বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এগারোটা বাজতে বেশি দেরি নেই। চৌদ্দ বা পনেরো মিনিট বাকি আছে। নাইমা একটা রিকশা নিয়ে সায়েমের বাসার দিকে রওনা হলো। রাস্তায় জ্যাম, ভাঙ্গা সবকিছু মিলে পনেরো মিনিটের রাস্তায় ৩৫ মিনিটের মত লেগে গেছে । রিকশাওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে রাস্তার একপাশে দাঁড়ালো, যে স্থানটি সায়েমের বাসার সিসি ক্যামেরার আয়ত্বে নেই, ওইখানে। আলগা থেকে কয়েকবার ইশারায় দারোয়ানকে ডাকল কিন্তু দারোয়ান দেখতে পায়নি। একটু এগিয়ে আসলো। তারপর আবার দারোয়ানকে ডাক দিল। নাহ দারোয়ানের কোনো সাড়া নেই! নাইমা ভাবল হয়তো তার গলার স্বর এতদূরে যাচ্ছেনা , তাকে আরো জোরে কণ্ঠ বের করে দারোয়ানকে ডাক দিতে হবে।
নাইমা চক্ষুলজ্জা একটু বেশিই ! সে চারদিকে তাকালো। কোন জনমানব নেই। এবার সে চিৎকার দিয়ে "এই যে চাচা" বলে দারোয়ানকে ডাক দিল। দারোয়ান ফিরে তাকায়। ইশারায় নাইমা দারোয়ানকে আসতে বলে। দারোয়ান গেট ছেড়ে আসতে অনেক ইস্ততবোধ করতেছেন। নাইমা ইশারায় করজোর করে বলল, অন্তত ১মিনিটের জন্য এখানে আসতে! মেয়ের বয়সী একটা মেয়ে অনুরোধ করছে দেখে দারোয়ান ধীরে ধীরে নাইমার দিকে আসতে লাগলেন। দারোয়ান কাছে আসলে দারোয়ানের কাছে আবার জানতে চায় সায়েম সম্পর্কে । কিন্তু দারোয়ান নাইমাকে কিছুই বলে না। নাইমা অনেক অনুরোধ করে, আর ওয়াদাবদ্ধ হয়! সে কখনও দারোয়ানের কথাগুলো কাউকে বলবে না। নাইমার এতো করে রিকোয়েস্ট দারোয়ানের মন গলিয়ে দেয়। তখন সে বলে ওঠে, আচ্ছা মা কি বলবে তাড়াতাড়ী বলে ফেল, আমি ডিউটি করছি। নাইমা একটা খুশির স্মাইলি দিয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞাস করল, সায়েম সাহেব এরকম কেন? কারো সাথে কথা বলেন না! কারোও দিকে তাকান না? এইটা কেন করেন প্লিজ আমাকে একটু বলেন?
মা'রে আমি এইবাসাতে আজ তিনবছর থেকে চাকরি করি, স্যার মোট তিনবারও আমার সাথে কথা বলেন নি! আমি নিজেও বুঝিনা স্যার এমন কেন? শুনেছি আমার স্যার অনেক বড় একজন উকিল, কিন্তু আজ চারবছর থেকে তিনি নাকি একটাও কেছ হাতে নেননি! নিজের বাবার ব্যবসা আছে, সেটাই দেখাশোনা করেন। আর কিছু জানিনা রে মা। নাইমা দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস নিয়ে তারপর দারোয়ানকে আবার বলল, চাচা আরেকটা কথা! সায়েম সাহেবের সাথে ছোট যে ছেলেটা রয়েছে সে কে?
ও ইফাতের কথা বলছো? ইফাত স্যারের পালিত ছেলে! ইফাতকে স্যার নিজের ছেলের মত ভালোবাসেন!
নাইমা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, পালিত ছেলে! কিছুই বুঝলাম না চাচা? আমার জানামতে, স্যার এখনও বিয়েই করেন নি। ইফাতকে ছোটবেলা কোথা থেকে এনে লালনপালন করছেন। সবসময় নিজের পাশে রাখেন ইফাতকে । কারোও কোলে দেননা, কারো সাথে মিশতে দেননা!
