বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চোখে নেই জল (পর্ব -১২)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X এদিকে ইফাত কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে বসে থাকলো দরজায় হেলান দিয়ে। খাবার হাতে নিয়ে দাদু আর বাবা দুজনই অনেক চেষ্টা করছেন খাওয়াতে, কোনো কিছু মুখেই তোলে না। নাইমা বাসার সামনে এসে, গাড়ী থেকে নেমে ড্রাইভারকে ভাড়া দিয়ে বিদায় করে, ভেতরে প্রবেশ করলো। ইফাতের চোখ সবসময় গেটের দিকে! যেমনি দেখলো নাইমা বাসায় প্রবেশ করছে, লাফদিয়ে ওঠে মা মা বলে দৌড় দিল নাইমার দিকে। সায়েম মাথা নিচু করে বসে থাকলো। নাইমা ব্যাগ মাটিতে ফেলে দিয়ে ইফাতকে কোলে তুলে নিলো। একদিনে ছেলেটার চেহারা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। নাইমার কোলে ওঠে ছোট ছোট হাত দিয়ে নাইমাকে চড় মারতে লাগলো। বুঝাতে চাচ্ছে কেনো তাকে ফেলে চলে গেলো। নাইমা ছোট একটা চুমু দিয়ে বললো, আর তাকে ছেড়ে যাবে না। ইফাত হাতের তালি দিয়ে হাসতে লাগলো। নাইমা ইফাতকে কোলে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করলো। বাবাকে সালাম করে ইফাতকে সাথে নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। কাপড় চেঞ্জ করে এসে, ইফাতকে খাওয়াতে বসলো। লক্ষি ছেলের মত খাবার খাচ্ছে ইফাত। খালেক সাহেব আর সায়েম আলগা থেকে আনমনে দেখছেন। ইফাত সত্যিই নাইমাকে মায়ের অধিকার দিয়ে ফেলেছে। নাইমার টানটাও কম নয়, শুধুমাত্র ইফাতের কান্না শুনেই নিজের মা বাবাকে ফেলে রেখে চলে আসে ইফাতের কাছে। এসব ভাবতে ভাবতে খালেক সাহেবের মাথায় একটা চিন্তা চলে আসে। নাইমাকে ইফাতের সত্যিকারের মা বানালে কেমন হয় ? যদি সায়েমকে বুঝিয়ে নাইমার সাথে বিয়ে দেই তাহলে ক্ষতি কি? আমি আমার মেয়েকে পেলাম, আর ইফাত পাবে মাকে! খালেক সাহেবের মাথায় কোনো চিন্তা ডুকে গেলে তিনি সেটা প্রকাশ না করলে শান্তি পান না। সায়েমকে ডাক দিয়ে উনার রুমে নিয়ে গেলেন। সায়েম বাবার সামনে বসে আছে। জিজ্ঞাসা করলো বাবাকে, আমাকে ডেকেছো কেনো বাবা? (সায়েম) সায়েম তোমার বয়স অনেক বেড়ে যাচ্ছে, সেদিকে কি তোমার কোনো খেয়াল আছে? এভাবে একা একা কতদিন থাকবে?(বাবা) বুঝলাম না বাবা, আমি একা কিভাবে? তুমি আছো, ইফাত আছে। (সায়েম) আমি আর কতদিন বাঁচবো? তোমার দেখাশোনা করার জন্য একজন মানুষের দরকার তাইনা। (বাবা) বাবা আমাকে এখন কি করতে হবে তাহলে?