বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দাগ

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X ???????????? (" দাগ ")???????????????? (''""" পিরিয়ড """)) নিলা ক্লাস নাইনে পড়ে। স্কুলে ইউনিফর্ম সাদা জামা এন্ড লাল শার্ট আর সাদা স্কার্ট। রোজকার মতো আজও সে বেরোলো রেডি হয়ে। সকাল থেকেই তলপেট ব্যাথা,, কিন্তু কেয়ার করলো না খুব একটা,,, আসলে এই বয়সটাই তো এমন। কোনো কিছু কেয়ার না করার বয়স। উদ্দাম হওয়ার বয়স মাকে টাটা বলে তিড়িং বিড়িং করে রাস্তা পর হয়ে, ওঠে পড়লো বাসে। ঠিক সময়ে স্কুলে পৌছেও গেল। যথারীতি,, যা হওয়ার ছিলো তাই হলো। প্রথম পিয়োড হওয়ার পরেই শুরু হয়ে গেলো। ইসস ডেট এসে গেছে মনেই নেই! এর জন্য বার বার সকালে পেট টনটন করছিলো ....... মনে মনে ভাবল। কতোবার মা বলে ব্যাগে এ ক্যারি করতে, করেও ছিল একবার। কিন্তু কো এন্ড স্কুলের বন্ধুরা হাতরায়, টিফিন বার করে, তাই কোন সময় দেখলে অস্বস্তিতে পড়বে সেটা ভেবেই নেয়না সে। কোনো রকমে দুটো পিয়োড কাটিয়ে দিলো সে। এবার ছুটি মনে হয়। ম্যানেজ হে গেছে। এবার পাঁচ মিনিটের বাস পথ পেরিয়েই বাড়ি পৌঁছালেই হয় ..... কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। সাদা স্কার্ট অলরেডি লাল গোল দাগ এর ধারেকাছেও হয়ে গেছে,,,, ক্লাস রুম থেকে বেড়িয়ে দেখে সবাই ফিরে ফিরে দেখছে,, কেও কেও মুখ টিপে হাসলো,,, উঁচু ক্লাসের এক আপুতো কানে কানে এসে বললো, কিরে তুই,,,,, বাস এ উঠে যথারীতি বসার জায়গা পেলো না,, পেছন থেকে শুনতে পেল কয়েকজন সহপাঠী ছেলের ফিকফিক হাঁসি। পাশে দুই চাচির গোছের মহিলা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করে দিলেন। পাঁচটা মিনিট যেনো কাটতেই চায় না, অবশেষে স্টপে নেমে পড়লো মাথা নিচু করে ..... বাড়ি ফিরতেই মায়ের বকুনি,,, নিলা আমি বার বার বলি সাবধান,,, অনেক তো বড় হলে আর কতো বলতে হবে আমায়,,,, চুপ চাপ ওয়াশরুমে এ চলে গেল, শাওয়ার এর নীচে দাঁড়িয়ে পড়লো, ধুয়ে যেতে লাগলো সব মলিনতা, বাস এর অপমান। ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে নিজের ঘরের দিকে যাওয়ার সময় আবার মায়ের সতর্কবার্তা।। নিজের ঘরে এসে ল্যাপটপ টা অন করলো নিলা। নেট কানেষ্ট করে গুগলে গিয়ে যেন অবচেতেন মনেই টাইপ করে ফেললো প্রতিবাদ.... চোঁখের সামনে খুলে গেলো নানা লিংক, না না ধরনের না জানা তথ্য ভাসতে লাগলো অদ্ভুত কাকতালীয় ভাবে কালকের দিনটা স্পেশাল একটা দিন, ২৮শে মে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ হাইজিন দিবস। সেটাও জানতে পারলো নিলা। পরের দিন যথারীতি