বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Apu Tanvir)
এর আগেও রাতে আমি রিক্সা করে এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছি এবং পাশে একটা মেয়ে তখনও ছিল কিন্তু আজকে কেন জানি অন্য রকম লাগছে । লাগার কথা নয় আবার হয়তো কথাও । মীম অবশ্য কোন কথা বলছে না । অন্য দিকে তাকিয়ে আছে । অন্য দিকে তাকিয়েই বলল
-তোমার আসার দরকার ছিল না ।
-হুম । জানি । দরকার ছিল না ।
-চাইলে এখনও নেমে যেতে পারো ।
-নাহ ! রিক্সাওয়ালা কি ভাববে বল ? ভাববে, ঠিক করলো দুজন বলে এখন যাচ্ছে একজন ।
কিছু সময় মীম কোন কথা বলল না । এরপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-তুমি কি আমাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করছো ?
-তোমার কেন এমন টা মনে হচ্ছে শুনি ?
মীম আবারও অন্য দিকে তাকালো । আমি বললাম
-আচ্ছা আমি তোমাকে কেন ইম্প্রেস করতে যাবো বল ? ছেলেরা কোন মেয়েকে ইম্প্রেস করে ? যাদেরকে সে পটাতে চায় কিংবা যাদের সাথে প্রেম করার একটা ইচ্ছে থাকে কিংবা বিয়ে করার ...... তুমি তো ........
আমি কথাটা শেষ করলাম না । তার আগেই মীম আমার আবারও তাকালো । এবার ওর চোখে এমন কিছু ছিল যে আমি চুপ হয়ে গেলাম । ও এখন দুর্ঘটনাটা ঠিক মত নিতে পারে নি । বুঝা যায় একটা মেয়ের পক্ষে এটা মেনে নেওয়া একটু কষ্টেরই বটে । আমি আর কথা বাড়ালাম না ! বাকি পথ টুকু চুপচাপ রইলাম ।
হলের সামনে গিয়ে মীম নামার আগে বলল
-এতো কেয়ার দেখানোর দরকার নেই । তোমার আর আমার সম্পর্ক কোন দিন সহজ হবে না । তোমাদের পরিবারের সাথেও কোন দিন সহজ সম্পর্ক তৈরি করতে পারবো বলে আমার মনে হয় না ।
-আই আন্ডারস্ট্যান্ড !
-ইউ বেটার বি !
মীম রিক্সা থেকে নেমে গেল । গেটের যেতে ওর আরও দশ সেকেন্ডের মত সময় লাগার কথা । আমি তাকিয়ে রইলাম ওর চলে যাওয়ার দিকে । কেন জানি মনে হচ্ছিলো যে ও একবার হলেও ফিরে তাকাবে আমার দিকে । কিন্তু তাকালো না । কোন প্রকার পেছনে না তাকিয়ে ভেতরে চলে গেল । আমি রিক্সা ঘুরাতে বললাম । কেন জানি মন খারাপ শুরু হল আমার ।
আমি আগেও থেকেই জানতাম মীমের সাথে আমার কোন দিন সহজ একটা সম্পর্ক তৈরি হবে না । সেদিন যখন বাসর ঘরে ঢুকেছিলাম সেদিনই আমার ঠিক ঠিক বুঝতে পেরেছিলাম মীম আমাকে মোটেই মেনে নিতে পারে নি । একটা মেয়ের পক্ষে সেটা মেনে নেওয়া অনেকটাই কষ্টের । আমি নিজেও কি সেরকম অবস্থায় ছিলাম সেদিন ! সারাটা রাত আমি বারান্দা বসে কাটিয়ে দিলাম । তখনও আমার ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না যে আসলেই আমার সাথে যা হল তা সত্যিই হচ্ছে নাকি আমি স্বপ্ন দেখছি । আমার তখনই ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিলো না ।
ভাইয়া পালিয়ে যাওয়ার পরপর বাবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো । সবাই রাস্তার পাশে গাড়ি বহর দাড় করিয়ে চুপ করে দাড়িয়ে রইলো । কি করবে কিছুই বুঝতে পারছিলেন না । শেষে আর না পেরে বাবা মীমের বাবাকে ফোন দিল । এখানে কি ঘটে গেছে সব জানালো । আমরা কোথায় আছি সেটাও বলল !
দেখলাম আধা ঘন্টার ভেতরেই মেয়ের বাপ এসে হাজির । আমার বাবার সাথে উচ্চ স্বরে কি যেন কথা বলতে লাগলো । আমি তখনও ঠিক বুঝতে পারি নি আমার উপর কি বিপদ এসে পড়তে যাচ্ছে । আব্বার সাথে কথা বলতে বলতেই মীমের আব্বা আমার দিকে তাকালো ! তারপর আমার কাছে এসে বলল
-তুমি কোথায় পড় ?
বললাম কোথায় পড়ি !
-কোন ইয়ার ?
