বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডার্কম্যাটার 2

"বিজ্ঞান " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Siam 2.0 (০ পয়েন্ট)

X এই সমস্যার সমাধান তখন বের করা সম্ভব হয়নি। এদিকে জুইকির কাজের পর অন্যান্য যেসব ক্লাস্টার আবিষ্কৃত হয়েছে, দেখা গেলো এদের মাঝেও একই জিনিসই ঘটছে। কাজেই কোমা ক্লাস্টারকে যে অদ্ভুত কিছু বলে দায়ী করে ঘটনার ইতি টানা যাবে, সে উপায়ও নেই। ঝামেলাটা তাহলে কোথায়? মহাকর্ষ তত্ত্ব কি আমাদেরকে ভুল হিসেব দিচ্ছে? কিন্তু আমাদের সৌরজগতের ভেতরে তো এই তত্ত্ব ঠিকভাবেই কাজ করছে! নিউটনের মহাকর্ষেরই পরিমার্জিত রূপ হলো আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব। বিশাল ভরের বস্তুদের জন্য এই তত্ত্ব ব্যবহার করে মহাকর্ষের কাজকর্ম ব্যাখ্যা করা যায়। সমস্যা হলো, ক্লাস্টারগুলোর প্রবল মহাকর্ষ এখনও এত বিশাল পরিমাণে গিয়ে পৌঁছায়নি, যে পরিমাণ মহাকর্ষ বলের জন্য আইনস্টাইনের তত্ত্বকে ঠিকভাবে প্রয়োগ করে পরীক্ষা করে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা একটি সম্ভাবনার কথা ভেবে নিলেন। হয়তো কোমা ক্লাস্টারের গ্যালাক্সিগুলোকে বেঁধে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ‘অধরা ভর’- এর আসলেই অস্তিত্ব আছে। এরা এমনভাবে আছে, যা শনাক্ত করার মতো প্রযুক্তি আমাদের কাছে নেই। হয়ত এজন্যই এরা এখনও আমাদের কাছে অদৃশ্য। এদের নাম দেয়া হল ‘ডার্ক ম্যাটার’। এই কথাটি দিয়ে বোঝানো হয়, ক্লাস্টারগুলোতে আসলে ভরের কোনো ঘাটতি নেই, বরং এমন কোনো এক পদার্থের অস্তিত্ত্ব অবশ্যই আছে, যাদেরকে আমরা এখনো আবিষ্কার করতে পারিনি। ততদিনে বিজ্ঞানীরা ক্লাস্টারের ভেতরে ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ত্বের কথা মোটামুটি মেনে নিয়েছেন। কারণ, হিসেব নিকেশ বলছে- জিনিসটি যা-ই হোক, কিছু একটা অবশ্যই আছে এখানে। ঠিক এরকম সময় নতুন করে সমস্যাটা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। ১৯৭৬ সালে বিজ্ঞানী ভেরা রুবিন ছায়াপথগুলোর ভেতরেও একইরকম ভরের গড়মিল আবিষ্কার করলেন। ছায়াপথের মধ্যে নক্ষত্ররা যে বেগে ছায়াপথের কেন্দ্রকে ঘিরে নিজের কক্ষপথ ধরে ছুটে চলে, সেই হিসেবে যে নক্ষত্র কেন্দ্র থেকে যতদূরে, তার বেগও তত বেশি হওয়ার কথা। কারণ, যে নক্ষত্র কেন্দ্র থেকে যত দূরে, তাদের মাঝখানে মহাকর্ষীয় বলের টানকে বাধা দেয়ার মতো পদার্থ (অন্যান্য নক্ষত্র এবং গ্যাসমেঘ) তত বেশি থাকে, ফলে তারা দ্রুত বেগে ছুটতে পারে। গ্যালাক্সির উজ্জ্বল ডিস্কের বাইরেও অল্প কিছু বিচ্ছিন্ন গ্যাসমেঘ এবং উজ্জ্বল নক্ষত্র খুঁজে পাওয়া যায়। এদেরকে ট্রেসার হিসেবে ব্যবহার করে গ্যালাক্সির উজ্জ্বল অংশের বাইরের বেশিরভাগ এলাকার মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র পরিমাপ করে ফেলা যায়, যেসব এলাকায় গ্যালাক্সির মোট ভরের সাথে যোগ করার মতো আর কোনো দৃশ্যমান ভরের বস্তুকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তো, এই দূরের নক্ষত্ররা যেহেতু দিন দিন তাদের গতিশক্তি ব্যবহার করে কেন্দ্র থেকে আরো দূরে সরে যাচ্ছে, এতদিনে তাদের ‘কেন্দ্রমুখী বেগ’ কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু রুবিন দেখলেন, এদের কেন্দ্রমুখী বেগ এখনও আগের মতোই প্রবল। মহাশূন্যের এই বিশাল খালি অংশটুকুতে- প্রতিটি গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক দূরের সীমানাবর্তী এই অঞ্চলগুলোতে বলতে গেলে তেমন কোনো দৃশ্যমান ভরের বস্তুই নেই, যার জন্য এই ট্রেসার নক্ষত্রদের কক্ষীয় বেগ এত বেশি হতে পারে। কাজেই, যৌক্তিকভাবেই রুবিন সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন, গ্যালাক্সির দৃশ্যমান অঞ্চল যেখানে শেষ, তারপর থেকে শুরু হওয়া সীমানাবর্তী অঞ্চলগুলোতে নিশ্চয়ই কোনো ধরনের ডার্ক ম্যাটার আছে। রুবিনের কাজের বদৌলতে আমরা এখন প্রতিটি গ্যালাক্সির এই অঞ্চলগুলোকে বলি 'ডার্ক ম্যাটার হ্যালোস'। বাতির নিচে অন্ধকারের মতো এই হ্যালো বা চক্র সমস্যা আমাদের নাকের একেবারে নিচে, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতেও দেখা যায়। ছায়াপথ বলি, কিংবা ক্লাস্টার— দৃশ্যমান বস্তু থেকে হিসেব করে পাওয়া ভর আর বিদ্যমান মহাকর্ষ বলের জন্যে প্রয়োজনীয় ভরের পরিমাণের পার্থক্য কয়েকগুণ থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শত শতগুণও হয়। স্থানকাল ভেদে এই পরিমাণ একেক ক্ষেত্রে একেকরকম হয়, তবে পুরো মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে বিবেচনা করলে গড় হিসেবে এই পার্থক্য হয় ৬ গুণের মতো। অর্থাৎ, মহাকাশে লুকিয়ে থাকা ডার্ক ম্যাটারের জন্য সৃষ্ট মহাকর্ষ বলের পরিমাণ আমাদের কাছে দৃশ্যমান বস্তুর জন্য সৃষ্ট মহাকর্ষ থেকে ছয় গুণ বেশি। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডার্কম্যাটার ৪ (শেষ)
→ ডার্কম্যাটার ৩
→ ডার্কম্যাটার 2
→ ডার্কম্যাটার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now