বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চিঠি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sahida Akter Sumi(guest) (০ পয়েন্ট)

X সহিদ:হ্যালো,, সুমি:আব্বু কেমন আছেন? সহিদ:এইতো ভাল আছিরে। সুমি:আব্বু তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করে চলে আসেন আমরা আর কতদিন একাএকা থাকব। সহিদ:এটাতো সময়ের ব্যাপার।তোর মামুও চাকরি বাদ দিয়ে ডাক্তার নিয়া অনেক দৌড়াদৌড়ি করতেছে। সুমি:আব্বু আম্মু আসলে কল দিতে বলবেন এখন রাখি আবার কল দিব। (সুমি অনেক কষ্টে শেষ কথাটি বলে ফোন কেটে দিল ।কারন তার বাবার সাথে কথা বল্লেই চোখে জল চলে আসে আর ও কান্না করার সময় কথা বলতে পারে না।এখনও তাই ঘটল।আজ যেন তার বাবার গলাটা অনেক বেশি দুর্বল মনে হচ্ছে।সুমি ফোন অফ করে কিছুক্ষন কেঁদে কে্ঁদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল।আল্লাহরকাছেই তার সব চাওয়া।কারন সে বিশ্বাস করে সব কিছু তার হুকুমেই হয়।সুমির মনটা আরও বেশি খারাপ হয়ে গেল কারণ আব্বুর সাথে কথা হয়েছে কিন্তু আম্মুর সাথে কথা হয়েছে প্রায় একদিন হয়ে গেল।সুমির খুব রাগ হচ্ছে ।আম্মু নিজ থেকে একটা ফোনও দিচ্ছে না।সে লিখতে বসে গেল।কষ্টগুলো লিখলে তার নিজেকে খুব হালকা মনে হয়।সুমি মায়ের কাছে একটা চিঠি লিখছে,,, প্রিয় মা, প্রথমেই আমার সালাম রইল।তোমরা কেমন আছ তাতো জানি।আমরা?আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।তবে মা বাবা দূরে থাকলে তাও বাবা যদি অসুস্থ থাকে সন্তান কেমন থাকে তাতো জানোই।আব্বুর জন্য যতটা কষ্ট হয় ঠিক ততটা কষ্ট হয় তুমিও দূরে বলে।মা,মাগো,ও মা সারাদিন ডাকলেও যে মন ভরে না ।কতদিন তোমাকে এভাবে ডাকিনি।খুব মিস করি তোমাকে।জানো মা তোমরা চলে যাওয়ার পর একটা রাতও ভালো ঘুম হয় না।অথচ এগারোটার পরে না ঘুমালে সকালে উঠতে পারতাম না।এখন পুরো রাতই আধঘুমে চলে যায়।তুমি ছাড়া আমরা কতটা অগোছালো তাতো জানই।এত বড় হয়েছি তুমিতো তা কখনও বুঝতে দাও নি।কোনো কিছু করতে দাওনি রান্নাটাও শিখাও নি।আমরাও শিখি নি।রান্না করি ঠিকই কিন্তু মা কতদিন তোমার হাতে সেই রান্নার স্বাদ পাই না।কতদিন হলো তোমার হাতে বানানো চা খেয়েছি।আমি অনেক চেষ্টা করেও তোমার মত চা বানাতে পারি না।মনে পড়ে আমার চা শেষ করে তোমারটার থেকে ভাগ নিতে বসে থাকতাম।আর যখন তোমাকে বলার পরও তুমি কাপে আমার জন্য একটু চা রাখতে ভুলে যেতে তখন খুব রাগ হতো।মিস করি তোমার কাছে করা আবদার গুলো।"ভাত খাবো না কিন্তু আম্মু খাওয়াই দিলে খাব" ,তুমিতো জানো আমি কতটা ভালবাসি তোমাদের।আমার কান্নাতো তুমি দেখেছো যখন তোমাাদের ছেড়ে নানুর বাড়ি ছিলাম।সবাই বলতো মেয়েরা নাকি স্বামির বাড়ি যাওয়ার সময়ও এত কঁাদে না। ২০১৬ সাল টা যেন আবার পিরে এসেছে।কিন্তু সাথে আরও একটা কষ্ট নিয়ে।জানো মা আব্বুর কন্ঠটা এত দুর্বল আগে কখনও আমি শুনিনি।আমি সহ্য করতে পারি না। আব্বুর ঐকন্ঠ শুনলেই চোখে পানি চলে আসে।ভাল লাগে যখন ভাবি অসুস্থতা হচ্ছে আল্লাহর রহমত।আব্বুর উপরও হয়ত আল্লাহর রহমত হয়েছে।সব আল্লাহর ইচ্ছা ।দেখবে আল্লাহই একদিন সব ঠিক করে দিবে।শুধু সময়ের ব্যাপার।অপেক্ষায় আছি সেই দিনের যেদিন তুমি আর আমার সেই সুস্থ বাবা পিরে আসবে। সেই দিনটি কবে আসবে আল্লাহই জানেন।মনে পড়ে এরকম অপেক্ষায় ছিলাম ২০১৬সাল শেষ হবে আমি আবার তোমাদের কাছে পিরে আসবো।সেই অপেক্ষাটা আবার পিরে এল নতুন করে আমার জিবনে। আর লিখতে পারছি না মা।ভালোভাবে আব্বুর সেবাযত্ন কর।আমাদের কথা চিন্তা করো না আমরা অনেক ভালো আছি। ইতি তোমার রাগি মেয়েটা সুমি চিঠিটা লিখে শেষ করে ভাবছে এই চিঠিটা মাকে কি কখনও দেওয়া হবে??ও আবার কল দিল মাকে সুমি:আচ্ছা আম্মু তুমি আমার সাথে কথা বলছ যে কয়দিন হয়েছে? মা:আমিতো এ্যানী বলছি তোর কথা। সুমি:কি বলছ?কই আপুতো আমাকে কিছু বলে নি। মা:বলছি তুই কই ?কি করছিস এগুলা, সুমি:ওকে বল্লেই হলো আমার সাথে কথা বলতে হবে না ,,,চলবে সত্যি যাদের বাবা মা বেচে নেই অথবা কোনো কারনে দূরে থাকে তারাই জানে মা,বাবা কতটা মুল্যবান তাদের জন্য


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গোপন দাতার চিঠি
→ হারানো চিঠির পুনর্জন্ম
→ হারিয়ে যাওয়া চিঠির নীরবতা
→ শেষ চিঠি
→ শেষ চিঠি
→ অভিমানী স্যারের চিঠি
→ ভার্চুয়াল চিঠি বরিশাল
→ ম্যাডামের মেয়েকে চিঠি
→ মনোযোগ প্যান্টের পকেটের চিঠির ভিতর
→ বৃদ্ধাশ্রমের চিঠি
→ বাসর ঘরে থেকে চিঠি
→ মৃত্যুর পর মায়ের চিঠি
→ চিঠি
→ শেষ চিঠি
→ শিশু হারা মায়ের আর্তনাদ চিঠিতে!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now