স্কুলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে বাসে ওঠলো, বসাও জায়গাও পেলো, উলটে দিকে বসে কালকের মতন সৌম্য রুপম আর নিলয়, নিলাকে দেখেই আবার হাসাহাসি শুরু। কালকের প্রসঙ্গ তুলে সরাসরি, আজ আর জামাই নয়, পাউরুটিতে জেলি,,,, হেসে কুটুকুটি সবাই। নিলা অপমানে রাগে ফুসতে লাগলো। স্কুল এ যাওয়ার পর দুটো পিয়োড এর পর ওদের জানানো হয় আর ক্লাস হবে না। আজও সে বিশেষ দিন তার জন্য একটা ক্যাপশন হয়ে ওদের স্কুলে। মানুষের মধ্য সচেতনতা, সঠিক মানুষ্যত্ব বোধ ছড়ানোর জন্য তাদের এই উদ্যোগ। কথা বলা হবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন ডিস্ট্রিবিউশন ও করানো হবে। নিলাদের স্কুলে ও তার মধ্যে একটি। ক্লাস শেষ হওয়ার পর পর সব শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী গিয়ে জমা হলো ওই হল ঘরে। একটি পরিবেশ সেচ্ছাসেবক সংগঠন এই উদ্যোগ টি নিয়েছে। হল ঘরের দেওয়াল জুড়ে বর্তমান বিশ্বে যেভাবে পিয়িয়ড সংক্রান্ত ভুল ধারনার বিরুদ্ধে লড়েছে তার চিত্র,,,,,, সব মুগ্ধ হয় দেখতে লাগলো নিলা। কিছু প্রবীনা শিক্ষিকার মুখে বিরক্তিকর রেখা। ছেলে সহপাঠী রা যেন রসালো কোনো বিষয় পেয়ে গেছে। একটি নিদিষ্ট জায়গায় গিয়ে বসলো নিলা। শুরু হলো অনুষ্ঠান, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট, নিলাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক একে একে নানা কথা বললেন। তারপরে ছাত্রছাত্রী পক্ষ থেকে যদি কারোর কিছু বলার থাকে তাকে মন্চে আসার জন্য আহব্বান জানানো হলো,,,,, নিলার ভেতরের আগুন যেন ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেল,,,,, দাঁড়িয়ে উঠে বলল স্যার আমি হুম আসো,,,,, গট গট করে স্টেজে উঠলো নিলা ১৪ বছরের একটি মেয়ে,,,, কিন্তু চোঁখে আদ্ভুত আত্মবিশ্বাস। জানেনা কি বলবে,,,,,?? একদম প্রস্তুতি নেই,,,, শুধু কাল সন্ধে থেকে নেট সার্চ করে পাওয়া কিছু তথ্য আর কালকের অপমানের জ্বালা। এইটুকুই সম্বল। সে দাঁড়ালো মাইকোফোনের এর সামনে। সালাম দিলো সবাইকে আজকে অনুষ্ঠানর আয়োজন সংস্থা কে আমার অনেক কৃতষ্কতা ও বন্ধুদের ভালোবাসা। যখন ক্লাসে -৬ এ পড়ি আমার পিরিয়ড শুরু হয়, মা বললেন এটা মেয়েদের নিয়ম, এই সময় সাবধানে থাকতে হয়। এটাকে বলে শরীর খারাপ। আমি কারন বুঝতে পারিনি তখন। কাল স্কুলের আমার পিরিয়ড হয়ে যায়। এই যে মেশিনটা দিলে এটা যদি আগে থাকতো কোনো সমস্যাই হতো না। কিন্তু কাল আমি সময় মত কিছু পাইনি বলে আমার সাদা স্কার্ট এ একটা ছোট লাল দাগ লেগেছিল,,,,, সেটা নিয়ে আমাকে নানা রকম অপমান শুনতে হয়েছে, এই তো সৌম্য উঠে দাড়া কি যেন বলেছিলি আজ সকালে পাউরুটি জ্যাম