বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চার
পারুলের কবর থেকে ফিরে আসার কাহিনীটা
প্রথম প্রথম গ্রামের নিস্তরঙ্গ জীবনে খুব
আলোড়ন সৃষ্টি করলেও, মাস ছয়েকের মাঝেই
মানুষজন এই ঘটনাকে খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন
করে । মায়েরা মাঝে সাঝে গ্রামের
বাচ্চাদেরকে ভয় দেখিয়ে ভাত খাওয়ানোর জন্য
এই ঘটনা বলত আর গ্রামের আসরে বুড়োরা
কেচ্ছা কাহিনী হিসেবে পারুলের অলৌকিক কাহিনী
শোনাত ।
এর মাঝেই পারুল নিজের মাঝে অন্য প্রানের
উপস্থিতি টের পায় । পারুলের সন্তান হবে এই
আনন্দে তার স্বামী পুরো গ্রামকে দুটো গরু
খাইয়ে দিল । পুরো পরিবারে বহুদিন পর উৎসব
উৎসব ভাব ।
গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী সাত মাসের
সময় পারুলের স্বামী তাকে বাপের বাড়ি দিয়ে
গেল । পারুলের বাপের বাড়িতে তেমন কেউ
নেই । শুধু মা, ছোট এক বোন আর আছিয়ার মা ।
বড় বোনটার আগেই বিয়ে হয়েছে । তাই পারুল
টুকটাক সাংসারিক কাজে মাকে সাহায্য করে
মাঝেমধ্যে ।
পারুলের মা বেশ খুশী । সারাদিন এটা সেটা
উপদেশ দিয়েই চলেছেন । এটা করা যাবে না,
সেটা খাওয়া যাবে না ইত্যাদি । আর বিশেষ করে
পুকুর ঘাটে যাওয়া যাবে না একলা ।
মাঝে মধ্যে তিনি আকারে ইঙ্গিতে জানতে চান,
বাচ্চা কখন আসল পেটে ?
পারুল নিজেও জানে না । তাই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায়
অস্বস্তিতে ।
বাচ্চা হওয়ার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে পারুল ততই
অস্তির হয়ে যাচ্ছে । রাতে ঘুম হয় ছাড়া ছাড়া ।
আজো তেমনই একটি রাত । ঘুম ভেঙ্গেছে
প্রায় আধঘণ্টা । তার উপর কারেন্ট নেই । উফফ যা
গরম !পারুলের হঠাৎ ইচ্ছে হল পুকুরে একটু সাঁতার
কেটে আসে চুপিচুপি ।
ঘুটঘুটে অন্ধকার । নিজের হাতও ঠিকমত দেখা যায়
না । পারুল পানিতে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে বসে আছে
। পায়ের নিচে ছোট মাছ কুট কুট করছে, বেশ
লাগছে । ঝি-ঝি-ঝিই করে ঝিঝি পোকা চেঁচাচ্ছে
। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় চেঁচানোর
প্রতিযোগীতা চলছে ।
পানির ঢেউ যেন বেড়ে গেল আচমকা । ছোট্ট
পুকুরের পাড়ে নদীর মত ঢেউ তুলে পানি
আছড়ে পড়ছে । পারুল কিঞ্চিত আতঙ্কিত । সে
উঠে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে, ঠিক এই সময়
শুঁড়ের মত বাহুবিশিষ্ট কিছু প্রানী তার পা টেনে
ধরল আলতো করে । তীব্র ভয়ে পারুল নিঃশ্বাস
বন্ধ হওয়ার উপক্রম । ধীরে ধীরে
প্রাণীগুলো পানিতে ভেসে উঠল, আঁশটে
গন্ধ কিলবিলে প্রাণীগুলোর গায়ে, কুতকুতে
কালো চোখ । পুকুরের পানি এখন স্থির ।
প্রাণীগুলো কি চায়?
পারুল বুঝতে পারল প্রাণীগুলো তাকে কিছু
বলতে চাচ্ছে তাদের জান্তব ভাষায় । পারুল বুঝতে
পারছে না । সে পা ছাড়ানোর জন্য টানা টানি শুরু
করে দিল । মাঝের প্রাণীটা দুটো শুঁড় পারুলের
কানের মাঝে ঢুকিয়ে দিল । পারুলের মাথায় অসহ্য
যন্ত্রনা হচ্ছে, অসহ্য ।
পারুলের চোখের সামনে সেই উদভ্রান্ত চাহনির
ছেলেটার চেহারা ভেসে উঠল । পারুল বুঝতে
পারল এই ছেলেটার জন্য তার হৃদয়ে অসীম মমতা
আছে । আবছা মনে পড়ছে, হ্যাঁ এই
ছেলেটাকেই তো সে বিয়ে করেছিল !
তাহলে তার স্বামী অন্য লোক হল কিভাবে ?
পারুলের মাথার যন্ত্রনা আরও বেড়ে যাচ্ছে । হ্যাঁ
হ্যাঁ মনে পড়ছে । পারুল তার মা কে এই কথা
জানানোর পর তাকে অন্য লোকের সাথে বিয়ে
দেওয়া হয় জোর করে । কিন্তু তারপর ? তারপর
কি হল ?
চিননননন...ননচিন... করে একটানা শব্দ হয়েই
চলেছে পারুলের কানের ভেতর ।
পারুল নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করল । উফফ কি
ভয়ানক দুঃস্বপ্ন ছিল ! ঘামে পুরো শরীর ভিজে
গিয়েছে । পারুল খানিকটা অবাক হল, ঘামলে কি বিছানা
এভাবে ভিজতে পারে?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now