বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
¤¤¤ চক্র ¤¤¤
(৩য় পর্ব)
By : এডমিন।
---------------------
সকালে বেড়ুবার মুখেই বিপত্তি। পুরো সিঁড়ি ঘরটি
ধুলায় অন্ধকার করে দিয়ে ঝাঁট দিচ্ছে শামসু মিয়া।
বাড়িওয়ালার এই কেয়ারটেকার কাম দারোয়ান শামসু
মিয়ার সঙ্গে সব সময়ই খটমট লেগে আছে
আমিনুলের। কথায় বলে না, বাঁশের চেয়ে কঞ্চি
বড়; চায়ের চেয়ে কেটলি গরম- শামসুর অবস্থা
সেরকম। দুই টাকার কেয়ারটেকার নিজেকে বাড়ির
মালিক মনে করে। মাসের ভাড়া দিতে দু-একদিন
দেরি হলেই কি হম্বিতম্বি!
সকালে বেরুবার মুখে ঝাড়– দেখেই মনটা কু
গাইছিলো। বঙ্গবাজারের মোড়ে এসে মটর
সাইকেলের চাকা পাংচার হতেই ঝাড়– দর্শনের
মাজেজা পরিষ্কার হয়ে গেল। ভোগান্তির যে
এখানেই শেষ নয় সেটা তখনো বোঝেনি
আমিনুল। চাকা বানাচ্ছে দুই পিচ্চি। সম্ভবত ওস্তাদ
দোকানে নেই। এ সুযোগে আমিনুলের মটর
সাইকেলের উপর দিয়ে দুজন হাত মকশো করে
নিচ্ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ সময় নিয়েও
চাকার লিক সারাতে হিমশিম খাচ্ছে দুজন। এতে
তাদের উৎসাহে কোনো ছেদ পড়ছে না। মহা
উৎসাহে দুই পিচ্চি মটর সাইকেলের পেছনের
চাকাটি নিয়ে কসরত করছে। বসে বসে তাদের
কান্ড কারখানা দেখা ছাড়া আমিনুলের আর কিছুই করার
নেই।
তাড়াহুড়োর জন্য সকালে নাস্তা করা হয়নি। কপালের
ফেড়ে যখন সময় নষ্টই হচ্ছে, তখন কিছু
খেযে নেওয়া যাক। এ ভেবে গত ত্রিশ মিনিটে
আমিনুল এক হালি সিদ্ধ ডিম, দুটি সাগর কলা, চার পিস শশা
এবং একটি গাজর খেয়েছে। সব শেষে এককাপ
চা খেয়ে সিগারেট ধরানোর সঙ্গে সঙ্গেই
নিম্নচাপ। শশা আর ডিমের কম্বিনেশনটা যে ঠিক
হয়নি এতক্ষণে বুঝতে পারে আমিনুল। বেরুবার
মুখে ঝাড়– দর্শনের আরেকটি নতিজা হাতেহাতে
পেয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেলের সামনে তনু ভাই বসে আছে,
এ চিন্তাটা এক মুহুর্তের জন্যও স্বস্তি দিচ্ছে না।
ভয়ের চোটে মোবাইল ফোনটা সুইচ অফ
করে রেখেছে। কাজ শেষ হলেই খুলবে।
এখন খোলা থাকলে খবর আছে। এর মধ্যে
নিশ্চই কয়েক হাজার বার তার ফোনে চেষ্টা
করেছে তন্ময়। একদিকে তনু ভাই খেপছেন,
অন্যদিকে বকুলের সঙ্গে সম্পর্কটা বোধহয়
চীরতরে ‘কাট’ হয়ে গেল। তন্ময় ভাইয়ের
