বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্বিতীয় জনম -০৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X চার পারুলের কবর থেকে ফিরে আসার কাহিনীটা প্রথম প্রথম গ্রামের নিস্তরঙ্গ জীবনে খুব আলোড়ন সৃষ্টি করলেও, মাস ছয়েকের মাঝেই মানুষজন এই ঘটনাকে খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করে । মায়েরা মাঝে সাঝে গ্রামের বাচ্চাদেরকে ভয় দেখিয়ে ভাত খাওয়ানোর জন্য এই ঘটনা বলত আর গ্রামের আসরে বুড়োরা কেচ্ছা কাহিনী হিসেবে পারুলের অলৌকিক কাহিনী শোনাত । এর মাঝেই পারুল নিজের মাঝে অন্য প্রানের উপস্থিতি টের পায় । পারুলের সন্তান হবে এই আনন্দে তার স্বামী পুরো গ্রামকে দুটো গরু খাইয়ে দিল । পুরো পরিবারে বহুদিন পর উৎসব উৎসব ভাব । গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী সাত মাসের সময় পারুলের স্বামী তাকে বাপের বাড়ি দিয়ে গেল । পারুলের বাপের বাড়িতে তেমন কেউ নেই । শুধু মা, ছোট এক বোন আর আছিয়ার মা । বড় বোনটার আগেই বিয়ে হয়েছে । তাই পারুল টুকটাক সাংসারিক কাজে মাকে সাহায্য করে মাঝেমধ্যে । পারুলের মা বেশ খুশী । সারাদিন এটা সেটা উপদেশ দিয়েই চলেছেন । এটা করা যাবে না, সেটা খাওয়া যাবে না ইত্যাদি । আর বিশেষ করে পুকুর ঘাটে যাওয়া যাবে না একলা । মাঝে মধ্যে তিনি আকারে ইঙ্গিতে জানতে চান, বাচ্চা কখন আসল পেটে ? পারুল নিজেও জানে না । তাই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায় অস্বস্তিতে । বাচ্চা হওয়ার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে পারুল ততই অস্তির হয়ে যাচ্ছে । রাতে ঘুম হয় ছাড়া ছাড়া । আজো তেমনই একটি রাত । ঘুম ভেঙ্গেছে প্রায় আধঘণ্টা । তার উপর কারেন্ট নেই । উফফ যা গরম !পারুলের হঠাৎ ইচ্ছে হল পুকুরে একটু সাঁতার কেটে আসে চুপিচুপি । ঘুটঘুটে অন্ধকার । নিজের হাতও ঠিকমত দেখা যায় না । পারুল পানিতে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে বসে আছে । পায়ের নিচে ছোট মাছ কুট কুট করছে, বেশ লাগছে । ঝি-ঝি-ঝিই করে ঝিঝি পোকা চেঁচাচ্ছে । অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় চেঁচানোর প্রতিযোগীতা চলছে । পানির ঢেউ যেন বেড়ে গেল আচমকা । ছোট্ট পুকুরের পাড়ে নদীর মত ঢেউ তুলে পানি আছড়ে পড়ছে । পারুল কিঞ্চিত আতঙ্কিত । সে উঠে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে, ঠিক এই সময় শুঁড়ের মত বাহুবিশিষ্ট কিছু প্রানী তার পা টেনে ধরল আলতো করে । তীব্র ভয়ে পারুল নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম । ধীরে ধীরে প্রাণীগুলো পানিতে ভেসে উঠল, আঁশটে গন্ধ কিলবিলে প্রাণীগুলোর গায়ে, কুতকুতে কালো চোখ । পুকুরের পানি এখন স্থির । প্রাণীগুলো কি চায়? পারুল বুঝতে পারল প্রাণীগুলো তাকে কিছু বলতে চাচ্ছে তাদের জান্তব ভাষায় । পারুল বুঝতে পারছে না । সে পা ছাড়ানোর জন্য টানা টানি শুরু করে দিল । মাঝের প্রাণীটা দুটো শুঁড় পারুলের কানের মাঝে ঢুকিয়ে দিল । পারুলের মাথায় অসহ্য যন্ত্রনা হচ্ছে, অসহ্য । পারুলের চোখের সামনে সেই উদভ্রান্ত চাহনির ছেলেটার চেহারা ভেসে উঠল । পারুল বুঝতে পারল এই ছেলেটার জন্য তার হৃদয়ে অসীম মমতা আছে । আবছা মনে পড়ছে, হ্যাঁ এই ছেলেটাকেই তো সে বিয়ে করেছিল ! তাহলে তার স্বামী অন্য লোক হল কিভাবে ? পারুলের মাথার যন্ত্রনা আরও বেড়ে যাচ্ছে । হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়ছে । পারুল তার মা কে এই কথা জানানোর পর তাকে অন্য লোকের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় জোর করে । কিন্তু তারপর ? তারপর কি হল ? চিননননন...ননচিন... করে একটানা শব্দ হয়েই চলেছে পারুলের কানের ভেতর । পারুল নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করল । উফফ কি ভয়ানক দুঃস্বপ্ন ছিল ! ঘামে পুরো শরীর ভিজে গিয়েছে । পারুল খানিকটা অবাক হল, ঘামলে কি বিছানা এভাবে ভিজতে পারে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্বিতীয় জনম -০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now