বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুই
মাঝরাত । বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে অনেকক্ষণ । রাতের
পরিস্কার আকাশে ফকফকা জোছনা । মেয়েটা
একটু করে চোখ মেলতে চেষ্টা করেছিল ।
চোখে মৃদু জোছনার আলোও সহ্য হচ্ছে না ।
ঝিরি ঝিরি বাতাসে হাড় কাপুনি শীত লাগছে তার ।
চারপাশে ঝোপঝাড় আর ঘন জঙ্গল ।
বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপে হেঁটে চলেছে সে ।
গন্তব্য অনিশ্চিত । নিজের নামটাও কিছুতেই মনে
পড়ছে না । তবে এই পথে সে আগেও
হেঁটেছিল । দুইপাশে পুকুর, রাস্তার শেষ প্রান্তে
একটা ছনের কাচারি ঘর, ডানপাশের পুকুরটার উপরে
ঝুঁকে পড়া নারিকেল গাছটাও চেনা । ওই কাঠের
ঘাটলাটাও খুব পরিচিত মনে হচ্ছে । একটা লুঙ্গি পড়া
ছেলে খালি গায়ে সেখানে শুয়ে আছে ।
ছেলেটা তাকে দেখামাত্র অবাক হয়ে উঠে
দাঁড়াল । এমনভাবে তাকাচ্ছে তার দিকে, যেন
নিজের চোখকে অবিশ্বাস করল । মেয়েটাকে
কিছু একটা বলতে চেয়েও পিছু সরে গেল ।
তারপর ইতিস্তত পায়ে দূর থেকে মেয়েটার পিছু
নিল ।
মেয়েটা বেশ অবাক হয়েছে, ছেলেটা তাকে
দেখে এমন ধড়ফড় করে উঠে বসল কেন ?
ছেলেটা কি তাকে চেনে ?
এমন সময় কে যেন চেচিয়ে উঠল,‘হুঁশিয়ার,স
াবধান!এলাকাবাসী জাগো।’
এই কথা শুনে তার হাসি পেয়ে যায়।কি আজিব
কথা,এলাকাবাসি জাগোও ! পাগল ছাগল হবে হয়ত ।
আরে রাতে এলাকাবাসী জেগে থাকবে কেন ?
তোর ঘুমাতে ইচ্ছে না করলে কুতকুত খেল ।
খামোখা এলাকাবাসীকে জ্বালাচ্ছিস কেন ।
মেয়েটা কাচারি ঘর পেরিয়ে একটা বাড়ির উঠোনে
হাজির হয় । কেউ জেগে নেই । শুধু একটা ঘর
থেকে টিম টিম কুপির আলো দেখা যাচ্ছে ।
একটু করে জানালা দিয়ে উকি দিয়ে দেখে একটা
পিচ্চি মেয়ে বিছানায় বসে কোরআনে খুলে
ফোঁস ফোঁস করে কাঁদছে আর বিড় বিড় করে
কি যেন বলছে । খুব চেনা চেনা লাগে
মেয়েটাকে । কোথায় যেন দেখেছে !
হঠাৎ মেয়েটা চুপ হয়ে যায় । ঘাড় ফিরিয়ে জানালার
দিকে তাকাতেই আম্মাগো বলে চিৎকার দিয়ে
মূর্ছা যায় । তার হাতের ধাক্কায় কুপি উলটে বিছানায়
আগুন ধরে যাচ্ছে । সে ব্যাস্ত হয়ে দরজায়
ধাক্কা দেয় । ঘরের ভেতর লোক জনের হৈ চৈ
শোনা যায় ।
আগুন লাগার ধাক্কায় প্রথমে কেউ তাকে খেয়াল
করেনি । তাছাড়া অন্ধকারও কম ছিল না । অল্পতেই
সেরেছে, ভাগ্যিস সে দেখেছিল, না হয় বাচ্চা
মেয়েটা একেবারে কাবাব হয়ে যেত ।
তাকে প্রথমে খেয়াল করে আছিয়ার মা । সে ও
দেখামাত্র ‘বড় আম্মা’ বলেই মূর্ছা যায় । সে
যথেষ্ট অবাক হয়।তাকে দেখে এত ভয় পাওয়ার
কি আছে ?
এতক্ষনে সে নিজের দিকে তাকাল, তার সারা
গায়ে কাদাপানি লেগে আছে, সাদা রংয়ের কয়েকটা
কাপড় দিয়ে তার দেহ জড়ানো ।
এরপর একজন পুরুষ মানুষ দৌড়ে এসে তাকে
জড়িয়ে ধরে ঘরে নিয়ে যায় ।
তাকে দেখে সবাই দূরে সরে যায় , শুধু একজন
বৃদ্ধা মহিলা ছাড়া । প্রথমে ভয়ে আঁতকে
উঠেছিলেন, পরে যখন দেখলেন সে
কাউকেই চিনতে পারছে না । তখন একটানা বলেই
চলেছেন,‘আমি কইছিলাম , আমার পারুল মরে নাই ।
তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করলা না । আমার মাইয়াটা
কবরে কত কষ্ট পাইছে । ওই তোরা ৪ দিনের
খানাটা কালকেই দিয়ে দে । দান ছদকায় দেরি
করতে নাই।’
ও তার নাম তাহলে পারুল ! আচ্ছা নাম দিয়ে কি হয় ?
নাম দেয়াটা কি জরুরী ?
এরপরের দশ বারো দিন আত্মীয় স্বজনসহ,
আশেপাশের সমস্ত গ্রামের মহিলারা আসে
পারুলকে দেখতে । সবাই জানতে চায় কবরের
জীবন কেমন ? সওয়াল জওয়াব হয়েছিল কি না ?
মাটির চাপা খেতে কেমন লাগে? হ্যান ত্যান !
পারুল নির্বিকার থাকে,তার মাথায় সেই ছায়া
প্রাণীগুলোর শীতল স্পর্শের অনুভূতি শিরশির
করে । প্রাণীগুলোর গায়ে মুর্দার আঁশটে গন্ধ
লেগে ছিল ।
প্রাণীগুলোর ও কি নাম আছে ? সেই নামের
অর্থ কি হবে ? কিলবিলে ভয়ানক কোন অর্থ
হবে নিশ্চয়ই সেই নামের।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now