বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সময় ঘনিয়ে আসছে। নাইমার মা-বাবা আর ঘনিষ্ট কয়েকজন মানুষও খালেক সাহেবের বাসায় চলে আসছেন। সবাই খুব আমোদ ফুর্তিতে সময় কাটাচ্ছে। সায়েম বড় দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। বিয়ে করে মেয়েটার সর্বনাশ করছে নাতো! নিজের অতীত এখনও কেউ জানেনা, নাইমারও জানার কথা নয়। যদি পরবর্তীতে জেনে যায়, তাহলে আমাকেই দোষ দিবে। আমি বাবার কথায় কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, একবারও ভাবলাম না। নাহ, তা হতে পারেনা। নাইমার সাথে কথা বলা উচিৎ। সায়েম বাসার মধ্যে নাইমাকে খুজতে লাগলো। সব রুমে খোজ করে নাইমাকে সে পেল না । অবশেষে ছাঁদে চলে যায়। নাইমা আর ইফাত ছাঁদে বসে খেলছে। সায়েম নাইমার কাছে গিয়ে বলল,
তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে, রাতে খাওয়ার পর ছাঁদে কি আসতে পারবে?
নাইমা হ্যাঁবোধক উত্তর দেয়। সায়েম ইফাতকে একটু আদর করে ছাঁদ থেকে নেমে আসে, তারপর চলে যায় অফিসে। নাইমা আগের মত ইফাতের সাথে খেলা করছে। খালেক সাহেব, বন্ধু সাইফ খান ও বন্ধুর স্ত্রীর সাথে বসে মজার মজার গল্প করছেন । বাড়ীতে বহুদিন পর এইরকম আনন্দ হচ্ছে।
সায়েম সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরলো। ইফাত ইতিমধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ছে। ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লো সায়েম। নাইমা বসে ম্যাগাজিন পড়ছে।এভাবেই কেটে গেল চার ঘন্টার মতো, সবাই বসে একসাথে রাতের খাবার খাচ্ছে। সবার মুখে হাসি দেখা গেলেও নিরব সায়েম আর নাইমা। মাঝে মাঝে একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছে। খাওয়া শেষ সবাই যার যার রুমে চলে যায়। নাইমা চলে যায় ছাঁদে, সায়েমও তাকে অনুস্বরণ করে ছাদের দিকে চলে গেল। দুজন দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে। সায়েম বলতে শুরু করলো,
আমি যে তোমাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি, তুমি কি আমার সম্পর্কে সবকিছু জানো? আমাকে কি জেনেশুনে বিয়ে করতেছো?(সায়েম)
নাইমা খুব বুদ্ধিমতি মেয়ে। যে রহস্য উদঘাটন করতে এই বাসায় এসেছে, সেই রহস্য জানার সময় এখন এসে গেছে। কৌশল অবলম্বন করে উত্তর দিতে থাকে নাইমা। সে বলে,
আমি আপনার সম্পর্কে প্রায় সবকিছুই জানি। আপনি স্মার্ট সুদর্শন একটা ছেলে, বিদেশে পড়ালেখা করে এখানে কিছুদিন ওকালতি করেছেন। বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন আপনি। একসময় আপনার বাবার বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে, আপনি আর ওকালতি করেননি, বাবার ব্যবসার দেখাশোনা করতে থাকেন। আমি এও জানি যে, ইফাত আপনার পালিত ছেলে।(নাইমা)
নাআআহ, ইফাত আমার পালিত ছেলে নয়! ইফাত আমার নিজের ছেলে। ইফাতের শরীরে আমারই রক্ত বইছে। আমিই ওর বাবা। আর ওকালতি আমি এমনিতে ছেড়ে দেইনি,নিষ্টুর, স্বার্থপর কিছুমানুষ আমাকে বাধ্য করেছিল ওকালতি ছেড়ে দিতে!(সায়েম)
সায়েম কথাগুলো আগুন জড়ানো কণ্ঠে বলেছিল। নাইমা ভয় পেয়ে যায়। চাঁদের আলোতে নাইমা দেখতে পেল, টপটপ করে সায়েমের চোখ থেকে পানি পড়ছে।
নাইমা ভয়ার্ত কণ্ঠে সায়েমকে জিজ্ঞাসা করলো কি এমন হয়েছিল, যার কারণে আপনার এই পরিনতি?
শুনতে চাও? তাহলে শুনো.....
