বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দ্যা মস্কুইটো ম্যান!
লিখেছেন-সাচৌ।
জেনার-রম্য।
=============
বন্ধু জুয়েলের কোন খোঁজ খবর নাই দুই
সপ্তাহ। ক্লাসে আসে না, ফোন বন্ধ,
কয়েকজনকে ফোন দিয়েও হদিস পাওয়া যাচ্ছে
না। ভাসা ভাসা ভাবে শুনলাম যে, সে ওয়াইল্ড লাইফ
ফটোগ্রাফি শুরু করেছে। কখনও বান্দরবন আর
কখনও খাগড়াছড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে সদ্য কেনা
DSLR নিয়ে। যাওয়ার সময় মোবাইল নেয়নি,
কোন এক আর্টিকেলে নাকি পড়েছে গহীন
জঙ্গলে মোবাইল ফোনের ভাইব্রেশান,
রেডিয়েশান ইত্যাদি বন্য প্রাণীদের জন্য
ক্ষতিকর।
আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে জুয়েলের বাসায় চলে
গেলাম। কলিং বেল চাপতেই জুয়েলের ছোট চাচা
দরজা খুলে দিল।
ওনার চেহারা দেখে আমার কণ্ঠস্বর মুরগীর
বাচ্চার মত চিকন হয়ে গেল, আমি চিঁ চিঁ করে
জানতে চাইলামঃ আঙ্কেল, জুয়েল আঁচে?
উনি বিরক্ত চোখে ইশারায় সোজা রুমের দরজা
দেখিয়ে দিল।
জুয়েলের চেহারা দেখে আমার চোখ হাসের
ডিমের মত বড় বড় হয়ে গেল। তার গালে খোঁচা
খোঁচা দাড়ি, চোখের নিচে কালি, খুকখুক কাশি!
'হে মাবুদ! এই হাল হইল ক্যামনে তোর?'
'ওওও...'
'থাক বুঝছি, ওয়াইল্ড লাইফ? খাগড়াছড়ি?'
সে ডানে বামে মাথা নাড়িয়ে, ইশারা ইঙ্গিতে যা
বলল তার সারমর্ম হলঃ খাগড়াছড়ি থেকে সহি
সালামতে ফিরেই আসার পর রাতে যখন বসে বসে
ছবিগুলো দেখছিল তখনই মনে পড়ল, সমস্ত
প্রাণীর ছবি তোলা হয়েছে শুধু মশা ছাড়া।
যেইমাত্র এই কথা মনে হল সেই মাত্র সে
মশারীর বাইরে এসে মশার ছবি তুলার চেষ্টা শুরু
করল। কিন্তু অস্থির মশককুলের মডেল হওয়ার
কোন বাসনাই দেখা গেল না। অগ্যতা টাইমার সেট
করে, জামা খুলে জুয়েল নিজেই DSLR এর
সামনে বসে গেল।
আফসোস! সারা রাত পার হয়ে গেল, ফজরের
আজান দিয়ে ফেলল, শরীরের সমস্ত জায়গায় মশা
কামড়ায় কিন্তু সে যেখানে ফোকাস করেছে
সেখানে কোন মশাই বসে না। বসলেও যখনই
ফ্ল্যাশ জ্বলে উঠে তখনই মশা পালায়!
এদিকে মশারা মেজবানের মাংসের মত ফ্রি ফ্রি
রক্ত পেয়ে নির্দয় ভাবে তাকে দংশন করে
গেল সারা রাত। জুয়েলের ভাষ্যমতে মশাদের
বিচার বিবেচনা তো নাইই, নূন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধও
নাই।
সারা রাত রক্ত খেল, একটা ছবিতেও ঠিকমত চেহারা
দেখাল না, তার উপর ম্যালেরিয়ার জীবাণুও ঢুকিয়ে
দিয়ে গেল।
বাসার কেউই তার সাথে কথা বলছে না, ছোট চাচার
মতানুসারে, তাকে পাগলের ডাক্তার দেখাতে
হবে। মা ছাড়া আর কেউ এই বিষয়ে সন্দেহ
প্রকাশ করেনি। বাবা তো পারলে পাবনা পাঠিয়ে
দেন তখুনি, ইতিমধ্যে ঘোষণাও দিয়ে
ফেলেছেন আর কোন লেন্স কেনার টাকা
দেয়া হবেনা।
এদিকে আগামীকালই তার একক ওয়াইল্ড লাইফ ছবি
প্রদর্শনী।
আমি সব শুনে মাথা নাড়লাম, কেন নাড়লাম, কার দুঃখে
নাড়লাম নিজেই জানি না।
আমার মাথা নাড়ানো দেখে জুয়েল কি বুঝল জানিনা,
একেবারে হাত চেপে ধরে বললঃ দোস্ত তুই
ছাড়া শিল্প সাহিত্যের কদর কেউ বুঝবে না, বুঝবে
না এর জন্য কত ত্যাগ-তিতিক্ষা দরকার।
আমি এবার উপরে নিচে মাথার এক্সারসাইজ থামিয়ে
সন্দেহের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম।
সে আমার হাত চেপে কাতর কণ্ঠে বললঃ
দোস্ত!
আমি আঁতকে উঠে বললামঃ 'কি'
'হয়ে যা না তুই আমার মশার মডেল'
আমি জোরে ডানে বামে মাথা ঝাঁকিয়ে বললামঃ যা
তুই ফ্রেশ হয়ে আয়, ক্যামেরা বের কর।
জুয়েল ওয়াশরুমে গেল, আর আমি ছুট লাগালাম
সদর দরজার দিকে।
বের হওয়ার আগে ছোট চাচ্চুর সাথে দেখা হল,
পাশেই অ্যান্টি মানে জুয়েলের আম্মাও ছিল,
তাই আমি চাচ্চুর কানে কানে বললামঃ চাচ্চু! মশাম্যান
হয়ে যাওয়ার আগেই ওকে জলদি ডাক্তার দেখান।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now