বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি দুষ্টমি করে বললেও অর্পি বিষয়টি খুব সিরিয়াস ভাবে নেয়। রাজি হয়ে যায় আমার প্রস্তাবে! আমি অনেকটা অবাক হয়েছিলাম তখন। একটা মেয়ে কিভাবে এতো সহজে বিয়ের প্রস্তাব মেনে নিতে পারে, আমার জানা ছিলনা। আমি ফান করে তার সাথে সত্যি কাজী অফিস চলে গেলাম!
তায়েফ আর রুহান এই সময় সিলেটে ছিল, অর্পি তাদেরকে ফোন করে কাজী অফিসে আসতে বলল। তারা দুজনই মোটরসাইকেলে করে কাজী অফিসে চলে আসলো। আমার সামনে এতোকিছু করছে অর্পি, আর আমি বোবার মতো দাড়িয়ে আছি। ফান করে কথাটি বলেছিলাম অর্পিকে সে এতটা সিরিয়াস হবে, আমি ভাবতেও পারিনি। মা-বাবাকে ছাড়া বিয়ে করলে তারা অনেক কষ্ট পাবেন, আমি এভাবে বিয়ে করতে পারবোনা! অর্পিকে সেটা বলে দিলাম। অর্পি মন খারাপ করে ফেলে! অর্পির মেঘাচ্ছন্ন মুখটা দেখে আমার অনেক কষ্ট লাগলো। অর্পি আমাকে বলল, কেন তাহলে বিয়ের আশ্বাস দিলে! আমিতো তোমাকে একথা একবারও বলিনি। অর্পির চোখে আমি পানি দেখতে পাই, যা আমার কলিজার মধ্যে আঘাত করে। অর্পি চলে যেতে লাগলো, আমি নিজের কাছে নিজে অপরাধী সেজে গেলাম। অর্পির মনে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। আমি দৌড়ে গিয়ে অর্পির পথ আগলে দাঁড়াই। পাগলিটার চোখে দেখতে পাই সাগরের জল জমাট বেঁধেআছে। একটা কথা মজা করে বললে কি হলো, অর্পিতো সিরিয়াস ভাবে নিয়েছে। এই কিছুক্ষণে হয়তো অনেক স্বপ্ন একে ফেলেছে, অর্পির চোখের জলই সেটা সাক্ষী দিচ্ছে! পরে যা হওয়ার হবে, অর্পির হাতে ধরে এনে কাজী অফিসে ডুকে বিয়ে করে ফেললাম। শেষে অবশ্য অর্পির কাছ থেকে জানতে পারি, আমি দেশে আসার পর থেকে অর্পি আমার সন্তান তার গর্ভে ধারণ করে ছিল! তাই আমার প্রস্তাবে সে শর্তবিহীনভাবে রাজি হয়ে যায়। আমি এমন একটা অসভ্য কাজের জন্য নিজের কাছে খুবই লজ্জিত হয়েছিলাম। অর্পির কাছে ক্ষমাও চাইছিলাম। আমার প্রিয়তমা স্ত্রী সেদিন নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করে দিয়েছিল আমায়। আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে সংসার করতে লাগলাম। আমার ওকালতি আর সংসার খুব সুন্দরভাবেই চলছিল। হঠাৎ একটা কেস আমার জীবনকে থমকে দেয়। সত্যে খোলাসা করে দিয়ে একজন বড় রাজনীতিবিদ জাফর উদ্দিনের ছেলের ফাঁসি কার্যকর করাই। রাজনীতিবিধ কেসটি না নিতে আমাকে অনেক টাকার অফার দিয়েছিলেন, আমি গ্রহন করিনি। সত্যের পথে অটুট ছিলাম সর্বদা। শেষপর্যন্ত ওই রাজনীতিবিদ আমাকে হুমকি দেন, যদি আমি কেসটিতে লড়াই করি তাহলে আমাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিবেন। আমার মনে আরো বেশি জেদ তৈরি হয়। তারফলে আমি কেসটি জিতে যাই, আর জাফর উদ্দিনের ছেলের ফাঁসি হয়ে যায়। আমার উপর খুবই ক্ষ্রিপ্ত হয় জাফর। হন্ন হয়ে আমাকে মারার জন্য খুজতে থাকে।
এদিকে অর্পি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে, ঘরে বসে বসে থাকতে তার খুবই অসহ্য লাগছিলো। আমাকে বলল, তাকে নিয়ে একটু ঘুরতে যেতে। আমার ভালো লাগছিলোনা, তারপরও না করিনি, অর্পিকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভুল। আমরা সারাদিন ঘোরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়ে বসেছিলাম, পার্কে বটগাছের নিচে ওই বেঞ্চটিতে। অর্পি খুব সুন্দর করে বাদাম খাচ্ছিলো, আমি তাঁকিয়ে অর্পির সেই দৃশ্যই দেখছিলাম। তখনই,
