বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাইমা ইফাতকে ধরতে যায় অমনি সায়েম টান মেরে তার ছেলেকে কোলে নিয়ে নেয়। আর নাইমাকে সাবধান করে তার ছেলের আশেপাশে যেন না আসে। নাইমার উৎফুল্ল মনটা একদম মুমূর্ষু হয়ে আসলো। সায়েমের এমন অপমান সে আশা করেনি। চোখ জলমল করছে পানিতে। ইফাত নাইমার চোখের দিকে তাকিয়ে কান্না শুরু করে দিল। বাবা নাইমাকে নিয়ে সায়েমের রুম থেকে বের হয়ে চলে আসলেন। বাবা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সায়েমের ব্যবহারের জন্য অনুশোচনা করতে লাগলেন। নাইমা হেসে হেসে বাবাকে বলে, ও কিছু না! চল খেতে যাই, খুব ক্ষিধা লাগছে। বাবা মেয়ে মিলে খাবারের টেবিলে গিয়ে বসলেন। বুয়া খাবার এনে দিল। দুজন মিলে মজা করেই খাবার খেয়ে নিলেন। রাত ১১টা হয়ে গেছে।
এবার ঘুমানোর পালা। বাবাকে তার রুমে নিয়ে গিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে, নিজের রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়ল নাইমা।
ভোরবেলা নাইমা শুনতে পেল দরজায় কে যেন কথা না বলে ধাক্কাচ্ছে! ঘুমঘুম ভাব নিয়ে দরজা খুলল। ছোট ইফাত দাঁড়িয়ে আছে সামনে। নাইমা চারদিকে তাঁকিয়ে দেখলো সায়েম কোথাও আছে কিনা? তারপর হাটুগেড়ে বসে ইফাতকে একটু আদর করে দিল। বাচ্চাটা সাথে সাথে নাইমার গলায় জড়িয়ে ধরলো। নাইমা ইফাতকে কোলে তুলে নেয়। কি মায়াবী চেহারা এত্ত কিউট যে কারো ভালো লাগবে বাচ্চাটাকে। নাইমার কোলে ওঠে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরলো, যেন ছাড়তেই চাচ্ছে না! কখনও মায়ের কোলের স্পর্শ পায়নি, হয়তো নাইমার কাছে সেটাই খুজছে। এদিকে সায়েম ইফাতকে না পেয়ে ডাক দিল। ছোট বাচ্চাটা বাবার ডাক শুনে নাইমার কোল থেকে নেমে যায়। ছোট ছোট পায়ে হেঁটে বাবার রুমের দিকে চলল। সায়েম ইফাতকে এক সেকেন্ডও চোখের আড়াল করেনা। ইফাত চোখের আড়াল হলেই তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। ছেলেকে পেয়েই বুকে তোলে নিল, একটা মিষ্টি চুমু দিয়ে বলল, বাবা কোথায় গিয়েছিলে? ছোট ছেলেটা কিছু বলেনা। হয়তো তার মনে পড়ছে কালকের বকাঝকার ব্যাপারটা। যদি সে বাবাকে নাইমার কথা বলে দেয় তাহলে কালকের মতো তার বাবা নাইমাকে আবার গালি দিতে পারেন। কথা ঘুরিয়ে পেটের মধ্যে হাত দিলো ইফাত! বাবাকে বুঝাচ্ছে তার ক্ষিধা লাগছে। সায়েম ইফাতকে নিয়ে খেতে গেল। নাইমা ফ্রেশ হয়ে বাবার রুমে আসলো। রুমে এসে বাবাকে পেল না, বুয়াকে জিজ্ঞাসা করলো বাবা কোথায়?
