বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প হোক অণুপ্রেরণাময়ঃ
“ধৈর্যের এক অংশ”
:
আল্লাহর রহমতে পৃথিবীর অনেকগুলো মুসলিম
রাষ্ট্রে সফর করেছি, কিন্তু আজও আমার কাছে
একটা জিনিস অজানা রয়েছে, আর সেটা হলো
ইয়েমেনের হুমাইরা হেরার ধৈর্য কি পরিমাণঃ
.
আমি, আমার স্ত্রী, আর আমার ভাতিজীকে নিয়ে
মাস্তুরাত জামায়াতে গেলাম ইয়েমেনে, ওখানে
গিয়ে আমরা আমাদের সমস্ত কাগজ পত্র হারিয়ে
ফেলি, দেখলাম আমাদের দিকেই পুলিশ আসছে,
তখন একটা অজানা হতাশায় ভুগছিলাম, আর আমি
এস্তেগফার পড়ছিলাম, আমার স্ত্রীকে দেখে
এক মহিলা সালাম দিলেন, আর কুশল বিনিময় করলেন,
অকপটে আমার স্ত্রী বললো আমরা পাকিস্তানি,
এখানে আসার পর সব কাগজ পত্র হারিয়ে ফেলেছি,
এখন পুলিশ যদি সুযোগ না দিয়ে, আমাদের ধরে
নিয়ে যায়।
উনি মুসকি হাসি দিয়ে বললো,
- “বোন কোন ভয় নেই, ওরা মানুষ, কোন মানুষকে দেখে ভয় পেতে নাই, ভয়তো কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু
ওয়া তায়ালাকেই পেতে হয়।”
পুলিশ আসলে, উনি পুলিশকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেন, আর আমার স্ত্রীকে বলেন,
- “বোন চলেন আমার ছোট্ট কুটিরে।
উনার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে, উনার বাসায়
গেলাম, আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম।
উনার কুটির দেখে ভাবতে লাগলাম,
এত ছোট ঘরে মানুষ বসবাস করতে পারে তা
কখনোই জানতাম না।
সত্যিই অবাক করা বিষয়, উনি আমাদের তিনজনকে দুটো রুটি আর একটু তেল দিলেন।
তিনজন দুটো রুটি এটা কি করে হয়,
যেখানে আমার একারই প্রয়োজন 5/6 টা রুটি।
যাইহোক সাত পাঁচ ভেবে তিনজন ভাগাভাগি করে
খেয়ে নিলাম।
এতক্ষণ পর একজন বৃদ্ধের ব্যাথায় কুকানো আওয়াজ কানে ভেসে এলো, ওখানে গিয়ে দেখি চতুরঙ্গপাশ রঙিন পলিথিনে ঘেরা, আর তার মধ্যে একজন বৃদ্ধ, যার শরিরের দুই তৃতীয় অংশ গোশত নাই, পঁচে পঁচে ঝরে গেছে। কিছু কিছু জায়গায় হাড় দেখা যাচ্ছে।
যেখানে এক মিনিট থাকা উক্ত মহিলাটি একটা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিচ্ছে, আর তার কপালে চুম্বন করছে, ফলে পঁচা গোশত ঠোঁটের সাথে লেগে যাচ্ছে।
আবার কখনো বা উনাকে বুকের সাথে
আলগে ধরে চোখের পানি ফেলছে।
করুণ দৃশ্য সহ্য করতে না পারায়, চলে এলাম।
কিছুক্ষণ পর পরিপূর্ণ পর্দাওয়ালা এক মেয়ে বাসায়
প্রবেশ করলো, আর উক্ত মহিলাকে মা মা বলে
বুকে জড়িয়ে কান্না করছিল। উনারা ছোট্ট একটা
ওড়না দিয়ে ঘরের মধ্যেখানে পর্দা করে নিলেন,
প্রথম বার বুঝলাম, পর্দা করার জন্য ব্যাংক ব্যালেন্স,
গাড়ি বাড়ি লাগেনা।
শুধু আল্লাহর ভয় থাকলেই হলো।
মেয়েটা কিছু খাবার চাইছিল, আর উক্ত মহিলা বলছিলেন,
