বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্বিতীয় বাসর রাত (১)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরাফাত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X (Apu Tanvir) বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে আমার কোন কালেই ভাল লাগতো না । আজ পর্যন্ত যত বিয়ের দাওয়াত এসেছে আমি সব কয়টা এড়িয়ে গেছি । এমন কি ঘনিষ্ঠ কারোর বিয়ে হলেও না । মাঝে মাঝে মনে হত নিজের বিয়েতেও হয়তো আমাকে কেউ নিয়ে যেতে পারবে না । মানুষ জনের ভীড় আমার কেন জানি একদম ভাল লাগে না । কিন্তু নিজের আপন বড় ভাইয়ের বিয়েতে না যাওয়া কোন ভাবেই ভাল কিছু দেখায় না । তার উপর বাবার চোখ রাঙ্গানি তো আছেই । একটু যেন তাড়াহুড়া করেই ভাইয়ার বিয়ে হচ্ছে । ভাইয়া সবে মাত্র চাকরী পেয়েছে । এখনও বছরও পার হয় নাই । এতো জলদি ভাইয়ার বিয়ে না দিলেও পারতো আব্বা । কিন্তু আব্বার কথার উপর কথা কে বলবে ? তিনি যা একবার ভেবে বসবেন তাই হবে । আমরা খুব বেশি জানিও না ভাইয়ার বিয়ে কোথায় হচ্ছে । বাবার পছন্দ নাকি । বেশ ভাল জাগায় । প্রভাব প্রতিপত্তি আছে । তাড়াহুড়া করে আমাকে আর ভাইয়াকে ডেকে আনা হয়েছে ঢাকা থেকে । ভাইয়াকে নিয়েই মেয়ে দেখতে গিয়েছিল । সেদিনই বিয়ের তারিখ ঠিক করে এসেছে আব্বা । আমি অবশ্য আমার পরীক্ষা বলে কাটাতে চেয়েছিলাম, পরে মনে হল থাক কি আর হবে । কুরবানী তো ভাইয়া হচ্ছে আমি না হয় দুর থেকেই দেখলাম ! তা ছাড়া তার দুঃসময়ে যদি আমার তার ভাইয়ের পাশে না থাকি তাহলে আর কে থাকবে । ভাইয়ার বিয়ের জন্য আব্বা মোট ১১ টা মাইক্র ভাড়া করেছে । আর একটা কার গাড়ি ! কার গাড়িটা বরের জন্য । মানে বরের গাড়ি হিসাবে সাজনো হয়েছে । সবার আগে আমাদের কার গাড়িটা চলা শুরু করলো । আর পরপর বাকী গুলো । একটু অবাক হয়ে দেখলাম আমাদের গাড়িতে আমি আর ভাইয়া ছাড়া আর কেউ নেই । অন্য কেউ উঠতে চেয়েছিল কিন্তু ভাইয়া কেন জানি তাদের কে উঠতে দেয় নি । এমন কি ভাইয়ার বন্ধুরা রয়েছে অন্য গাড়িতে । কেউ অবশ্য মানা করে নি । কেন দেয় নি আমার অবশ্য জানি না । আমাদের গাড়িটা বেশ দ্রুতই চলছে । ভাইয়া বিরষ মুখে অনেকটা সময় ধরেই বসে রয়েছে আমার পাশে ! আমি ভাইয়াকে চিল করার জন্য বললাম -ভাইয়া মেয়ে কি সুন্দর না ? আমি তো ছবি দেখেছি ! বেশ ভাল ! চিল ! ভাইয়া আমার কথায় খুব একটা কান দিল না ! অন্য দিকে তাকিয়ে রইলো । -আরে ভাই । সবই তো বিয়ে করে । করতে হয় । সমস্যা কি ! -তুই কর ! -আরে আমিও তো করবো ! তবে সময় আসুক ! আমি তো কেবল ..... -মনে হচ্ছে আমি খুব বড় হয়ে গেছি ? তুই জানিস আমি এখানে কবুল বলবো আর ঐ দিকে সুচি বলেছে ও ১০ তলা থেকে ঝাপ দিবে ! আমি বললাম -সুচিটা কে ? -আমার কলিগ ! এক সাথেই পড়তাম । এখন এক সাথে চাকরি করি । -আব্বা কে বলতা ! -আব্বা শুনতো মনে হয় তোর ? -তা অবশ্য ঠিক । কি আর করা । বেটার লাক নেক্সট টাইম ! -লাক মাই ফুট ! আমি এই বিয়ে করবো না ! আমার কেন জানি ভাইয়ার জন্য একটু মায়া হল । কিন্তু মায়া হলেও কিছু করা রনেই ! এখানে আমার কিছুই করারও নেই । আব্বার উপরে কথা বলবো এতো বড় সাহস আমার বড় ভাইয়েরই হয় নাই, আমার কিভাবে হবে ? জানি কিছুই হবে না । ভাইয়া কিছুটা গাই গুই করবে তারপর চুপ হয়ে যাবে । আসলেই এই জন্যই মনে হয় গাড়িতে আর কাউকে উঠতে দেয় নাই । আমার সাথে যেন একটু সুখ দুঃখের কথা বলতে পারে । আমি একটু পরেই লক্ষ্য করলাম যে আমাদের গাড়ি বেশ আগে চলে এসেছে । বেশ দ্রুতই চলছে । আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম আমাদের পেছনের কোন গাড়িই দেখা যাচ্ছে না । ভাইয়াও আমার দেখা দেখি পেছনে তাকালো । যখনই দেখলো পেছনে কেউ নেই তখনই ড্রাইভার কে বলল গাড়ি থামাতে । আমি বললাম -থামানোর কি দরকার ? স্লো করুক ! -চুপ থাক ! বেশি বুঝবি না ! গাড়ি থামাতে না থামাতেই ভাইয়ে বের হয়ে গেল । রাস্তা থেকে নেম গেল নিচে ! ভাবলাম হয়তো ভাইয়ার হয়তো বাধরুম চেপেছে । কিন্তু পরক্ষনেই আমার ভুল ভেঙ্গে গেল । আসলে ভাইয়া রাস্তা থেকে নামছে বাধরুম করার জন্য না । পালানোর জন্য । পালিয়ে যাবে !! এতো দিন জানতাম মেয়েরা বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যায় এখন দেখছি ভাইয়া বিয়ের আসর থেকে ...... না ঠিক বিয়ের আসর না বিয়ে গাড়ি বহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছে । খাইছে আমারে ....। -ভাইয়া ! শুনো ভাইয়া ...... কিন্তু কে শোনে কার কথা । আমার চোখের সমানেই ভাইয়া গাছ পালার ভেতরে আড়াল হয়ে গেল । আমি কেবল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম । আমার তখনই মনে হল খাইছে এখন কি হবে ? আমার আব্বা যান তো ভাইয়া একদম খুন করে ফেলবে । সাথে আমারও খবর আছে ! আমিও কি পালাবো ভাইয়ার পিছু পিছু ? না থাক ! আমি দাড়িয়ে থাকি ! আব্বার মাথা নিশ্চয় খারাপ হয়ে যাবে ! অবস্থা বেগতিক দেখলো তখন দৌড় মারা যাবে । ৫ মিনিটের ভেতরেই গাড়ি বহর দেখা গেল ! আমি দুরু দুরু মন দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম ! অনেক দিন আব্বার রাগের সামনে পড়তে হয় নি । এখন হবে । নাহ ! পরীক্ষার অযুহাত দিয়ে না আসলেই ভাল হত । এই ঝামেলার ভেতরে পড়তে হত না ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্বিতীয় বাসর রাত (১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now