আমাকে এখন যেইরকম দেখতেছো আমি এইরকম ছিলাম না। স্কুল, কলেজ জীবনের সবচেয়ে চঞ্চল ছেলে ছিলাম আমি। সারাক্ষণ আড্ডা আর মাস্তিতে দিন কাঁটতো আমার। ছেলে হিসেবে আমি অনেক ফ্রেন্ডলি ছিলাম, এই জন্যই আমার ডিপার্টমেন্টে প্রায় সবার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। স্পেশালি আমার ৩জন বন্ধু ছিল। রুহান, তায়েফ আর অর্পি। কলেজে এডমিশন নেয়ার পরই তাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়। আমরা চারজন একসাথে থাকতাম, আড্ডা দিতাম। সারা ডিপার্টমেন্ট মাতিয়ে রাখতাম। পড়াশোনায়ও অনেক ভালো ছিলাম, এজন্য স্যার আর ম্যাডাম অনেক ভালোবাসতেন। কিভাবে একটি বছর চলে গেল আমরা বুঝতেই পারলাম না। চারজনই ভালোভাবে পাশ করে দিত্বীয় বর্ষে ভর্তি হই। আমাদের ঘনিষ্টতা অনেক বেড়ে যায়। বিশেষকরে, অর্পির প্রতি আমার একটা টান সৃষ্টি হয়। সবসময় অর্পি আমার খোজ নিতো, আমি তার খোজ নিতাম। আমি বুঝতে পারতাম না,অর্পির জন্য আমার এতো টান কেনো?
কেমন জানি, অন্যরকম একটা মায়া কাজ করতো। এটা কি প্রেম নাকি অন্যকিছু সেটাও আমার মাথায় আসেনি। এভাবে কলেজ লাইফ শেষ হয় আমাদের। আমরা ভার্সিটি জীবনে প্রবেশ করি। রুহান আর তায়েফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে ভর্তি হয়ে যায়। আমি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই, কিন্তু সেখানে ভর্তি হইনি! অর্পির অনুরোধে আর অর্পির প্রতি আমার মায়ার টানে ভর্তি হই 'ল' কলেজে। অর্পিকে একদিন না দেখলে আমার মনটা ছটফট করতো, নিঃশ্বাস বন্ধ হয় আসতো, থাকতে পারতাম না! তাই অর্পিকে পাশে পাবার জন্য আমাকে এই সিদ্ধান্তটা নিতে হয়। মা-বাবার কোনো ইচ্ছাই ছিলনা 'ল' কলেজে পড়ানোর। অনেক বুঝানোর পর মা-বাবাকে রাজি করাই। 'ল' কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমার মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। আমি অর্পিতে পুরোপুরিভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। তখনই আমার মনে হলো অর্পির প্রেমে পড়েছি আমি। অাগের মত অর্পির চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না। কথার মধ্যেও কেমন দুর্বলতা অনুভব করতাম। কোনো ছেলের সাথে অর্পিকে মিশতে পর্যন্ত দিতাম না। আমার মনে হত অর্পিও বুঝতে পারতো, আমি যে তার প্রেমে পড়েছি। অর্পির দিকে তাকিয়ে আমি বুঝতে পারতামনা, সে আমাকে ভালোবাসে কিনা? বরাবরের মতো তার আচরণ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ।
এরকমভাবেই ভার্সিটি লাইফেরও দুবছর চলে যায়।
মনে আছে আমার, সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকার কারণে তায়েফ আর রুহান দুজনই ঢাকা থেকে সিলেট চলে আসে। আমি আর অর্পি অনেক মজা করি তাদের সাথে। তাদেরকে কখনও বুঝতে দেইনি অর্পির প্রতি আমার দুর্বল। তায়েফ আর রুহান ঢাকা যাওয়ার কয়েকদিন আগে আমি তাদেরকে দাওয়াত দেই, আমার বাসায় আসার জন্য। সানন্দে রাজি হয়ে আমার বাসায় আসে তারা। একই সাথে অর্পিও ছিল। বাবা আমার বন্ধুদের সাথে খুবই মজা করছিলেন, আর মা তাদেরকে ভালো ভালো খাবার তৈরী করে খাইয়েছিলেন। খুবই মজা হয়েছিল সেদিন। আমি অর্পিকে ভালোবাসি, বাবা সেটা ভালোই বুঝেছিলেন। আমাকে জিজ্ঞাসাও করেছিলেন, অর্পির সাথে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা? আমি লজ্জা পেয়ে সেদিন বাবাকে না করেছিলাম। বাবা আমাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করেননি। সারাদিন মজা করার পর দিনের শেষ সময়ে রুহান, তায়েফ ও অর্পি বিদায় নিয়ে চলে যায় আমাদের বাসা থেকে। দিনটি অনেক মিস করি এখনও। তায়েফ আর রুহান এরপর সিলেট এসে আমাদের বাসায় এসেছিলো অনেকদিন, কিন্তু ঐ দিনের মতো মজা আর হয়নি। অর্পিতো প্রায়দিনই আমার সাথে বাসায় আসতো । মা বাবা দুজনই অর্পিকে অনেক ভালোবাসতেন। অর্পিরও অনেক ভালো লাগতো আমার মা-বাবাকে। কোনোদিন মায়ের কাছে রাতে থেকে যেত।
এভাবেই অনেক সুন্দরভাবেই চলছিল আমাদের জীবন। কিন্তু.....
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now