বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঢাকাইয়া প্রেমিকা’র সাথে কথন পার্ট-১
জীবনে অত্যন্ত শখের বশে একদিন একটা মেয়ের সাথে প্রেম করেছিলো মিতুল (ভালোবাসা না, প্রেম) মেয়েটা পুরান ঢাকা নিবাসী ছিল। সারাদিন তার সাথে ফোনে বকর বকর করতে হইতো, একদিন রাতে কথা বলতে বলতে প্রায় ৩টা বেজে যায়, অনেক বুঝিয়ে ঘুমাইতে গেলো সে ফোন টা কেটে। সকালে আবার প্যারার (যন্ত্রণার) ফোন বাজতে শুরু করলো, স্ক্রিনে নাম দেখে তো মেজাজ টুঁইটম্বুর।
মিতুলঃ হ্যা কও, কি কইবা?
ফাহিমাঃ কি উইচে মরার মত ঘুমাও কেলা? ফোনডা ধরবার পারো না আলা?
মিতুলঃ আইচ্ছা আমি তো মানুষ, মানুষ তো নাকি? জন্তু জানোয়ারও তো ঘুমায়, আমার কি সেই অধিকার টুকুও নাই?
ফাহিমাঃ আয় হায় তুমি আমার লগে ঝারি লইবার লাগতাছো দেহি? আওয়াজ নিচে করো।
মিতুলঃ করলাম নিচে, তোমার টা উচাতেই রাখো।
ফাহিমাঃ টক্কর টক্কর বোল আছে মুহে দেহি, আমার লগে কইয়া বেল নাই, তুমি একলাই শিয়ান না, আমিও বাপের বেটি ভুইল্লা যাইও না আলা।
মিতুলঃ কথায় কথায় আলা আলা করো ক্যা? আমি তোমার হালা লাগি নি?
ফাহিমাঃ আরেহ রাগ কইরো না, এইডা আমার মুহের বোল, কতায় কতায় চইল্লা আহে আলা।
মিতুলঃ আবার আলা কয়, ঐ ফোন রাখো, মজা লইও না আলা আর।
কলেজের সব পড়া শেষ করে বিছানায় গিয়ে মিতুল ফাহিমা কে ফোন দিলো খুব ফ্রেশ মুডে এবং ভাবলো আজকে খুব রোম্যান্টিক ভাবে কথা বলবে, কিন্তু পিরিতের অপর নাম পেইন সে ভুলে গিয়েছিল যা নীচের কথোপকথন থেকে আবার প্রমাণিত হলঃ
মিতুলঃ হ্যালো বেগমসাহেব বলেন।ফাহিমাঃ আয় হায় চাওন যায় না, আইজকা দেহি আমারে বেগমসাহেব বুলাইতাছো? কাহিনী কি? কিলিয়ার কইরা কও জলদি?
মিতুলঃ মোর জ্বালা আদর করে তোমারে বেগমসাহেব কইতে পারুম না?
ফাহিমাঃ তা টিক আছে, কিন্ত আইজকা হঠাৎ কইরা পিরিত উৎরাইয়া উঠবার লাগছে কেলা আমার লাইগা? তেল মারতাছো না তো?
মিতুলঃ কি যে কও না সোনা, তোমারে তেল মারমু কেন? তোমারে তো পিছকারি দিয়া ভালোবাসার রঙ্গ মারুম।
ফাহিমাঃ ইসশিরে ঢং দেখচো নি পোলার!!!!
মিতুলঃ হ, আমি ভালোবাইশা কিছু কইলেই ঢং, নিজের বেলায় সব ওকে।
ফাহিমাঃ চেইতো না, বুঝছি আমারে তুমি একসো একসো ভালোবাসো।
মিতুলঃ যাক বুঝলা তাইলে, খোদা মেহেরবানি করলো এতদিনে।
(হঠাৎ ফোনে টুট টুট আওয়াজ হলো, কথা বলার সময় ওয়েটিং চালু থাকলে কেউ কল করলে যেই আওয়াজ টা হয়)
ফাহিমাঃ কিসের সব্দ অইতাছে? কেঠায় কল করে এতো রাইত্তে তুমারে? কুন ছেরি? আর কার লগে তলে তলে টেম্পু চালাইতাছো?
মিতুলঃ আরেহ নাহ, এক ফ্রেন্ড ফোন দিসে, কছম কইরা কইতাসি।
ফাহিমাঃ চুরের মনে পুলিস পুলিস, তুমি তো কছম কাটো না কহনো, আইজকা ডাল মে কুছ কালা কালা লাগতাছে। কোন ছেরি কও কইলাম, রাগ করমু না হাচা কইলে।
মিতুলঃ আমার ফ্রেন্ড নিশা কল করছে, কিন্তু আমি তো ধরি নাই, তোমার সাথে কথা বলতাছি।
ফাহিমাঃ নিসা, কুন নিসা? উই যে কইছিলা যে, তুমার ফাস্ট মাইয়া ফ্রেন্ড, উই ছেরি?
মিতুলঃ ছেরি ছেরি কইতাসো কেন? বাজে লাগতাসে শুনতে।
ফাহিমাঃ জ্বলে? জ্বলে? তুমার জ্বলে ক্যা উরে ছেরি কইলে? অয় তুমার কি লাগে?
মিতুলঃ আজিব তো, আমার ফ্রেন্ড রে তুমি এমন ভাবে বলবা কেন?
ফাহিমাঃ দেহো মিতুল, আমি যদি কহনো হুনি উই ছেরির লগে তুমি বাক বাকুম কিছু করছো তাইলে তুমারে হাচাই সানডে মানডে কোলোজ কইরা দিমু।
মিতুলঃ আইচ্ছা দিও, হুদাই এমন বাজে সন্দেহ কইরো না, আমি এখন ঘুমামু, রাইতের ৩.৩০ টা বাজে, সকালে কলেজ যাইতে হইবো।
ফাহিমাঃ বুঝছি তো নিসারে এহন মলম লাগাইবার লাইগা কল কাইটা দিয়া আমারে ঘুমের বুঝ দিতাছো, তবে কথাডা মনে রাইখো আমি ফাহিম এক বাপের বেটি কইলাম, যদি দেহি তুমারে কুনোদিন অর লাইগা মন আনচান করতে তাইলে পুরাই ফিনিস কইরা দিমু।
মিতুলঃ দেখো এই দুনিয়ায় কেউই দুই বাপের বেটা বেটি না, তুমি ফাহিমাও না, আমি মিতুলও না, ঘুমাও, জয় বাংলা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now