বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Apu Tanvir)
যখন মীমকে নিয়ে আমার চিলেকোঠার ঘরে ঢুকলাম তখনও আমার ঠিক মত সব কিছু বিশ্বাস হচ্ছিলো না ! বিয়ের পর থেকে কতবার কল্পনা করেছি ওকে এখানে নিয়ে আসবো । এই ছোট্ট ঘরে আমার দুজনের জীবন টা একসাথে শুরু হবে । তারপর পড়া লেখা শেষ করে আমরা যখন দুজনেই চাকরী করবো তখন একটা বড় বাসা নিবো । এতো দিন সেটা কেবল কল্পনাই ছিল এমন কি আমি কোন দিন ভাবই নাই যে মীম কোন দিন আমার এই ঘরে আসবে !
মীম ঘরে ঢুকতেই কিছু সময় চারিদিকে তাকালো । আমি অবশ্য যাওয়ার আগেই যথেষ্ট পরিমান গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলাম । কিন্তু কত টুকু হয়েছে কে জানে । মীম বলল
-বাহ ! বেশ গোছালো তো তুমি !
-এই আর কি !
-ঘোড়ার ডিম ! আমি আসার আগে গুছিয়েছো তাই না ?
আমি হাসলাম । মীম ঠিক ঠিক বুঝে ফেলেছে । ফুল গুলো বিছানার উপরে রেখে বসলো বিছানার উপরেই । আমি ব্যাগটা নামিয়ে রেখে চেয়ারের উপর বসলাম । বললাম
-পছন্দ হয়েতো ঘর ?
-বলা যায় !
-যাক এখন আপাতত চললেই হবে । পরে দেখা যাবে ।
-শুনো রাতে কি খাবো ? রান্না হবে নাকি বাইরে থেকে ?
-তুমি যা বল । বাইরে থেকে চাইলে বাইরে থেকে রান্না করতে চাইলে সেটারও ব্যবস্থা আছে !
-আজকে রান্নার সময় নেই । ঠিক আছে । অনেক কাজ বাকি আছে । তুমি বাইরে থেকে কিছু নিয়ে আসো ! আমি ততক্ষনে দেখি তোমার ঘরের কি করা যায় !
আমি বাইরে চলে গেলাম । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি তখন সবে মাত্র ১০ টার মত বাজে । মীম আরও কিছু কিনতে দিলো আমার কাছে । যখন ফিরে আসলাম তখন আমার জন্য আসলেই অন্য কিছু একটা অপেক্ষা করছিল । তাকিয়ে দেখি এরই ভেতরে মীম অনেকটাই ঘরের চেহারা টা পাল্টে ফেলেছে । বিছানার চাদরটা পাল্টানো হয়েছে । সেই সাথে এদিক ওদিকে কিনে আনা ফুল গুলো দিয়ে সাজানো হয়েছে । এরই ভেতরে মীম এতো সব কিভাবে করলো ঠিক বুঝলাম না ।
আমাকে দেখে মীম বলল
-কই ? মোম বাতি নিয়ে এসেছো ?
-হুম !
আমি মোম গুলো ওর হাতে দিলাম । ও সেগুলো নিয়ে বিছানার সামনের ঠিক সামনে রাখলো !
আমি ওকে বললাম
-কি করছো ?
-কেন ? পছন্দ হচ্ছে না ?
-না মানে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না ।
মীম আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-সেদিনের ভুলটা শুদ্ধি করার চেষ্টা করছি ! আমাদের বিয়ে তো হয়েছে ঠিকই কিন্তু একটা চমৎকার বাসর রাত আসে নি । হোপ আজকে কিছুটা হলেও সেটা পুর্ণ হবে ।
-মানে ?
আমি কেবল অবাক বিশ্ময়ে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে । এই মেয়েটা একটু আগে কি বলল ?
বাসর ?
সত্যি !
মীম এবার আমার কাছে এল চলে । একেবারে কাছে । এতো দিনে এতো কাছে সে আসে নাই কখনও ।
-ঐ দিন আব্বুর সাথে তোমাকে দেখে আমার কেন জানি অন্য রকম লাগলো ! আমার বাবা তোমাকে পেয়ে কেমন জানি নিশ্চিন্ত হয়ে তাকিয়েছিল । বিশেষ করে তুমি যখন আব্বুর জন্য পাঞ্জাবীটা কিনছিলে আব্বুর চোখে অদ্ভুদ একটা আনন্দ দেখতে পেয়েছিলাম ! আমি ঠিক জানি না এটা আমি কিভাবে তোমাকে ব্যাখ্যা করবো । এতো ভাল লাগলো দৃশ্যটা দেখে । ঐদিনই তোমাকে কেন জানি পছন্দ হয়ে গেল খুব !
কিছুটা সময় নিরবতা ! তারপর মীম আবারও বলতে শুরু করলো
-আমি তোমার সাথে শুরু থেকেই খারাপ ব্যবহার করেছি কিন্তু বোঝার চেষ্টা করি নি যে যা হয়েছে তাতে তোমার কোন দোষ নেই । এতো খারাপ লাগা শুরু করলো নিজের কাছে । তারপর আজকে তোমাকে এভাবে দৌড়ে আসতে দেখে আমার যত রাগ যট অভিমান ছিল সব কিছু ...... দুপুরেই ঐ তখনই তোমাকে খুব করে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছিলো !
-ওকেই !!
আমি আর কি বলবো ঠিক বুঝলাম না ! আর কি বলা উচিৎ তাও ঠিক বুঝতে পারলাম না !
তারপর নিজের ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিল ।
-কি এটা ?
-পাঞ্জাবী !
-আমার জন্য ?
কি গাধার মত প্রশ্ন ? আমার জন্যই অবশ্যই ।
-হম ! বাসর ঘর যখন হতে যাচ্ছে বরকে তো পাঞ্জাবী পরেই আসতে হবে । তাই না ?
-তাহলে বউ হয়ে যে বাসর ঘরে অপেক্ষা করবে তাকেও বেনারশী পরতে হয় !
-হুম ! বাটর আমারটা তো বাসায় । নিয়ে আসি নি !
আমি একটু হাসলাম কেবল । জানি না এটাকে ঠিক কাকতালীয় বলবো কি না কে জানে ! আমি কদিন আগেই ওর জন্য লাল রংয়ের একটা শাড়ি কিনেছিলাম । এমনিতেই কিনেছিলাম কিন্তু দেওয়ার সময় পাই নি । কিংবা দেওয়া হয়ে ওঠে নি ।
আমি শাড়িটা বের করে দিতেই মীম কেবল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ।
-কেবল শাড়ীই আছে অন্য কিছু কেনা হয় নি । যদিও এটা বেনারসী না চলবে এতে ?
মীম আমার হাত থেকে শাড়িটা নিল । তারপর কি মনে হতেই মীম এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলে । বেশ শক্ত করেই ।
ওর শরীরের কাঁপন টা আমি ঠিক ঠিক অনুভব করছিলাম । ও কি কাঁদছে ?
আচ্ছা আমার চোখেও কি পানি আসলো একটু ?
আনন্দের ?
কিংবা খুব প্রিয় কাউকে কাছে পাবার আনন্দ !!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now