বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্যা ক্রাউন অব ভিক্টোরিয়া-০২ (শেষ)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দ্যা ক্রাউন অব ভিক্টোরিয়া মোহতাসিম হাদী রাফী সুপারন্যাচরাল শেষ পর্ব তিন মিউজিয়াম থেকে ছাড়া পেয়ে সোজা বাসায় এসে ঢুকল রিচার্ড। ভালোভাবেই জানে তার উপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ। অবশ্য ক্রাউনটা পেয়ে গেলেই সে পেয়ে যাবে লিলিথের শক্তি, তখন তাকে চুরির দায়ে ফাঁসালেও শাস্তি তো দূরের কথা এমনকি ফুলের টোকাও কেউ দিতে পারবে না। দশ বছর, হ্যাঁ দশ বছর ধরে সে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে আসছিল। প্রথম পাঁচ বছর কেটেছে তার লিলিথের অবস্থান জানতেই, তাও হাজার রকমভাবে উপাসনা করার পর প্রথম যখন মানুষের বলি দিতে সক্ষম হয় সে তখন স্বপ্নে এসে ধরা দেয় লিলিথ, জানায় তার অবস্থানের কথা। তারপর আরও পাঁচ বছর লেগেছে তার এই ক্রাউন চুরির প্ল্যান করতে। যদিও সবাই কোহিনূর নিয়ে ব্যাস্ত কিন্তু সে তো শিহরিত ক্রাউনটির কথা ভেবে যার দিকে কেউ মুখ ফিরিয়েও তাকাবে না এখন। এই কোহিনূরের জন্য ক্রাউনটি চুরি করা আরও কঠিন হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত এই কোহিনূরের লোভ দেখিয়েই সে রবিন ওয়ার্ডনকে চুরি করবার জন্য রাজি করাতে পেরেছে। বারে মদ খাওয়ার সময় রবিনকে দেখেই সে চিনেছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসেবে। বলা যায় লিলিথই তাকে চিনিয়েছিল, স্বপ্নে নির্দেশ দিয়েছিল বারে যাবার। রবিনের সাথে ভাব জমাতে নিয়েছে সে বেশ কয়েক সপ্তাহ্ তারপর পুরো পরিকল্পনা করেছে চুরির। রবিনকে লোভ দেখিয়েছে, চুরির পর কোহিনূর রবিনই পাবে সে শুধু ক্রাউনটা পেলেই খুশি। অবশেষে সেই শুভদিন এসে গেছে, সে হাতে পেতে যাচ্ছে ক্রাউন অব ভিক্টোরিয়া যার ছোট্ট খুপড়িতে ঘুমিয়ে আছে নরকের রাজকুমারী লিলিথ। চাইলে মিউজিয়ামেই ক্রাউনটি মাথায় পড়ে নিয়ে লিলিথের ক্ষমতার অধিকারী হতে পারত সে কিন্তু লক্ষ বছর ধরে কারও রক্ত পায়নি লিলিথ। লক্ষ বছরের এ অসীম পিপাসা কোন সাধারণ মানুষের রক্তে মিটবে না তার। ওর প্রয়োজন হবে কোন শয়তান পূজারীর রক্ত। আর রবিনের হাতে সে লুসিফারের উল্কি আঁকা দেখেছে। রবিনের রক্ত দিয়েই সে লুসিফারের পিপাসা মেটাবে। অবশ্য রবিনের হাতে প্রথমবার ওই উল্কি দেখে সে প্রচন্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী বেশ কয়েক মাস সে রবিনের হাতে মারা পরবার ভয়ে আতংকিত থেকেছে। কিন্তু যখন দেখতে পেল রবিন কোন সন্দেহই করছে না তখনই পুরো ছকটা সে মনে মনে কষে ফেলল। রবিনকে দিয়ে যেমন একদিকে লিলিথের পিপাসা মিটবে তেমনি নেয়া হয়ে যাবে তাকে এতদিন আতঙ্কগ্রস্ত রাখবার প্রতিশোধও। প্রচন্ড হাসিতে