বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
**চন্দ্র সারথি**
খৈয়াম ফুলের বাগানের দোলনায় শুয়ে আছে ।
জ্বীনের বাদশাহর একমাত্র সন্তান ও । মনটা খুবই বিষন্ন আজ । কেমন যেমন একাকীত্ব অনুভব করছে বেশ কিছুদিন ধরে । ভালো লাগছে না এই জগৎ । জ্বীনজগৎ তো অনেক সুন্দর । একদম স্বর্গের মত । কিন্তু একই জায়গায় থাকতে থাকতে এই সৌন্দর্যকে একঘেয়ে লাগছে ওর ।
খৈয়াম ভাবলো "যাই একটু মেঘরাজ্য থেকে ঘুরে আসি । মেঘকণ্যার সাথে গল্প করলে হয়তো বিষন্নতা দূর হতে পারে ।"
মেঘকণ্যা ওর সবচেয়ে ভালো বন্ধু । বাবার অনুমতি নিয়ে উড়ে মেঘরাজ্যের দিকে রওয়ানা দিল খৈয়াম । সাথে ওর সবসময়ের সঙ্গী সোনার বাশিঁ । দুগ্ধ ঝর্ণার পাশে বসে প্রকৃতি উপভোগ করছিল মেঘকণ্যা । খৈয়ামকে দেখে উঠে আসলো।মিষ্টিস্বরে বলল,"তোমার কথাই ভাবছিলাম ।"
খৈয়াম হাসিমুখে বলল,"কেন ?"
"তোমার বাশিঁর সুর শুনতে খুব ইচ্ছে করছিল",লাজুক কন্ঠে বলল মেঘকণ্যা । মুচকি হেসে বাশিঁ বাজাতে শুরু করলো খৈয়াম । মায়াবী সেই সুরে ভরে উঠলো পুরো মেঘরাজ্য । মুগ্ধ হয়ে মেঘকণ্যা শুনতে লাগলো বাশিঁর সুর ।
হঠাৎই থেমে গেল খৈয়ামের বাশিঁর সুর ।
"আমার খুব মন খারাপ, বিষন্ন লাগছে সবকিছু,"রুষ্টস্বরে বলল খৈয়াম ।
"তুমি পৃথিবী থেকে ঘুরে আসতে পারো, মন ভালো হয়ে যাবে আশা করি,"মিষ্টি হাসি দিল মেঘকণ্যা ।
মেঘকণ্যাকে ধন্যবাদ দিয়ে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল খৈয়াম । আসলেই পৃথিবী অনেক সুন্দর । চারদিকে সবুজের সমারোহ । উড়তে উড়তে ভাবলো খৈয়াম ।
"না অনেকক্ষণ উড়েছি, যাই একটু জিরিয়ে নেই । ঐ বকুল গাছের নিচে বসে একটু জিরিয়ে নেই ।"
বকুল গাছের নিচে বসে হিমেল হাওয়ায় শরীর জুরিয়ে গেল । ডানা দুটিকে খুলে পাশে রেখে গাঁ এলিয়ে বসলো খৈয়াম । তন্দ্রাভাব চলে আসলো চোখে ।
হঠাৎ নুপুরের ঝন ঝন শব্দে নিদ্রা টুটে গেল ওর । নীল শাড়ি পড়া কোন এক অষ্টাদশী বকুল তলায় এসেছে । বকুল ফুল কুড়িয়ে সুতায় গেথেঁ মালা বানাচ্ছে মেয়েটি । মেয়েটিকে দেখে হতবাক হয়ে গেল খৈয়াম । মানুষ এত সুন্দর হয় ! খৈয়ামের কাছে মনে হল লাল পরী, নীল পরী, মেঘকণ্যা সবার রূপ এই মেয়েটির কাছে হার মেনেছে । সবার রূপ যেন এই একটা মেয়ের মাঝেই বিদ্যমান । মেঘকণ্যার মত শুভ্র মুখ, লালপরীর মত টকটকে লাল ঠোঁট আর নীল পরীর নিখাদ সুন্দর নীল যেন ফিকে হয়ে গেছে মেয়েটার নীল শাড়ির কাছে । চুলগুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন রূপকথার কেশবতীর কাছ থেকে ধার করা । তবে খৈয়ামের কাছে সবচেয়ে ভালো লাগলো গাঢ় লাল আলতা মাখা নুপূর জড়ানো পা দুটি ।মেয়েটিকে দেখে মনে হয় বিধাতা তার কাছে থাকা সমস্ত সৌন্দর্য দিয়ে মাটির একটা জীবন্ত মূর্তি বানিয়েছেন ।
পুরো মালাটা বানানোর আগেই কে যেন ডাকলো "সারথি" ।
"আসছি বাবা" বলে ফুলগুলো ফেলে চলে গেল সারথি ।
উঠে দাড়াঁলো খৈয়াম । পরম যত্নে কুড়িয়ে নিল বকুল ফুলগুলো । ও জানে সারথি ওকে দেখে নি কারণ ও যে অদৃশ্য । বকুল ফুলের মালাটা নিয়ে ও উড়ে চলে আসলো ওর রাজ্যে ।
সারথিকে দেখার পর থেকে ওর মনের বিষন্নতা দূর হয়ে গেছে । সারারাত সারথির কথাই ভাবলো খৈয়াম । আবার একবার সারথিকে দেখার জন্য মন আকুঁপাকুঁ করতে লাগলো ওর ।
পরদিন সকালে ও আবার গেল সেই বকুল তলাতে । তবে এবার আর অদৃশ্য হয়ে নয় ; সুঠাম এক যুবকের রূপে দৃশ্যমান হয়ে ও বকুল তলায় বসে বাশিঁ বাজাতে লাগলো । সেই বাশিঁর সুরের জাদুতে দৌড়ে আসলো সারথি । মন্ত্র মুগ্ধের মত শুনতে লাগলো বাশিঁর সুর ।
বাশিঁ থেমে গেলে সারথি জিজ্ঞাসা করলো "কে তুমি ?"
