বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চোখে নেই জল (পর্ব :৪)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X নাইমা বারান্দায় হেঁটে হেঁটে প্লান করছে, কাল ভোরে সেখানে যাবে ঠিক আছে, কিন্তু এত সকালে তো গাড়ী পাওয়া যাবেনা। তাহলে কি করবে সে? প্লান অনুযায়ী কিছুই হবে না। নাহ, পিছপা হলে চলবেনা এখানেও কামিলের সাহায্যে নিতে হবে। এত সকালে কামিল ঘুম থেকে জেগে ওঠবে কি? হ্যাঁ ওঠবে এটা নাইমার বিশ্বাস! সে জানে, কামিলের অনেক কষ্ট হবে, কিন্তু ভালো বন্ধু না করবেনা। কামিলকে ফোন দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে নিল। নাইমা নিজেও এতসকালে ঘুম থেকে ওঠতে পারেনা! সেটাও একটা চিন্তার বিষয়! নাইমা জেগে ওঠার দায়িত্বটা মোবাইলের কাছে সোপর্দ করল। এলার্ম অন করে ক্ষণিকের নিদ্রায় নিজে হারিয়ে গেল। ভোর ৫ টা। কামিলের ফোনে ঘুম ভাঙ্গে নাইমার ! কামিল সেট করা সময়ের অনেক আগেই ঘুম থেকে জেগে ওঠেছে। এই হলো বন্ধুত্ব। নাইমার সত্যিই অনেক গর্ব হয় কামিলকে নিয়ে। যে ছেলেটি প্রতিদিন ১১ টার পর ঘুম থেকে ওঠে, সে কিনা আজ ভোর ৫ টায় ফোন দিচ্ছে নাইমাকে! নাইমা ওঠে পড়ল। ঘুমঘুম ভাব নিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে যায়। আয়না দিকে তাকিয়ে দেখে তার চোখগুলো অনেক লাল হয়ে আছে, মুখ লাগছে ফোলা। মাথাটা ঘুরছে! ইচ্ছা হচ্ছে, এখানেই ঘুমিয়ে পড়তে! দাঁত ব্রাশ করে মুখটা ধুয়ে কোনোরকম চলে আসল রুমে। ঘুমের ঘোর এখনও কাঁটছে না। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৫.৩০টা! এখনও দেড়ঘন্টা! চেয়ারে বসে পড়ল নাইমা। প্রবল ঘুমের ঘোর থাকার কারণে তার ঘুম চলে আসলো। চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়ে। কামিল গাড়ী নিয়ে গেটের সামনে চলে এসেছে। অনেকবার হরণ দিল, কোনো খবর নাই! ৭টা বাজতে ১০ মিনিট বাকি! ব্যর্থ হয়ে কামিল ফোন দিল নাইমাকে। ফোনের আওয়াজে আঁতকে ওঠল নাইমা! মোবাইলের দিকে তাকাতেই অবাক, ৬.৫৫ টা বাজে! ফোন না ধরে তাড়াতাড়ী বেরিয়ে পড়ল। গেটের পাশে কামিলের গাড়ী রাখা। অগোছালো ভাবে ওঠে গেল গাড়ীতে। রাস্তা ফাঁকা থাকায় অনেক বেশি স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে কামিল। আর বেশি সময় লাগবেনা, মাত্র ২ কিলোমিটার বাকি। হয়তো ৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবে গন্তব্যে। কামিলের গাড়ি চালানো দেখে নাইমা অনেক ভয় পাচ্ছে কিন্তু কিছুই বলছেনা, যদি কামিলকে গাড়ী ধীরে চালাতে বলে তাহলে সায়েমের আব্বাকে পাওয়া যাবেনা। মনে মনে দোয়া-দুরুদ পড়ে নিরিবিলি হয়ে গাড়ীতে বসে থাকল। কামিল গেটের পাশে গাড়ী পার্কিং করে, গাড়ী থেকে নেমে নাইমার সাথে সায়েমের আব্বাকে খুজতে লাগল। নাইমা সায়েমের আব্বাকে চিনেও না আবার কিভাবে চিনবে, সেটাও দারোয়ানের কাছ থেকে জেনে আসেনি। অনেক বৃদ্ধ মানুষ এখানে আছে। কে হবেন সায়েমের আব্বা? মুমূর্ষ হয়ে বসে পড়ল দুজন! তাহলে আজও ব্যর্থ। হঠাৎ পেছনে থেকে নাইমাও কামিলকে কেউ একজন ডাকল। তারা দুজনই পেছনে ফিরে তাকায়। একজন বৃদ্ধ তাদেরকে ডাকছেন, তারা পাশে যায়। নাইমা ও কামিলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমাদের তো কখনও এখানে দেখিনি? তোমরা কি এখানে নতুন এসেছো? নাইমার প্রতিউত্তর, জ্বি হ্যা আন্কেল আমরা এখানে নতুন এসেছি। নাইমা বৃদ্ধকে খেয়াল করে দেখতে লাগল, কিছুটা সায়েমের চেহারা মত লাগছে! হয়তো ইনিই সায়েমের আব্বা! একবার কি জিজ্ঞাসা করবো? তিনি কি কিছু মনে করবেন? যাই হোক একবার জিজ্ঞাসা করেই দেখি কি বলেন? নাইমা একটু ভীত স্বরে বৃদ্ধাকে বলল, আন্কেল আপনি কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি? মেয়েটা বলে কি? বল বল, কোনো সমস্যা নাই। আপনার ছেলের নাম কি সায়েম আব্দুল্লাহ? যিনি একসময় অনেক বড় উকিল ছিলেন। বৃদ্ধার মুখটি ফ্যাকাশে হয়ে আসল, দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বললেন, হ্যা সায়েম আমারই ছেলে । নাইমা খুশি! তার টার্গেট পেয়ে গেছে, এখন শুধু আয়ত্বে আনার পালা। বৃদ্ধার দুর্বল দিক খুজতে লাগল। বৃদ্ধার সাথে তারা অনেক মজার মজার কথা বলা শুরু করল। সায়েমের আব্বার অনেক ভালো লাগছে, অনেকদিন যাবত এরকম আড্ডা দেননি। নাইমাকে পেয়ে যেন স্বর্গ পেয়ে গেছেন। যদি তার এরকম একটা মেয়ে থাকতো! নিজের চাওয়াটা নাইমার কাছে তুলে ধরে চোখের পানি ছেড়ে দেন। নাইমার হৃদয়ে আঘাত করে বৃদ্ধার চোখের পানি। স্ব-ইচ্ছায় বৃদ্ধার চাওয়াটা পূরন করে। নাইমা এখন বৃদ্ধার মেয়ে! বৃদ্ধা তার দিত্বীয় বাবা ! সায়েমের আব্বা আবেগপ্লুত হয়ে নাইমার দিকে চেয়ে আছেন। একটা বার বাবা ডাক শোনার জন্য। তার কোনো মেয়ে নেই । তিনি সবসময় শুনে এসেছেন, মেয়ের কাছে নিজের মায়ের ছায়া পাওয়া যায়। তিনি হতভাগা অনেক চেষ্টা করেও মেয়ের বাবা হতে পারেন নি। মেয়ে না পাওয়ার যন্ত্রণায় আজও চোখের পানি ফেলেন। নাইমা বুঝতে পারলো তার নতুন বাবা কি চাচ্ছেন তার কাছে? বাবার চোখের দিকে চেয়ে তারও চোখ পানিতে ঝলমল করছে । বৃদ্ধার দিকে তাকিয়ে নাইমা বলল, বাবা তোমার মনে কি খুব দুঃখ? চোখে পানি কেন? নারে মা, আমার এখন আর কোনো দুঃখ নেই। সব দুঃখ তোর মুখে বাবা ডাক শুনেই চলে গেছে। আমার মেয়ে আমি পেয়ে গেছি । আমার কোনো দুঃখ নাই আর। জানিসরে মা, আমার অনেক বড় একটা ইচ্ছা ছিল, আমার একটা মেয়ে হবে, প্রতিদিন সকালে বাবা বলে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরবে। কপালে চুমু দিবে! সারাক্ষণ পাশে পাশে থাকবে, দুষ্টমি করবে ! মাঝে মাঝে শাসনও করবে। কিন্তু উপরওয়ালা হয়তো আমার উপর নারাজ ছিলেন, তাই তিনি অনেক চাওয়ার পরও একটা মেয়ে আমাকে দেন নি। নাইমা এবার সত্যিই কান্না শুরু করে দিল। কামিলের চোখও পানিতে ভরপুর। ঝপ নাইমা তার নতুন বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। মেয়ের অপেক্ষায় থাকা ক্ষুধার্থ বাবা মেয়েকে বুকে পেয়েই আঁকড়ে ধরলেন। সারাজীবনের এরকম অনুভতি কখনও হয়নি তার! মেয়েরা কেন বাবার প্রাণ, হাড়ে হাড়ে তিনি এখন বুঝতে পারছেন। শূন্য বুকটা ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ হচ্ছে। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চোখে নেই জল (পর্ব :৪)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now