বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দায়িত্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আবির রায়হান অভ্র (০ পয়েন্ট)

X রাতের বেলা ঘুমের ঘোরে রোজার হাতটা ধরার সাথে সাথে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ইশ ওর হাতটা কত শক্ত হয়ে গেছে। সারাদিন সংসারের কাজ করতে করতে ওর তুলার মত নরম হাতটার এই অবস্থা। যে মেয়েটা বাবা মায়ের সাথে থাকা অবস্থায় কখনো রান্নাঘরে আসতো না সেই মেয়েটাই আজ আমার পুরো সংসার একা সামলায়। " আবির আর কত ঘুমাবে? অফিসে লেট হয়ে যাচ্ছে তো।" রোজার ডাকে ঘুম থেকে উঠলাম। সত্যি সময় মানুষকে বদলে দেয়। রোজা আর আমার বিয়ের প্রথম কয়েকমাস আমার ঘুম ভাঙ্গতো রোজার চুলের পানির ঝাপটায়। আর আমিও সেই পানির ঝাপটা খাওয়ার জন্য ঘুমের ভান ধরে শুয়ে থাকতাম। আর আজ ঘুম থেকে উঠে নাস্তা শেষে সোজা অফিস। অফিস থেকে বাসায় ফেরা, তারপর ঘুম থেকে উঠে আবারো অফিসে যাওয়া। সত্যিই রোজাকে একটুও সময় দেয়া হয়ে উঠে না। ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। হঠাৎ মনটা কেমন যেন করে উঠলো। কি মনে করে আবার ঘরে ঢুকে সোজা রান্নাঘরে চলে গেলাম। রোজা তখন সবজি কাটায় ব্যস্ত। " রোজা একটু এদিকে আসো তো।" আমার কথা শুনে মুখে হালকা একটু বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠলো। তারপরও সে উঠে এলো। " কিছু রেখে গেছো নাকি? " রোজার চুলগুলো ওর কপালটা ঢেকে রেখেছো। কতদিন হলো ভালবেসে ওর কপালে চুমু খাওয়া হয় না। ওর চুলগুলো সরিয়ে আলতো করে কপালে একটা চুমু এঁকে দিলাম। রোজা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। " আমি গেলাম অফিসে।" তখনও রোজা আমার দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিল সে। আমিও অনেক অবাক হয়েছি। এভাবে চুমু দেওয়ার অনুভূতি কেমন হয় তা ভুলেই গিয়েছিলাম। আজ আবার মনে পড়ে গেল। সারাদিন অনেক পরিশ্রমের পর বাসায় ফিরে এলাম। আজ ফিরতে একটু রাত হয়ে গেছে। আগে ফিরতে দেরী হলে রোজা অভিমান করে নাক ফুলিয়ে রাখতো। এখন অনেক রাত করে ফিরলেও রোজা কিছু বলে না। সংসার চালাতে হলে মেয়েদের অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। অনেক আবেগ ভূলে যেতে হয়। অনেক অানন্দ বিসর্জন দিতে হয়। হ্যা রোজা এসবই শিখে গেছে। তাই সে এখন আর দেরী করে আসলেও আমায় কিছু বলে না। আর অভিমান করে নাক মুখ ফুলিয়ে রাখে না। আর আমাকেও কষ্ট করে তার অভিমান ভাঙ্গাতে হয় না। " রোজা বাবা মা খেয়েছে? " মাথা নেড়ে রোজা হ্যা বললো। আমি আর কিছু জীজ্ঞেস না করে খাওয়া শুরু করলাম। রোজা বিষন্ন মুখে তাকিয়ে আছে ঘড়ির দিকে। হঠাৎ নিজেকে অনেক বড় অপরাধী বলে মনে হচ্ছে। আচ্ছা আমি কি রোজার ভালবাসার অধিকার কেড়ে নিচ্ছি না? " রোজা তুমি খেয়েছো? " "তুমি খেয়ে উঠো,তারপর খাবো।" রাত প্রায় বারোটা বাজতে চলেছে। ও এখনো খায়নি। একগ্রাস ভাত নিয়ে রোজাকে