ফেটে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে রিচার্ডের কিন্তু একদম শান্ত থাকল সে। চার পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পেয়ে তাজ্জব হয়ে গেল আসিফ। স্নাইপার রাইফেল দিয়ে গুলিটা করা হয়েছিল। সমস্যাটা সেখানে না, সমস্যা হলো বুলেটের কারণে মাথায় গর্তের আকার আর ক্ষত থেকে মনে হচ্ছে গুলিটা অন্তত নয়শো গজ দূর থেকে করা হয়েছে। হঠাৎই পুরো কেসটা পানির মতো সহজ মনে হতে লাগল ওর। নয়শো গজ থেকে হেডশুট করতে পারে এমন স্নাইপার লন্ডন তো দূর গোটা ইংল্যান্ডেও খুব বেশী নেই। ল্যাপটপ অন করে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের ডাটাবেজ চেক করতে শুরু করে দিল ও। সারাদিন পার করার পর এমন হাই স্কিলড সাতজন স্নাইপারকে খুঁজে পেল ও। এদের মধ্যে দু’জন জেলের ঘানি টানছে তাদেরকে বাদ দিয়ে থাকল আর পাঁচজন। এবার এই পাঁচজনের তালিকা নিয়ে সে হাজির হলো সোহেল খানের কাছে। আসিফকে দেখেই ভদ্রলোকের দাঁত বেরিয়ে পড়ল। “এসো আসিফ, এসো। কেস সলভড নিশ্চয়ই?” “ছোট্ট সাহায্যের জন্য এলাম। সাহায্যটুকু করলে সলভ হতে আর বেশী দেরী নেই।” “নিশ্চয়ই..নিশ্চয়ই। কী সাহায্য চাও বলে ফেল” “পাঁচজন স্নাইপারের ডিটেইলস লাগবে। স্পেশালী এখন কোথায় আছে সে বিষয়ে।” “চুরির সাথে স্নাইপারের সম্পর্ক বের করে ফেলেছ। বড়ই আচানক বিষয়।” “আছে স্যার। বড় গভীর সম্পর্ক আছে। এতোই গভীর সম্পর্ক যে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের ডাটাবেজে কুলাল না, সিক্রেট সার্ভিসের দ্বারস্থ হতে হল।” “তা, সিক্রেট সার্ভিস যদি স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের দ্বারস্থ হয় তো ওদের এখানে আসতে দোষ কী?” কথা আর না বাড়িয়ে ডেস্কে রাখা কম্পিউটারের কী বোর্ডের উপর ঝড় তুললেন তিনি। তারপর পাঁচজনের সম্পর্কে যা যা পেয়েছেন বলে গেলেন। “প্রথমজন, বহিনস্কি জাহদভ। এক্স কেজিবি, তিন সপ্তাহ যাবত গুলি খেয়ে হাসপাতালে। দ্বিতীয়জন, উইলিয়াম ব্রুস, মাফিয়া ডন। কলাম্বিয়া গেছে দু’মাস হল। তৃতীয় আর চতুর্থজনকেও স্কিপ করে যেতে পার, গত এক সপ্তাহে এরা লন্ডনের আশেপাশেও ছিল না। কিন্তু পঞ্চমজন, রবিন; গত দু’দিন আগে শেষবার দেখা গেছে সিটি কর্পোরেশনের পাশের মেট্রোরেলে। তারপর থেকে নি:খোঁজ। হি ইজ ইয়োর ম্যান, আই অ্যাম ড্যাম শিওর।” “আই হোপ সো।” হাসি ফুটল আসিফের মুখে। “এবার এই রবিনের সাথে এ সাতজনের যে কারও সম্পর্ক বের করুন তো।” চুরির সময় টাওয়ার অব লন্ডনের ভেতরে থাকা দর্শনার্থীদের নামগুলো বলে গেল ও। আবার কাজে লেগে পড়লেন সোহেল খান। এবার অনেক বেশী সময় লাগল। সাড়ে তিন ঘন্টা। এর মাঝে কারও কোন কথা হল না। খুঁজে পেতে নামটা আসিফকে জানালেন তিনি, রিচার্ড হ্যামিল্টন। ওর সাথে বেশ কয়েকদিন রবিনকে