(সায়েম) আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখন তোমার বিয়ে দিবো। আশা করছি, আমার মতের বিরুদ্ধে যাবেনা। (বাবা) বাবা আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা। প্লিজ আমাকে মাফ করো। (সায়েম) আমি কোনো কিছু শুনতে চাইনা। আমি বলেছি, এখন তোমাকে বিয়ে করতে হবে। তোমার কি লজ্জা করেনা, ইফাতকে এভাবে মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত করছো? তোমার কি লজ্জা লাগেনা, এতো ছোট একটা বাচ্চায় মা মা বলে সারাক্ষণ কাঁদে। (বাবা) সায়েম নিশ্চুপ হয়ে নিচের দিকে চেয়ে বসে রইলো। বাবা আবার তাকে বললেন, দেখ বাবা, ছোট বাচ্চাটাকে তুই আর কষ্ট দিসনা, নিজের জন্য না হলেও বাচ্চাটির জন্য তুই একটা বিয়ে কর? ঠিক আছে বাবা, বিয়ে করবো আমি ! তুমি পাত্রী খুজো। (সায়েম) খালেক সাহেব অনেক খুশি হলেন। তারপর বললেন, পাত্রী খোজা লাগবেনা, পাত্রী আমাদের ঘরেই আছে! আমি নাইমাকে তোর জন্য পছন্দ করেছি, তার সাথে তোর বিয়ে দিতে চাই। মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর, আচার-আচরণ অনেক ভালো, আমি বিশ্বাস করি তুই অনেক সুখে থাকবি। সায়েম কিছুক্ষণ ভেবে তারপর বলল, বাবা তুমি যেটা ভালো মনে করো সেটাই করতে পারো। আমার কোনো আপত্তি নেই। সায়েম তার রুমে চলে যায়। খালেক সাহেবও রুম থেকে বের হয়ে চলে যান নাইমার কাছে। নাইমা খুবই ট্যালেন্টেড একটা মেয়ে। বাবার মুখের দিকে চেয়েই বুঝতে পারলো, বাবা তাকে কিছু বলতে চাইছেন। নাইমা বাবার কাছে জানতে চাইলো, বাবা কিছু বলবে? (নাইমা) হ্যা, একটা কথা বলার ছিল, চল তোর রুমে যাই। তারপর বলবো। (বাবা) আচ্ছা চলো, বলে ইফাতকে কোলে নিয়ে নাইমা রুমের দিকে চলল,বাবাও পাশে পাশে আসছেন। রুমে প্রবেশ করে নাইমা বাবাকে বলল, এখন বলো। (নাইমা) মা তোর কাছে আমি যা চাইছি, আমাকে তো সবকিছু দিয়েছিস। এবার আমি যে আবদার তোর কাছে করবো, আমি আশা করছি এবারও না করবিনা। (বাবা) আচ্ছা আগে বলবা তো! (নাইমা) তুইতো জানিস ইফাতের মা নেই, ছোটবেলা থেকে মায়ের আদর পায়নি। এই ছোট বাচ্চাটাকে দেখে সত্যি অনেক কষ্ট হয় আমার। আমি জানি তুই ইফাতকে অনেক ভালোবাসিস। ইফাতও তোকে ছাড়া একমুহুর্ত থাকতে পারেনা এখন। তাই আমি চাইছিলাম তোকে সারাজীবনের জন্য আমার বাসায় রাখতে। যাতে করে তোর মধ্যে ইফাত তার সত্যিকারের মাকে খুজে পায়। (বাবা) আমিতো আছি বাবা। (নাইমা) হ্যাঁ আছিস, কিন্তু এভাবে আমি তোকে রাখতে চাইনা! আমি চাই, পার্মানেন্টলি এই বাড়ীতে তুই থাক। (বাবা) আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা বাবা। আমাকে একটু বুঝিয়ে বলো (নাইমা) আমি চাইছি সায়েমের সাথে তোর বিয়ে দিয়ে সারাজীবনের জন্য এই বাড়ীতে রেখে দিতে! যদি তোর কোনো আপত্তি না থাকে। আমি আশা করবো, তুই আমাকে হতাশ করবিনা। (নাইমা) নাইমা বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বাবাকে বলল, বাবা আমার কোনো আপত্তি নেই,যদি আমার মা-বাবা রাজি থাকেন। তারা আমাকে যার সাথে বিয়ে দেবেন, আমি তাকেই বিয়ে করবো। (নাইমা) খালেক সাহেব মুচকি হেসে চলে আসলেন, নাইমার রুম