বললাম, " নাও হা করো! " " এই কি করো? " " কথা না বলে হা করো। " রোজাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছি। অনেকদিন পর রোজা আমার হাতে ভাত খাচ্ছে। আগে মাঝে মাঝেই রোজাকে খাইয়ে দিতাম। এখন এসব অনুভূতি জাগে না এই কর্মব্যস্ত মনে। সত্যি বলতে সব অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে। যে মেয়েটা তার বাবা মায়ের ঘর ছেড়ে আমার কাছে চলে এসেছে তার প্রতি আমার কোন খেয়াল নেই। তাকে ভালবাসতে ভুলে গেছি, তাকে আদর করতে ভুলে। ভুলে গেছি তারসাথে ছাদে বসে জোস্না দেখতে। খাওয়ার সময় রোজা কাঁদছিলো। ওর কান্নার কারণ আমি বুঝি। ভালবাসার অভাবে রোজার বুকটা খা খা করছিল। আজ হয়তো ও একটুখানি ভালবাসার পরশ পেয়েছে। যা ওর চাহিদার তুলনায় সামান্য। খাওয়া শেষে রোজা চলে গেল থালাবাসন পরিষ্কার করতে। আমি অতিসাবধানে নেমে এলাম রাস্তায়। যদি কোন দোকান খোলা থাকে! একটু দূরেই দোকানটা আধখোলা দেখা যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি সেখানে গিয়ে একবাটি অাইসক্রীম নিয়ে এলাম। পাগলীটা অাইসক্রীম বড় ভালবাসে। আমাকে আইসক্রীমের বাটি হাতে নিয়ে ঢুকতে দেখে রোজা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। ওর শাড়ি এখনো ওর কোমরে গোঁজা। " রোজা চলো ছাদে যাই। আজ অনেক বড় একটা চাঁদ উঠেছে আকাশে।" রোজার হাত ধরে ছাদে চলে এলাম। ইচ্ছা ছিল কোলে তুলে ছাদে নিয়ে যাবো। কিন্তু রোজা আগের থেকে একটু মোটা হয়ে গেছে। তাই আর সাহস হলো না। " আবির আজ হঠাৎ এসব কেন করছো? " চাঁদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষন। রোজার দিকে একবার তাকিয়ে ওর কপালে একটা চুমু দিয়ে আবারো চাঁদের দিকে তাকালাম। ওর প্রশ্নের উত্তর জানা নেই আমার। তবে এতটুকু বলতে পারি যে আমরা সময়ের চাকা ঘোরার সাথে সাথে একটা কথা ভুলে যাই। তা হচ্ছে একজন নারী যে কিনা তার ছোটবেলার সবকিছু ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসে। প্রথম প্রথম তার প্রতি আমরা চরম ভালবাসা দেখালেও ধীরে ধীরে সে ভালবাসা ফিকে হয়ে যায়। তখন আমরা আমাদের ব্যস্ততা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমাদের একবারো মনে পড়ে না সেই নারীর কথা যে আমাদের ঘর সামলাচ্ছে, নিজে না খেয়ে অনেকরাত পর্যন্ত আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সেই নারীকে ভালবাসুন, তাকে সময় দিন। তাকে ভালবাসা শুধু আপনার আমার অধিকার নয়, এটা আপনার আমার দ্বায়ীত্ব। .. লেখক : আবির রায়হান অভ্র


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিঃশব্দ দায়িত্ব
→ সন্তানকে চরিত্রবান করে গড়ে তোলা বাবার দায়িত্ব
→ দায়িত্ব
→ দায়িত্ব
→ "দায়িত্ব"
→ দায়িত্ব
→ ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য
→ ছেলের দায়িত্ব
→ দায়িত্ব
→ মা বাবার দায়িত্ব কী?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now