বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পাঁচদিন চিকিৎসা করার পর সালমা চোখ খুলল। মনের মধ্যে একটা তৃপ্তি চলে আসে।
পাশে ফিরে সালমা আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করল, আমি কেমন আছি?
আর চোখের পানি কিভাবে ধরে রাখি? সালমাকে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলি। ডাক্তার আমাকে কাঁদতে বারণ করে। আমাকে বলে, এতে সালমার অনেক সমস্যা হবে। আমি নিজেকে সামলে নেই। দাঁড়িয়ে থাকি সিটের পাশে। সালমার দিকে চেয়ে আছি, দেখি পাগলিটা চোখের পানি ছেড়ে দিছে। সালমাকে শান্তনা দেওয়ার কোনো ভাষা আমার কাছে ছিলনা। নিজেকে আর সংযত করতে পারছিলাম না। সালমার কেবিন থেকে বের হয়ে বাহিরে এসে চোখের পানি ছাড়ছিলাম। ডাক্তার এসে আমাকে বলে, সালমাকে ক্যামো করাতে হবে । সাথে এও বলে যে বাঁচার আশংকা শতকরা ৭০ ভাগ। আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল আমি হারানো চাঁদকে খুজে পেয়েছি। সায়েমকে ফোন করে এই খুশির সংবাদটা দেই। সায়েম আমাকে তখনও বিশ্বাস করতে পারেনি, বারবার কান্না করছিল। সালমাকে ক্যামো করানো হলো । ধীরে ধীরে সালমার উন্নতি হচ্ছে। প্রায় একমাস সিঙ্গাপুর থাকার পর সালমার অনুরোধে তাকে নিয়ে আবার বাংলাদেশে চলে আসি। তখন সে ৯০% ভালো হয়ে গিয়েছিলো। ক্যামো করানোর ফলে ধীরে সালমার চুল পড়ে যেতে লাগল। এটা দেখে সালমা খুবই সংকুচিত হত। আমি যখন পাশে থাকতাম না শুধু নিরবে কাঁদতো। আমি সেটা বুঝতে পারতাম। সবসময় খেয়াল করতাম সালমার মাঝে আগের মত সেই চঞ্চল ভাব আর নেই। যার হাসিমুখটা না দেখলে আমার সারাদিনটা অধরাই থেকে যেত, একমাস থেকে সে হাসছেনা! আমি কি ভালো আছি? সবসময় এটাই ভাবতাম। প্রিয়তমা স্ত্রীর হাসি দেখার জন্য আমি আকুল হয়ে থাকতাম। কিন্তু আমি ব্যর্থ ছিলাম। এইরকমভাবে, চাঞ্জল্যকর একটা পরিবার হয়ে নিরবতার মধ্যে দেড় বছর কাটিয়ে দেই। সায়েম কোর্স কমপ্লিট করে দেশে চলে আসে। সালমার মুমূর্ষু চেহারা দেখে ছেলেটা মাকে ধরে অনেক কাঁদে। মা ছেলের কান্নার দৃশ্যটা দেখে আমি নিজেকে সংযত করতে পারিনি, চলে আসি তাদের সামনে থেকে, অন্য রুমে গিয়ে বসে থাকি। কষ্টে মনে হয়েছিল তখন বুকটা ফেটেই যাবে। ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হতে লাগল। সায়েম উকিল হয়ে অনেক বড় বড় কেস জিতে খুব তাড়াতাড়ি খ্যাতি অর্জন করে। আমার সাথে এসব শেয়ার করতো আর অনেক খুশি থাকতো সবসময়। কিন্তু তার মা মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে সায়েমের কি যেন হয়ে গেল, আমি বুঝতেই পারলাম না। একদিন রাতে বাসায় ফিরে পাগলের মত শুধু চেঁচামেচি