- “মা, আজ আমাদের পরম সৌভাগ্য, আল্লাহর অনেক গুলো পছন্দের কাজের মধ্যে আজ আমরা একটা কাজ করেছি। মেয়েটি বলছিল,
- “মা গো সেটা জলদি বলো।”
মহিলাটি বললো, “আজ আমরা তিনজনকে মেহমানদারী করেছি আলহামদুলিল্লাহ,
এই নাও পানি, তুমি ও খাও, আমিও খাই, তোমার বাবাও খাবে, একদিন খানা না খেলে কি হয়।”
মেয়েটি বললো,
- “মা মৃত্যুর পরতো আমাদের
কোন কষ্ট থাকবেনা, আল্লাহ নিশ্চয়ই তার মুমিন
বান্দাদের দুনিয়ায় পরীক্ষা করেন, আর আমরা যদি
এই পরীক্ষায় ফেল করি, তবে হয় কি করে, মৃত্যুর
পরতো আল্লাহ আমাদের না খাইয়ে রাখবেন না,
আমি জানি এই মেহমানদারীতে কত সওয়াব, আল্লাহর
শুকরিয়া তিনি যে আমাদের দিয়ে একটা মহৎ কাজ
করালেন, চলো না মা, প্রাণ ভরে আল্লাহকে ডাকি।”
এইসব শুনে আমি আর চলার শক্তি পাচ্ছিলাম না, রুটি দুটি যদি নাও খেতাম তবে কতইনা ভাল হতো।
আমি তাদেরকে ফলো করেই যাচ্ছি, কারণ তাদের
থেকে বহুত কিছু শেখার আছে। মা আর মেয়ে
নামাজে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে, শেষ পর্যন্ত
শুধু কান্নায় করলো, উনারা নামাজ পড়ে, ঐ বৃদ্ধর
কাছে চলে গেলো, আমি ঐ জায়গায় গিয়ে দেখি,
তাদের চোখের পানিতে পুরো মাটি ভিজে
গেছে, আল্লাহর কছম ওখানে এতটা চোখের
পানি পড়েছে যে, তা যদি বাহিরের জমিনে পড়তো,
তবে সেখানে যে কোন ফসল ফলানো যেতো।
মাটিতে হাত দিয়ে আমি কিছুক্ষন নাড়াচাড়া করলাম যার ফলে আমার হাতে অনেক কাঁদা লেগে গেলো,
সেগুলো ধুইতে গিয়ে দেখি, ঐ মহিলা ঐ পুরুষকে
ধরে নামাজ পড়াচ্ছে, আমি তো অবাক, এই মানুষও
এক ওয়াক্ত নামাজ ছাড়ে না।
আর কত মানুষ সুস্থ শরীর নিয়েও নামাজ পড়েনা।
রাতের বেলায় মহিলাটি মনে হয় দুই ঘন্টা ঘুমায়, আর
বাকি সময় আল্লাহর ইবাদত করে, ভোরে উনি
কোথায় জানি চলে গেলেন, আমি তখন ঐ বৃদ্ধকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলাম,,
উনি বললেন,
- “বিয়ের ৮ মাস পরেই উনি বিছানায় পড়েন, তখন উনার
স্ত্রী অন্তসত্তা ছিলো। আর সেই থেকে আজ
দীর্ঘ ২২ বছর তার স্ত্রী নিজ হাতে চাটাই বানিয়ে
বিক্রি করে, যেদিন বিক্রি হয়, সেদিন তিনজন দুইটা রুটি
খায়, আর যেদিন বিক্রি হয়না, সেদিন না খেয়েই
থাকেন। উনি কান্না করছিলেন আর বলছিলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ।
আমি আমার স্ত্রীর উপর রাজি খুশি, আল্লাহ যেন তাকে মা ফাতেমার সাথে জান্নাতে থাকার সৌভাগ্য দান করে।
এই ২২ বছরে সে আমার উপর ২ মিনিট রাগ
করেনি। কখনো নিজের ভাগ্যকে গালাগালি করেনি।
মেয়েকে হাফেজা, আলেমা বানিয়েছে, আর
আমি খুব ভাগ্যবান পুরুষ যে, এমন স্ত্রী পেয়েছি,
যে কিনা আমাকে নববধূর মতো ভালবাসা রোজই
দেয়।”
:
(“ধৈর্যের এক অংশ”
মাওলানা আব্দুর ওহাব সাহেব)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now