বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দৃষ্টির রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X শহরের ব্যস্ততম মোড়ের সেই বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটি যেন এক জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড, বসন্তের শেষলগ্নেও যার শাখা-প্রশাখা লালে লাল হয়ে আছে। প্রকৃতির প্রতিটি অণু, পরমাণু যেন এই সৌন্দর্যের ভাষা বোঝে। তাই তো চড়ুইয়ের কিচিরমিচির কিংবা মৌমাছির গুঞ্জন ছাপিয়ে বাতাসের আলতো স্পর্শও গাছটিকে ছুঁয়ে যায় পরম মমতায়, যেন একটি পাপড়িও অকালে ঝরে না পড়ে। প্রকৃতির এই নিঃশব্দ বোঝাপড়ার ঠিক নিচেই দাঁড়িয়ে ছিল তাহমিদ, যার হাতে ধরা ধুলোবালি মাখা এক পুরনো ডায়েরি। সে দেখল, অনুভব করল, যান্ত্রিক এই নগরের হাজারো মানুষ এক অদ্ভুত অন্ধত্বের ঘোরে পথ পাড়ি দিচ্ছে। কারো কানে কৃত্রিম সুরের হেডফোন, কারো চোখে অন্ধকার ঢাকা দামি চশমা, আর অধিকাংশেরই দৃষ্টি বদ্ধ হাতের এক স্মার্টফোনের পর্দায়। তারা সময়ের নিখুঁত অংক বোঝে, ট্রাফিক সিগন্যালের লাল সবুজ সংকেত বোঝে, ব্যাকরণের কঠিন বাগধারা কিন্তু পাশের মানুষটির চোখের গহীনে জমে থাকা হাহাকারটুকু পড়ার মতো ইচ্ছা বা বোধ কোনোটিই তাদের নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাহমিদের দৃষ্টি থমকে গেল গাছের গোড়ায় জড়সড় হয়ে বসে থাকা এক বৃদ্ধের ওপর। গত তিনদিন ধরে একই মলিন বসনে বসে থাকা মানুষটির গালের চামড়ায় অশ্রু শুকিয়ে যাওয়া দাগ স্পষ্ট হয়ে আছে। অথচ পথচারীরা সেই বিষাদমাখা দাগটি দেখছে না। তারা কেবল দেখছে বৃদ্ধের সামনের শূন্য থালাটির শূন্য গর্ভ। মানুষ বাহ্যিক শূন্যতা দেখতে পায়, কিন্তু আত্মার ভেতরের সেই দীর্ঘশ্বাস আর অপার্থিব কষ্টগুলো দেখার মতো স্বচ্ছ দৃষ্টি তারা হারিয়ে ফেলেছে। প্রকৃতি যেখানে জানে কখন ছায়া দিতে হবে কিংবা মেঘ জানে কখন তৃষ্ণার্ত ধরণীর জন্য ঝরতে হবে, সেখানে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ আজ সবচেয়ে বড় দৃষ্টিহীন। তারা ভিড়ের মাঝে কেবল নিজের প্রতিচ্ছবিই খোঁজে, কিন্তু অন্যের ব্যথার দর্পণে নিজেকে দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এই অসুস্থ তীব্রতা তাহমিদের ভাবনার জগতকে ওলোটপালোট করে দিল। সে তার ডায়েরির সাদা পাতায় কলম ছুঁইয়ে লিখল, "এই দুনিয়ার সবাই সব কিছু দেখে, শুধু মানুষই দেখে না। তারা আকাশ দেখে, পাহাড় দেখে, কিন্তু মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস দেখে না।" তার মনে হলো, অন্ধত্বের প্রতিবাদ করার চেয়ে অন্ধত্ব থেকে বেরিয়ে আসাই বড় সার্থকতা। আজ সে অন্তত এই যান্ত্রিক ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেবে না। পকেট থেকে বিস্কুটের প্যাকেটটি বের করে যখন সে বৃদ্ধের দিকে বাড়িয়ে দিল, তখন বৃদ্ধের শুষ্ক ঠোঁটের কোণে এক মুঠো হাসি ফুটে উঠল। সেই হাসির আভা দেখে তাহমিদ প্রথমবার জীবনের পরম সত্যটি উপলব্ধি করল। এই পৃথিবীতে কেবল দুচোখ মেলে দেখার চেয়ে হৃদয় দিয়ে অনুভব করা আর অন্যকে বোঝাটা অনেক বেশি জরুরি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দৃষ্টির রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now