বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রিয় শঙ্ক
হঠাৎ কোন বিচ্ছিরি দুঃস্বপ্ন দেখে যখন ঘুম ভেঙ্গে যেত অথবা কোন ভাবেই যখন চোখে ঘুম আসতো না তখন তুমিই ছিলে আমার পরম ভরসা।ফোন দিয়ে তোমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে তোমাকে সজাগ রেখে আমি দিব্যি নাক ডেকে ঘুমোতাম।তুমি আমার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে শুনতে জেগে থাকতে সারা রাত।শঙ্ক আমার নিঃশ্বাসের শব্দ শ্রবন করে তুমি কতশত রাত পার করে দিয়েছিলে তার কোন হিসাব আছে তোমার কাছে??
টিপ পরা তুমি একদমই পছন্দ করতে না।তারপরও প্রতিবারই তুমি আমার জন্য টিপের পাতা নিয়ে আসতে।আমার কপালে টিপ দেখামাত্র তুমি তা খুলে ফেলতে।আমি যেমন জানতাম না তুমি টিপগুলো ফেলে না দিয়ে ডাইরীতে সঞ্চয় করে রাখতে তেমনি তুমিও জানতে না শুধুমাত্র তোমার হাতে স্পর্শ পাওয়ার জন্যই আমি প্রতিবার টিপ পরে আসতাম।কত অদ্ভূত ছিল আমাদের ভালোবাসা তাই না?
শঙ্ক তুমি কেন এখন আর আমাকে ভালোবাসতে পারো না।আমি চায়লেই কেন তোমাকে আর ছুতে পরি না।এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না শঙ্ক।আমি তো তোমায় এত তারাতারি হারাতে চায়নি। আমি তো তোমায় আরো কয়েক জনম ভালোবাসতে চেয়েছিলাম।
তুমি এত তারাতারি আমার ভালোবাসার জগত থেকে পালিয়ে গেলে কেনো?
তোমার কাচা হলুদ শাড়ীটার কথা মনে আছে শঙ্ক?শাড়ীটা আমার হাতে দিয়ে বলেছিলে ময়ূর আজকাল কেও গায়ে হলুদেও হলুদ শাড়ী পরে না।কিন্তু বিয়ের দিন তোমাকে হলুদ শাড়ীটায় পড়তে হবে।আমি আমার ঘরে একটুকরো রোদ নিয়ে যেতে চায়।
জানো তো ওই দিন বড়পু খুব চেঁচামেচি করছিল বিয়ের আর সাতদিন বাকি অথচ এখনো বিয়ের শাড়ীটায় কেনা হয়নি।তখন হলুদ শাড়ীটা বের করে বললাম এটাই আমার বিয়ের শাড়ী।সবাই খুব অবাক হয়েছিল জানো।
সবাই ভেবেছে পুরোনো সব স্মৃতি আমি ভুলে গেছি।আমি কিচ্ছু ভুলিনি শঙ্ক।বিচার হয়নি।স্বপ্ন ভাঙ্গার বিচার।আমার চোখের সামনে তোমার রক্তাক্ত দেহ।হাতে কাচা হলুদ শাড়ীটা শক্ত করে আকড়ে ধরা।কিচ্ছু ভুলিনি।
ওই দিন গাড়ির নাম্বারটা ছাড়া কিছুই দেখিনি।
অনেক ঘুরে খুজে বের করেছি গাড়ির মালিককে।বিশ্বাস করো যদি চোখে মাঝে সমান্যতম অনুতাপ দেখতাম আমি মাফ করে দিতাম।কিন্তু সে চোখে কোন অনুতাপ,অনুশোচনা ছিল না।ছিল ক্ষমতা,আভিজাত্য আর বিদ্রূপের হাসি।
মজার ব্যপার কি জানো প্রথম দেখায় নাকি উনি আমার প্রেমে পরে গেছেন।
হ্যা আজকে আমার ওই মানুষটার সাথেই বিয়ে হচ্ছে।সবাই জানে ময়ূর আজ কারও ঘরে রোদ হয়ে যাচ্ছে।শুধু আমি জানি রোদ না আগুন হয়ে যাচ্ছে ময়ূর। প্রতিশোধের আগুন হয়ে।
মানুষ মরে গেলে নাকি আকাশের তারা হয়ে যায়।শঙ্ক তুমি কোন তারাটা হয়েছ?দেখতে পাচ্ছ আমাকে?আমি যাচ্ছি শঙ্ক।সবকিছু পিছনে ফেলে।তুমি যেখানেই থাকো পাশে থেকো শঙ্ক।
ইতি
তোমার ময়ূর
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now