বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- দেখ আকাশটা খুব সুন্দর
লাগছে তাই না।
- হুম।
- কি দেখছ এইভাবে আকাশটা
দেখ না।
- কি আছে আকাশে?
- অনেকগুলো তারা আর বাকা
একটি চাঁদ।
- হুম দেখছি তো
- কই দেখছ তুমি তো আমার
দিকেই তাকিয়ে আছ
- আমি আমার চাঁদকেই দেখছি
যাকে আমি ধরতে পারি,
ছোঁতে পারি।
মেয়েটির গালে লাল আভা
দেখতে যায়। কিছু বলতে গিয়ে
বলতে পারে না। ছেলেটি
এখনও তাকিয়ে আছে মেয়েটির
দিকে অর্থহীন ভাবে।
.
সন্ধ্যার অন্ধকার বাড়ছে তার
সাথে ঠান্ডাও বাড়ছে।
মেয়েটির চাদর মুড়ি দিচ্ছে
দেখে ছেলেটি বলে, আমারও
ঠান্ডা লাগছে।
মেয়েটি হাসতে হাসতে
ছেলেটিকে তার চাদরে নিয়ে
নেয়। হাটতে থাকে লেকের
পারে হঠাৎ ছেলে থেমে যায়..
- তোমার জন্য একটা জিনিস
আছে।
- কি?
- চোখ বন্ধ করতে হবে
- আচ্ছা এই যে করলাম
- হুম, এবার চোখ খুলো
মেয়েটি দেখে ছেলেটির
হাতে কিছু হলুদ ফুল নিয়ে হাটু
গেড়ে বসে আছে। ছেলেটির
মুখে হাসি।
- এসব কি হুম?
- প্লিজ।
মেয়েটির ফুল গুলো নেয় এবার
মেয়েটিও হাসছে।
- উঠে দাড়াও ঠান্ডা বাতাস
বইছে, তোমার ঠান্ডা লাগবে,
চল ওই দিকটায় যাই।
- হুম যাব কিন্তু..
- কিন্তু কি?
- এক বার বল না?
- কি বলব
- ওই কথাটা?
- কোনটা
- আরে ওই কথাটা
- না বলব না
লজ্জা পায় মেয়েটি তাই
বলতে চায় না।
.
খুুব দ্রুত ছেলেটির হাত ধরে
ফেলে মেয়েটা। কুয়াশায়
হাটতে থাকে। কেউ কিছু বলছে
না চুপচাপ দু'জনই। কি বলবে
কেউই বুঝতে পারছে না।
- কুয়াশাটা অনেক ঘন হয়ে
গেছে।
- কিন্তু আমি তোমাকে
দেখতে পারছি।
- কারন আমি তোমার হাতটা
ধরে আছি।
- হুম
- যদি কুয়াশায় হারিয়ে যাই?
- বললেই হলো, তোমাকে
হারাতে দিলে তো।
- চল হারিয়ে যাই
- চল
কথা বলতে বলতে মেয়েটি
বুঝতে পারে ছেলেটি পাশে
নেই। অন্ধকার হয়ে গেছে তার
ওপর কুয়াশা, মেয়েটা যেন
ছেলেটিকে হারিয়ে
ফেলেছে। ফোন দিচ্ছে কিন্তু
ধরছে না ভয়টা যেন বেড়েই
যাচ্ছে। হৃদস্পন্দনটাও বেড়ে
গেছে। মেয়েটা বুঝতে পারে
তার মুল্যবান কিছু হারিয়ে
যাচ্ছে। মেয়েটির অজান্তে
চোখে পানি চলে আসে। আশে
পাশে খোঁজাখুঁজি করছে।
তখনি হঠাৎ কেউ একজন হাতটা
ধরে ফেলে আরও ভয় পেতে যায়
মেয়েটা।
.
অন্ধকারে ছেলেটিকে দেখে
বুঝে সে দুষ্টুমি করছিল তার
সাথে, তখনি সে মারতে
থাকে। মার দেওয়া শেষ হলে
ছেলেটি দেখে মেয়েটির মুখে
অন্ধকার নেমে আসে। মেয়েটি
ছেলেটির হাতটা শক্ত করে
ধরে ফেলে। মেয়েটার চোখে
পানি ছেলেটি দেখতে পেল।
ছেলেটি কি বলবে বুঝতে
পারছে না কারন আজই তো
তাদের প্রথম হলো, তার ওপর
এই রকম একটা দুষ্টুমিতে খুব ভয়
পেয়ে যায় মেয়েটি। খুব
ভালবাসে মেয়েটা যার জন্যই
ছেলেটি ভাল না বেসে পারল
না তাকে।
- সরি এই যে কানে ধরছি।
- তোমার সাথে কথা নেই
আমার।
- সরি তো বাবা আর হবে না
এমন।
- ৬ টা বাজে, কিছুক্ষণ পর তো
চলে যাবে আর এমন করার
সুযোগ কোথায়। বলেই কান্না
শুরু করে মেয়েটি।
আজ সারাটা দিন ছেলেটি
মেয়েটিকে দিয়েছে ৮ টার
বাসে তাকে চলে যেতে হবে
ভেবেই মেয়েটির আরও কান্না
করছে। ছেলেটি যেন নিজেকে
কনট্রোল করতে পারছে না।
মেয়েটি কেঁদেই যাচ্ছে,
কেঁদেই যাচ্ছে। মেয়েটিকে
জড়িয়ে ধরে ছেলেটি।
- কেঁদ না প্লিজ, তুমি কাঁদলে
আমার কষ্ট হয় জান না এটা।
- হুম, কিন্তু থামাতে পারছি
না কান্না।
- আবার দেখা হবে তো
আমাদের..
- খুব মিস করি তোমাকে
- আমিও তোমাকে খুব মিস
করি।
ছেলেটি মেয়েটিকে বুকে
নিয়ে নেয়। মেয়েটিও
ছেলেটির বুকে মুখ গোজে
কাঁদতে থাকে। কিছু বলার
ভাষা নেই ছেলেটির। কিছু
বলার চেষ্টা ও করছে না। সে
জানে আবার দেখা হবে হবে
ওদের হয়তো সেটা অনেকটা
সময় নিবে কিন্ত আজ এই
মুহূর্তে মেয়েটিকে নিজের
থেকে আলাদা করতে চাইছে
না। মনে হচ্ছে ছেলেটি আবার
ভালবেসে ফেলেছে
মেয়েটিকে। আজ আবার
মেয়েটির ভালবাসার কাছে
ছেলেটি হেরে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now