বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিনীর খপ্পরে-১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ŘÍÁĐ(guest) (০ পয়েন্ট)

X রামু থেকে গর্জনিয়া যাওয়ার পথে বাসে একজন মাঝবয়েসি ভিক্ষু আমাকে বলল, খুব শিগগির নাকি আমি এক ডাকিনীর খপ্পড়ে পড়ব । কথাটা শুনে আমি সাঙ্ঘাতিক রকমের ঘাবড়ে গেলাম। আমার ঘাবড়ে হওয়ারই কথা। কারণ ডাকিনীর খপ্পড়ে পড়া তো ভারী সাঙ্ঘাতিক ঘটনা। তা ছাড়া আমি এর আগে কখনও ডাকিনীর খপ্পড়ে পড়িনি। সত্যিকারের ডাকিনীরা দেখতে কেমন হয়, তাও জানি না। তবে এই ইন্টারনেটের যুগেও যে ডাকিনীর মুখোমুখি হওয়া সম্ভব, সেকথা ভেবেও খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম । তবে ভিক্ষু আমাকে অভয় দিয়ে বলল, অসুবিধে নেই। এই শঙ্খটি ডাকিনীর হাত থেকে রক্ষা করবে । বলে আমার ডান বাহুতে ভিক্ষু একটা ছোট নীল রঙের শঙ্খ বেঁধে দিল। অবশ্য মন্ত্রপূতঃ নীল শঙ্খটি শরীরে ধারণ করে কোনওরকম টের পেলাম না। চট্টগ্রাম থেকে রামু পৌঁছেছি দুপুর নাগাদ। একটা হোটেলে ঢুকে খেয়ে- দেয়ে আবার গর্জনিয়ার বাসে ওঠার পর ভিক্ষুর সঙ্গে পরিচয়। ভিক্ষু মুখ গম্ভীর। মাঝবয়েসি যে তা আগেই বলেছি। যথারীতি মঙ্গোলয়েড মুখ। মাথা নিখুঁত ভাবে কামানো। পরনে লাল রঙের গেরুয়া (বৌদ্ধরা চীবর বলে ) । ভিক্ষুকে আমি আমার নাম বললাম। গর্জনিয়া যাওয়ার কারণও বললাম। ভিক্ষুও গর্জনিয়া যাবে। ওখানেই একটা মঠে নাকি থাকে। নাম এথিন লামা। ভিক্ষুর নাম ‘এথিন লামা’ শুনে অবাক। এথিন লামা বলল, তার জন্ম রামুতে হলেও তরুণ বয়েসে তিব্বতে চলে গিয়েছিল। প্রায় তিরিশ বছর তিব্বতের একটি নির্জন গুম্ফায় ছিল। পাঞ্চেন নামে এক লামার কাছে গুপ্ত তন্ত্রবিদ্যা অধ্যয়ন করেছে। তারপর রামুতে ফিরে এসেছে। রামুর লোকজন তাকে এথিন লামা বলেই ডাকে । এথিন লামা নাকি অশুভ শক্তি নাশ করে। এই উদ্দেশ্যে এখানে- ওখানে ঘুরে বেড়ায়। এসব শুনে আমি কৌতূহল বোধ করি। তিব্বত নিয়ে আমার উৎসাহ আছে। শুনেছি তিব্বতের লামারা নানা গুপ্তমন্ত্র জানে। তারা নাকি উড়তেও পারে। কথাটা সত্যি কিনা জিগ্যেস করতেই এথিন লামা কিছু না- বলে মিটমিট করে হাসতে লাগল। গর্জনিয়া পৌঁছতে পৌঁছতে বিকেল হল। বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে কড়–ই গাছের নীচে দাঁড়ালাম। ছোট খালু আমাকে এখানেই অপেক্ষা করতে বলেছেন। ছোট খালু রামু তে সেটেল করার পর থেকে আমায় অনেকবার যেতে বলছেন । যাব- যাব করেও এর আগে আসা হয়নি। এবার এইচ এস সি পরীক্ষার পর ফুসরত মিলল । রামু থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার । মনে সমুদ্র দেখার লোভও ছিল। আমার পাশে এথিন লামাও দাঁড়িয়েছে। জায়গাটা বাজারের মতো। রাস্তার দু’পাশে স্থানীয় আদিবাসীরা বাঁশের ঝুড়িতে আদা, আনারস, কাঁকরোল, কাঁচা কলা নিয়ে বসেছে। গর্জনিয়া রামুরই একটি ইউনিয়নে । রামু সদরের অনেকটা পুবে। প্রচুর আনারস আর আদা ফলে। বৌদ্ধ মন্দিরের জন্যও বিখ্যাত গর্জনিয়া। কাছেই রাস্তার ওপারে একটি বৌদ্ধ মঠ। এথিন লামা হাত তুলে মঠটি দেখিয়ে বলল, আমি ওই মঠেই থাকি। বেশ বড় মঠ। কাঠের। চূড়টি ধবধবে সাদা। সুন্দর। বললাম। এথিন লামা হাসল। কড়– ই গাছের নীচে একটা চা স্টল। বেঞ্চ। একটি অল্প বয়েসি রাখাইন ছেলে চা বানাচ্ছে। এরই মধ্যে আমার এথিন লামার সঙ্গে বেশ খাতির হয়ে গেছে। হাজার হলেও আমাকে একটি নীলশঙ্খ উপহার দিয়েছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডাকিনীর খপ্পরে-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now