বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চোখে নেই জল (পর্ব : ৯)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সায়েমকে আয়ত্বে আনতে হলে কয়েকদিন তার পাশে পাশে থাকতে হবে। কিন্তু সায়েমের কাছাকাছি থাকাটাও প্রায় অসম্ভব। একমাত্র পথই খোলা সেটা তাদের বাসায় কয়েকদিন থাকা। বাবাকে বলে বাসায় থাকাটা কি আমার উচিৎ হবে? বিষয়টি ক্লিয়ার হতে তো হলে বাসায় যেতেই হবে। দেখি বাবাকে বলে, বাবা কি বলেন? এসব ভেবে ভেবে অনেক রাত হয়ে গেল নাইমা সেটা খেয়াল করতে পারলোনা। জুলির ডাকে ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এসে খেতে গেল। খাওয়া শেষ করে এসে ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল ১০ টার সময় থেকে নাইমার পরিক্ষা শুরু। ঘুম থেকে উঠতে অনেক দেরি হয়ে গেছে । কোনো কিছু না খেয়ে পরিক্ষা দিতে চলে যায়। ১টার সময় পরিক্ষা শেষ হয়। ক্যাম্পাসে কামিলের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেয়। কামিল ক্যাম্পাসে থেকে যায় আর নাইমা বাহিরে চলে আসে, পেটে খুব ক্ষিধা লাগছে। বাসায় যাওয়াটা এখন শ্রেয়। গেটে পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ীর অপেক্ষা করতে লাগল। একটা গাড়ী এসে সামনে থামলো। নতুন বাবা ডাক দিলেন নাইমাকে। বাবাকে গাড়ীতে দেখে নাইমা খুশি হয়ে গাড়ীতে ওঠলো। প্রায় তিনঘণ্টা পরিক্ষা দিয়ে অনেকটা ক্লান্ত আর মুমূর্ষু হয়ে বসে আছে গাড়ীতে। বাবা সেটা বুঝতে পারলেন। পাশ থেকে একটা টিফিনের বাটি বের করে নাইমার হাতে দিলেন। নাইমা আশ্চর্য হয়ে থাকিয়ে থাকলো। বাবা টিফিন খুলতে বললেন, নাইমা টিফিন খুলল। টিফিনের ভেতরে ভোনা খিচুড়ি দিয়ে ভর্তি। বাবা টিফিন কেনো এনেছো? (নাইমা) পাগলি মেয়েটা বলে কি? টিফিন এনেছি খাবে বলে। এতোক্ষণ পরিক্ষা দিয়ে এসেছিস, নিশ্চয় অনেক ক্ষিধা লাগছে। খাওয়া শুরু কর তাড়াতাড়ী।(বাবা) আমি খাইতে পারবোনা, তুমি খাইয়ে দাও। (নাইমা) বাবা নাইমাকে মুখে তুলে খাবার দিচ্ছেন, লক্ষি মেয়ের মত নাইমা খাচ্ছে। এই দৃশ্যটাই মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যের মধ্যে একটি দৃশ্য। খাওয়া শেষে নাইমা বলল, বাবা কি যেন বলবে বলছিলে এখন বলো, আমি শুনছি। বাবা মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, অপেক্ষা কর, কোথাও বসে তারপর বলছি। গাড়ীতে যেতে যেতে খালেক সাহেব দেখলেন, একটা বড় দিঘী। খুব সুন্দর, মনোরম এলাকা। গাড়ী থামালেন, নাইমাকে নিয়ে নেমে দিঘীর পাড়ে গিয়ে ছাউনীতে বসলেন। নাইমাকে প্রমিস করালেন, বাবা হিসেবে একটা অধিকার নিয়ে তার কাছে কিছু চাইবেন! যা থাকে মানতে হবে। নাইমা অনেকবার জানতে চাইল কিন্তু বাবা তাকে বললেন না। শেষে প্রমিস করে ফেললো। বাবা এবার বললেন, তোকে আমার বাসায় গিয়ে থাকতে হবে। তোকে ছেড়ে এখন আমি থাকতে পারিনা। প্লিজ মা, না করিসনা। নাইমা মনে মনে অনেক খুশি হলো কিন্তু প্রকাশ করলোনা। তারই তো টার্গেট ছিল, বাবার বাসায় গিয়ে সায়েমের রহস্য বের করা। যাক আর নিজ থেকে বাবাকে বলা লাগলোনা। বাবা নিজে যখন অফার দিয়েছেন, লুফে নেয়াটাই অনেক ভালো হবে। কিছুক্ষণ মনঃস্থ হয়ে বাবার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। খালেক সাহেব অনেক খুশি হন। মেয়েকে বলেন, সবকিছু গুছিয়ে রাখতে! তিনি সন্ধ্যার সময় এসে নিয়ে যাবেন বাসায়। নাইমা ইস্ততবোধ করলেও রাজি হয়ে যায়। বাবা মেয়ে দুজন দিঘীর পার থেকে চলে আসলেন। গাড়ীতে ওঠে আসলেন নাইমার হোস্টেলের সামনে। নাইমাকে বিদায় দিয়ে গাড়ী নিয়ে খালেক সাহেব চলে যান। নাইমা হোস্টেলে এসে সবকিছু গোছানো শুরু করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, নাইমার সবকিছু গোছানো শেষ। হোস্টেলের সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিল। অপেক্ষায় আছে, বাবা কখন আসবেন? গাড়ীর হরণ শোনা গেল, জানালার পাশে গিয়ে দেখে বাবা এসেছেন। গোছানো ব্যাগ হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। বাবা গাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন মেয়ের জন্য। নাইমা এসে ব্যাগ গাড়ীতে রেখে সিটে বসল, পাশে বাবা বসে আছেন। গাড়ী চলছে আর নাইমা বাবার সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে হাসাহাসি করছে। কিছুক্ষণ পর নাইমা বুঝতে পারলো গাড়ীটা গেট দিয়ে বাসার মধ্যে প্রবেশ করছে। সে নিরব হয়ে বসে থাকলো। কিছুটা ভয় লাগছে নাইমার! নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারবে তো? কাঁচুমাচু হয়ে বাসার মধ্যে প্রবেশ করল। বাবা নাইমাকে তার রুম দেখিয়ে দিলেন। ব্যাগটা নিজের রুমে রেখে বাবার রুমে চলে যায়। বাবা সবাইকে ডেকে এনে নাইমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। সায়েম এখনও বাসায় আসেনি তাই তারসাথে পরিচয় করাতেও পারেননি। নাইমা বাবাকে বলে নিজের রুমে যায়, সবকিছু গোছানোর জন্য। তার রুম এমনিতেই অনেক সুন্দর করে সাজানো, নিজে আরও সুন্দর করে সাজাতে লাগল। ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা গোছানোর ব্যাপারে অনেক স্মার্ট থাকে, নাইমার ক্ষেত্রেও সেটাই প্রতিফলিত। ঘরটাকে এমনভাবে সাজালো দেখলে মনে হবে একটা রাজপ্রাসাদ! বুয়া চা এনে নাইমাকে দিল। বসে বসে চা পান করছে আর টিভি দেখছে। বাবা এসে বললেন, সায়েম আসছে, চল তার সাথে পরিচিত হবে। নাইমা ভয়ে ভয়ে বাবার সাথে সায়েমের রুমের দিকে যেতে লাগল। বাবা সায়েমের রুমে প্রবেশ করলেন, নাইমা অনেক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকলো। বাবা ডাক দিয়ে নাইমাকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। একপাশে ভীত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলোনাইমা। খালেক সাহেব, সায়েমের সাথে নাইমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। ইফাতের সাথেও পরিচিত হলো নাইমা। ২ বছর বয়সের ইফাত নাইমার দিকে তাকিয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে কখনও কোনো মেয়ের কোলে ওঠেনি সে! ইফাতের চোখের দৃষ্টিতে বোঝা যাচ্ছে, বারবার আকুল মনে চাচ্ছে নাইমা যেন তাকে একবার কোলে নিয়ে কপালে একটা চুমু দেয়। ইফাতের চাওয়াটা বুঝে ফেলল নাইমা। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চোখে নেই জল (শেষ পর্ব-১৯)
→ চোখে নেই জল (পর্ব-১৮)
→ চোখে নেই জল (পর্ব-১৭)
→ চোখে নেই জল (পর্ব-১৬)
→ চোখে নেই জল (পর্ব-১৫)
→ চোখে নেই জল (পর্ব-১৪)
→ চোখে নেই জল (পর্ব-১৩)
→ চোখে নেই জল (পর্ব -১২)
→ চোখে নেই জল (পর্ব -১১)
→ চোখে নেই জল (পর্ব : ৯)
→ চোখে নেই জল(পর্ব:৮)
→ চোখে নেই জল(পর্ব:৭)
→ চোখে নেই জল(পর্ব:৯)
→ চোখে নেই জল (পর্ব : ১০)
→ চোখে নেই জল (পর্ব :৫)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now