হ্যাঁ রে ওই লাল জ্যাম বললি যেটাকে,, সেটা কি জানিস,?? হ রক্ত আর টিস্যু,,,, যেটা দিয়ে গর্ভাবস্থায় একটা শিশুর দেহ তৈরি হয়,,,, এই যে এতো সুন্দর বড়ি বানিয়ে ঘুরছিস এর মূল্য কিন্তু তোর মায়ের শরীরের ওই রক্ত,,,,, আর এই যে রুপম তুই তো ক্লাসে কারোর আঙ্গুল কেটে গেলে অজ্ঞান হয়ে যাস,,,,,!!!! আর যেই একটা মেয়ে কে নিয়ে হাসাহাসি করার একটা বিষয় পেলি এমনি ভয় উধাও??? ওমা নিলয় তোর গালে দাড়ি গজিয়েছে!!!! কি লজ্জা কি লজ্জা, মুখ দেখাচ্ছিস কেন?? জানি তুই বলবি এটা ছেলেদের স্বাভাবিক পরিবর্তন,,, ঠিক তোর যেমন দাঁড়ি গোফ টা,,,,,, মেয়েদের ও তেমন এটা খুব স্বাভাবিক পরিবর্তন। আজ এই পৃথিবীর সমস্ত মানুষের সৃষ্টির মূল্যে এই রক্তপাত,,,,,, এটা কোনো লজ্জার বিষয় নয়,, এটা একট অতি স্বভাবিক শারিরীক পরিবর্তন। কালতো তোরা না হেসে আমাকে হেল্প করতে পারতিস, এটা কোনো হাসির বিষয় ই নয়। বরং সেই মেয়ের দিকে সবার সম্মান এর চোঁখে তাকানো উচিত সে প্রতি মাসে যন্তনা সহ্য করে নিজের শরীরকে একটা প্রান কে ধরন করার উপযোগী করে তোলে,,,,,,, এর জন্য শুধু প্রয়োজন কিছু সঠিক মানুষ্যত্ব বোধ আর কিছু না। নিশ্চই একদিন আসবে যেদিন আমার পাড়ার কাকু প্যাড গুলো কালো প্যাকেট এ মুড়ে দেবে না। যেদিন সৌম্য কোনো মেয়ের স্কার্ট এ দাগ দেখে না হেসে তাকে হেল্প করবে! যেদিন চাচিরা বুঝবে এটা হওয়া মানে কোনো খারাপ হয়ে যাওয়া না। সারা হল ঘরে নিস্তব্ধতা, পিন ফেললে শব্দ হবে, কয়েক মূহুর্ত পর হল ঘরে ফেটে পড়লো হাত তালিতে। আয়োজক সংস্থার প্রেসিডেন্ট এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন নিলাকে। নিলার মাথায় পড়িয়ে দেওয়া হলো ফুলের মালা। আর হাতে পুরস্কার। স্টেজ থেকে নেমে আসার সময় হাত মেলালো সবার সাথে, সব বন্ধুরাও সৌম্য রুপক, নিলয়ও ছিল,,,,, মাথা নিচু করে বললো সরিরে,, নিলা আসলে এত কিছু বোঝায় চেষ্টাই করিনি কখনো,,,,,, আজতো বুঝলি,,,,,, সে পেরেছে তার অপমানের উত্তর দিতে। একটা নিলা হয়তো কিছুই করতে পারবে না কিন্তু মানুষের মন যদি ধীরে ধীরে বদলায় তাহলে সমাজে একদিন অবশ্যই সম্পন্য পরিবর্তন হবে হবেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভাই বোনের গোয়েন্দাগিরি
→ মুখে বসন্তের দাগ! দূর করতে ব্যবহার করুন এগুলো
→ সওদাগরের আমানত
→ গোয়েন্দাগিরি
→ গোয়েন্দাগিরি
→ গোয়েন্দাগিরি (শেষ পর্ব)
→ গোয়েন্দাগিরি (পর্ব ১)
→ দাগ
→ গোয়েন্দাগিরি শেষ পর্ব।
→ গোয়েন্দাগিরি ২
→ গোয়েন্দাগিরি-১
→ গোয়েন্দাগিরি
→ গোয়েন্দাগিরি
→ সেই ক্ষত দাগটা
→ সওদাগরের আমানত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now