বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি অর্পিকে ভালোবেসে ভেতরে ভেতরে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছিলাম দিনেদিনে। কোনোভাবে বলতেও পারছিলাম না, আবার তার কাছ থেকে কোনো সাড়াও পাচ্ছিলাম না। প্রতিদিন রাতে প্লান করে ভার্সিটিতে যেতাম, অর্পিকে বলে ফেলবো আমি তাকে ভালোবাসি কিন্তু অর্পির সামনে গেলেই আমার সবকিছুই ওলটপালট হয়ে যেত।
আমি না পারতাম বলতে, না পারতাম তাকে ছাড়া থাকতে! এরকম যায়যায় অবস্থার মধ্যে অনেকদিন আটকে থাকি। চলে আসে ১৪ই ফেব্রুয়ারী। আমি ডিসিশন নিলাম যে করেই হোক,অর্পিকে ঐদিনই আমার মনের কথাটি বলে ফেলবো। হয়তো সামনাসামনি আমার দ্বারা প্রপোজ করা সম্ভব হবেনা, আমি এসএমএসের মাধ্যমে প্রপোজ করবো। যেই কথা সেই কাজ। ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতে আমি প্রপোজ লেটার লিখে ফেলি, হাত অনেক কাঁপছিল লেখার সময় ! কিন্তু আমি পিছপা হইনি। এখনকার মত রাত জাগার অভ্যাস আমার কখনও ছিলনা, রাত ১০ টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়তাম। কিন্তু ওইদিনই আমি জেগে থেকে রাত ১২ টার অপেক্ষা করছিলাম। সময় যখন এগারোটা পার হয়ে গেল, আমার হৃদস্পন্ধনটা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কনকনে শীত থাকা সত্ত্বেও আমার শরীর থেকে ঝরঝর করে বৃষ্টির মত ঘাম বেরোচ্ছিল।
১২ টা বাজতে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। আমি মেসেজের send বাটনের উপরে আঙ্গুল রেখে বসেছিলাম। যখন ১২ টা বেজে যায় তখন সরাসরি মোবাইলের send বাটনে আঙ্গুলের চাপ লেগে যায়। মাথা ঝিমম করে ওঠে। আমি হাত থেকে মোবাইল ছেড়ে দেই। রুমের একপাশে কাঁচুমাচু হয়ে বসে থাকি, হেলান দিয়ে। মোবাইলে রিং বেজে ওঠে! আলগা থেকে উঁকি মেরে দেখি অর্পির ফোন। আমি ভয়ে ফোন কেঁটে দেই। তিনবার এভাবেই ফোন করলো অর্পি! আর আমি কেঁটে দিলাম।
তারপর মেসেজ আসলো, "সায়েম ফোন ধর বলছি"! মেসেজটি পড়ে আমি আঁতকে উঠি। অর্পি সত্যি রেগে গেছে। নিজের অনেক কান্না আসছিল। আবার ফোন আসলো অর্পির। কেঁপে কেঁপে ফোনটা রিসিভ করে আলগা রাখলাম। অর্পি রাগত স্বরে বললো, তার সাথে আমি সকাল ১০ টার সময় পার্কে দেখা করতে! আমি কোনো কথা না বলে নিরব হয়ে বসেছিলাম। অর্পি ফোন কেঁটে দেয়। আমি বিছানায় গিয়ে বসে পড়ি। অর্পির রাগত সুর ভেবে কিছুক্ষণ কান্না করলাম। সারারাত আর ঘুম চোখে আসেনি, অর্পিকে নিয়ে কাটানো সুন্দর সুন্দর মুহূর্তগুলো খুব মনে পড়ছিলো। টোল পড়া হাসি আর কাজল কালো চোখের মায়াবী চাহনি সারাক্ষণ ভেসে ওঠতে লাগলো চোখের সামনে। ঘুম আর হয়নি আমার। আমাকে সকাল ১০টার সময় পার্কে যেতে বলেছিল অর্পি, কিন্তু আমি যাই
১০.৩০ মিনিটে! ইচ্ছে করেই দেরি করছিলাম। অর্পির কাছ থেকে আমি অনেকটা দুরে দাঁড়িয়েছিলাম। অর্পির মুখ কালো মেঘের মতো হয়ে আছে, ধমক দিয়ে আমাকে তার পাশে গিয়ে বসতে বলল। আমি অর্পির পাশে গিয়ে নিচের দিকে চেয়ে বসে থাকলাম। অর্পি আমাকে তারদিকে তাকাতে বলল! আমি তার অগ্নিমাখা মুখটা দেখতে চাইছিলাম না। অর্পি আমার মুখ ধরে জোর করে তারদিকে তাকাতে বাধ্য করে। অর্পির মুখটা দেখেই আমি ছোট শিশুদের মতো কান্না শুরু করে দেই। অর্পি হাহাহা করে হেসে দেয়। তারপর বলে,
সত্যি আমাকে ভালোবাসিস??
আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ জবাবটি দিয়েছিলাম।
অর্পি আমাকে আবার জিজ্ঞাসা করলো,
কতদিন থেকে তাকে ভালোবাসি?
আমি বলেছিলাম,কলেজে থাকাকালীন সময় থেকে
আরেকটি প্রশ্ন অর্পির, এতোদিন বলিস নি কেন?
আমি ঠোট কাঁপানো স্বরে বলছিলাম,
তোকে হারানোর ভয়ে।
তারপর অর্পি মুচকি হেসে আমার হাত ধরে বলেছিল, মেসেজের প্রপোজ নাকি তার কাছে ক্ষ্যাত মনে হয়! সরাসরি প্রপোজ করলে ভেবে দেখবে। আমি আর দেরি করলামনা, অর্পির চোখের দিকে তাকিয়ে কোনো কিছু না ভেবেই জড়িয়ে ধরে বলে ফেললাম আমার মনের কথা। বুঝতে পারলাম অর্পিও আমাকে তার উষ্ণতা দিয়ে জড়িয়ে ধরে আছে। সত্যি বলতে ঐসময়ই ছিল আমার জীবনের সেরা একটি মুহূর্ত। এরপর থেকেই শুরু হয় আমার আর অর্পির নতুন জীবন। আমাদের কাটানো প্রতিটা সময়ই ছিল, খুবই আকর্ষণীয়। অনেক হাসিখুশির মধ্যে দিয়ে আমাদের ভার্সিটি লাইফ শেষ হয়। দুজনই খুব ভালো রিজাল্ট করে পাস করি। নিজের ক্যারিয়ারকে আরো সমৃদ্ধ করতে বাবার আদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহনের জন্য, ২বছরের একটা কোর্স কমপ্লিট করতে, বিদেশ চলে যাওয়ার জন্য মনস্থ হই। অর্পিকে এবিষয়টি আমি জানাই, পাগলিটা খবরটি শুনে অনেক কান্না করেছিল সেদিন।
আমি বিদেশ চলে যাই। কানাডার কালচার মানিয়ে নিতে আমার বেশি সময় লাগেনি, অল্পদিনেই অনেক কিছু শিখে আমি পরিণত হয়ে যাই। প্রবাসী জীবনে থাকলেও আমি সবসময় অর্পির সাথে যোগাযোগ রাখতাম, অনেক মিস করতাম পাগলিটাকে। খুব সুন্দর ভাবে কাঁটছিলো আমার প্রবাস জীবন। কিন্তু হঠাৎ বাবার কাছ থেকে আসা একটা সংবাদ শুনে আমি থমকে যাই। আমার মায়ের নাকি ক্যান্সার হয়ে গেছে। এই খবর শুনে তিন ঘন্টার মত অজ্ঞান ছিলাম আমি। বিদেশ থেকে আসতে চাইলাম দেশে, কিন্তু বাবা আমাকে আসতে দেননি! আমাকে বলেছিলেন, মাকে নিয়ে তিনি সিঙ্গাপুর চলে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। আমি আর আসলাম না দেশে। বিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাকে দেখতাম। একমাস চিকিৎসার পর শুনলাম আমার মায়ের শরীর অনেকটা উন্নতির দিকে। কিছুটা খুশি হলেও বাবার কথাটি বিশ্বাস করতে পারলাম না! আমার মনে হচ্ছিল বাবা আমাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য এই কথাটি বলছেন। আমি মায়ের সাথে কথা বলতে চাইলাম। বাবার সাহায্য বিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মায়ের সাথে বলি, সত্যিই মায়ের উন্নতি হইছে দেখে আমি অনেক খুশি হই।
মায়ের চিকিৎসা শেষে বাবা মাকে নিয়ে দেশে চলে আসেন। মায়ের সাথে আমার প্রতিদিনই কথা হতো, আমি মায়ের জন্য মন খারাপ করতাম। মা আমাকে শান্তনা দিতেন আর বলতেন মন দিয়ে পড়ালেখা করতে,আমি মায়ের কথামত ভালোভাবে পড়ালেখা করতে লাগলাম।
২ বছরের কোর্স শেষ হয়ে গেলো। আমি দেশে চলে আসলাম। মা-বাবার সাথে নতুন জীবন শুরু করলাম। ওকালতি করে খুবই অল্পদিনে আমি অনেক খ্যাতি অর্জন করি। অনেক ব্যস্ততার মধ্যে সময় গেলেও অর্পির সাথে যোগাযোগ কখনও বন্ধ হয়নি আমার।সবসময় একজন আরেক জনের খবর নিতাম,প্রতিদিন একবার দেখা করতাম আমাদের প্রিয় জায়গা পার্কটিতে। হয়তো দুজনই ছিলাম আগের চেয়ে অনেক পরিনত। কিন্তু দুজনের মধ্যে ছিল বাচ্চাদের মতো ভাব। একদিন আমরা বসেছিলাম পার্কে, বটগাছের নিচের বেঞ্চটিতে। আমার মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসলো,
আমি অর্পিকে বললাম, চল আজকে বিয়ে করে ফেলি আমরা !
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now