বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কতটা আকুল হয়ে আছে ছেলেটা মায়ের জন্য। এখনই এরকম করলে পরে কি হবে ইফাতের? নিজের মাকে হারিয়ে সায়েম বুঝতে পারছে জীবনের কতবড় শূন্যতা তার মধ্যে বিরাজ করছে, আর ইফাত তো একদিনও মায়ের আদর পায়নি, বাচ্চাটা সারারাত মা মা করে! কোনো বাচ্চা মায়ের কোলে দেখার পরই লাফালাফি শুরু করে, সে কোলে উঠবে। নৃশংস কুকুরের দল বাচ্চাটাকে একদিন মা ডাকার সুযোগ দেয়নি! কেড়ে নিয়েছে তার মাকে।
এসব ভেবে ভেবে সায়েম আরো কিছুক্ষণ রুমে বসে সিগারেটে টান দেয়া শেষকরে রুম থেকে বাহির হয়।
ইফাতের চোখে মুখে অনেক হাসিখুশি, নাইমা আর দাদার সাথে বসে মজা করছে। একবার দাদার কোলে গিয়ে দাদাকে চিমটি কাটছে, দাদা পাপ্পি দিতে চাইলে দৌড়ে নাইমার কোলে গিয়ে লুকাচ্ছে। সায়েম দরজার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে এসব। ইফাত তার কোলে আসলে একদম নিরিবিলি মনমরা হয়ে বসে থাকে। কোনোদিন কড়া চোখে চায়নি ছেলের দিকে, তারপরও ছেলেটা তারকাছে থাকলে অস্বস্থিতে থাকে।
এখন কত ভালো লাগছে দেখতে। আসলে ছেলেটাকে এভাবে বন্ধি করে রাখাটা তার ঠিক হয়নি, অন্তত বাসার মধ্যে স্বাধীনভাবে থাকতে দিলেই হয়। কিন্তু মনে যে ভয় ডুকে গেছে, মায়ের মতো ছেলেকেও যদি নৃশংস মানুষগুলো মেরে ফেলে!
কিছুক্ষণ পর সায়েম ইফাতকে আনতে যায় । ইফাতকে সাথে নিয়ে সে বেড়াতে যাবে। ইফাতের কোনো ইচ্ছা ছিলনা। তারপরও সে সায়েমের সাথে চলে আসলো। সায়েম ছেলেকে নিয়ে কিছুক্ষণ শিশুপার্কে ঘোরাঘুরি করলো । তারপর অফিসে গিয়ে কিছু কাজ শেষ করে ১ ঘন্টা পর বাসায় চলে আসে। সায়েমকে বাবার কাছে রেখে বিকাল ৩টার সময় আবার বেরিয়ে পড়লো ।
সায়েম আবার খুনশুটিতে ব্যস্থ হয়ে পড়ে। নাইমা আর দাদার সাথে সারা বাসায় দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে। খালেক সাহেব নাতিকে মাঝে মাঝে জড়িয়ে ধরে কাতুকুতু দিচ্ছেন, আর ইফাত জোরে চেচাচ্ছে। দাদুকে কোনো সময় ধমকও দিচ্ছে। আবার হাসছে।
ঠিক এইভাবে প্রায় ১ মাস চলে যায়। সায়েম ইফাতকে আর আটকে রাখেনা। সারাবাসায় যেন ইফাতের রাজত্ব! নাইমার সাথে ইফাতের ঘনিষ্টতা অনেক বেড়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই নাইমার কোলে কাঁটায়। নাইমাকে মা বলে ডাকে! আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্য নাইমা এতে কিছু মনে করেনা। ইফাত এখন নাইমা ছাড়া আর কারো হাতের খাবার পর্যন্ত খায় না।
দাদুর সাথেও তার অনেক ভাব। মজা এনে না দিলে দাদুর গালে শুধু চড় মারে। দাদুর সাথে আড়ি দেয়। সায়েম এসব আলগা থেকে দেখে। নাইমার সাথে বর্তমানে একটু একটু কথা হয় সায়েমের। নাইমা বারবার চায় সায়েমের সাথে ফ্রি হতে, কিন্তু সায়েম সে সুযোগটুকু দেয়না। নাইমাও পারছেনা, যে রহস্যের কারণে এখানে এসেছিল, সেটি খোলাসা করতে। আরো কিছুদিন চলে যায় এভাবে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় চলে আসে। নাইমার মা ফোন করে তাকে গ্রামে যেতে বললেন। অনেকদিন মাকে দেখেনা সে, তাই বাবাকে বলে গ্রামে উদ্দেশ্যে বের হলো।
