বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাইনি-০২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাইনি (২য় অংশ) জোনার: হরর,থ্রিলার আজ হঠৎ আমার সেলের দরজা খুলে গেল। আমার সমবয়সী এক নগ্ন মেয়েকে ভিতরে ছুড়ে ফেলা হল। রক্ষীরা চেঁচিয়ে বল্ল ---দুই ডাইনি একসাথে মর! ওরা যতবার আমাকে ডাইনি বলেছে আমি প্রতিবাদ করেছি।কিন্তু নতুন মেয়েটাকে দেখে অনেক অভিভূত হয়েছি।মেয়েটা এক কথায় অপরুপ।মুখের ছলে যাওয়া চাবুকের দাগ,সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন তার সৌন্দর্যকে এতটুকো ম্লান করতে পারে নি। ও বার দুইএক মাথা তুলতেই সংগা হারালো।ওর অবস্থা আমার চেয়ে খারাপ,মাথার পিছনে বড় একটা ক্ষত যা থেকে তখনো রক্ত বের হচ্ছিল।আমি আমার কটি বন্ধনি দিয়ে তার মাথা বেন্ডেজ করে দিলাম। এ শীতে মেয়েটাকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেখে আমার হৃদয়টা মোচড় দিয়ে ওঠলো।চাবুকের আঘাতে আমার নিজের কাপড়েই ছিঁড়ে একাকার। তবু যতটা সম্ভব তাকে আমার কোলে জরিয়ে রেখে গরম রাখার চেষ্টা করলাম।দেয়ালের একটা মশাল তার পাশে পুঁতে দিলাম।মশালের আলোয় ওকে আরো অপূর্ব লাগছে।আমাকে ক্ষমা কর ঈশ্বর। আমি তোমার এ অপরুপ সৃষ্টির প্রেমে পরে গেছি। এ লেখাটা পরে বুঝলাম এলেস আসলে নারী সমকামী ছিল। ঐ মেয়েটার সহচার্য এ নিদারুণ বন্দীত্বেও ওর মনে প্রেমের জোয়ার তুলেছিলো।হয়তোবা ও সমকামী ছিল না পরিস্থিতি ওর মনে খানিকের মোহ সৃষ্টি করে।কিন্তু কি ছিল নতুন মেয়েটার নাম??প্রশ্নটা আমার মনে আসতেই হঠৎ করে লাইব্রেরির দরজা সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল।ধূলায় মাখা দরজায় এলেসের স্পস্ট হস্তঅক্ষরে একটা নাম ফুটে ওঠলো "মার্টিনী"। এবার বিষয়টা বুঝতে পারলাম এলেস মরে গেলেও তার আত্মা এখুনো এ কটেজে আটকে আছে। এ লাইব্রেরিতেই আছে। আমকে কেউ একজন সবসময় দেখতে পাচ্ছে কিন্তু আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি না। তার উপস্থিতি আমার জন্য ভাল না খারাপ তাও জানি না।কথটা ভাবতেই অতংক আর ভয়ে আমার সারা শরীর কাঁপতে লাগলো।প্রচন্ড ভাবে ঘামতে লাগলাম। ঠিক তখনই আমাকে অবাক করে দিয়ে বদ্ধ ঘরে কোথা থেকেএকটা দমকা বাতাস এসে বাইবেলের পৃষ্ঠা উল্টে, এলেসের লেখার পরবর্তী পৃষ্ঠায় নিয়ে গেল। বুঝলাম এলেস চাইছে আমি তার লেখা পড়ি।মনে হলো ও দরজাটা আটকে দিয়ে আমার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে।এখন যদি ওর কথা না শুনি হয়তোবা ও আমাকে মেরে ফেলবে।ভীতু চোখে দরজার দিকে তাকালাম। দরজায় আরো একটা লেখা ওঠলো। সাহায্য করো বন্ধু।তারপর দরজাটা আবারো খুলে গেল।মনে কিছুটা সাহস আসলো।এলেস আমাকে বন্ধু বলে সম্বোধন করেছে।ওর সাহায্য প্রোয়জন কিন্তু কেন??শেষমেশ কি হয়েছিল ওর সাথে? এসব কৌতূহল আমাকে পরবর্তী পৃষ্টা পড়তে আগ্রহি করে তুল্ল। "আজ সকালে মেয়েটার সংঙ্গা ফিরলো।আমি তাকে শুভসকাল জানালাম। কিন্তু ও ভাবলেশহীন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।রক্ষীরা চলে আসলো।আমাকে নিয়ে আসার তৃতীয় দিনে তারা আমাকে খাবার দিল। খাবার বলতে ছিল চার টুকরা বাসী রুটি। আর এক মশক পানি। আমি দু টুকরো রুটি মেয়েটাকে দিয়ে দিলাম। ও ভু বুক্ষের মত খেল। খাবার শেষে পানিটুকো আমরা ভাগ করে খেলাম।স্রষ্টার কাছে অনেক শুকরীয়া উনি অভুক্ত কে খেতে দিয়োছেন, তৃষ্ণাত্ব কে পান করিয়েছেন।আমি মেয়েটার কাছে গিয়ে তার মাথার ক্ষতটা আবার দেখলাম।সারতে অনেক দেরি হবে কিন্তু সেরে যাবে।খেয়াল করলাম ওর নগ্ন দেহে ঠান্ডায় কাঁপুনি ধরে গেছে।সারা রাত জ্বলতে থাকা মশাল টাও নিভে গেছে।ওকে আমার কোলে নিয়ে আসলাম প্রথমে বাধা দিলেও পরে নিজে এসেই বসলো। আমার ছেঁড়া কাপাড় টুকো আমাদের দুইজনের দেহের উপর টেনে দিলাম। ও আমার বুকে মাথা গুজলো।খানিকটা স্থির হলে তার সাথে কথা বলা শুরু করলাম। ও জানালো তার নাম মার্টিনী গুয়েন্থার। নিমিসুয়েরার পাহাড়ি এলাকায় থাকতো।ওর বাবা একজন ভেষজ চিকিৎসক। ওর বাবা কে স্থানীয় প্রিষ্ট খুন করে, তার অপরাধ ছিল সে একটা পানিতে ডুবে যাওয়া ছেলেকে বাঁচিয়ে তুলেছিলো।ছেলেটির শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।কিন্তু তার বাবা ছেলেটির বুকে চাপ দিয়ে বাঁচিয়ে তুলে। প্রিষ্টের মতে ছেলেটি মারা গিয়েছিলো।কিন্তু ওর বাবা কালো জাদুর দ্বারা ছেলেটিকে ফিরিয়ে এনেছে এ অপরাধে প্রিষ্ট মার্টিনীর বাবা কে শূলে চড়ায়। মার্টিনিকে ডায়নি অপবাদ দিয়ে একরাতে নগ্ন করে বরফে বেঁধে রাখে।পরদিন এখানে নিয়ে আসে। ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কেঁদে ওঠলো মেয়েটা। বুঝে গেলাম প্রিষ্ট তাকে সারারাত ভোগ করে সকালে সেলে ছুঁড়ে ফেলেছিলো। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডাইনি-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now