বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ধুর পাগলি মেয়ে, আমার একটুও কষ্ট নেই, তুই যতক্ষণ আমার পাশে থাকবি ততক্ষণ আমার কোনো কষ্ট হবে না। বাবার পাশে থাকবি তো সবসময়?
সত্যিই বাবা তোমাকে কখনও ছেড়ে যাবো না। (নাইমা)
এটাই যেন হয়, আমার একছেলে আর মেয়েকে বাকি জীবনটা কাঁটাতে চাই।
বেলা ২টা ৩০ মিনিট বেজে গেছে। বাবা আর মেয়ে এবার উঠে পড়লেন। ঠাঠানো রোধ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না । পার্ক থেকে বের একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলেন, খালেক সাহেবের পেটে কোনো ক্ষিধে লাগেনি, মেয়েকে কিছু খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে ক্ষিধা লাগছে বলেই রেস্টুরেন্টে যান। সামান্য কিছু নাস্তা করে চলে আসেন। নাইমাকে হোস্টেলে দিয়ে তারপর তিনি বাসায় চলে যান। হাসি মুখেই বাসায় প্রবেশ করলেন। সায়েম বাবার হাসিমুখ দেখে অনেকটা অবাক হলো। মা মারা যাওয়ার আজ ৯ মাস। এই ৯ মাসে প্রথম বাবার মুখে হাসি দেখতে পেল! সত্যি সায়েমের অনেক ভালো লাগছে। ইফাতকে নিয়ে সায়েম বেরিয়ে পড়ল। খালেক সাহেব রুমে এসে ঘুমানোর চেষ্টা করলেন, ঘুম আসেনা। তার ভাবনায়, যদি মেয়েটা এসে মাথায় হাত বুৃলিয়ে দিত তাহলে হয়তো ঘুমটা চলে আসতো! মেয়েটা যখন ছিলনা তখন এই সমস্যাটাও করতো না। এখন কেন করে? নাহ আর পারা গেল না। মেয়েটাকে রেখে এসে আর থাকা যাবেনা দেখছি। এর সমাধান করা উচিৎ। কিন্তু কিভাবে করবো? একটাই সমাধান, মেয়েটাকে আমার বাসায় আনতো হবে। এটা কি ঠিক হবে? আর নাইমা কি রাজি হবে? বুঝিয়ে বললে মেয়েটা নিয়ে আসতে সমস্যা হবে না। কিন্তু সমস্যা হলো সায়েম। সে যদি অমত করে তাহলে তো আনতে পারবোনা। সায়েমের সাথে কথা বলে দেখি কি বলে?
খালেক সাহেব এই সিদ্ধান্ত করে বিছানায় শুয়ে শুয়ে টেলিভিশন দেখতে লাগলেন। সন্ধ্যার দিকে সায়েম ইফাতকে সাথে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করলো। খালেক সাহেব ধীরে ধীরে ছেলের রুমে প্রবেশ করে, দাঁড়িয়ে থাকলেন। সায়েম বুঝতে পারলো বাবা কিছু বলতে চাচ্ছেন! সে জিজ্ঞাসা করল, বাবা কিছু বলবেন?
