বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Apu Tanvir)
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি মাত্র এক মিনিট পার হয়েছে অথচ আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমি যেন অনন্ত কাল ধরে এই বাসের ভেতরেই বসে আছি । আমি বাস থেকে নেমে পড়লাম । এই অস্থিরটা নিয়ে বাসের ভেতরে বসে থাকা সম্ভব না ।
বাইরে তাকিয়ে দেখি লম্বা গাড়ির লাইন ।
আজকে কেন জানি এই জ্যামটা খুব বেশি অসহ্য মনে হল । অথচ এর আগে এরকম কোন দিন মনে হয় নি, বরং বলা চলে আমি সব সময় জ্যাম টা এনজয় করেছি । আজকে মীম জড়িত এই জন্য ?
আমার বারবারই মনে হচ্ছে এখন আমার মীমের পাশে থাকা উচিৎ । ওর উদ্দিগ্ন কন্ঠস্বর শোনার পর থেকে নিজের ভেতরে কেমন একটা অস্থিরতা বোধ করছি । শুভকে ফোন দিয়ে শুনলাম ক্যাম্পাসে নাকি আসলেই ঝামেলা শুরু হয়েছে । অনেকেই নাকি ক্যাম্পাসে আটকা পরেছে ।
আমি আরেকবার জ্যামের দিকে তাকালাম । নাহ, এই জ্যাম সহজে ছাড়বে না । আমি সামনে পা বাড়ালাম । আমার কেবলই মনে হচ্ছিলো যেন যে কোন ভাবেই আমাকে মীমের কাছে পৌছাতেই হবেই হবে । কখন যে আমি দৌড়াতে শুরু করেছি আমি নিজেই জানি না ।
দৌড়ানোর সময়ই আমার কত কথা মনে হতে লাগলো মীম কে নিয়ে । যদিও এমন খুব একটা ঘটনা নেই আমাদের এক সাথে তবুও ঘুরে ফিরে সেই কথা গুলো মনে হচ্ছে ।
সপ্তাহ খানেক আগের কথাই । সকাল বেলা ঘুমিয়ে ছিলাম তখনই একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন এসে হাজির । রিসিভ করতেই বুঝতে পারলাম মীমের বাবা । উনি ঢাকায় এসেছেন কাজে । আমার সাথে দেখা করতে চান । ঘুম-টুম ফেলে রেডি হয়ে গেলাম । ভেবেছিলাম মীম হয়তো আগে থেকেই সেখানে থাকবে কিন্তু উনি একাই ছিলেন ।
আমাকে বিভিন্ন জায়গায় গেলেন । প্রথম প্রথম একটু কেমন কেমন লাগছিল পরে অবশ্য সেটা কেটে গেল । দুপুরের দিকে মীমের হলের সামনে গিয়ে ওকে নিচে আসতে বললাম ।
মীম যখন নিচে আসলো তার বাবাকে দেখে একটু অবাক হল । বিশেষ করে তার বাবা ঢাকায় এসে তার আগে আমার কাছে গেছে এটাই মনে হয় মীমের বিশ্ময়ের কারন ছিল । এটা অবশ্য আমার নিজের কাছেও বিশ্ময়ের কারন ছিল ।
আসলে মেয়েরা বাবাদের কাছে মনে হয় এমনি ভাবেই তাদের মেয়ের জামাইয়েরা গুরুত্বপূর্ন হয়ে ওঠে । তার আদরের মেয়েকে যে মানুষটা দেখে রাখবে সেই মানুষটা বাবাদের কাছে এমনিতেই গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠবে স্বাভাবিক । প্রিয় থেকে একটা ভরশার স্থান হয় । বাবারা কেবল এটাই ভাবে যে তার অবর্তমানে তার মেয়ে কে এই ছেলেটা ঠিকঠিক দেখে রাখবে, মেয়ের বিপদে তাকে আগলে রাখবে, ঠিক যেমন টা এতোদিন বাবারা রেখেছিলেন ।
আমাদেরকে নিয়ে উনি এরপর বসুন্ধরা নিয়েই গেলেন । উনি আগে আগে হাটছিলেন আমি আর মীম পেছন পেছন হাটছিলাম । আমাদের কেবল পেছনে রেখেই উনি নন স্টপ কথা বলেই যাচ্ছিলো । আমরা কেবল দুজন চুপ করে শুনছিলাম । আমার কেন জানি ভালই লাগছিল । মীমের মুখ দেখে অবশ্য কিছু বোঝা যাচ্ছিলো না । মীম মনে হয় একটু দ্বিধায় পরে গিয়েছিল কি করবে ? বাবার সামনে আমার সাথে কি রকম ব্যব হার করা উচিৎ ঠিক মত বুঝতে পারছিলো না ।
খাওয়া দাওয়ার পরে আমাদের দুজনের জন্য কেনাকটা করে দিলেন । শত মানা করা সত্ত্বেও শুনলেন না । আমারও কেন জানি মনে হল আমারো কিছু কিনে দেওয়া উচিৎ । বাড়ির জামাইয়েরা শ্বশুরের জন্য উপহার কিনে নিয়ে যায় তো । যদি সেটা স্বভাবিক পরিস্থিতিতে । কিন্তু তবুও মনে হল কিছু কিনে দেওয়া উচিৎ । একটা পাঞ্জাবী দেখলাম কিন্তু সেটা কেনার মত টাকা পকেটে নেই ।
মীমের কাছে চাইবো ?