সঙ্গে সকাল দশটায় ঢাকা মেডিকেলের
অ্যাসাইনমেন্টটা ঠিক হওয়ার পর অনেক কষ্টে
বকুল কে রাজি করিয়েছে নয়টায় টিএসসিতে দেখা
করার জন্য। সহজে কী বকুল রাজি হয়! কতো
কাঠ-খড় পুড়িয়ে তবেই তাকে রাজি করিয়েছে।
দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এতোক্ষণে নিশ্চই
বিরক্ত হয়ে ক্লাসে চলে গিয়েছে বকুল।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে তার সামনে যাওয়ার
কোনো মুখ থাকলো না। বকুলের কাছে আবার
ইমেজ পুনরুদ্ধারে যে কত সময় এবং মোবাইল
ফোনের ব্যালেন্স ব্যয় হবে তা একমাত্র
আল্লাই বলতে পারেন। বুক চীরে দীর্ঘশ্বাস
আসে।
একটি মাত্র শলার ঝাড়–র এতো পাওয়ার! শালা
একদিনে কতো দিক থেকেই না প্যাঁচ খাওয়ালো।
সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে ফোনের সুইচ অন
করে। একটু নার্ভাস। কাঁপা হাতে বকুলের নম্বরে
ডায়াল করার আগেই ফোন বেজে উঠে।
আননোন নম্বর থেকে কল। আমিনুলের
সোর্স ডিবি অফিসের এসআই আজহার ফোন
করেছে। এর আগেও আজহার ডিবির অনেক
গোপন অপারেশনের তথ্য আগেই
জানিয়েদিয়েছে আমিনুলকে। এর ফলে পুলিশের
বিভিন্ন গোপন অপারেশনের এক্সকুসিভ ছবি
তুলতে পেরেছে সে। এ কারণেই এতোদিন
চাকরিটা টিকে আছে। নয়তো অ্যাসাইমেন্টে
অবহেলার দায়ে কবেই তার চাকরিটা খেয়ে
নিতো নিউজ এডিটর।
বোতাম টিপে ফোনটা রিসিভ করে আমিনুল।
‘হ্যালো আজহার ভাই, বলেন, তারপর খবর কী?’
‘খবরতো সাঙ্ঘাতিক। আপাদের সিনিয়র রিপোর্টার
তন্ময় চৌধুরীর নামে তো ওয়ারেন্ট বাইর হইছে।
খবর কিছু জানেন নাকি?’
আজহারের কথা শুনে আতকে উঠে আমিনুল।
‘ওই মিয়া, কন কী? পুরাটা খুইলা বলেন। তন্ময়
ভাইয়ের নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু হইবো কেন। সে
কী করছে?’
‘ডিটেলস বলতে পারমু না। তবে খবর পাকা। উপর
থেকে চাপ আছে। যে কুনু সময় তন্ময় ভাইকে
অ্যারেস্ট করা হবে। খুব ভোরে ডিবির একটা দল
তন্ময় চৌধুরির বাড়িতে গেছিলো তারে অ্যারেস্ট
করতে। কিন্তু কাল রাতে তন্ময় চৌধুরী বাড়ি ছিলো
না। তাই বাইচা গেছে। সম্ভব হইলে তন্ময় চৌধুরিরে
খবর দেন। সময় কিন্তু খুব কম। যা করনের জলদি
করেন।’
এর পরই তন্ময়কে ফোন করে আমিনুল।
সকাল থেকে এ পর্যন্ত এবারই প্রথম ভাগ্য সহায়তা
