বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্বিতীয় বাসর রাত (৬)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরাফাত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X (Apu Tanvir) যখন মীমকে নিয়ে আমার চিলেকোঠার ঘরে ঢুকলাম তখনও আমার ঠিক মত সব কিছু বিশ্বাস হচ্ছিলো না ! বিয়ের পর থেকে কতবার কল্পনা করেছি ওকে এখানে নিয়ে আসবো । এই ছোট্ট ঘরে আমার দুজনের জীবন টা একসাথে শুরু হবে । তারপর পড়া লেখা শেষ করে আমরা যখন দুজনেই চাকরী করবো তখন একটা বড় বাসা নিবো । এতো দিন সেটা কেবল কল্পনাই ছিল এমন কি আমি কোন দিন ভাবই নাই যে মীম কোন দিন আমার এই ঘরে আসবে ! মীম ঘরে ঢুকতেই কিছু সময় চারিদিকে তাকালো । আমি অবশ্য যাওয়ার আগেই যথেষ্ট পরিমান গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলাম । কিন্তু কত টুকু হয়েছে কে জানে । মীম বলল -বাহ ! বেশ গোছালো তো তুমি ! -এই আর কি ! -ঘোড়ার ডিম ! আমি আসার আগে গুছিয়েছো তাই না ? আমি হাসলাম । মীম ঠিক ঠিক বুঝে ফেলেছে । ফুল গুলো বিছানার উপরে রেখে বসলো বিছানার উপরেই । আমি ব্যাগটা নামিয়ে রেখে চেয়ারের উপর বসলাম । বললাম -পছন্দ হয়েতো ঘর ? -বলা যায় ! -যাক এখন আপাতত চললেই হবে । পরে দেখা যাবে । -শুনো রাতে কি খাবো ? রান্না হবে নাকি বাইরে থেকে ? -তুমি যা বল । বাইরে থেকে চাইলে বাইরে থেকে রান্না করতে চাইলে সেটারও ব্যবস্থা আছে ! -আজকে রান্নার সময় নেই । ঠিক আছে । অনেক কাজ বাকি আছে । তুমি বাইরে থেকে কিছু নিয়ে আসো ! আমি ততক্ষনে দেখি তোমার ঘরের কি করা যায় ! আমি বাইরে চলে গেলাম । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি তখন সবে মাত্র ১০ টার মত বাজে । মীম আরও কিছু কিনতে দিলো আমার কাছে । যখন ফিরে আসলাম তখন আমার জন্য আসলেই অন্য কিছু একটা অপেক্ষা করছিল । তাকিয়ে দেখি এরই ভেতরে মীম অনেকটাই ঘরের চেহারা টা পাল্টে ফেলেছে । বিছানার চাদরটা পাল্টানো হয়েছে । সেই সাথে এদিক ওদিকে কিনে আনা ফুল গুলো দিয়ে সাজানো হয়েছে । এরই ভেতরে মীম এতো সব কিভাবে করলো ঠিক বুঝলাম না । আমাকে দেখে মীম বলল -কই ? মোম বাতি নিয়ে এসেছো ? -হুম ! আমি মোম গুলো ওর হাতে দিলাম । ও সেগুলো নিয়ে বিছানার সামনের ঠিক সামনে রাখলো ! আমি ওকে বললাম -কি করছো ? -কেন ? পছন্দ হচ্ছে না ? -না মানে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না । মীম আমার দিকে তাকিয়ে বলল -সেদিনের ভুলটা শুদ্ধি করার চেষ্টা করছি ! আমাদের বিয়ে তো হয়েছে ঠিকই কিন্তু একটা চমৎকার বাসর রাত আসে নি । হোপ আজকে কিছুটা হলেও সেটা পুর্ণ হবে । -মানে ? আমি কেবল অবাক বিশ্ময়ে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে । এই মেয়েটা একটু আগে কি বলল ? বাসর ? সত্যি ! মীম এবার আমার কাছে এল চলে । একেবারে কাছে । এতো দিনে এতো কাছে সে আসে নাই কখনও । -ঐ দিন আব্বুর সাথে তোমাকে দেখে আমার কেন জানি অন্য রকম লাগলো ! আমার বাবা তোমাকে পেয়ে কেমন জানি নিশ্চিন্ত হয়ে তাকিয়েছিল । বিশেষ করে তুমি যখন আব্বুর জন্য পাঞ্জাবীটা কিনছিলে আব্বুর চোখে অদ্ভুদ একটা আনন্দ দেখতে পেয়েছিলাম ! আমি ঠিক জানি না এটা আমি কিভাবে তোমাকে ব্যাখ্যা করবো । এতো ভাল লাগলো দৃশ্যটা দেখে । ঐদিনই তোমাকে কেন জানি পছন্দ হয়ে গেল খুব ! কিছুটা সময় নিরবতা ! তারপর মীম আবারও বলতে শুরু করলো -আমি তোমার সাথে শুরু থেকেই খারাপ ব্যবহার করেছি কিন্তু বোঝার চেষ্টা করি নি যে যা হয়েছে তাতে তোমার কোন দোষ নেই । এতো খারাপ লাগা শুরু করলো নিজের কাছে । তারপর আজকে তোমাকে এভাবে দৌড়ে আসতে দেখে আমার যত রাগ যট অভিমান ছিল সব কিছু ...... দুপুরেই ঐ তখনই তোমাকে খুব করে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছিলো ! -ওকেই !! আমি আর কি বলবো ঠিক বুঝলাম না ! আর কি বলা উচিৎ তাও ঠিক বুঝতে পারলাম না ! তারপর নিজের ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিল । -কি এটা ? -পাঞ্জাবী ! -আমার জন্য ? কি গাধার মত প্রশ্ন ? আমার জন্যই অবশ্যই । -হম ! বাসর ঘর যখন হতে যাচ্ছে বরকে তো পাঞ্জাবী পরেই আসতে হবে । তাই না ? -তাহলে বউ হয়ে যে বাসর ঘরে অপেক্ষা করবে তাকেও বেনারশী পরতে হয় ! -হুম ! বাটর আমারটা তো বাসায় । নিয়ে আসি নি ! আমি একটু হাসলাম কেবল । জানি না এটাকে ঠিক কাকতালীয় বলবো কি না কে জানে ! আমি কদিন আগেই ওর জন্য লাল রংয়ের একটা শাড়ি কিনেছিলাম । এমনিতেই কিনেছিলাম কিন্তু দেওয়ার সময় পাই নি । কিংবা দেওয়া হয়ে ওঠে নি । আমি শাড়িটা বের করে দিতেই মীম কেবল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো । -কেবল শাড়ীই আছে অন্য কিছু কেনা হয় নি । যদিও এটা বেনারসী না চলবে এতে ? মীম আমার হাত থেকে শাড়িটা নিল । তারপর কি মনে হতেই মীম এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলে । বেশ শক্ত করেই । ওর শরীরের কাঁপন টা আমি ঠিক ঠিক অনুভব করছিলাম । ও কি কাঁদছে ? আচ্ছা আমার চোখেও কি পানি আসলো একটু ? আনন্দের ? কিংবা খুব প্রিয় কাউকে কাছে পাবার আনন্দ !!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্বিতীয় বাসর রাত (৬)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now