বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ডান বাম বিভ্রাট!
-----------
জিকুর বিয়ের পরের দিনের ঘটনা, নিতু বাবার বাড়ি ফিরে এসেই সমবয়সী চাচাতো বোন মহুয়াকে ধরে কান্না জুড়ে দিল! মহুয়া কান্নার কারন জানতে চাইতেই নিতু দরজা বন্ধ করে আসতে বলে।
- দরজা বন্ধ করে আসলাম এবার বল, কী সমস্যা? কাঁদছিস কেন?
- কাঁদবোনা! তুই হলে হাসতি নাকি?
- আরে আগে বলবি তো ব্যপারটা কী!
- জিকুর ডান কানের নিচের অংশে একটা তিল আছে!
- তাতে কী! এটাতো ভাল লক্ষন, শুনেছি যেসব ছেলের কানের নিচে তিল থাকে তাঁরা বউকে ভালবাসে বেশি!
- আরে সমস্যা কী সেখানে! সমস্যা অন্যখানে।
- তো বল।
- আমি যখন তাকে বলি, কানের নিচের তিল থাকায় তোমার কানটা অনেক কিউট লাগছে! ইচ্ছে করছে টেনে দিই। সে বলে তুমি শুধু ডান কানের টা দেখলে এই যে দেখো বাম কানের নিচেও একটা আছে। একটু ছোট তাই তোমার নজরে পড়েনি।
এটা শুনে মহুয়া, নিতু..... বলে চিৎকার করে নিতুকে জড়িয়ে ধরে বলে তুইতো সোনায় সোহাগা! আমি শুনেছি যে ছেলের দুই কানে তিল থাকে তাঁরা বউ ভক্ত হয় অনেক।
- আরে ধুর! সমস্যা অন্যখানে।
- আমি বুঝছিনা বউ ভক্ত স্বামী পেয়েও আর কী সমস্যা তোর! আজব।
- মনে আছে আমাকে যেদিন আংটি পরাতে এসেছিল জিকুর ডান গালে একটা ব্রন ছিল।
- মনে আছে, তুই ও না! ব্রন কী তোর উঠেনি!
- কাল দেখেছিস তাঁর বাম গালেও একটা ব্রন উঠেছে!
- আরে এসব চলে যাবে, দাগ থাকে কিছুদিন। এরপর নিজে নিজেই উঠে যাবে। আর না উঠলে তোর তো স্পট ক্রিম ট্রিম আছে ওগুলো লাগিয়ে দিবি। দেখবি দাগ পালিয়েছে।
- আরে দাগ নিয়ে কে টেনশন করছে! টেনশন তো অন্য জায়গায়।
তুই জানিস ছোটবেলায় ওর ডান হাতের একটা আঙ্গুল কেটেছিল, ঠিক তিনমাস পর বাম হাতেরও একই আঙ্গুল কাটে!
- ধুর, ছোটবেলায় এরকম বেখেয়ালি ভাবে অনেক কিছুই হয়। তুই ও তো উষ্টা খেয়ে নখ তুলে ফেলেছিলি, মনে আছে। এসব কাটা ফাটা কিছু না, টেনশন নিসনা।
- কেন টেনশন করবনা, এত কিছু বলার পরও তুই সমস্যা খুঁজে পাসনি?
- না, এসবে টেনশনের কিছুই তো পেলাম না! বোকামি ছাড়া।
- তুই কিভাবে পাবি, আমি নিজেও তো পাইনি। পরে সে নিজেই আমাকে বলে হেসে হেসে, তাঁর নাকি ছোটকাল থেকেই ডান বাম বিভ্রাট আছে। ডানপাশে যা হয় কাকতালীয় ভাবে কিছুদিনের মধ্যে বাম পাশেও একই ব্যাপার ঘটে।
বলা যায় তাঁর জীবন টা ডান বামের বিভ্রাটে ভরা। তার ডান পাশে যা আছে যা হয়েছে, বাম পাশেও তা হয়, হয়ে আসছে।
আর তুইতো জানিস আমাদের গ্রাম তাদের ডান পাশের গ্রাম। এখন যদি ও কিছুদিন পর বাম পাশের গ্রামে আরেকটা বিয়ে.......
হুহুহু করে কেঁদে উঠে, থামেনা কান্না।
এমন সময় জিকুর ফোন আসে, কান্নামাখা কন্ঠে রিসিভ করে নিতু।
- নিতু শোন, আগামী সপ্তাহে আমাদের একটা দাওয়াত আছে। কাছেই, আমার আব্বার বন্ধুর বাড়িতে, আমাদের বাম পাশের গ্রামেই।
তুমি চিনবে ওইযে গায়ে হলুদে যে মেয়েটা তোমাকে ভাবী ভাবী বলে দুস্টামি করেছিল,তোমাকে যে বলেছিল ভাবী আপনি ড্যাসিং একটা জামাই পেয়েছেন, এমন জামাই পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার! ইসস! আমি যদি এমন একটা জামাই পাই তবে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করবো! মনে পড়েছে? সেই সিনথিয়াদের বাড়ি।
- না, আমি যাবনা, আর তুমিও না। বামপাশের গ্রামের দিকে আর কোনদিনও পা বাড়াবেনা বলে দিলাম। হুহুহু....
লাইন কেটে দেয় নিতু, জিকু খুঁজে ফিরে ডান বামের বিভ্রাট...
আর মহুয়া হাসতে হাসতে বেরিয়ে যায় দরজা খুলে, যাবার সময় শুধু বলে যায়, পাগলী একটা....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now