বারে দেখা গেছে। ধন্যবাদ বলে আসিফ বের হয়ে আসল সোহেল খানের অফিস থেকে। মাঝরাত হয়ে গেছে, এখনই একবার রিচার্ডের সাথে দেখা করে যাবে কি না ভাবতে না ভাবতেই ফোন বেজে উঠল আসিফের। রিচার্ডের উপর যে পুলিশ ইনফর্মারের নজর রাখার কথা ছিল তার। কিন্তু রিসিভ করে কোন কথা শুনতে পেল না আসিফ তারপর হঠাৎ দুপ করে একটি শব্দ করে ফোন কেটে গেল। এক মুহুর্ত দেরী না করে নিজের সেডানে চেপে বসে রিচার্ডের বাসা লক্ষ করে ঝড়ের গতিতে ড্রাইভ করে গেল ও। ডাউনটাউনে একদম নিরিবিলি একটি জায়গায় রিচার্ডের বাসা। বাসাটা থেকে এক ব্লক দূরে গাড়ি থামিয়ে বাসার পেছন ঘুরে এগুতে লাগল ও। কয়েক কদম এগিয়েই ইনফর্মার লোকটির লাশ দেখতে পেল ও। সেই স্নাইপার হেডশুট। মোবাইলটা একটু দূরে পাথরের উপর পড়ে কয়েক টুকরো হয়ে আছে। জ্যাকেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে নিজের গ্লক সেভেন্টিন পিস্তলটা বের করে কয়েক প্যাঁচ দিয়ে সাইলেন্সার লাগিয়ে অন্ধকার হয়ে থাকা রিচার্ডের বাসার ভেতর একটা জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ল ও। কিন্ত সবগুলো রুম খুঁজেও কাউকে দেখতে না পেয়ে শেষে গ্যারেজে এসে উঁকি দিল। কিন্তু যা দেখতে পেল তা কখনোই আশা করেনি ও। গ্যারেজের ফ্লোরে লিলিথের চিহ্ন অর্ধচন্দ্রের নিচে ক্রুশ আঁকা। তার ঠিক উপরেই রাখা আছে কোহিনূর লাগানো ক্রাউন অব ভিক্টোরিয়া। পাশেই হাত পা বেঁধে রবিনকে ফেলে রাখা হয়েছে। পরপর দু’টি গুলি করা হল। প্রথমটি রিচার্ডের রিভলভার থেকে বের হয়ে রবিনের প্রাণবায়ু নিয়ে বেরিয়ে গেল। দ্বিতীয়টি বের হল আসিফের গ্লক থেকে, পেছন থেকে ছিন্নভিন্ন করে দিল রিচার্ডের মগজকে। পরিশিষ্ট তিনদিন পর সোহেল খানের কাছে একটি পার্সেল আসল, সাথে একটি চিরকুট। স্যার, বাঙালি হিসেবে যে প্রত্যাশাটা আপনার ছিল সেটা আপনাকে দিয়েই পূরণ হোক। কোহিনূর খুঁজে পাবার ক্রেডিটটা আপনারই হওয়া উচিত। ক্রাউন অব ভিক্টোরিয়া ফেরত দিতে পারলাম না বলে দু:খিত। শ্রদ্ধা আসিফ রায়হান ডিটেক্টিভ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড স্মৃতিতে হাজারবার হাতড়েও আসিফ রায়হান নামে কাওকে চেনেন বলে মনে করতে পারলেন না সোহেল খান। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড খোঁজ নিয়ে সেখানেও আসিফ রায়হান নামে কোন ডিটেক্টিভ নেই এবং কখনও ছিল না শুনে শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে পার্সেলটা মিউজিয়ামে ফেরত পাঠাবার সময় হঠাৎ আবার চিরকুটটার উপর নজর পড়ল তার। সেখানে আসিফ রায়হানের নাম কেটে অন্য একটা নাম লেখা হয়েছে - লুসিফার। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্যা ক্রাউন অব ভিক্টোরিয়া-০২ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now