বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্যা পেইনি-০২

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ২. সকাল থেকেই অস্থির লাগছে প্রীহার, একটু পরপর সময় দেখছে আর ভাবছে কখন সন্ধ্যা হবে । সারা মাস তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করে কখন মাসের শেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন আসবে ! সবসময়ই শেষে এসে আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারে না সে, এই দিনে সকাল থেকেই ঘরময় হাটাহাটি শুরু হয়ে যায় তার। আজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সে চলে যায় "দ্যা পেইনিতে" । কাউন্টারে বসা লোকটা একটু মুচকি হেসে বলে ম্যাডাম, আপনার সময় তো এখনও আসেনি ! আমি ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করবো, সময় হলে আমাকে ডেকে দিবেন। ও, আর একটা কথা, আপনারা কি কোন ভাবে সার্ভিসটা মাসিক থেকে সাপ্তাহিক করতে পারেন না ? ম্যাডাম, আসলে বিজ্ঞান কাউন্সিলে সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাদেরকে মাসে একবারের বেশি পেইনি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই ইচ্ছা থাকলেও আমরা দিতে পারবো না, দুঃখিত । পঞ্চম মাত্রার ডোজের সিলিকনের প্যাড বাহুতে পেঁচিয়ে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে বসে থাকে প্রীহা, চাপা নিঃশ্বাসটা আস্তে আস্তে ছাড়ে তারপর ছুরিটা হাতে নিয়ে আচমকা গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে পোঁচ মারে সিলিকনের প্যাডে । গলা চিড়ে বের হয়ে আসে গগন ফাটানো তীব্র চিৎকার, ব্যথায় হাত পা থরথর কাঁপতে থাকে, হাতের মুঠি জোরে চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে থাকে প্রীহা কিছুক্ষণ। তারপর বোতল থেকে কিছু তরল ম্যানথল নিয়ে প্যাডের উপর মালিশ করে দেয় সে, নিজের অজান্তেই পরম সুখের ধ্বনি 'আহঃ' বের হয়ে আসে তার মুখ দিয়ে। কিছুক্ষণ পর হাতে পেঁচানো প্যাডে আবার গায়ের জোরে ছুরি চালায় সে, মুহূর্তেই প্যাড থেকে ব্যথার অনুভূতিগুলো স্বর্ণের তারের মধ্যে দিয়ে আঙ্গুল পর্যন্ত পরিবাহিত হয়ে যায়, আঙ্গুল থেকে এই অনুভূতি মস্তিষ্কে যেতে সময় নেয় যেন অনন্ত কাল! উহঃ কখন শেষ হবে এই ভয়ংকর ব্যথা! দশ সেকেন্ডের জন্য চেতনা হারিয়ে ফেলে প্রীহা, তারপর ম্যানথল মালিশের কারণে তীব্র ব্যথার পর আসে তীব্র সুখের অনুভূতি! পৃথিবীর কোন অনুভূতির সাথে এর কোন তুলনা নেই, সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি! ইস্ চিরদিন এই অনুভূতি ধারণ করতে পারতাম, মনে মনে ভাবে প্রীহা। আবার ছুরি চালায় সে , আবার ম্যানথল মালিশ, আবার ছুরির পোঁচ আবার ম্যানথল মালিশ, একসময় অনুভূতি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায় প্রীহা, ব্যথা বা সুখের কোন অনুভূতিই আর অবশিষ্ট থাকে না তার। টলতে টলতে ব্লক থেকে বের হয়ে আসে সে, বাড়ি ফেরার তাগিদে, আবার সেই একাকী ফ্ল্যাট, সেই একঘেয়েমি চাকুরী, সেই অনুভূতিহীন জীবন!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্যা পেইনি-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now