থেকে। তিনি বুঝতে পারলেন, নাইমা কৌশলে হ্যাঁবোধক উত্তর দিয়েছে। এখন নাইমার গ্রামে যেয়ে তার মা-বাবাকে বুঝিয়ে নাইমার বিয়ে দিতে হবে। ঠিক করলেন, কাল সকাল বেলা রওনা দিবেন গ্রামের উদ্দেশ্যে। রাতে সবাই একসাথে বসে ডিনার করলেন। সায়েম আর নাইমা দুজনের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থা দেখা যায়। খাওয়া শেষ করে, খালেক সাহেব নাইমার কাছ থেকে গ্রামের ঠিকানা জেনে নিলেন। খুব ভোরে রওনা হবেন গ্রামে , তাই দেরি না রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লেন। ভোর ৬টার সময় বেরিয়ে পড়লেন খালেক সাহেব। নাইমার দেয়া ঠিকানা মোতাবেক এসে পৌঁছালেন, তখন সময় বাজে সকাল ৯টা। বাড়ীটা ঠিক চিনতে পারলেন না। একজন মানুষকে দেখলেন ক্ষেতে কাজ করছে। খালেক সাহেব উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সাইফ খাঁনের বাড়ী কোথায়? সাইফ খাঁন নাইমার বাবার নাম। ঐ লোক দেখিয়ে দিলেন সাইফ সাহেবের বাড়ী। খালেক সাহেব ধীরে ধীরে গাড়ী নিয়ে যেতে লাগলেন নাইমার বাড়ীর দিকে। বাড়ীতে প্রবেশ করলেন। নাইমার মা গোমটা মুখে এসে জিজ্ঞাসা করলেন কাকে চাই? খালেক সাহেব বললেন, সাইফ সাহেব বাড়ীতে আছেন নাকি? উনাকে একটু দরকার ছিল, দয়াকরে একটু ডেকে দিন। নাইমার মা ভেতরে প্রবেশ করে সাইফ সাহেবকে ডেকে দিলেন। সাইফ সাহেব বের হয়ে এসে খালেক সাহেবকে দেখে অবাক! এই যে তার কলেজ জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু খালেক। দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন বন্ধুকে, কতদিন পর দেখা! দুজনই খুব খুশিতে হাসাহাসি করতে লাগলেন। সাইফ সাহেব ভেতরে নিয়ে গেলেন খালেক সাহেবকে। নাইমার মা চা এনে দিলেন। দুজন মজা করে চা খাচ্ছেন আর কলেজ লাইফের সব কথা বলে বলে হাসাহাসি করছেন। কথার ফাকে খালেক সাহেব বন্ধুর কাছে তার মেয়েকে চেয়ে বসলেন ছেলের জন্য। ঘটে যাওয়া সব ঘটনাও খুলে বললেন তিনি। সাইফ সাহেব নির্দিধায় মেনে নেন বন্ধুর আবদার। দুজন মিলে চুড়ান্ত করেন, আগামী মাসের ৫ তারিখ বিয়ের দিন। খালেক সাহেব তারপর বিদায় নিয়ে চলে আসেন। নাইমাকে সবকিছু জানান। নাইমার আর কোনো আপত্তি করেনি। আগামী মাসের ৫ তারিখ তার বিয়ে মানে আর মাত্র ১২ দিন সময় হাতে আছে। কিছুটা ভয় করছে মনে। কি থেকে কি হয়ে গেল,বুঝতে পারলোনা সে! তারপরও পরিবারটা তার খুব ভালো লেগেছে, সায়েম দেখতে স্মার্ট ভদ্র একটা ছেলে, বিয়ে করলে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হয়না। তাছাড়া ইফাত তার মধ্যমনি, বাবাকেও সবসময় পাশে পাবে। এরকমই পরিবারই তো তার চাই। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চোখে নেই জল (পর্ব -১২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now