করে আমিনুলের। আজহারের ফোন রাখা মাত্রই
দুই পিচ্চি ইঞ্জিনিয়ার জানায়, ‘গাড়ি রেডি স্যার।’
**********************
দুজনের মধ্যে যে লম্বা, তার পরনে জিন্স আর
সাদা ফুল হাতা সার্ট। অন্যজন খাকি গ্যাবার্ডিনের
প্যান্টের উপর স্ট্রাইপ হাওয়াই সার্ট পরা। দুজনের
চুলই ছোট করে ছাটা। সাদা প্রোবক্স গাড়িটা
হাসপাতালের সামনে থামিয়ে দ্রুত নেমে পরে
দুজন। মাপা পায়ে করিডোর ধরে এগিয়ে যায়।
আপাত দৃষ্টিতে হাসপাতালে আসা আর দশজন মানুষ
থেকে এ দুজনকে আলাদা ভাবার কোনো কারণ
নেই। কিন্তু দুজনের হাতে দুটি এ ফোর
সাইজের ছবি সাদেক সরকারের কৌতুহল বাড়িয়ে
দেয়।
হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের
প্রেসিডেন্ট সাদেক সরকারের হাসপাতালের
কোনো কাজই করতে হয় না। বরং সে
হাসপাতালের ত্রিসীমানায় না এলেই পরিচালক
থেকে শুরু করে ডাক্তার ও অফিসারদের সবাই খুশি
হয়। বিশেষ কোনো স্বার্থ ছাড়া সাদেক সরকার
এদিক পা বাড়ায় না। বেশিরভাগ সময় পার্টি অফিসেই
ব্যস্ত থাকে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে দিনে
অন্তত একবার ভিআইপি কেবিনে এসে উকি দিতে
হচ্ছে। শাশুড়ির অপারেশন হয়েছে। একজন
মন্ত্রীর মতো ভিআইপি মর্যাদায় হাসপাতালের
সবচেয়ে বিলাসবহুল কেবিনে শুয়ে আছে বুড়ি।
এ টুকুই কী যথেষ্ট নয়?
মানুষের স্বভাবটাই এমন। যতো পাবে ততোই
খেতে চাইবে। আরে, এই বুড়ির সাত কপালের
ভাগ্য এমন একটা কেবিনে শুয়ে আছে। এখানে
মরতে পারলেও শান্তি। সাদেক সরকারের মতো
জামাই পেয়েছে বলেই না আজ বুড়ির ভাগ্যে এই
শয্যা জুটেছে। নয়তো তার মতো কতো
রোগী কেবিনের বাইরে বারান্দায় মাটিতে শুয়ে
কাতরাচ্ছে। এসব কথা কে কাকে বোঝাবে।
প্রতিদিন একবার করে বুড়িকে তার দেখতে
আসতে হবে। নয়তো বিবি গোস্বা করবে।
আরে তোর গোস্বার ধার ধারি নাকি আমি? মনে
মনে ভাবে সাদেক; স্ত্রীকে কসে একটা গাল
পাড়ে। কি দরকার সংসারে অশান্তি এনে! এ কথা
ভেবেই দিনে একবার হাজিরা দিয়ে যায়। মনে
মনে স্ত্রীর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে কিছুটা আরাম
পায়।
আজকেও সেই ‘রুটিন হাজিরা’ দিতেই এসেছিল।
পথে দেখা হয়ে যায় এ দুই মুর্তির সঙ্গে। এদিক
সেদিক উকি দিয়ে কাউকে খুঁজছে তারা।
‘ভাইজান কী কাউরে খুঁজেন?’