"আমি! আমি ! ও হ্যা,আমি চন্দ্র ! পাশের গ্রামে থাকি ।" আমতা আমতা করে বলল খৈয়াম ।
"আমি সারথি । তুমি তো খুব ভালো বাশিঁ বাজাও," খৈয়ামের পাশে বসলো সারথি । "আমাকে প্রতিদিন বাশিঁ বাজিয়ে শুনাবে ?"
খুশি হয়ে খৈয়াম বলল,"হ্যাঁ,অবশ্যই শুনাবো ।"
তারপর থেকে খৈয়াম সারথিকে প্রতিদিন বাশিঁ বাজিঁয়ে শুনাতো বকুল তলাতে । আস্তে আস্তে ওদের মাঝে গড়ে উঠলো ভালোবাসা ।
অদ্ভুত এক ভালোবাসা ! মানুষ আর জ্বীনের মধ্যে ভালোবাসা ।
তবে খৈয়াম কখনও সারথিকে স্পর্শ করতে পারতো না । কারণ খৈয়াম তো মানুষ না । কিন্তু তাতে কি ? দিন দিন বেড়ে গেল ওদের ভালোবাসার গভীরতা ।
কিছুদিন পরের কথা ।
খৈয়াম তৈরী হচ্ছিল পৃথিবীতে আসার জন্য ।
তখন ওর বাবা ওর কাছে এসে বলল,"আমি নীল পরীর সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করেছি । কয়েকদিন বাদেই বিয়ে । প্রস্তুত থেকো তুমি ।"
আৎকে উঠলো খৈয়াম । কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বলল না ।
সারথির কাছে এসে খৈয়াম জিজ্ঞাসা করলো,"আমি যদি আর না আসি, বাশিঁ বাজিঁয়ে না শোনাই , আর ভালো না বাসি তাহলে তুমি কি করবে ?"
"কি করবো জানি না, মনে হয় দম আটকে মরে যাবো," মেঘশুভ্র মুখে কালো ছায়া নেমে আসলো সারথির ।
আর কিছু বলল না খৈয়াম । সোজা চলে আসলো মেঘকণ্যার কাছে । সবকিছু খুলে বলল মেঘকণ্যাকে । সবশেষে বলল,"আমি শুধু সারথির সাথে সারাজীবন থাকতে চাই ।"
সব শুনে মেঘকণ্যা বলল,"আমার দাদু তোমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন । চলো উনার কাছে যাই ।"
বরফের তৈরী বিশাল এক চেয়ারে বসেছিলেন মেঘকণ্যার দাদু । সবশুনে তিনি বললেন,"আমি তোমাকে মানুষ বানিয়ে দিতে পারবো । যাতে তুমি সারাজীবন সারথির সাথে থাকতে পারো । কিন্তু তুমি আর কোনদিন এই জগতে ফিরে আসতে পারবে না । তোমার স্থায়ী আবাসন হবে পৃথিবীতে ।"
কিছুক্ষণ ভেবে খৈয়াম বলল,"আমি সারথির জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি আছি । আপনি ব্যবস্থা করুন ।"
তখন দাদু খৈয়ামকে মানুষে রূপান্তরিত করে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিল । তার স্থায়ী পরিচয় হল চন্দ্র ।
এদিকে সারথি চন্দ্রের জন্য বকুল তলায় অপেক্ষা করছিলো । চন্দ্রকে দেখে ছুটে আসলো সারথি । কাছে আসতেই ওকে প্রথমবারের মত বুকে জড়িয়ে নিল চন্দ্র ।
প্রথমে একটু অবাক হলেও পরে সারথিও ওকে জড়িয়ে ধরে বলল,"চন্দ্র,তোমাকে অনেক ভালোবাসি ।"
সত্য হল চন্দ্র সারথির অদ্ভুত এক ভালোবাসা ।
তবে শুধু চন্দ্রই জানে চন্দ্র সারথির এই ভালোবাসা সত্য আর সার্থক করতে ওকে কত ত্যাগ স্বীকর করতে হয়েছে ।
**রূপকথা**
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now