আমি শুনতে পেলাম, জোরে একটা আওয়াজ হলো! সাথে সাথে চোখ বুঝে ফেলি। কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে পাশের দিকে তাকিয়ে দেখি অর্পি নেই! দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালাম, দেখতে পাই কয়েকজন পুলিশ দৌড়ে আসছে আমার দিকে! এছাড়া আর কোনো জনমানব নেই। নিচ থেকে হঠাৎ একটা গোঙানির শব্দ শুনি, তাকিয়ে যা দেখলাম সেই দৃশ্য দেখার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। রক্তাক্ত অবস্থায় অর্পি শুয়ে আছে আর অনর্গল রক্ত বের হচ্ছে। আমি চিৎকার দিয়ে উঠি, পুলিশের সাহায্য নিয়ে অর্পিকে গাড়ীতে তুলেহাসপাতালের দিকে যাই। গাড়ীতে থাকাকালীন অর্পি একটি কথাই আমাকে বলেছিল, আমি যেন আর ওকালতি না করি। আর সর্বদা ভালো থাকতে। আমার সাথে বলা এটাই ছিল অর্পির শেষ কথা। হাসপাতালে নিয়ে যাই, অর্পিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি দরজার পাশে নিথর পাথরের মত বসে পড়ি। সারাশরীরে রক্ত লাগানো। প্রায় একঘন্টার পর ডাক্তার একটা ছোট বাচ্চাকে এনে আমার হাতে দিল। আর অর্পিকে আনলেন মুখ কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায়! আমি সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে যাই।
জেগে ওঠে দেখি আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। পাশে বাচ্চাটিকে নিয়ে একজন নার্স বসে আছেন। আমি কোনো কথাই বলতে পারছিলাম না, চোখ থেকে শুধু পানি পড়ছিল। আস্তে আস্তে দাঁড়ালাম। নার্স আমার হাতে বাচ্চাটা দিয়ে বলল, আপনার বাচ্চাটাকে নিন। আমি ফুটফুটে সুন্দর আমার ছেলেটাকে নিয়ে চলে আসি বাসায়। পরেরদিন ইদগাহে গিয়ে অর্পির জানাজার নামাজ পড়ে অর্পিকে দাফন করে এসে, নিজেকে কোনোভাবেই ঠিক রাখতে পারছিলাম না কিন্তু অর্পির রেখে যাওয়া সন্তানের দিকে তাকিয়ে নিজেকে ঠিক রাখতে হয়, তবে এরপর যেন আমি পাথরের মত হয়ে যাই। আমি বুঝতে পারি, নিজে অস্বাভাবিক জীবনের মধ্যে আছি। স্বাভাবিক জীবনে আসতে এখনওচেষ্টা করছি, কিন্তু স্বাভাবিক হতে কোনোভাবেই পারছিনা। আর কিভাবেই বা হবো অর্পির শোক কাটতে না কাটতে নিজের মাকে হারিয়ে ফেলি। কষ্টের মধ্যে কষ্ট আমার জীবনটা সত্যিই অনেক দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।
সায়েম চোখের পানি ছেড়ে উপরের দিকে থাকিয়ে আছে। নাইমা কোনোকিছু বলছেনা, নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। রাত ১টা হয়ে গেছে। নাইমা ধীরে ধীরে রুমের দিকে চলল। সায়েম দাঁড়িয়ে চাঁদের কিরণে অর্পির ছায়া খুজছে। সারারাত এভাবেই কাটিয়ে দিল। বুক ভরা কষ্ট তার, কাঁদলে হয়তো একটু শান্তি পাওয়া যেত কিন্তু চোখের পানি অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে!
ভোর বেলা চাঁদ সূর্যের বুকে লুকিয়ে যায়, সায়েমের কল্পনাও হারিয়ে যায় অতলে। অর্পি হারানোর বেদনা থেকে মুক্তি কবে যে পাবে সে নিজেও জানেনা। সায়েম ছাঁদ থেকে নেমে আসে, রুমে গিয়ে সিগারেটে আগুন ধরিয়ে টানতে থাকে।
এদিকে নাইমাও ঘুমায়নি, রুমে এসে খুব কান্না করছে সে। সায়েমের এমন বেদনাদায়ক মুহূর্ত তার মনে খুবই আঘাত করছে। নিষ্পাপ একটা মেয়ের বিনা অপরাধে মৃত্যু হলো আসলে সেটা অনেক কষ্টদায়ক। অর্পির জন্য নাইমা আপসোস করতে লাগলো বিশেষকরে ইফাতের জন্যই।
ছোট বাচ্চাটা একদিনও নিজের মাকে পেলনা, সে কত দুর্ভাগ্যবান ইফাতই সেটা ভালো আঁচ করতে পারছে। তাইতো সে নিরব সাথি হারা পাখির মত সারাক্ষণ বসে থাকতো। এখন নাইমাকে পেয়ে বাচ্চাটা অনেক খুশি থাকে। নাইমা-ই এখন তার মা। ইফাত অনেক আদর করে মা ডাকে নাইমাকে। নাইমা কি ইফাতের মা ডাকার অধিকারটা দেবে না? ইফাত যে এখন তারও ভালোবাসার মধ্যমনি।
নাইমা মনে মনে বিয়ের সিদ্ধান্ত অটুট থাকলো। এই ইফাতের জন্যই নাহয় বিয়েটা করবে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now