বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Apu Tanvir)
কেমন যেন অদ্ভুদ লাগছিলো নিজের কাছেই যে মীম আসলেই আমার সাথে যাচ্ছে, একই রিক্সায় করে আমার বাসায় থাকার জন্য । হলের গেট দিয়ে যখন বেরিয়ে এল তখনও ওর দৃষ্টিটা নিচের দিকে ছিল । একটু যেন লজ্জা পাচ্ছিলো আমার সাথে যাওয়ার জন্য কিংবা অন্য কিছু হবে হয়তো । আমাকে দেখে একটু হাসলো । প্রতি উত্তরে আমিও হাসলাম । ব্যাগটা হাতে নিয়ে যখন রিক্সায় উঠলাম মীম প্রথমেই বলল
-আব্বু ফোন দিয়েছিল ?
সন্ধ্যার দিকে দিয়েছিল । আমি তখন কেবল বাইরে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি । তখই ফোন টা এসে হাজির ! আমি নাম্বারটা দেখেই তাড়াতাড়ি রিসিভ করে সালাম দিলাম ।
-শুনলাম ওদের নাকি হল ভ্যাকেন্টের নির্দেশ দিয়েছে ?
-জি !
-তুমি কি ওকে বাসায় রাখতে আসবে ?
-না মানে ও ঢাকা ছাড়তে চাইছে না । ওর নাকি কি কাজ আছে ঢাকায় !
-তাহলে ?
কয়েক মুহুর্ত কি বলবো ঠিক খুজে পেলাম না । একবার মনে হল বলি আরেকবার মনে হল না বলি ! একটু যেন সংকোচও লাগছিল বলতে । তারপর ভাবলাম বলেই ফেলি ! বললাম
-আসলে ও আমার এখানে আসতে চাইছে । আমি ওকে নিয়ে আসতে যাচ্ছি ।
-ও ! আচ্ছা আচ্ছা ! তাহলে তো সমস্যা নেই । তোমার সমস্যা হবে না তো ?
-না ! সমস্যা হবে না ! কি যে বলেন আপনি ? আপনি চিন্তা করবেন না !
-আরে আমার আর চিন্তা কি তুমি আছো না ওর পাশে ।
তারপর কয়েক মুহুর্ত চুপ করে থেকে আবার বলল
-তুমি ওকে দেখা শুনা কর কেমন ? করবে না ?
-আমি তো আছি ! আপনি চিন্তা করবেন না ।
একটু বাতাস দিচ্ছিলো । আমি চুপ করেই বসে আছি রিক্সায় । মীমের ব্যাগটা আমাদের পায়ের কাছে রাখা । আমি মনে মনে বাক্য সাজাচ্ছি মীম কে বলার জন্য কিন্তু কেন জানি বাক্য গুলো আর বলতে পারছি না । শেষে মীম নিজেই আগে বলল
-তোমার আসলেই সমস্যা হবে না তো ?
-আরে বাবা না রে ! সমস্যা কেন হবে ?
-ঠিক তো ? না মানে হুট করেই একজন ঘরের ভেতরে চলে আসাটা ........
-তুমি তো সেই কবেই চলে এসেছো আমার জীবনে । হুট করে অবশ্য তবে এখন এটাই কি স্বাভাবিক না ? বরং তুমি না থাকলেই ....
-না থাকলে কি ?
মীম তখনও আমার দিকে তাকায় নি । রাস্তায় দিকে তাকিয়ে আছে ।
-না থাকলে মনে হয় জানি নাই ।
এবার মীম আমার দিকে তাকালো ।
-কেন মনে হয় এমন টা ?
-আমি জানি না । ঐ দিনের পর থেকেই এরকম মনে হয় । আমি জানি আমাদের শুরু টা ভাল ভাবে হয় নি, কিছু হওয়ার কথা ছিল অন্য রকম ভাবে হয়েছে । হয়তো আমাদের ভাগ্যেই এমন টা হওয়ার কথা ছিল । আমি আসলে .....
মীম চুপ করে থাকলো আরও কয়েক মুহুর্ত । তারপর বলল
-ঐ দিন রাতের তোমার সাথে ..... আসলে তোমার সাথে ...... আসলে তোমার তো দোষ ছিল না । কিন্তু আমি ....
-ইউ মিন আমাদের বাসর রাত ?
-হুম !
বাসর !! কি অদ্ভুদ একটা শব্দ ছিল আমার জন্য ।
কত কিছুই না ভাবতাম একটা সময় এই রাতের কথা ভেবে । কিন্তু সব কিছু কি ইচ্ছে মত হয় ।
মীম আর কোন কথা না বলে চুপ করে রইলো । আমিও কি বলবো ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না ! কিংবা কি বলা উচিৎ । ঝিগাতলায় আসার পরেই হঠাৎই মীম বলল
-এই একটু দাড়াও তো !
তারপর রিক্সাওয়ালাকে বলল
-এই মামা দাড়ান ! দাড়ান !
-কেন ?
মীম হাত বাড়িয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের পাশের ফুলের দোকান টা দেখালো ।
-কি ?
-আসো । এই বলে আমাকে টেনেই নিয়ে গেল ওখানে গেল ।
আমি তখনও ঠিক বুঝতে পারছি না আসলেও ও কি বলতে চাইছে । এতো রাতে ফুলের দোকান দিয়ে কি করবে ?
মীমকে অনেক গুলো গাঁদা ফুল কিনতে দেখলাম । গাঁদার ফুলের মালা । আর বেশ কিছু গোলাপ ফুল । রাতের বেলা বলেই হয়তো ফুল গুলো বেশ সস্তাতেই পাওয়া গেল ! হাত ভর্তি ফুল নিয়ে আমরা আবারো রিক্সায় উঠলাম । আমি তখনও ঠিক বুঝতে পারছি না যে ঠিক কি কারনে মীম এতো গুলো ফুল কিনলো । অবশ্য আমি ওকে আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না । ওর যা ভাল লাগে করুক । আমার কেবল ওকে ভাল লাগছিল । ও যে আমার পাশে পাশে আমার কাছে যাচ্ছে এটার থেকে আনন্দের আর কিছু মনে হচ্ছিলো না ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now