বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মহাবিশ্ব জন্মের অর্ধ মিলিয়ন বা পাঁচ লাখ বছর পরের সময়টার কথা একটুখানি ভেবে দেখা যাক। ১৪ বিলিয়ন বছরের হিসেবে বলতে গেলে, একবার চোখের পলক ফেলতে যে সময় লাগে, মহাবিশ্ব কেবল সেটুকু সময় পেরিয়ে এসেছে। সে সময়ের মহাবিশ্বে যে পদার্থরা ছিল, তারা কেবল বুদবুদের মতো জমাট বাঁধতে শুরু করেছে। সময়ের হাত ধরে এই বুদবুদগুলো একসময় ছায়াপথ, ক্লাস্টার এবং সুপারক্লাস্টারে পরিণত হবে। কিন্তু পরবর্তী অর্ধ মিলিয়ন বছরের মধ্যে মহাবিশ্বের আকার বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে, এবং প্রতি মুহুর্তে সেটি বাড়তেই থাকবে। এর মানে, সে সময়ের মহাবিশ্বে দুটি শক্তির মাঝে এক বিচিত্র যুদ্ধ চলছে: একদিকে মহাকর্ষ সবকিছুকে টেনে জমাট বাঁধিয়ে ফেলতে চাচ্ছে, অন্যদিকে বিস্ফোরণ পরবর্তী শক্তির টানে প্রতিমুহুর্তে বেড়ে চলা মহাবিশ্ব চাইছে সবকিছু আরো দূরে সরে যাক, আরো দূরে।
একটুখানি গাণিতিক হিসেব নিকেশ কষলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, সাধারণ পদার্থের ভর থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষ একা এই যুদ্ধ কোনোভাবেই জিততে পারতো না। জেতার জন্য সাহায্য চাই, ডার্ক ম্যাটারের সাহায্য। এবং সে সময় ডার্ক ম্যাটারের সাহায্য না পেলে আমরা এমন এক মহাবিশ্ব পেতাম, যে মহাবিশ্বে কোনো অবকাঠামো বা স্ট্রাকচারের অস্তিত্ব থাকতো না। আসলে ‘আমরা পেতাম’ না, আমাদেরই তো কোনো অস্তিত্ব থাকত না! কাজেই, সে মহাবিশ্বে থাকত না কোনো ক্লাস্টার কিংবা গ্যালাক্সি, গ্রহ-নক্ষত্র কিংবা মানুষ- কিচ্ছু থাকতো না।
সাধারণ পদার্থ থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষের তাহলে ডার্ক ম্যাটারের কাছ থেকে কতটুকু মহাকর্ষ সাহায্য হিসেবে দরকার পড়েছিল? সাধারণ পদার্থ থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষের ছ'গুণ!
মনে আছে, আমরা আগেই হিসেব করে দেখেছিলাম, বর্তমান মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটার থেকে ঠিক এই পরিমাণ মহাকর্ষই পাওয়া যায়? এটা মোটেও কাকতালীয় ঘটনা নয়। হ্যাঁ, এই বিশ্লেষণ থেকে ডার্ক ম্যাটার আসলে কী, সেটা জানা যায় না। কিন্তু ডার্ক ম্যাটারের প্রভাব যে একশত ভাগ বাস্তব, সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়। কারণ, যতভাবেই চেষ্টা করেন না কেন, সে সময়ের ঐ যুদ্ধে জেতার কৃতিত্ব আপনি সাধারণ পদার্থকে দিতে পারবেন না।
‘ডার্ক ম্যাটার’ কথাটার বাংলা হলো 'গুপ্তবস্তু'। এ থেকে ব্যাপারটি আরো ভালোভাবে অনুভব করা যায়। আমরা জানি না, জিনিসটা কী, সেটা কেমন কিংবা কীভাবে কাজ করে, কিন্তু লুকিয়ে থাকা একটা কিছু অবশ্যই আছে। ভবিষ্যতে সেটার ধরন বা বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার হতে পারে, হয়তো জানা যেতে পারে জিনিসটি আদৌ পদার্থ বা ম্যাটার না (যদিও, এই গুপ্তবস্তু মহাকর্ষ সৃষ্টি করে। এবং বিজ্ঞানের যেকোনো শিক্ষার্থীই জানে, মহাকর্ষ সৃষ্টি হয় ভরের জন্য)। কিন্তু, সেটা যা-ই হোক, এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত যে, একটা কিছু অবশ্যই আছে। যেহেতু জিনিসটি লুকিয়ে আছে, এখনো ধরা দেয়নি, কাজেই তার নাম দেয়া হয়েছে গুপ্তবস্তু বা ডার্ক ম্যাটার (চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now