বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

""দেজা ভু"""

"বিজ্ঞান " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sabira (০ পয়েন্ট)

X তথ্যসূত্র : আলোকিত আঙিনা।। শিক্ষক ক্লাসে পড়াচ্ছেন। এমন সময় তিনি আমার বান্ধবীকে একটা প্রশ্ন করলেন। সে উত্তর ও দিল। এমন সময় আমার হঠাৎ মনে হলো - এই ঘটনাটি আগেও বুঝি ঘটেছে। ঠিক এই প্রশ্নই স্যার ওকে বোধহয় করেছিলেন। এ ঘটনা আমি আগেও দেখেছি। ঠিক এইরকম অনুভূতি নিশ্চয় আপনারও হয়। মাঝে মাঝে এরকম অস্বস্তিকর অনুভুতির শিকার হয় সবাই। আর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এরই নাম হলো দেজা ভু। দেজা ভু একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো অলরেডি সিন (Already seen) বা ইতোমধ্যে দেখা। এটা এমন একটা অতিপ্রাকৃতিক অনুভূতি, যাতে আপনার মনে হবে বর্তমান এই দৃশ্য আপনি আগেই দেখেছেন বা এমন ঘটনা আগেই ঘটেছে আপনার জীবনে। অথচ এ বিষয়ে আপনি নিশ্চিতও হতে পারেন না। বিষয়টি কেমন ঘোলাটে ঘোলাটে মনে হয়। ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষের জীবনেই নাকি এমন অনুভুতি কদাচিৎ হয়েছে। দেজা ভুর সঠিক কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। বিজ্ঞানের যেসব বিষয় নিয়ে একটা অস্বস্তি বা রহস্য ঘিরে রয়েছে দেজা ভু তার একটা। দেজা ভু নিয়ে বৈজ্ঞানিকদের রয়েছে নানা তত্ত্ব। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত তত্ত্বট হচ্ছে,,,এটি আসলে আমাদের মস্তিষ্কের তৈরি স্মৃতির প্রতারণা। স্মৃতি সংরক্ষিত হয় আমাদের মস্তিষ্কের মিডিয়াল টেমপোরাল লোব নামক একটি স্থানে। বিশেষ করে এর রাইনাল কটেক্স নামের এলাকাটি পুরনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন ঘটনার সাদৃশ্য তুলনা করতে সাহায্য করে।।। টেমপোরাল লোব এপিলেপসি নামের মৃগীরোগীদের প্রায় ই খিঁচুনি ওঠার আগ মুহুর্তে দেজা ভু হতে দেখা যায়। গবেষনাগারেও মানুষের দেজা ভু করানো সম্ভব হয়েছে। টেমপোরাল লোবের রাইনাল কর্টেক্সেে অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দিয়ে এ কাজটি করা হয়েছে। ধারনা করা হয়, এই এলাকার নিউরনের বৈদ্যুতিক ডিসচার্জের অস্বাভাবিকতাই দেজা ভুর জন্য দায়ী। তবে, মৃগীরোগী ছাড়া সাধারণ মানুষের কেন দেজা ভু হয়, তার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নি। বলা হয়, আমাদের মস্তিষ্ক কখনো কখনো সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার স্মৃতির সঙ্গে বর্তমান ঘটনাটিকে গুলিএ ফেলে।।। এরকমই কোনো ঘটনার স্মৃতি, যা মস্তিষ্কে ভাসা ভাসা অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল তার সঙ্গে খানিকটা মিল থাকায় সে হুবুহু এক ই রকম ঘটেছিল বলে আমাদের ভুল তথ্য দেয়।।। দেজা ভু নিয়ে দ্বিতীয় প্রচলিত তত্ত্বটি হচ্ছে প্রিকগনিটিভ ড্রিম থিওরি।।। যে ঘটনা নিয়ে দেজা ভু হচ্ছে সেরকম ঘটনা হয়ত আমরা আগে স্বপ্নেে দেখেছি এবং তা ভুলেও গেছি।।। কিন্তু এইমাত্র ঘটনাটি স্বপ্ন খুড়ে সেই স্মৃতি বের করে আনে এবং আমাদেরকে চমকে দেয়।।। এর বাইরেও আরও কিছু তত্ত্ব আচ্ছে।।। অবশ্য সেগুলোকে বিজ্ঞানীরা স্রেফ গাজাঁখুরি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।। তবে ব্যাখ্যা থাক বা না থাক, দেজা ভু রহস্যময় বলেই হয়তো শিল্পী-সাহিত্যিকদের কাছে বিষয়টি এত সমাদৃত।। তাই দেজা ভু ব্যবহৃত হয়েছে অনেক কবিতা।, সাহিত্য এবং সিনেমায়।। তাই, এখন থেকে এরকম মুহুর্তে অবাক হয়ে দ্বিধায় ভুগবেন না। কেননা, দেজা ভু মানব মস্তিষ্কের একটি জটিল খেলা। এই খেলার ধাঁধা পুরোপুরি মেলেনি। কিন্তু বিজ্ঞান নিশ্চয় কোনো একদিন এর সঠিক সমাধান দিবে..........।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ""দেজা ভু"""

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now