ইফাতের একটু অসুখ হলেই স্যার পাগল হয়ে যান। বাসা ডাক্তার দিয়ে ভরে ফেলেন!
শুধু ইফাতের জন্যই বাসায় তিনজন বুয়া রাখছেন, তাদের অনেক বেশি বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে, এর উদ্দেশ্য ইফাতের কোনো অসুবিধা না হওয়া! এবার তো বুঝতেই পারছো ছেলেটি স্যারের কি? এককথায় বলতে পারো স্যারের নিঃশ্বাস!
আচ্ছা চাচা, সায়েম সাহেবের বাড়িতে আর কে কে আছেন বলতে পারেন?
কে কে আছে? বলতে পারবোনা! সবাই বাসা থেকে বের হয়ে গাড়ী নিয়ে চলে যায়। আমি গেটে দারোয়ানের কাজ করি, আমার কাজ শুধু গেট খুলে দেয়া! কে আছে বা কে নাই সেটা নিয়ে আমি আজও ভাবিনি, তাই জানতেও পারিনি! তবে, স্যারের সাথে উনার বাবা থাকেন সেটা বলতে পারি । স্যারের বাবা প্রতিদিন ভোরে হাঁটতে বের হন, ফলে উনার সাথে আমার দেখা হয়। মাস শেষে উনার কাছ থেকেই আমি বেতন নেই। আমাকে অনেক ভালোবাসেন।
নাইমা এবার বলল, চাচা সর্বশেষ একটা প্রশ্নের উত্তর দিন প্লিজ আর কোনো প্রশ্ন করবোনা! সায়েম সাহেবের আব্বা ভোর কয়টার সময় হাঁটতে বের হন বলতে পারেন?
বলতে পারবোনা কেন? প্রতিদিন ৭টা থেকে ৭.৩০টা এর মধ্যে এমসি কলেজে গিয়ে ১৫ মিনিটের মত হাটাহাটি করে আসেন। বয়স অনেক হয়েছে তো তাই ব্যায়াম করে নিজেকে ফিট রাখছেন।
চাচা আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এবার আসি আমি। নাইমা দারোয়ানের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসল। যাক কিছুটা বের করতে পারছে। আসল রহস্য এখনও গোলাটে থাকলেও সে পয়েন্ট গুলো জেনে গেছে । শেষ পর্যায়ে যেতে হলে এখন সায়েমের আব্বাকেও জব্দ করতে হবে । না হলে নাইমার কোনো কিছু জানা সম্ভব না। শুধুমাত্র চিন্তাশক্তি লোপ পাবে। নাহ, থেমে থাকলে চলবে না। নাইমা ইতিমধ্যেই বিশ্বাস করে নিয়েছে এই পরিবারে অনেক বড় একটা হট্টগোল আছে! যার ফলে এই পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নাইমার বিশ্বাস, সেই পারবে এই পরিবারকে হাসি ফিরিয়ে দিতে! হয়তো তাকে কয়েকদিন কষ্ট করতে হবে, জানতে হবে এই পরিবারের পেছনের আসল কাহিনী। আবার নিজের জন্য হাসি পাচ্ছে তার! কেনই বা অচেনা একটা পরিবারের জন্য সে চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে! হয়তো মানবতার খাতিরে। কিন্তু মানবতা এতবেশি দেখানোটা তার কি ঠিক হচ্ছে!
এর ফলে নিজের জন্য কি কোনো বিপদ আসবে? আসলে আসুক, তবুও থেমে থাকবে না! সে তো থেমে থাকার মত মেয়ে না। নাইমার মা-বাবা সর্বদা অন্যের দুঃখ-কষ্ট, সমস্যাবলীর সমাধান সারাজীবন করেছেন, এখনও করেন! সে তো চোখ দিয়েই সেগুলো দেখতে পেয়েছে। তাদের মেয়ে সে ! এখন যদি পিছুটান দেয় তাহলে মা-বাবার কাজকে অসম্মান করা হবে। নিজে অদৃশ্য রহস্যে উদঘাটনের জন্য নিজের কাছে চ্যালেঞ্জ করে নিল, এটা সামনে আনবোই আনবো । সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, কাল ভোর থেকেই শুরু হবে মিশনের দিত্বীয় পর্যায়....
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now