বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঈদের খুশি হয়ত সবার জন্য নয়, প্রত্যেকের জীবন সংগ্রামের গল্প গুলো ইউনিক।
.
ঈদের মত চরম খুশির দিনেও অনেকের মন ভাল থাকেনা, দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে কারোর কারোর ঈদ যাপন হয়।
.
তবে জান্নাতে খুশির কোন শেষ থাকবেনা, জান্নাতে কখনও মন খারাপ হবেনা....
.
ঈদ অর্থ আনন্দ। এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘বারবার ফিরে আসা’ (عَادَ-يَعُوْدُ-عِيْدًا) এ দিনটি বারবার ফিরে আসে বলে এর নামকরণ হয়েছে ঈদ। আল্লাহ তা‘আলা এদিনে তার বান্দাকে নি‘আমাত ও অনুগ্রহ দ্বারা বারবার ধন্য করে থাকেন, বারবার ইহসান করেন।
.
কিন্তু ঈদ সবাইকে খুশি করেনা, কাউকে তো দুঃখীও করে!
.
না, ঈদে নতুন পোশাক, ভাল মানের খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি না হলেও এগুলো তেমন দুঃখের কিছু নয়, যদি পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় থাকে। কিন্তু পারিবারিক সম্প্রীতি না থাকলে সেটার ক্ষতিপূরণ অন্য কিছু দিয়ে হয়না।
.
কারোর কারোর জীবনের প্রতিটা ঈদ অশান্তিতে কাটে, পারিবারিক অশান্তি।
.
এমনও পরিবারের ব্যাপারে জানি, কিছু স্বামী আছেন যারা ঈদের দিনও স্ত্রীকে অত্যাচার করেন বরাবরের মতই, এমনও কিছু স্ত্রী আছেন যে ঈদের দিনেও স্বামীকে কষ্ট দেন।
.
এমনও কিছু বাবা মা আছেন যারা ঈদের দিনও নিজের সন্তানকে স্নেহ করেন না আবার এমনও অনেক সন্তান আছে যারা ঈদের দিনেও বাবা মা এর কান্নার কারণ হয়।
.
যেখানে বিশ্বজগৎ এর অধিপতি, প্রতিপালক, রাব্বুল আলামীন স্বয়ং নিজে বান্দাদের কে খুশির দিন হিসেবে এই দিনটি উপহার দিয়ে থাকেন, সেখানে ক্ষুদ্রতম একটা সৃষ্টি মানুষ হয়ে যারা অন্য মানুষের, তাও আবার আপন মানুষ গুলোর কষ্টের, কান্নার কারণ হয় তারা মূলত জালেম ছাড়া আর কী?
.
তিরমিযী তে আবু হোরায়রা (রাঃ), রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, “আল্লাহ যখন জান্নাত সৃষ্টি করলেন তখন তিনি জিবরীলকে সেখানে পাঠিয়ে বললেন, 'দেখে এসো জান্নাত এবং জান্নাতের আরাম-আয়েশ যা আমি তাঁর অধিবাসীদের জন্য তৈরি করেছি'। জিবরীল গিয়ে তা দেখে এলেন এবং আল্লাহ কে বললেন, 'আপনার বড়ত্বের শপথ, যে-ই শুনবে সে-ই এতে প্রবেশ করবে (অর্থাৎ এতে প্রবেশ করতে যা করা দরকার তাঁর সবই করবে)'। তারপর আল্লাহ জান্নাতকে আদেশ দিলেন দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ ও অপছন্দনীয় জিনিস দিয়ে পরিবেষ্টিত হয়ে যেতে। তিনি জিবরীলকে আবার বললেন, 'ফিরে যাও এবং দেখে আসো সেই জান্নাত ও তার অধিবাসীদের জন্য আমি কী প্রস্তুত করে রেখেছি'। জিবরীল জান্নাতে ফিরে গিয়ে একে বিপদ আপদ ও অপছন্দনীয় জিনিস দিয়ে ঘেরা অবস্থায় পেলেন। তিনি ফিরে এসে আল্লাহকে বললেন, “আপনার বড়ত্বের শপথ, আমি ভয় করি যে কেউই এতে প্রবেশ করবেনা। (অর্থাৎ সে এটি এড়ানোর জন্য যা করা দরকার তা-ই করবে)।”
.