উপযাচক হয়ে জিজ্ঞেস করে সাদেক সরকার।
অথচ আগুন্তক দুজন তার দিকে ফিরেও তাকায় না।
যেন তার কথা শুনতেই পায়নি। তখনই তাদের হাতে
ধরা ছবিটা লক্ষ্য করে সাদেক। আরে ছবিতো
সাংবাদিক তন্ময় চৌধুরীর। তন্ময়কে ভালোভাবেই
চেনে সাদেক। একটা ব্যপারে দারুন সাহায্য
করেছিল তন্ময়। এর পর থেকেই তন্ময়ের
সঙ্গে তার খাতির। বিভিন্ন সময় তন্ময়কে
হাসপাতালের নানা বিষয়ে খবরাখবরও দেয় সাদেক।
অবশ্য যেসব খবরে তার নিজের স্বার্থ নষ্ট হয়
না শুধু সেসবই জানায় সে তন্ময়কে।
সন্দেহজনক দুজনের হাতে তন্ময়ের ছবি
দেখার পর থেকেই সাবধান হয়ে যায় সাদেক।
একটু দুরত্ব রেখে দুজনকে ফলো করতে
থাকে। এবার আরো মনযোগ দিয়ে জরিপ করে
তাদের। দুজনের কোমরেই হোলস্টারের
স্পষ্ট আভাস অভিজ্ঞ সাদেক সরকারের
চোখকে ফাঁকি দিতে পারে না। প্রশিক্ষিত সৈন্যের
মতো মাপা পা ফেলে হেঁটে যায় দুজন।
হাসপাতালের ভিড় তাদের কাজে কোনো ব্যঘাত
সৃষ্টি করতে পারে না। সিবিএ রাজনীতি করতে
গিয়ে ভালো-মন্দ, টপ টেরর, গলির মাস্তান নানা
ধরণের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয় সাদেককে।
সে নিজেও সব সময় সঙ্গে একটা রিভলবার বহন
করে। দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা বলে দেয়, এ
দুই ব্যক্তি বড় শক্ত পাল্লা।
তন্ময়ের জন্য চিন্তিত হয়ে পড়ে সাদেক। এ
সময় বিদ্যুৎ চমকের মতো মনে পড়ে যায়।
আরে, আজকেইতো তন্ময়ের হাসপাতালে
আসার কথা। গত রাতেই সে ফোন দিয়ে ছিলো।
সাদেককে অফিসে থাকতে বলেছিলো তন্ময়।
আজকে হাসপাতালে আসার কথা তন্ময়ের; আর
আজই রহস্যময় দুই ব্যক্তি হাতে তন্ময়ের ছবি
নিয়ে তার খোঁজে হাসপাতাল চষে বেড়াচ্ছে,
বিষয়টি কাকতাল হতে পারে না। তার মানে তন্ময়
এখানে আসবে জেনেই এ দুজন তার খোঁজে
এসেছে।
এক ছুটে হাসপাতালের বাইরে চলে আসে
সাদেক। ওইতো তন্ময়কে দেখা যাচ্ছে।
তন্ময়ের সামনে দাঁড়িয়ে বড় বড় শ্বাস নিয়ে
হাফাতে থাকে সাদেক। হরবর করে কিছু বলতে
চায়। ডান কানে সেল ফোনটি চেপে ধরে বাঁ হাত
তুলে তাকে থামায় তন্ময়। ফোনের অপর
প্রান্তের কথা শুনে দুই ভ্রু কাছাকাছি চলে আসে।
নিশ্চই কোনো দু:সংবাদ, ভাবে সাদেক। তার
কাছের যে তন্ময়ের জন্য আরেকটি বড় দু:সংবাদ
রয়েছে, সেটা জানানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে
পড়ে সাদেক। খুনে চেহারার দুজন রিভলবার
কোমরে গুজে তন্ময়ের ছবি হাতে নিয়ে তার
খোঁজ করছে- এটা দু:সংবাদ নয়তো কী!