একবার মনে হল দরকার নেই । আরেকটু কমের ভেতরে দেখি । পরে মনে হল দেখিই বলে ।
মীমের কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম
-হাজার খানেক টাকা হবে তোমার কাছে ?
একটু বিশ্ময় নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল
-কেন ?
-আব্বার জন্য একটা পাঞ্জাবী দেখেছি । আমার পকেটে এতো টাকা নিয়ে বের হয় নি । তোমার কাছে থাকলে আপাতত ধার দাও । কাল ক্যাম্পাসে দিয়ে দেব ।
মীমের মুখের ভাব টা একটু পরিবর্তিত হতে দেখলাম । তারপর ব্যাগ থেকে একটা নোট বের করে দিয়ে বলল
-ফেরৎ দেওয়া লাগবে না !
আমি যখন মীমের আব্বাকে নিয়ে গেলাম পাঞ্জাবীর কাছে উনি তো কিছুতেই নেবেন না । বারবার বলতে লাগলেন যে তুমি মাত্র পড়াশুনা কর তুমি টাকা পাবে কোথায় ?
এক পর্যায়ে মীম আমাদের কাছে এসে বলল
-আব্বু, নাও ও যখন দিতে চাচ্ছে !
মীমের চেহারার দিকে তাকিয়ে কেন জানি অন্য রকম লাগলো । আনন্দময় অনুভুতি ! মীমের আব্বা খুবই খুশি হলেন । সেই সাথে মীমও নিশ্চয়ই খুশী হয়েছে ।
আমি যখন ক্যাম্পাসে পৌছালাম তখন কেবলই মনে হচ্ছিলো আমি এখনই হার্ট ফেইল করে মারা যাবো । এর আগে এতো লম্বা সময় আমি একটানা দৌড়ানই নাই কোন দিন । আধা মিনিট মুখ হা করে দম নিলাম কেবল । তারপর আবার দৌড়াতে শুরু করলাম ওর ডিপার্টমেন্টের দিকে । তখনও আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে গন্ডগোলের । ওদের ডিপার্মেন্টের সামনে অনেক পুলিশ দাড়িয়ে ছিল । আমাকে দেখেই আটকালো ।
-আপনি এখন ভেতরে যেতে পারবেন না !
-দেখুন আমার স্ত্রী ভেতরে আছে । আমাকে ভেতরে যেতেই হবে !
-আপনার স্ত্রী !
-জি !
পুলিশ সাহবে কিছু সময় আমার দিকে তাকিয়ে রইলো সরু চোখে । কথাটা ঠিক যেন বিশ্বাস হচ্ছিলো না তার ! অনেকেরই অবশ্য বিশ্বাস হবে না, হওয়ার কথাও না । পুলিশের পেছনে দিয়ে ডিপার্টমেন্টের গ্রিলের দিকে তাকিয়ে দেখি সেখানে মীম এসে দাড়িয়ে । আমি হাত দিয়ে মীম কে দেখালাম । পুলিশ দেখে কি যেন ভাবলো তারপর আমাকে ভেতরে যেতে দিল ! আমি যখন বারান্দায় এদে দাড়ালাম তখন মীম এসে বললাম
-তুমি এরকম হাপাচ্ছো কেন ?
