বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চন্দ্রকান্ত (৪র্থ পর্ব)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X চন্দ্রকান্ত (৪র্থ পর্ব) ।।। লিখেছেনঃ আরিয়ান শুভ। . ০৬ টর্চের আলো চোখের উপর পড়তেই একটা হাত চোখের সামনে আনলাম আমি। তারপর তাকালাম আলোর উৎসের দিকে। টর্চধারীর অন্যহাত উপরের দিকে নির্দেশ করছে। মানে উপরে উঠতে হবে এখন। দ্রুত সাতার কেটে উপরের দিকে উঠতে লাগলাম আমি। বেশ কিছুক্ষন পর ভুস করে সাগরের সারফেসে মাথা তুললাম। একহাতে স্নোরকলটা খুলে তাজা বাতাস ভরে নিলাম ফুসফুসে। তারপর তাকালাম চারপাশে। আমার কাছ থেকে হাত দশেক দূরে ভেসে উঠলো আরেকটা শরীর। বার দুয়েক মাথা ঝাড়া দিয়ে ধীরে ধীরে এগুতে লাগলো আমার দিকে। ‘পেয়েছি,’ আমার কাছে এসে স্নোরকল খুলতে খুলতে বললো মেয়েটা, ‘পেয়েছি আমি।’ ‘কি?’ প্রচন্ড অবাক হলাম আমি, ‘পেয়ে গেছো? এতো তাড়াতাড়ি?’ ‘হ্যাঁ,’ হেসে উঠতে গিয়ে একগাদা নোনা পানি গিলে ফেললো শ্রেষা। কাশতে লাগলো। বেশ কিছুক্ষন পর ধাতস্ত হয়ে আবার বললো, ‘পেয়েছি আমি।’ ‘সত্যি পেয়েছো?’ আবারও জিজ্ঞেস করলাম আমি। ‘হ্যাঁ,’ আবার একটা কাশি দিলো ও, ‘পেয়েছি। বলেছিলাম না, অসম্ভব তার জন্য, যে জায়গাটা চেনে না। আমি চিনি, তাই আমার জন্য অসম্ভব নয়।’ ‘ভাল,’ মাথা নেড়ে বললাম আমি, ‘এবার চলো ফিরে যাই।’ ‘চলো,’ আবার স্নোরকলটা মুখে সেট করে নিলো ও। ওর দেখাদেখি আমিও একই কাজ করলাম। তীরে ফিরে বালির উপর শুয়ে পড়লাম আমি। স্নোরকল আর টর্চটা কোনমতে ছুঁড়ে দিয়েছি বালির উপর। ভীষন ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। ‘ফাইনালি,’ স্বগোক্তির মতো বলে উঠলো শ্রেষা, ‘ফাইনালি আই হ্যাভ গট ইট! দ্যা মুনস্টোন! চন্দ্রকান্ত! এটা এখন আমার হাতে!’ সেদিকে লক্ষ না করে ঘড়ির দিকে লক্ষ করলাম আমি। রাত এগারোটা সাত বাজে এখন। প্রায় চারঘন্টার মতো সাগরে ছিলাম আমরা! ভাবা যায়! সারা জীবনেও মনে হয় না এতোক্ষন পানিতে থেকেছি কখনো। বেশ কিছুক্ষন বিশ্রাম নেবার পর উঠলাম আমি। মাথাটা কিছুটা ধরেছে। সুপার মুন দেখার স্বাধ মিটে গেছে আমার। তবুও তাকালাম আকাশের দিকে। আকাশে মেঘ করেছে। চাঁদটা দেখা যাচ্ছে না। আকাশে মেঘের আনাগোনা বাড়ছে। সেই অদ্ভুত অস্বস্তিটাও বাড়ছে ধীরে ধীরে। মনে হচ্ছে আর বেশী বাকি নেই কিছু একটা ঘটার। কিছু একটা ঘটবে খুব তাড়াতাড়ি। আর তা খুবই অশুভ আমার জন্য। আমাদের জন্য। ঘোর অশুভ। তাবুতে ঢুকে দ্রুত কাপড় পাল্টে আবার বাইরে এলাম আমি। এখনো মেয়েটা বালির উপর বসে আছে। জোড় করে ওকে পাঠিয়ে দিলার ওর তাবুতে। চার ঘন্টা একটানা সাগরের পানিতে ভিজেছে মেয়েটা। এখন অসুস্থ না হলেই বাঁচি। আকাশে এখনো গাঢ় মেঘ। চাঁদটা দেখা যাচ্ছে মাঝে মাঝে, তবে তা দুই এক সেকেন্ডের জন্য। একবার মেঘের চাদর থেকে উঁকি দিচ্ছে সে, আবার টুপ করে লুকিয়ে পড়ছে। ‘শুভ,’ শ্রেষার ডাকে ফিরে তাকালাম ওর দিকে। ‘কি হয়েছে?’ নিজের অজান্তেই খেঁকিয়ে উঠলাম আমি, ‘ডাকছো কেন?’ ‘ইউ আর সো রুড,’ মুখ বাঁকা করে বললো ও, ‘একটু ভালোভাবে তো কথা বলতে পারো।’ ‘সরি,’ কাঁধ ঝাকিয়ে বললাম আমি, ‘আসলে মেজাজ ঠিক নেই। তুমি কিছু একটা খেয়ে নাও। ঘুমাতে যাচ্ছি আমি।’ ‘শোন না,’ আদুরে গলায় বলে উঠলো ও। তবুও আমি নড়ছি না দেখে নিজেই এগিয়ে এলো আমার দিকে। বললো, ‘চন্দ্রকান্তটা দেখবে না?’ ‘নাহ,’ মাথা নাড়লাম আমি, ‘সুপারমুন দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু মেঘের জন্য দেখতে পারছি না। এইটা ছাড়া আর কিছু দেখার স্বাধ নেই আমার।’ ‘আরে আরে,’ আমার হাত ধরে টেনে বসালো ও, ‘বসো তো। এই জিনিস কেউ হাজার সাধনা করলেও দেখতে পাবে না। সারা দুনিয়ায় মাত্র সাতটা পাথর আছে। তার একটা এখন আমার হাতে। তবুও তুমি দেখবে না?’ ‘দেখো শ্রেষা,’ শান্তভঙ্গিতে বললাম আমি, ‘আমি খুবই ক্লান্ত। আজকে আর কিছু দেখা সম্ভব নয় আমার পক্ষে। কাল সকালে দেখবো।’ ‘কাল সকালে তো এটাকে আর পাবে না,’ মুখে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বললো ও। ‘কেন?’ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম আমি। ‘কারন,’ গম্ভীর, এবং কিছুটা রহস্যময় ভঙ্গিতে বললো ও, ‘আর কিছুক্ষন পর কয়েকজন আসবে এটাকে নিতে।’ ‘মানে কি?’ এবার রেগে গেলাম আমি, ‘কি বলতে চাইছো তুমি? মাথা ঠিক আছে তো?’ ‘মাথা আমার ঠিকই আছে শুভ,’ মৃদু হাসি ওর মুখে, ‘আমি সত্যি বলছি। সত্যি একটু পর কয়েকজন আসবে এটাকে নিয়ে যেতে।’ ‘তুমি আসলেই পাগল হয়ে গেছো শ্রেষা,’ মাথা নেড়ে বললাম আমি, ‘অনেকদিন ধরে এটার পেছনে আছো তুমি, তাই হয়তো ভাগ্যগুণে খুব সহজেই এটাকে পেয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছো না। বিলিভ মি, কেউ আসবে না এটাকে নিতে। ছেড়াদিয়ায় এই সময় কেউ আসবে না। আসতে পারবে না। আকাশে আজকে সুপারমুন আছে। যে কারনে জোয়ারের পানি অনেকগুন বেশী ফুলে উঠেছে। অলৌকিক উপায় ছাড়া কেও এখন এখানে আসতে পারবে না।’ এমনসময় হঠাত করেই চারপাশে একটা সাদা আলো ছড়িয়ে পড়লো। দ্রুত আকাশের দিকে তাকালাম আমি। সেখানে চাঁদ দেখা যাচ্ছে। মেঘ সরে গিয়ে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে চাঁদ। সুপারমুন! ‘আসবে শুভ,’ আরো বেশী রহস্যময় শোনালো শ্রেষার গলা, ‘সময় হয়ে গিয়েছে। ওরা আসবে। তার আগে তোমাকে কিছু কথা বলার প্রয়োজন আমার।’ আমার কাছ ঘেষে দাঁড়ালো মেয়েটা। একেবারে আমার মুখোমুখি। তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ওর চোখ থেকে আমার চোখের দুরত্ব বড়জোর তিন ইঞ্চি। ‘ধরো এটা,’ জোড় করে আমার হাতে পাথরটা তুলে দিলো ও, ‘প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করবে। শশশশশশ, কোন কথা নয়। এখন আমি তোমাকে কিছু জরুরী কথা বলবো। মন দিয়ে শোন। বুঝলে?’ . ০৭ . ‘চন্দ্রকান্তের একটা অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে। এটা সূর্যপাথরের ঠিক বিপরীত, এটাই এর একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়। এর অনন্য বৈশিষ্ট্যটা হলো, সুপারমুনের একটা নির্দিষ্ট লগ্ন আছে, সেই লগ্নে এই পাথর যার কাছে থাকবে, তার ভেতর পরিবর্তন ঘটবে। সে হবে অমর। মিথ্যে বলছি না আমি, সত্যি অমরত্ব পাবে সে। এটাই এই পাথরকে সূর্যপাথর বা অন্য আরো সব পাথর থেকে আলাদা করেছে। পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ানের চতুর্থ পার্টে দেখেছিলে না, ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো আর ক্যাপ্টেন আর এডওয়ার্ড টীচ মিলে ফাউন্টেন অফ ইউথ এর সন্ধানে নেমে পড়ে। আসলে ফাউন্টেন অফ ইউথ বলে কিছুই ছিল না। যেটা ছিল, সেটা আসলে একটা ঝর্না। যেটা বর্তমান হিমছড়িতে অবস্থিত। আর সেই ঝর্নার নিচেই লুকানো ছিল এই মুনস্টোন। এডওয়ার্ড টীচের মিশন ছিল উইলিয়াম কিডের লুকানো মুনস্টোন বা চন্দ্রকান্তের সন্ধান করা। কিন্তু সে ব্যর্থ হয়। অবশেষে সেই ঝর্না খুঁজে বের করেন হেনরি লরেন্ট এবং তার দল। আর সেখান থেকেই মুনস্টোনটা তাদের হাতে আসে।’ ‘কিন্তু,’ অধৈর্য হয়ে প্রশ্ন করলাম আমি, ‘তুমি বারবার বলছো তারা আসবে। কারা আসবে?’ এমনসময় সাগরের দিক থেকে কয়েকটি কন্ঠের সম্মিলিত একটা গান ভেসে এলো। চমকে গিয়ে সেদিকে তাকালাম আমি। গানটা আমার পরিচিত! Yo, Ho haul together, hoist the colours high Heave ho, thieves and beggars, never shall we die Yo, Ho haul together, hoist the colours high Heave ho, thieves and beggars, never shall we die ‘অসম্ভব!’ বহুকষ্টে উচ্চারন করলাম আমি, ‘এ হতে পারে না।’ ‘এটাই হয়েছে শুভ,’ আমার মুখটা দুহাতে নিয়ে বললো শ্রেষা, ‘ওরা এসে গেছে। হেনরি লরেন্ট আর তার স্যাঙাৎরা। বহু বছরের অতৃপ্ত ওরা। অভিশপ্ত! ওরা আমাদের মারতে আসছে। কারন ওদের জিনিস আমরা নিয়ে এসেছি।’ ‘যথেষ্ট হয়েছে,’ জোড় করে ওর দুহাত সরিয়ে নিলাম আমি, ‘আর হ্যালোসিনেশনে ভুগতে চাই না আমি।’ ‘এটা হ্যালোসিনেশন নয়,’ মৃদু কাঁপছে ও। সেটা ভয়ে না ঠান্ডায় বুঝতে পারছি না আমি, ‘এটা বাস্তব। আসছে ওরা।’ চলবে.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চন্দ্রকান্ত (৪র্থ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now