ফোনটা নামিয়ে রেখে সাদেক ভুইয়ার দিকে
তাকায় তন্ময়।
‘সাদেক ভাই, এক্ষনি আমার এ জায়গা থেকে সরে
পড়তে হবে। তবে কিছুক্ষণ আপনার হাসপাতালের
কোথাও লুকিয়ে থাকতে হবে। আমিনুল আসছে।’
তন্ময়ের কথা শুনে আর কথা বাড়ায় না সাদেক
সরকার। অফিস ঘরের পাশে ছোট্ট গোপন
কুঠুরিটাতে নিয়ে যায় তন্ময়কে। যেতে যেতে
ঘাসের উপর নিশ্চিন্ত মনে বসে থাকা ঘুঘু দুটির
দিকে তাকায় তন্ময়। সকালেই ঘুঘু দুটো চোখে
পড়েছিলো। আর এখন বোধ হয় ঘুঘুর ফাঁদটা
দেখতে হবে। রং চটা বিবর্ন দেয়াল আর ভুসভুসে
একটা কম্বল বিছানো চৌকি ছাড়া ছোট্ট এ রুমটিতে
আর কিছুই নেই। তন্ময়কে সেখানে বসিয়ে তার
ছবি হাতে সন্দেহজনক দুই ব্যক্তির কথা জানায়
সাদেক। এ কথা শুনে আরো বেশি বিভ্রান্ত হয়ে
পড়ে তন্ময়।
আজ সকাল থেকে কী শুরু হলো? আমিনুল
জানালো তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
হয়েছে। পুলিশ হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছে
অ্যারেস্ট করার জন্য। অন্যদিকে খুনে চেহারার
দুজন নাকি ছবি হাতে নিয়ে তাকেই খুঁজে
বেড়াচ্ছে। নাহ্ কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছে না। গত ছয়
মাসের মধ্যে কারো পাকা ধানে মই দিয়েছে
বলেতো মনেও পড়ছে না।
সাদেকের গোপন কুঠুরিতে বসে যখন প্রচন্ড
গরমে দরদর করে ঘামছে তন্ময়, বাইরে তখন
পুলিশের দুটি ব্যাটেলিয়ানের সদস্যরা তন্নতন্ন
করে হাসপাতালের প্রতিটি প্রান্তে তন্ময়কে
খুঁজছে। মোবাইল ফোনের বদৌলতে সে
খবরও পৌছে যায় সাদেকের কাছে। খবর শুনে
নিজের ফোনটি তুলে নেয় তন্ময়। সাদেকের
বাধার কারণে ফোন করা হয় না।
‘না তন্ময় ভাই। আমার কাছে ব্যপারটা খুব সহজ মনে
হইতেছে না। আপনার সেল ফোনটা এখন ব্যবহার
না করাই ভালো। আপনেতো জানেন, এখন
পুলিশের কাছে মোবাইল ফোনে আড়িপাতার
যন্ত্র আছে। আপনে করলেও ওরা বুঝতে
পারবো আপনে কই আছেন। আপনের ফোন
থেইকা নম্বর বাইর কইরা আমার মোবাইল দিয়া
ফোন করেন।’
সাদেকের যুক্তি মেনে নেয় তন্ময়। তার
ফোন থেকেই আমিনুলকে ফোন করে
নিজের অবস্থান জানায়। পুলিশের চোখ এড়িয়ে
আমিনুল ঠিক পৌছে যাবে। ত্যাদড় আমিনুলের উপর
অন্তত এটুকু ভরসা রাখতে পারে তন্ময়।
***********************
বিশাল ড্রইং রুমটা গম গম করছে।
বেশিরভাগ লোকই এসেছে কোনো না
কোনো তদ্বিরে।
এদের মধ্যে পোশাক-পরিচ্ছদ ও চেহারায় যারা
একটু সম্ভ্রান্ত তাদের জন্য আলাদা একটা ছোট
কামড়ায় বসার ব্যবস্থা আছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই
কামড়ার অতিথিদেরও এর মধ্যেই দু দফা চা বিতরণ করা
হয়েছে। সুদৃশ্য পোর্সলিনের কাপে উৎকৃষ্ট
মানের দার্জিলিং চা উপভোগ করেছেন অভ্যাগতরা।
বড় রুমের অপেক্ষমানদের ভাগ্য এতোটা
প্রসন্ন নয়। গত দু ঘন্টায় তারা একবারও চা পায়নি।
তাতে অবশ্য এদের কোনো খেদ নেই।
মন্ত্রী কখন আসবেন সেই প্রতীক্ষায় উন্মুখ