ইফাতকে একটা পাপ্পি দিয়ে গাড়ীতে ওঠল। খুব খারাপ লাগছে, ইফাত ও বাবাকে রেখে যেতে। নাইমা চলে যায় গ্রামে। দিনের বেলা ইফাত নাইমার জন্য তেমন আপসোস করেনি। বরাবরের মতো দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করলো নাইমা কখন বাসায় আসে। রাতেও নাইমাকে পেল না। মনমরা হয়ে বসে থাকলো। কেউ কিছু্ জিজ্ঞাসা করলে বলে, মা! সায়েম ইফাতকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলো। ইফাত কিছু মুখেই নেয় না, শুধু মা মা করে। ইশারায় বুঝায় নাইমা এসে তাকে খাইয়ে দিতে। খালেক সাহেবও পারেননি খাওয়াতে, দমের সাথে শুধু মা শব্দটি উন্মোচন করছে। রাতে ইফাতকে নিয়ে ঘুমাতে যায় সায়েম, ইফাত ঘুমায় না! বারবার শুধু মা মা করে। সায়েম শান্তনা দিয়ে বলে, সকালে মা চলে আসবেন। ইফাত এই কথা শুনে ঘুমিয়ে পড়ে। মুয়াজ্জিনেরা ফজরের আজান দিচ্ছেন মসজিদে। ইফাত জেগে ওঠে। বাবাকে ধাক্কাতে লাগলো। সায়েম কিছুটা বিরক্ত হয়ে জেগে ওঠে বসল। ইফাত বাবার হাত ধরে নিয়ে ছোট ছোট পায়ে নাইমার রুমে যেয়ে দরজায় ধাক্কাতে লাগলো। মা মা বলে ডাঁকছে ইফাত। অন্যদিন নাইমা দরজা খুলে ইফাতকে কোলে নেয়, আজ দরজা খুলছেনা! ইফাত কান্না শুরু করে দেয়। সায়েম বিরক্ত হয়ে ধমক দেয় ইফাতকে! আরো জোরে কান্না করতে থাকে ইফাত। খালেক সাহেব নাতির কান্না শুনে জেগে ওঠলেন। তাড়াতাড়ী বের হয়ে এসে দেখেন, ইফাত নাইমার দরজায় টুকা মারছে আর মা মা বলে ডাঁকছে নাইমাকে। দৌড়ে এসে নাতিকে কোলে তুলে নিলেন। ইফাত কান্না থামায় না। খালেক সাহেব নাইমাকে ফোন দিলেন, ঘুমের ঘোরের মাঝে ফোন ধরে নাইমা। ইফাতের কান্না শুনে থমকে ওঠে। বাবাকে জিজ্ঞাসা করে ইফাতের কি হয়েছে? বাবা বলেন,
তুই চলে গেছিস তাই কাল রাত থেকেই এরকম করছে। নাইমা স্পষ্ট শুনতে পায় ইফাত মা মা করছে। বুকের মাঝে একটা টান বুঝতে পারে নাইমা। এই কয়েকদিনে ইফাতকে বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলেছে।
ইফাতের কান্না শুনে তার খুব কান্না পাচ্ছে। ফোন রেখে ওঠে পড়ে। সবকিছু গুছিয়ে আবার ব্যাগের মধ্যে রাখে। মাকে গিয়ে বলে নাস্তা দিতে, তাড়াতাড়ী খাওয়া শেষ করে তাকে শহরে যেতে হবে! মা অবাক হয়ে বললেন, কালই তো আসলি, আরো দুইদিন থেকে যা। নাইমা প্রতিউত্তর করলো, আমার জরুরী একটা কাজ আছে, না গেলে হবে না। মা আর কিছু বললেন না। মেয়েকে নাস্তা এনে দিলেন। খেয়েধেয়ে কাপড় পড়ে নিলো। তারপর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হলো সকাল ৬.৩০ মিনিটে। ৭টার সময়ে বিরতিহীন একটা বাসে উঠে সিলেটে উদ্দেশ্যে রওনা হলো। গাড়ীটা খুবই দ্রুত চলছে, কিন্তু নাইমার কাছে মনে হচ্ছে গাড়ীটা টেলাগাড়ীর মতো চলছে। চোখে মুখে তার বিরক্তির ছায়া। ২ঘন্টা জার্নি পর সিলেট বাসস্টপেজে এসে থামলো। আরেকটা গাড়ীতে ওঠে রওনা দিলো বাসার দিকে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now