর।’ বলেই আহমদ মুসা ঘড়ির দিকে তাকাল। বলল, আমরা উঠছি জনাব। কামাল সুলাইমান চল। আর বুমেদীন বিল্লাহ তুমি এখানেই থাকবে।’ ‘আপনারা যাবেন, আমি থাকব কেন?’ বুমেদীন বিল্লাহর কণ্ঠে কিছুটা বিদ্রোহের সুর। ‘নিউইয়র্কে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। এখানকার পাহারায় আমাদের কাউকে থাকতে হবে না? সান্ত্বনার সুরে বলল আহমদ মুসা। ‘আপনার সিদ্ধান্ত ঠিক আছে ভাইয়া। এর আগে আপনারা দুজন যখন নিচে গিয়েছিলেন ঘোর বিপদের মুখে, তখনও তো ওঁকেই রেখে গিয়েছিলেন। আজ বিকালে মার্কেটে গিয়েছিলেন আপনি ও মি. কামাল সুলাইমান। যখন কোথাও গেলেন তখন তাঁকেই রেখে গেলেন। নিশ্চিতভাবেই উনি গুড কাস্টোডিয়ান।’ বলল নুমা ইয়াহুদ। ফুঁসে উঠল বুমেদীন বিল্লাহ। বলল, ‘কাস্টোডিয়ান হওয়া সাংবাদিকের দায়িত্ব নয়। কাস্টোডিয়ান ঠিক কাজ করছে কিনা, সেটা দেখা সাংবাদিকের দায়িত্ব।’ ‘তাহলে তো একজন সাংবাদিক কাস্টোডিয়ানের চেয়ে বড় কাস্টোডিয়ান।’ ত্বরিত জবাব হিসাবে কিছু বলতে যাচ্ছিল বুমেদীন বিল্লাহ। তাকে বাধা দিয়ে আহমদ মুসা হেসে বলল, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্ক্রান্ত হই, তোমরা ঝগড়াটা পরে করো।’ বলেই উঠে দাঁড়াল আহমদ মুসা। বলল সকলকে লক্ষ্য করে, ‘আপনারা সকলে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। আমাদের এ যাত্রা যেন শুভ হয়। আমরা যেন লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। হাইম হাইকেল যেন মুক্ত হন।’ সকলেই উঠে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেকের চোখে-মুখেই একটা প্রবল ভাবাবেগ। কারও মুখে কথা নেই। নিরবতা ভাঙল আয়াজ ইয়াহুদ। বলল, ‘আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন। আর আমি জানি তোমার মত এক হাতেম তাই-এর সাথে আল্লাহর সাহায্য না থেকেই পারে না।’ আবেগে ভারী আয়াজ ইয়াহুদের গলা। ‘কিন্তু ভাইয়া, হাইম হাইকেল আংকেল মুক্ত হলেই কি আপনারা চলে যাবেন?’ নুমা ইয়াহুদের এ প্রশ্নটা অত্যন্ত বেসুরো শোনালেও এর মধ্যে একটা হৃদয়স্পর্শী কাতরতা ছিল। আহমদ মুসা হাসল। একটু ভাবল তারপর বলল, ‘নুমা এত তাড়াতাড়ি আমরা আমেরিকা ছাড়তে পারবো না। তাকে উদ্ধারের পরই তো আমাদের আসল কাজ শুরু হবে, ধ্বংস টাওয়ারের নিচে যে সত্য চাপা পড়ে আছে সে সত্য উদ্ধারের কাজ।’ একটা নতুন কৌতূহল জাগল আয়াজ ইয়াহুদের, বেঞ্জামিন ও বারবারা ব্রাউনের মুখে। কিন্তু সরল আনন্দে মুখ ভরে গেল নুমা ইয়াহুদের। বলল ‘ধন্যবাদ’ ভাইয়া। বুমেদীন বিল্লাহকে সালাম দিয়ে, অন্যদের গুডবাই জানিয়ে পেছনে ফিরে দ্রুত সিঁড়ির দিকে এগুলো নিচে নামার জন্যে আহমদ মুসা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ধ্বংস টাওয়ার চ্যাপ্টার-১ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ার চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ার চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ার চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ ধ্বংস টাওয়ার চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now