তখনই মনে হল এক ইয়ার কমিয়ে বলি । আমার কেন জানি তখনই সন্দেহ হয়ে গিয়েছিল । পরক্ষনেই উড়িয়ে দিলাম । ভাবলাম এমন কখনও হয় নাকি ! সত্যি বলে দিলাম । তিনি আবারও বাবার কাছে চলে গেল । বাবাকে এক পাশে নিয়ে গিয়ে কি যেন বলল । বাবাকে দেখলাম চমকে উঠতে । প্রথমে মাথা এদিক ওদিক করে মানা করার ভঙ্গি করলেও এক সময় দেখলাম ঠিক ঠিক মেনে নিল । দুজনেই আমার কাছে যে বলল আমি তা শুনার পরে মনে আমারও ভাইয়ার সাথে সাথে পালানো দরকার ছিল । অন্তত এই ঝামেলায় পড়তে হত না ।
বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে আমি মাত্রই পড়ালেখা করি, আমি কিভাবে এখন বিয়ে করতে পারি । বাবা বলল
-সমস্যা কোথায় ? বউকে এখনই তোমাকে খাওয়াতে হবে না । সেটা আমি দেখবো !
-আব্বা খাওয়ার ব্যাপার না ?
-তাহলে ? বিয়ে তো করবাই । দু বছর আগে পরে ।
-কিন্তু আব্বা !
-কোন কিন্তু না । তোমার বড় ভাই কি করেছে দেখো নি ! তুমিও সেই পথে যাবে ? তবে একটা কথা মনে রেখো আজকে বউ ছাড়া আমাদের গাড়ি ফিরে যায় তাহলে আমি ভুলে যাবো আমর কোন ছেলে আছে ।
এবার মেয়ের বাবা এগিয়ে এল । আমার বাবা তো আমার কঠিন ভাবে ভয় দেখালো আর মেয়ের বাবা আমাকে ইমোশনালী ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করলো । দুজনের সামনে নিজেকে কেমন অস হায় মনে হল । বারবার ইচ্ছে হল ভাইয়ার মত আমিও পালিয়ে যাই । কিন্তু পালানোর পথ সব বন্ধ !
জীবন স্বাভাবিক হয়ে এল কিছু দিন পরেই । আমার যে বিয়ে হয়েছে এটা বন্ধুদের কাউকে বললাম না । মাঝে মাঝে মীমের সাথে দেখা হয়ে যেত । কোন দিন আমার ডিপার্টমেন্টের সামনে । ওর ডিপার্টমেন্ট টা আমার ডিপার্টমেন্ট পার হয়েই তারপর যাওয়া লাগতো । তাই হয়তো দেখা হত মাঝে । আমি দাড়িয়ে পড়তাম । আশা করতাম যে ও হয়তো দাড়াবো । ও দাড়াতো না ! তবে আগে যেমন মুখ কঠিন করে চলে যেত আস্তে আস্তে সেটা কমে এল । আমি হাসলে ও হাসতো না, দাড়াতোও না । চুপ করে চলে যেত !
আমি প্রায়ই যেতাম ওদের ডিপার্টমেন্টে । ওকে দেখতাম লুকিয়ে । কোন কোন দিন চোখাচোখী হয়ে যেত । আমি এমন একটা ভাব করতাম যে আমার কোন বন্ধুর খোজে এসেছি ।
কি একটা অদ্ভুদ মায়া জন্মানো শুরু করলো মেয়েটার জন্য । মাঝে মাঝে মনে হত মীমের এরকম কিছুই মনে হত না ?
যদি হয় তাহলে কেন প্রকাশ করতো না ?
নাকি ও তেমন কোন কিছু অনুভবই করতো না !
ভাইয়া কদিনের ভেতরেই বিয়ে করে ফেলল সুচি আপুকে । তবে সেই নিষেধাজ্ঞা তখনও বহালই রইলো । আমি আর মীম দুজনকেই যেতে বলেছিল । মীম যায় নি । তবে দ্বিতীয় বারের মত আমি ভাইয়ার বিয়েতে হাজির হলাম । এবার অবশ্য আমার আর ভয়ের কোন কারন ছিল না !
মীম খুব একটা যোগাযোগ করতো না । আমি মাঝে মাঝে ফোন দিলে ও ফোন ধরতো । কথার জবাব দিতো এর বেশি কিছু না । আমার সত্যি সত্যিই মনে হল যে মীমের সাথে আমার আসলেই কোন কিছু হবে না আর । বাদ দেওয়াই ভাল মনে হয় । কিন্তু মন চাইলো না । দুর্ঘটনা হলেও সে তো বউই আমার !
তবে একদিন ১১টার দিকে ফোন এসে হাজির মীমের । আমার সেদিন ক্লাস ছিল না বলে আমি ক্যাম্পাসে যায় নি ! ফোন পেয়ে একটু অবাক হলাম বটে । একটু খুশিও ।
-হ্যা ! বল !
-তুমি কোথায় ? ক্যাম্পাসে আসো নি ?
-নাহ ! ক্লাস নাই তো আজকে ।
মীমের কন্ঠ কেমন যেন একটু অন্য রকম লাগলো । ও কি ভয় পেয়েছে কোন করনে ? কোন সমস্যা হয়েছে !
আমি বললাম
-কি হয়েছে ?
-না কিছু না !
-আমাকে বল কি হয়েছে ? বল আমাকে ? কী হয়েছে ?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now