হ্যা একটা কথা বলার ছিল (বাবা)
তাহলে বলো (সায়েম)
তুইতো জানিস বাবা, তোর মা মারা যাওয়ার পর আমি খুবই কষ্টে একা সময় কাটাচ্ছি। আর আমার এভাবে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। (বাবা)
হ্যা, আমি জানি বাবা, তোমার অনেক কষ্ট হয়। এখন আমি কি করতে পারি তোমার জন্য? (সায়েম)
তোকে কিছু করতে হবে না। আমি একাকিত্ব থেকে মুক্ত হতে একটা মেয়েকে আনতে চাইছিলাম, আমাদের বাসায়। যদি তোর কোনো আপত্তি না থাকে (বাবা)
তুমি কি আবার বিয়ে করতে চাচ্ছো? (সায়েম)
কি বলিস? এই বুড়ো বয়সে আবার বিয়ে করবো? (বাবা)
তাহলে মেয়ে বললা যে, আমি মানেটা বুঝলাম না। (সায়েম)
আমাকে বলতে দিবি তো! (বাবা)
আচ্ছা বলো (সায়েম)
আমি একটা মেয়েকে আমার নিজের মেয়ে বানিয়েছি, মানে সে আমাকে বাবা বলে ডেকেছে আর আমি থাকে নিজের মেয়ের মত দেখি। মেয়েটির নাম নাইমা। অনেক ভালো মেয়ে। যদি আমাদের বাসায় নিয়ে আসি তাহলে তোর কি কোনো আপত্তি আছে?(বাবা)
বাবা কি যে বলনা! এটা তোমার বাসা! তুমি যাকে খুশি তাকেই তো আনতো পারো তাইনা। আমাকে জিজ্ঞাসা করার কি আছে? তুমি যে কাউকে এনে নিজে যদি ভালো থাকো, আমি এতেই অনেক খুশি । (সায়েম)
আমি আনতে পারি যে কাউকে সেটা কোনো ব্যাপার না। তুইতো আমার ছেলে, তোর যদি কোনো সমস্যা হয়? সেটাও তো আমার দেখা উচিৎ তাই না। (বাবা)
আমার কোনো সমস্যা নেই বাবা। তুমি আনতে পারো। (সায়েম)
খালেক সাহেব অনেক খুশি হলেন। যাক ছেলেটা রাজি হয়েছে। এবার নাইমাকে রাজি করানোর পালা। খালেক সাহেব রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। সায়েম দরজার দিকে তাঁকিয়ে আছে আর ভাবছে, হয়তো এই মেয়েই আমার বাবার মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলেছে । বাবার মুখের এই হাসিটা অনেক দিন থেকে কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছিল, আজ আবার যেই হাসিটাদেখা গেল। যেই মানুষটা বাবার মুখে হাসি ফিরিয়ে আনলো,সে নিশ্চয় অনেক ট্যালেন্টেড! বাবার কাছে আসলে বাবা যে অনেক আনন্দে থাকবেন এটা এমনিতেই উপলব্ধি করা যাচ্ছে। এসব নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর সায়েম তার পালিত ছেলে ইফাতের সাথে খেলাধুলা করতে লাগলো।
খালেক সাহেব রুমে এসে নাইমাকে ফোন দিলেন। নাইমা সবেমাত্র পড়তে বসছে। বাবার নাম্বার মোবাইলে ডিসপ্লেতে ভেসে উঠল,সে ফোন ধরল। বাবাকে অনেক খুশি খুশি লাগছে। জিজ্ঞাস করলো নাইমা,
বাবা কি হইছে, এত খুশি খুশি লাগছে তোমায়?
সত্যি খুব খুশি লাগছে। খুশির সংবাদটা কালকে সামনাসামনি তোকে বলবো। (বাবা)
কেনো এখন বললে সমস্যা কি? (নাইমা)
সমস্যা আছে! বলা যাবে না। (বাবা)
আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, কালকে বলবা। এখন বলো কিছু খাইছো? (নাইমা)
একটু পর চা আসবে, তারপর খাবো। (বাবা)
ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করবা কেমন? এখন ফোন রাখি, আমাকে একটু পড়তে হবে। কাল ভার্সিটির একটা ক্লাস পরিক্ষা আছে। (নাইমা)
আচ্ছা পড় তাহলে। আর শোন, ঠিকমত পড়ালেখা করবি। (বাবা)
আচ্ছা বাবা, এখন রাখি। ফোন কেটে গেল। নাইমা আবার পড়াতে মনোযোগের চেষ্টায় আছে। কিন্তু পড়তে আর পারলোনা। আবার সায়েমের চিন্তাটা তার মাথায় চলে আসলো। সায়েমের যে মিশন নিয়ে সে মাঠে নেমেছে। এখনও সেই মিশনটা শেষ হয়নি। বাবা যতটুকু বলেছেন সেটাতেও পরিষ্কার হয়নি। সায়েমের মা মারা যাওয়ার আগ থেকে সে এরকম অদ্ভুত আচরণে লিপ্ত! কেন এসব করে সেটা কেউ জানেনা। সায়েম বিয়ে করেনি অথচ কোথা থেকে একটা বাচ্চা এনে নিজের ছেলের মত করে লালনপালন করছে! এখনও এ বিষয়টা পরিষ্কার না। বাবা হয়ে ছেলের ব্যাপারে যেহেতু এসব জানেননা, আর কেউ এরচেয়ে বেশি জানার কথাও না। এখন সায়েমকেই টার্গেট করতে হবে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now