সবাই।
মন্ত্রী তখন দোতলায় খাস কামড়ায় বসে
ঘামছেন।
ফোনের অপর প্রান্তে কারো চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার
করছেন। সাউন্ড প্রুফ বলে তার কথাগুলো
বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছে না। নয়তো তার
চিৎকার হেয়ার রোড ছাড়িয়ে বেইলি রোডের
নাটক সরণীতে ফুচকা খেতে আসা যুগলেরাও
শুনতে পেতো এতে কোনো সন্দেহ নেই
আবুল বাশার খান মজলিশের।
এই মুহুর্তে মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ভয় ও
টেনশনে কাঁপছেন তিনি। নামটা জবরদস্ত হলেও
খান মজলিশ লোকটি একেবারেই হ্যাংলা-পাতলা।
অল্পতেই তার টেনশন হয়। আর তখন কড়া এক
কাপ চায়ের সঙ্গে একটা বেনসন ধরাতে ইচ্ছে
করে। কিন্তু এমনই কপাল মন্ত্রীর এপিএস হওয়ার
কারণে সে সুযোগও বেশিরভাগ সময়ই পাওয়া যায়
না। কারণ মন্ত্রী মহোদয়ের আশপাশেই সব
সময় তাকে থাকতে হয়। মন্ত্রী মহোদয়ের
স্যান্ডেলটা আলমারি থেকে বের করে আনা,
পরিষ্কার রুমালটি ঠিকঠাকভাবে পকেটে পুরেছেন
কিনা, মোবাইল ফোনে চার্জ আছে কিনা, নাকি
চার্জার সঙ্গে নিতে হবে- এমনি সব জটিল ও
গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত তাকতে হয় আবুল বাশার
খান মজলিশকে। ফলে ঘন ঘন চা-সিগারেট খাওয়ার
সুযোগ মেলে না তার।
এই যেমন এখন। মন্ত্রী মহোদয়ের মেজাজ
যতোই চড়ছে, খান মজলিশের টেনশন ততোই
বাড়ছে। কড়া এক কাপ চা আর বেনসনের জন্য
বুকটা আকুপাকু করছে। এ মুহুর্তেতো মন্ত্রী
মহোদয়কে ছেড়ে বাইরে যাওয়া
কোনোভাবেই সম্ভব না। দেয়াল ঘড়িটার দিকে
তাকায় খান মজলিশ। পৌনে একটা বাজে।
প্রতিদিন এগারোটার মধ্যেই নীচে নেমে যান
মন্ত্রী। সেখানে দরবার শেষে জোহরের
নামাজ পড়ে সচিবালয়ে যান। নীচতলার ড্রইং রুমে
যারা সে সময় থাকেন তাদের সবাইকে নিয়েই
জামাতে জোহরের নামাজ আদায় করেন তিনি। এক
একদিন মন্ত্রী নিজেই ইমামতি করেন। খান মজলিশ
নামাজ পড়েন না। জোহরের নামাজের সুযোগে
বাইরে গিয়ে দ্রুত সিগারেট টেনে আসেন।
মন্ত্রী মহোদয়ও যে খুব নামাজি মানুষ তা কিন্তু
না। একা একা থাকলে কখনোই তিনি নামাজের ধারে
কাছেও যান না। যখন সংসদ অধিবেশন চলে তখন
সংসদে এবং নামাজের ওয়াক্তে কোনো মিটিং
থাকলে মিটিং বন্ধ করে তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যান।
সেটা যতো গুরুত্বপূর্ণ মিটিংই হোক না কেন। আর
দশটা কাজের মতো নামাজ পড়াটাও তার রাজনীতিরই
অংশ।
ফোনটা প্রায় আছড়ে ক্রাডেলে রেখে বিড়বিড়
করেন মন্ত্রী। শালারা একটা কাজও যদি ঠিকমতো
করতে পারতো! একটা চ্যাংড়াকে ধরতে এতো
নাকানি চোবানি। পুলিশদের দিয়ে কিছু হবে না,
এটাতো তিনি আগেই জানতেন। সে জন্যই
ব্যাকআপ হিসেবে শমসের আর বাচ্চুকে
পাঠালেন। এই দুই বেকুবও এখন নাকি খালি হাতে
ফিরছে।
(চলবে..)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now