বুয়া বলল, প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হন, আজও হাঁটতে চলে গেছেন। বাবা আসার প্রতিক্ষায় দাড়িয়ে থাকলো গেটের পাশে। সায়েম ইফাতকে খাওয়াচ্ছে, বারান্দায় বসে নাইমা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। বুয়া রহিমা এসে নাইমাকে ডাক দিয়ে বলল,ব্রেকফাস্ট করার জন্য। নাইমা বাবার সাথে একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট করবে বলে রহিমা বিদায় করে। ইফাত নাইমার কথা শুনে খাওয়া বাদ দিয়ে তাকিয়ে থাকলো। সায়েম অনেক চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারছেনা। শুধু হাত দিয়ে ইশারা করে নাইমাকে দেখায়! সায়েম ইফাতকে নিয়ে চলে যায় রুমে। বাচ্চাটা শুধু মা মা করছে। সায়েমের কিছু করার ছিলনা। ইফাতকে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ফেলতে লাগল।
সকাল ৭.৩০ মিনিট। বাবা বাসায় আসলেন। নাইমাকে দরজার পাশে দেখে বললেন,
মা ব্রেকফাস্ট করছিস??(বাবা)
বাবা তুমি এখনও ব্রেকফাস্ট করোনি, তোমাকে ছাড়া আমি ব্রেকফাস্ট করবো কিভাবে??(নাইমা)
হায়রে পাগলি, চল এবার। খালেক সাহেব মেয়েকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। ব্রেকফাস্ট শেষ করে বাবাকে রুমে দিয়ে এসে সায়েমকে আয়ত্বে আনার প্রস্তুতি নিতে থাকে। করতে থাকে নানা পরিকল্পনা। একমাত্র ইফাতকে নিজের পক্ষের করা ছাড়া সায়েমকে আয়ত্বে আনা সম্ভব না! নিজের সব পরিকল্পনার মধ্যে এটিই বেছে নিলো নাইমা। সবসময় ইফাতের চক্ষুদৃষ্টির মধ্যে ঘোরাফেরা করতে লাগল। ইফাতও ছটফট করতো নাইমার কাছে আসার জন্য। সায়েম দেখলো যে কোনোভাবে ইফাতকে নাইমার থেকে আলাদা করে রাখা সম্ভব না। নাইমা যতদিন এইবাসাতে থাকবে ততোদিন ইফাত এই রকমই করবে। ইফাতকে নাইমার কাছ থেকে আলাদা করতে হলে, নাইমাকে বাসা থেকে বের করে দিতে হবে। কিন্তু সেটাও অনেক বড় সমস্যা। মা মারা যাওয়ার পর বাবা ক্রমশ ভেঙ্গে পড়ছিলেন, এই মেয়েটাই আবার বাবাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিয়েছে। যদি তাকে তাড়িয়ে দেই, তাহলে বাবা অনেক কষ্ট পাবেন আর আবার ভেঙ্গে পড়বেন। বাবার ভেঙ্গে পড়া অবস্থা কখনও সায়েমের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব না। এদিকে ভয় আছে তার ছেলের জন্য! যদি কিছু হয়ে যায়। সায়েম ভেবে আর কোনো উপায় পেল না। সিদ্ধান্ত নিল, ছেলে যা করবে সে ওইটাই সাপোর্ট দিবে। আর নাইমাও অনেক মিষ্টি মেয়ে। যেভাবে গতকাল ইফাতকে দেখে হাত বাড়িয়েছিল, মনে হয় ইফাতের কোনো ক্ষতি হতে দিবে না।
নাইমা তার রুম থেকে বের হয়ে ডুয়িং রুমে এসে বসে থাকলো । মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুক চালাচ্ছে। সরকারি বন্ধের দিন আজ, কলেজে যাওয়া লাগবেনা। বাবা এসে তারপাশে বসে কথা বলে হাসাহাসি করছেন। ইফাত তাদেরকে দেখতে পেয়ে বাবার কোল থেকে নেমে আসার জন্য দস্তা-দস্তি করতে লাগল। সায়েম ব্যর্থ হয়ে ইফাতকে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। ছোট ছোট করে পায়ে হেঁটে বাচ্চাটা নাইমার কাছে দাঁড়ালো। নাইমা সায়েমের দিকে একবার তাকিয়ে বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিল। ইফাত জড়িয়ে ধরল নাইমাকে। তারপর কাঁচুমাচু হয়ে নাইমার কোলে বসে থাকলো। সায়েমের মধ্যে এই প্রথম কোনো রিয়েকশন দেখতে পায়নি নাইমা। ইফাতের কপালে একটা চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরে বসে থাকে নাইমা । খালেক সাহেবও নাতির সাথে খুনসুটিতে ব্যস্থ হয়ে পড়লেন।
সায়েম রুমে চলে যায়। চেয়ারে বসে একটা সিগারেট বের করলো। সিগারেট জ্বালিয়ে মুখে নিয়ে টানতে থাকে। আগুনে পুড়ানো নিকোটিনের ধোয়া মুখ থেকে বের করছে আর দুচোখ থেকে ঝর্ণার মত পানি ছাড়ছে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now