দার্শনিকরা বলেন, ‘সত্যই সুন্দর, সুন্দরই সত্য’। তবে সত্যের পথ সবসময় সুন্দর হয় না, সহজ হয় না। এটি বলেছেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক মুহাম্মদ (সা.)।
.
চিরশান্তির আবাস জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, হাজারো ব্যথা-বেদনা। তাই তো জান্নাতের পথের যাত্রী যারা, তাদের জীবনেও আনন্দের চেয়ে বেদনা, হাসির চেয়ে কান্নাই বেশি দেখা যায়।
.
দুনিয়ায় যখন কাউকে সুখের ভেলায় ভাসতে দেখেন, অথচ সে আপনার মত পরহেজগার নয়, ভদ্র নয় তখন মনে হয়, সেই বুঝি ঠিক করছে।
.
আল্লাহ'র পথে চলে, ভদ্র থেকে কষ্ট-যন্ত্রণা ছাড়া কী জুটল পোড়া কপালে? তার চেয়ে বরং মিথ্যের সঙ্গে মিশে গিয়ে, বেয়াদবি করে কিছু দিন আনন্দ করে নিলেই ভালো হতো!
.
এরকম ভাবনা আমি আপনি, আমরা সবাই ভাবি, যে আমার এই ভাল মানুষির প্রতিদান কী এই? আল্লাহ তায়ালা কী আমাকে দেখেন না? আমার কষ্ট অনুভব করেন না?
.
আর আল্লাহ তায়ালা সূরা দোহার ১-৫ আয়াতে পূর্বাহ্ন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতের শপথ নিয়ে যা বলেন তার ভাবার্থ এমন যে,
.
'সত্যের পথে, সুন্দরের পথে চলার পরও যে দুঃখ বেদনা তোমাকে ঘিরে রেখেছে তার মানে এই নয় যে, তোমার প্রেমময় প্রভু তোমায় ভুলে আছেন কিংবা তোমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আসলে তোমার প্রভুর ইচ্ছা তোমাকে শেষ প্রতিদানের দিন অঢেল দেবেন। যা প্রথমের চেয়ে অর্থাৎ বর্তমানের চেয়ে অনেক উত্তম এবং সুখকর হবে'।
.
আল্লাহ পাকের ইচ্ছা, তিনি আমাদের শেষ প্রতিদান ভালো দেবেন।
.
এই দুনিয়ার নেয়ামত গুলো এমনই, স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।কিন্তু জান্নাতের প্রতিটা নেয়ামত এমন ভাবে তৈরী করা হবে আমাদের জন্য যেগুলো একমাত্র উদ্দেশ্যই হবে কেবল আমাদেরকে সন্তুষ্ট করা, আর অন্য কিছু নয়। পৃথিবীর মন খারাপের উপলক্ষ্য গুলো জান্নাতে মন ভালোর উপলক্ষ্যে কনভার্ট হবে।
.
এইতো মাত্র ক'টা দিন!!
.
এই দুনিয়া মন ভাংগার, মনে আঘাত পাবারই জায়গা। এখানে এমন কেউ/ কিছু নেই যার থেকে আপনার আঘাত না পাবার সম্ভাবনা আছে।
.
জোর দিয়ে এই তালিকা থেকে কাউকে বাদ দিতে পারবেন না। এমনকি আপনার প্রিয় কিংবা রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোকেও বাদ দেওয়া যাবেনা।
.
আমাদের অপেক্ষা হোক, কেবল জান্নাতের...
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
.
লেখাঃ শাহ মোহাম্মদ তন্ময় (আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now