আর কান্না করতে লাগল। আমরা সবাই মিলে সায়েমকে বারবার জিজ্ঞাসা করলাম, কি হইছে? সায়েম আমাদের কিছু বলেনি। আমরা তখন ভেবে নিলাম হয়তো কেস হেরে গেছে কষ্ট পেয়ে তাই এরকম পাগলামি করছে। সায়েমকে শান্তনা দিতে লাগলাম। সায়েম আমাদেরকে বলল, একা কিছু সময় থাকতে চায়! আমরা যেন তার রুম থেকে চলে যাই। আমরা চলে আসলাম, তারপর কিছুক্ষণ শুয়ে থেকে বুঝলাম সায়েম শান্ত হয়ে গেছে। আমরা তখন ঘুমিয়ে পড়ি। পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে সায়েম কোথায় যেন চলে গেল। আমি রুমে গিয়ে সায়েমকে না পেয়ে ফোন দিলাম, সায়েম বারবার ফোন কেটে দেয়! অবশেষে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। আমার অনেক টেনশন হচ্ছিল। সালমা আমাকে বারবার সায়েমের কথা জিজ্ঞাসা করছিল, আমি সালমাকে এ বিষয়টি জানাই নি। এমনিতেই অসুস্থ, আর এই বিষয়টি যদি জানাই তাহলে চিন্তা করে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই সালমাকে বলছিলাম, সায়েম একটা কাজে বাহিরে গেছে। সালমাকে চিন্তামুক্ত রাখলেও নিজের ভেতরে অনেক অস্বস্থি হচ্ছিল। তারপর বেলা দুইটার দিকে সায়েম ছোট একটা বাচ্চাকে নিয়ে বাসায় আসে! এক-দুইদিন হবে বাচ্চার বয়স! আমরা তাকে জিজ্ঞাস করলে কিছুই বলে না। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে শুধু বাচ্চাটিকে আদর করে। আমরা তাকে আর কিছুই জিজ্ঞাসা করিনি। এরপর থেকে সায়েম ধীরে ধীরে কেমন হয়ে যায়, সবার সাথে আগের মত কথাও বলে না। কারোও কেসের দায়িত্ব হাতে নেয় না। শুধু বাচ্চাটিকে নিয়ে সারাক্ষণ পড়ে থাকে। কেউ চাইলেও বাচ্চাটিকে তার কাছে দেয়না, আঁকড়ে ধরে বাচ্চাটিকে। বাচ্চার যখন নবম দিন সে বড় একটা গরু জবাই করে বাচ্চাটির জন্য উৎসর্গ করে দেয়। নাম রাখা হয় ইফাত আব্দুল্লাহ। ইফাতের বয়স ৬ মাস হয়ে গেল। বাসার সবাই ইফাতকে নিয়ে ব্যস্ত। সায়েম সবসময় ইফাতকে মায়ের মত করে লালন পালন করছে। ছোট ইফাত খুব মিষ্টি হাসা শিখে যায়, আমরা সবাই খুব খুশি ছিলাম। যদিও সায়েমের মুখে একটুও হাসি দেখা যায় নি। ইফাতকে নিয়ে এভাবেই আমাদের দিন কাঁটছিল। একদিন রাতে আমি আর সালমা ঘুমিয়ে আছি । ঘুমের মধ্যে আমি শুনতে পাই,সালমা চিৎকার করে উঠল! তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়ি। দেখি সালমার নাক মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছে! আমি চিৎকার দিয়ে উঠি। সায়েম ও কাজের মানুষ সবাই ছুটে আমার রুমে। সালমা এমন অবস্থা দেখে সবাই সালমাকে কালেমা শোনাতে লাগল। রাত ১২.৩০ মিনিট। দেখলাম সালমা হঠাৎ হা করলো, আর সাথে চোখ বন্ধু করে ফেললো। সালমা আমাদের ছেড়ে চলে যায়। সায়েম মায়ের মৃত্যু মেনে পারেনা। পাগল ছেলেটা মায়ের গলায় ধরে কান্না করতেছে। আমি নিস্তেজ! আমার চোখে পানি ছিলনা। সব জল এক হয়ে বরফে পরিণত হলো। । দেয়ালের পিঠ ঠেকিয়ে বসে থাকলাম। সালমাকে কাফন দাফন করানো হলো। আমি সালমাকে হারিয়ে নিজে পোড়ানো ইটের মত হয়ে যাই। সায়েমকে নিজের ব্যবসার ভার দিয়ে সবসময় ঘরে বসে সময় কাটাতাম। তখন থেকে এই পর্যন্তই আমি এভাবেই আছি। নাইমার অঝোরে কাঁদছে, বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, সরি বাবা। তোমাকে পুরনো কষ্ট মনে করিয়ে দিয়ে আবার কাঁদালাম।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now