বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিছুদিন পরের কথা, প্রতিদিনের মত আজও মাহফুজ নেশা করার জন্য মায়ের কাছে টাকা চাইতে এলো।এরই মাঝে একরাতে বৃষ্টিতে ভেজার করনে দুই দিন প্রচন্ড জ্বরে ভুগেছে।দুইদিন নেশা করতে পারেনি। তাই আজ নেশার জন্য মনটা আনচান করছিল। গিয়ে দেখে মা মাগরিবের নামাজ আদায় করছেন। আর তার সাথে মাহফুজ সেই মেয়েকেও তার মায়ের সাথে নামাজ আদায় করতে দেখলো। তাদের বিয়ে হয়েছে দুই মাস হলো। কিন্তু এই দুই মাসে সেই মেয়ে তার কাছে আসেনি, কারন সেই তাকে আসতে মানা করে দিয়েছে। তাই ভালোভাবে কখনো সেই মেয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করেনি।,কিন্তু আজ যখন সেই মেয়েকে মনের অজান্তে পরিপূর্ণ ভাবে দেখতে পেল, তখন তার কাছে মনে হল যেন স্বর্গ থেকে ১ টা হুর দুনিয়াতে নেমে এসেছে। সে ফ্যালফ্যাল করে সেই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকলো। মনে মনে চিন্তার সাইমুম ঝড় বইতে লাগলো, মানুষ এত সুন্দর কিভাবে হতে পারে?এ কোন মানুষ নাকি ডানা কাঁটা পরী!!নামাযে তার মুখায়ব আরো মায়াবী মনে হলো মাহফুজের কাছে।অবশেষে মায়ের ডাকে তার ভাবনায় ছেদ পড়ল।মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেশার আড্ডায় চলে গেল। আড্ডা থেকে যখন বাসায় ফিরলো তখন রাত একটা বাজে। বাসায় এসে যখন দরজায় টোকা দিলো তখন মনে হল টোকা দেওয়ার সাথে সাথে দরজা কেউ খুলে দিয়েছে। হঠাৎ তার খেয়াল হল দুই মাস যাবত তার সাথে প্রতিদিনি এমন হচ্ছে। যেন কেউ তার অপেক্ষা করছে। প্রায় এসে দেখে খাবার টেবিলে তার জন্য খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মাঝে মাঝে খাবারের চাহিদা থাকলে খায়, আর না হলে নিজের রুমে চলে যায়। তার কিছুদিন পরের কথা। মাহফুজের বোন তার স্বামীকে সাথে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে মাকে দেখতে ঢাকায় এসেছে। কিছুদিন পর সে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাচ্ছে। তাই মার কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছে। রাতের বেলা খাবারের পর তার বোন মাহফুজের রুমে এলো, দেখল মাহফুজ রুমের লাইট অফ করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। তার বোন মাহফুজকে জিজ্ঞাসা করল, ভাইয়া ঘুমিয়ে গিয়েছিস?
মাহফুজ: না,কিছু বলার থাকলে বলতে পারিস।
বোন: ভাইয়া তুই নিলিমা আপুকে এত কষ্ট দিস কেন?
মাহফুজ: নীলিমা আবার কে?
বোন: কে আবার? তোর স্ত্রী!!তুই জানিস!যখন তোর জ্বর ছিলো তখন নিলিমা আপু সারাটা দিন সারাটা রাত তোর পাশে ছিলো।তোকে সুস্থ করে তুলতে দিন রাত এক করে দিয়েছে। যখন তুই রাত করে বাসায় ফিরিস তখন সে তোর অপেক্ষায় জেগে থাকে।রাতের খাবারটা পর্যন্ত খায়না।যেদিন তুই রাতের খাবার খাস সেইদিন সেও খায়।আর যেদিন তুই রাতের খাবার খাসনা সেইদিন সে না খেয়েই চুপচাপ শুয়ে থাকে।দেখ ভাইয়া! একটা মেয়ে তোকে ধোকা দিয়েছে বলে সমস্ত মেয়ে জাতিকে খারাপ ভাবাটা অন্যায়।আশা করি আমার কথাটা ভালোভাবে ভেবে দেখবি।
মাহফুজ তার বোনের কথা শুনে ভাবনার অতল সাগরে হারিয়ে গেলো।ঠিকই তো! সেই মেয়ের কি দোষ! আমি যে সেই মেয়ের প্রতি বিনাদোষে এতো অবিচার করছি তাকি বিধাতা মেনে নিবেন?ভূল তো আমারই ছিলো যে বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে গিয়েছি।যেই মেয়ে কোন দিনি আমার হবেনা তাকে নিয়ে চিন্তা করাও তো ছিলো আকাশ কুসুম কল্পনা!তাই বলে সব মেয়েকে এক সারিতে রেখে সবাইকে একরকম ভাবাও তো মহা পাপের সামিল!!এই সব চিন্তা করতে করতে কখন যে মাহফুজ ঘুমের অতলে হারিয়ে গেলো সে টেরও পেলোনা।
মাহফুজের বোন তার স্বামিকে নিয়ে ১সপ্তাহ মাহফুজদের বাসায় বেড়িয়ে শশুর বাড়ি চলে গেলো।এই এক সপ্তাহ বোনের মান ইজ্জতের দিকে তাকিয়ে মাহফুজ আর নেশা টেশা করেনি।বোন চলে যাবার পর ১জনের কাছ থেকে টাকা ধার করে নেশার আড্ডায় চলে গেলো।আজ রাতে একটু আগে ভাগে বাসায় চলে এলো।কারন আজ আকাশ থেকে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পরছে।নেশার আড্ডা থেকে ভিজতে ভিজতেই মাহফুজ বাসায় এসে পৌছায়।বাসায় এসে আরাম করে একটা গোছল সেরে এসে তার রুমের বারান্দার একটি কেদারায় এসে বসলো।কিছুক্ষন আগেই বৃষ্টি থেমে গেছে আর আকাশে আলোক ঝলমলে খুব সুন্দর একটি চাঁদ উকি দিয়েছে।রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি আর চাঁদের চিক চিক করা অথৈ আলোর ফেয়ারায় এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now