আমি কোন কথা না বলে কেবল দম নিতে লাগলাম !
মীম আবার বলল
-শাহবাগ থেকে দৌড়ে এসেছো ?
কিছু বললাম না । হা করে তখনই দম নিচ্ছি ! কয়েক মুহুর্ত পরে মীমের চোখে একটা বিশ্ময় দেখলাম । ও অবাক হয়ে বলল
-তুমি মোহাম্মাদপুর থেকে দৌড়ে এসেছো ?
নীচু স্বরে বললাম
-জ্যাম ছিল রাস্তায় খুব !
তখনই আমি মীমের চোখে কিছু একটা দেখলাম । কি দেখলাম আমি নিজেই জানি না ! ও আমাকে টেনে নিয়ে গেল একটা ক্লাস রুমের ভেতরে । ফ্যানের নিচে বসালো !
-এরকম পাগলামো কেউ করে ! যদি কোন দর্ঘটনা ঘটতো ?
-কি ঘটবে !
-আশ্চর্য ! মানুষ টানা এতো লম্বা সময় দৌড়াতে পারে অভ্যাস না থাকলে !
কপট রাগের চোখে সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । তবে এই রাগটা কেন জানি আমি ঠিক অন্য রাগের সাথে মেলাতে পারলাম না ! এর রাগের সংঙ্গা ভিন্ন !
আরও ঘন্টা খানেক পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে ওকে নিয়ে বের হলাম । হলে পৌছে দিয়েই যখন রিক্সা নিয়ে রওনা দিয়েছি তখন যতবার পেছন ফিরে তাকালাম দেখি ও গেটের কাছেই দাড়িয়ে আছে । কেন জানি ভাল লাগলো । মনে হচ্ছিলো যে কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে । ওর ভেতরেও আমার নিজের ভেতরেও ।
সন্ধ্যার দিকে মীম আবার নিজেই আমাকে ফোন দিল ।
-একটা ঝামেলা হয়ে গেছে !
-কি ?
-ক্যাম্পাসের ঝামের জন্য কর্তৃপক্ষ হল ভ্যাকেন্ট করার নির্দেশ দিয়েছে । নয়টার ভেতরে !
-ও ! আচ্ছা ! সমস্যা নেই তুমি ব্যাগ গুছিয়ে নাও । আমি তোমাকে বাসস্ট্যান্ডে দিয়ে আসতেছি । সমস্যা নেই ।
-এই রাতের বেলা !
-চাইলে আমি তোমার সাথে যেতে পারি !
-আমার পক্ষে এখন ঢাকা ছাড়া সম্ভব না ! তুমি জানো না আমি একটা টিউশনী করি !
-ও ! তাহলে ?
কি বলবো বুঝতে পারলাম না ! নিজের মনের ভেতরে একটা কথা বলার ইচ্ছে করছিলো কিন্তু বলতে সংকোচ হচ্ছিলো ! আমি বললাম
-তোমার না একটা মামার বাসায় কোথায় ? ওখানে দিয়ে আসবো ?
-ওখানে আমি যাই না !
-কোন বন্ধুর বাসা !
-না !
একবার মনে হল বলেই ফেলি ! তারপর মনে হল না থাক দরকার নেই । কোন দরকার নেই কি না কি মনে করে বসবে ! এমনিতেই একটু আশার আলো দেখা যাচ্ছে এর ভেতরে আবার ঝামেলা বাধানোর দরকার নেই ! আরেকবার মনে হল না একটা বার বলেই দেখা যাক না কি হয় !
আমি ক্ষীন কন্ঠে বললাম
-আমি এখানে একাই থাকি ! রুমটা যদিও একটু ছোট তবে দুজনের থাকতে কষ্ট হবে না ! আমার এখানে আসবা ?
ওপাশ থেকে কোন উত্তর এল না ! আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম ।
একবার মনে হল বলে কি ভুলই করলাম ! ও যদি আবার রেগে যায় !!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now